Category: বিশ্ব

  • মার্কিন হুমকি ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দিল আইআরজিসি

    মার্কিন হুমকি ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দিল আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে খণ্ডন করেছে, যেখানে বলা হয় তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি শোধন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি সম্পর্কে আল–জাজিরা সোমবার (২৩ মার্চ) প্রতিবেদন করেছে।

    আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র এ সাবধানতা জানিয়েছে যে—যদি তাদের বিদ্যুত্‍ কেন্দ্রগুলোতে হামলা করা হয়, তাহলে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে দখলদার শাসন বলকে (ইসরায়েল) এবং সেই অঞ্চলের এমন দেশগুলোর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করবে যারা আমেরিকার ঘাঁটিগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পাশাপাশি মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আপনারা (মার্কিনরা ও ইসরায়েল) আমাদের হাসপাতালে হামলা করেছেন — আমরা তা করিনি। আপনারা আমাদের ত্রাণ কেন্দ্রে হামলা করেছেন — আমরা তা করিনি। আপনারা আমাদের স্কুলে হামলা করেছেন — আমরা তা করিনি। কিন্তু আপনারা যদি বিদ্যুৎ স্থাপনায় আঘাত করেন, আমরা আপনার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও আঘাত করব।”

    আইআরজিসি জানিয়েছে যে যেকোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের জন্য তারা সমপর্যায়ের পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তারা বলেছে, “যেকোনো হুমকির বিপরীতে সমপর্যায়ের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং আমরা তা করে দেখাব। আমেরিকা আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে জানে না — তারা সেটা যুদ্ধক্ষেত্রে দেখতে পাবে।”

    এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত শনিবার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে পারে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বলেছিলেন, “এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়া হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে — শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে।”

    ট্রাম্পের ওই হুমকির জবাবে তেহরান বলেছে, তারা প্রয়োজন হলে এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং যদি মার্কিন হামলা হয়, তাহলে অঞ্চলের জ্বালানি ও শক্তি স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে। পরিস্থিতি তীব্র আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের হুমকিতে প্রবণ হয়ে আছে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও সামরিক মোড় আলোচনার মাধ্যমে কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা নজরদারি বসিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • সৌদি আরব ইরানের পাঁচ কূটনীতিককে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    সৌদি আরব ইরানের পাঁচ কূটনীতিককে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিকভাবে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি its ভূখণ্ডে বারবার হামলার অভিযোগ তোলার পর ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শনিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেশটির বেসামরিক কেন্দ্র এবং জ্বালানী স্থাপনায় ক্রমশই আক্রমণ বাড়ছে। বিশেষ করে তেহরানের মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে গিয়ে সৌদি আরব ও প্রতিবেশি দেশগুলোর ওপর হামলা বেড়েছে, যা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব শতাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুইটি ড্রোন আঘাত হানে। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে আরামকো-এক্সন শোধনাগারে ড্রোনের কারণে তেল লোডিং ব্যাহত হয়। হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ থাকায় বর্তমানে ইয়ানবুই হচ্ছে সৌদি আরবের একমাত্র রপ্তানি পথ।

    সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, ইরানের উপর তাদের আস্থাভাব ‘চুরমার’ হয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে এবং প্রয়োজন হলেই তারা তাদের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। তিন বছর আগে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দুদেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে এবং সম্পর্ক খাদের কিনারায় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    সৌদি আরবের এই কঠোর কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ঠিক আগেই কাতারও বুধবার তাদের দেশে নিযুক্ত কিছু ইরানি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ইরানের ধারাবাহিক উসকানিমূলক হামলা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

    হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন এবং না মানলে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নষ্ট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে এবং বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে অভিযান শুরু হবে।

    এর আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার পর ট্রাম্প এক পর্যায়ে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু একদিনের মধ্যে তিনি কড়া অবস্থানে ফিরে এসে এই আলটিমেটাম জারি করেছেন। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হলেও কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তেহরান কেবল তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত এমন দেশের জাহাজগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে; অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে — তথ্যটি ফারস নিউজ প্রকাশ করেছে।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শনিবার ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন; তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। কাছের দিমোনা শহরে আরও ৩৩ জন আহত হয়।

    ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বড় বড় গর্ত পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দিমোনার একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে; এতে এক শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে।

    দিমোনার কাছে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার কড়া জবাব দেবার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সব দিক থেকেই প্রতিশোধ নেওয়া হবে। পরে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে — তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

    ইরান পাল্টা জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে দিমোনা ছিল; এছাড়া দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। এসব দাবিও মেলানো যাচ্ছেনা এবং অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    সম্প্রতি ঘটমান এই ঘটনাগুলো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং এমন মুহূর্তে কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত তথ্য যাচাই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা জরুরি।

  • সৌদি আরব ইরানের কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    সৌদি আরব ইরানের কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    প্রতিবেশী ইরানের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের সামরিক অ্যাটাশেকে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি বেসামরিক কেন্দ্র ও জ্বালানি ও শক্তি স্থাপনায় ক্রমবর্ধমান হামলা চালানো হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে তেহরানের সংঘাতের প্রভাবেই সিলসিলা বাড়ছে এবং এতে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা ছড়াচ্ছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরব শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দুইটি ড্রোন আঘাতের সম্মুখীন হয়; গত বৃহস্পতিবার ইয়ানবু বন্দরের আরামকো-এক্সন শোধনাগারে ড্রোন হামলার ফলে তেল লোডিং ব্যাহত হয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কার্যত অনির্বাচিত অবস্থার কারণে ইয়ানবুই বন্দরটি সৌদি রপ্তানির একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, ইরানের ওপর সৌদি আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার পূর্ণ অধিকার তারা বজায় রাখবে; প্রয়োজন হলে তা দিয়ে প্রতিকারের পথে সামরিক সক্ষমতাও প্রয়োগ করতে তারা দ্বিধা করবে না। কদিন আগে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, বর্তমানে সেটিও গুরুতরভাবে বিপর্যস্ত বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।

    সৌদি সরকারের এই ঘোষণা থেকে ঠিক আগে, গত বুধবার কাতারও তাদের দেশে নিযুক্ত কিছু ইরানি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইরানের ধারাবাহিক উসকানিমূলক হামলা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প

    হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শনিবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

    ট্রাম্প তার পোস্টে আরও জানান, প্রয়োজন হলে তারা ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দিতে পারে — এমনকি অভিযান শুরু করা হবে এমন নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর এক দিন আগে তিনি এক পর্যায়ে ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছিলেন, তবে পরে কঠোর অবস্থানে ফিরে এই আলটিমেটাম দেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র পথ কার্যত ব্যাহত রয়েছে।

    তেহরান অবশ্য দাবি করছে তারা কেবল তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত দেশগুলোর জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে — এমন খবর প্রকাশ করেছে ফারস নিউজ এজেন্সি।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শনিবার দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী আখ্যা পেয়েছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর আগেও কাছের দিমোনা শহরে আরও ৩৩ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

    দিমোনায় মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে শহরের একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে, এতে এক শিশু সহ কয়েকজন গুরতর আহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং ‘সব দিক থেকে প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথা বলেছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে।

    ইরান meanwhile দাবি করেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে যে হামলা হয়েছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দিমোনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু সামরিক স্থাপনাতেও আঘাত চালিয়েছে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ: সৌদি আরব পাঁচ ইরানি কূটনীতিককে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    ইরানের বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ: সৌদি আরব পাঁচ ইরানি কূটনীতিককে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা

    প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি তাদের ভূখণ্ডে একাধিক হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তেহরানভুক্ত এক সামরিক অ্যাটাশে ও দূতাবাসের আরও চার কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান ক্রমাগতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি সংক্রান্ত অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিশেষত মার্কিন ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের স্থায়ী সংঘাতে উত্তেজনা বাড়ায় তেহরান সামরিক হস্তক্ষেপ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে সৌদি আরব শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে এবং গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের আরামকো-এক্সন শোধনাগারে ড্রোন হামলার কারণে তেল লোডিং ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বর্তমানে সৌদি রপ্তানির প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ইরানের প্রতি তাদের আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সৌদি আরবের পূর্ণ অধিকার আছে এবং প্রয়োজন হলে তারা তাদের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।

    আরও বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, বর্তমান উত্তেজনা তা গুরুতরভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের ঠিক আগে কাতারও গত বুধবার তাদের দেশে নিযুক্ত কিছু ইরানি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে ইরানের ধীরে ধীরে চলতে থাকা উসকানিমূলক হামলা ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি কূটনৈতিক চাপে অপরিশোধিত থাকায় অঞ্চলে সতর্কতা বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও।

  • হরমুজ খোলার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

    হরমুজ খোলার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার রাতে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি না খোলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাবে, বিশেষত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে।

    এর আগে তিন সপ্তাহের সংঘাতের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু এক দিনের মধ্যেই কঠোর অবস্থায় ফিরে এসে এই আলটিমেটাম দেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ পথ কার্যত বিঘ্নিত অবস্থায় আছে বলে প্রতিবেদনগুলো বলছে।

    তেহরান থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তাদের নিষেধাজ্ঞা কেবল সেসব দেশের জাহাজের ওপর আরোপ করা হয়েছে যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল; অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্ক করে দিয়েছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের জ্বালানি সরবরাহ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ সংক্রান্ত সুবিধাগুলোও তাদের আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, এমন তথ্য জানিয়েছে ফারস নিউজ।

    এই উত্তেজনার মাঝেই শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বিধ্বংসী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর; কাছের দিমোনায় আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং বলছেন, সব দিক থেকে জবাব দেয়া হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, শহরের একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত করেছে; এতে এক শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের দাবিও উঠেছে: ইরান বলেছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় নাকি ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা দিমোনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) আরও দাবি করেছে যে তারা দক্ষিণ ইসরায়েল ছাড়াও কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

    দিমোনা শহরে মধ্যপ্রাচ্যে কেবলমাত্র পারমাণবিক সুবিধা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ঘোষণা দেয়নি।

    উপর্যুক্ত ঘটনাগুলো একযোগে ঘটায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা-মাধ্যম ও কূটনৈতিক পটুপুরুষরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত অচলাবস্থায় যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ জেরুসালেমে মুসলিমদের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধর্মীয় কেন্দ্র। কিন্তু ১৯৬৭ সালের পর বসে এমন পরিস্থিতি বিরল—রমজানের শেষ দিকে এ মসজিদ প্রথমবারের মতো কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ঈদুল ফিতরের দিন হাজারো মুসল্লি মসজিদের বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন, কাছাকাছি উন্মুক্ত স্থানে সংক্ষিপ্ত নামাজ আদায় করেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ ঈদের জামাত করতে হয় যখন ইসরাইলি পুলিশ মসজিদে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই যুক্তি দেখিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের সময় মসজিদ এলাকা অনেক সময় সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে এবং অনেকে গেটের বাইরে নামাজ আদায়ে সীমাবদ্ধ ছিলেন।

    ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা বলছেন, এটি শুধু নিরাপত্তার বিবেচনা নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কৌশল। তাদের অভিযোগ—উত্তেজনা বা সংঘাতকে অজুহাত করে আল-আকসা কমপ্লেক্সে ইসরাইলি দখল ও নজর আরও জোরদার করা হচ্ছে। মুসলমানদের কাছে এই এলাকাটি ‘আল-হারাম আল-শরিফ’ নামে পরিচিত; এখানে ডোম অব দ্য রকসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ইহুদিদের কাছে এটি ‘টেম্পল মাউন্ট’, যেখানে প্রাচীন কালের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আছে।

    জেরুসালেমের মুসলিম অধিবাসীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ চোখে পড়ে। ৪৮ বছর বয়সী হাজেন বুলবুল বলেন, ‘এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন হতে যাচ্ছে।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এটা একটি খারাপ নজির গড়ে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা বাড়তে পারে। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে জেরুসালেমে ইসরাইলি হস্তক্ষেপ বেড়ে গেছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরানো শহরে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীদের গ্রেফতার বাড়েছে। একই সঙ্গে কিছু ইসরাইলি বসতি থেকে মানুষ মসজিদ এলাকায় ঢোকে; নামাজজিজ্ঞাসায় অনেককে আটক করা হয়েছে বা মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটিতে লোকসমাগম থাকে, কিন্তু এবার এলাকাটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ছিল—দোকানপাট বন্ধ রাখার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনি মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছেন—মসজিদে ঢুকতে না পারলে কাছাকাছি জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করুন। তবে পুরনো শহরের ভেতরে কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন। তারা বলেছে, এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো সতর্ক করে দিয়েছে—এভাবে চললে সহিংসতা বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি হুমকির মুখে পড়বে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অফিসের মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি এই পদক্ষেপকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য বড় বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অনেক তরুণ মসজিদের কাছাকাছি নামাজ করতে গেলে ইসরাইলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে নামাজরত অবস্থায়ই সরিয়ে দেয়।

    অন্য দিকে গাজার মানুষদের জীবন এখন যুদ্ধ এবং তীব্র মানবিক সংকটের ছায়ায় কাটছে। রমজানের শেষে অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে ছেয়ে আছে; বহু মানুষ ধ্বংসাবশেষের মাঝে সীমিতভাবে ঈদ পালন করছেন। উত্তর গাজার বাস্তুচ্যুত সাদিকা ওমর বললেন, ‘ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ—বাড়ি হারানো বা পরিবারের সদস্য হারানোর দুঃখ থেকে উদ্ধার মেলে না।’ খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া আলা আল-ফাররা বলছেন, চলমান হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত, তাই তাদের ঈদও সীমিত হয়েছে।

    যুদ্ধের মাঝেও কিছু বাক্যে ঐতিহ্য ফিরে আসছে—চলাচল বন্ধ শিবিরে ছোট চুলায় কায়েক ও মামুলের সুগন্ধ থিতিয়ে দেয়, কিন্তু বহু পরিবার মিষ্টি-পালানোর সামর্থ্য পায় না। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেয়া হয় এবং জাতিসংঘের একটি কনভয় সেখানে ঢুকতে পারে—এটাই কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। তবু অনেকেই বলছেন, নিরাপত্তা অসম্পূর্ণ এবং ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার আশায় ভরা উদ্বেগ যেন ছাড়ছে না।

    এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বহু সংগঠন ও পর্যবক্ষক বলছে, ধর্মীয় স্থানগুলোতে বাধা আর সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় ধাক্কা দিতে পারে। (সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান)

  • তেল সংকট নিয়ন্ত্রণে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন

    তেল সংকট নিয়ন্ত্রণে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি গুরুতর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালু থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনও অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে—ঘোর শত্রু ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে তেল কেনাবেচার সুযোগ করে দেওয়া।

    আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার (২০ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়ায় আমেরিকাসহ বহু দেশে পেট্রলের গড় দাম এখন গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি, যা সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে যে, সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সূত্রটি বলছে, পূর্বে চীন এই তেল ক্রয় করতে চেয়েছিল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই; এখন ওয়াশিংটন নিজে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভারত, জাপান বা ভিয়েতনাম জাতীয় মিত্র দেশগুলোকে ক্রয়ের সুযোগ করে দিতে চাইছে।

    বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর। কারণ তিনি নিজে যখন বারাক ওবামার পরমাণু চুক্তিকে কড়া সমালোচনা করেছিলেন, তখন ওবামার সময় ইরানকে অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছিল—এখন ট্রাম্প প্রশাসন একই ধরনের ছাড়ের পথে হাঁটছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘এটি তেল বাজারের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুদ বা বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের হাতে নেই।’ অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, যদি তেল বিক্রি করা হয় তবু ইরান সরাসরি সেখান থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না এবং তাদের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অব্যাহত থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের অনুধাবন মতো, ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ব চাহিদার মাত্র দেড় দিনের সামগ্রীও হতে পারে না। তাই এই একবারের সরবরাহ কতটা টেকসইভাবে তেলের দাম কমাবে—তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়ে গেছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে—তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দিন হরমুজ প্রণালী অবরোধী থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বজায় থাকবে, তত দিন তেলের বাজারে চাপ থাকবে। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র টেলর রজার্স নিরাশা কমাতে চেষ্টা করে বলেছেন, ‘যদি সামরিক লক্ষ্য সফল হয় তাতে তেলের দাম আরও কমে যাবে,’ কিন্তু সেই লক্ষ্য কখন অর্জিত হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

    সংক্ষেপে বলা যায়, অস্ত্রধ্বনির চেয়েও এখন তেলের বাজারের অস্থিরতা হোয়াইট হাউসের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তথ্যসূত্র: সিএনএন

  • তেলবাজার নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

    তেলবাজার নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে জোরালো সংঘাত চলা অবস্থায় বিশ্ব তেলবাজারে অস্থিরতা তীব্রতর হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানোর মধ্যেই আন্তর্জাতিক কাঁচামাল বিক্রিতে বিশাল শঠতা দেখা দিয়েছে — ব্রেন্ট ক্রুড তেল ব্যারেল প্রতি প্রায় 112 ডলার পর্যন্ত উত্থান করেছে এবং গত তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ রাজপথের জ্বালানি মূল্যে প্রভাব পড়েছে; গড় পেট্রল মূল্য এখন প্রায় প্রতি গ্যালন 4 ডলারের কাউলে পৌঁছেছে।

    হরমুজ প্রণালী জুড়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় তেলের সরবরাহে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় হোয়াইট হাউসে এক আশ্চর্যসাজন প্রস্তাব উঠে এসেছে — প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা গোপনে পরামর্শ দিয়েছেন সমুদ্রে ভাসমান প্রায় 140 মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হোক। মূলত ভাপার তেলের এই মজুতটি ভারত, জাপান বা ভিয়েতনাম-এর মতো দেশের কাছে বিক্রি করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হতে পারে।

    আশ্চর্যের বিষয়, একসময় পর্যন্ত চীনও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই তেল কিনতে চেয়েছিল বলে জানা যায়। এখন যুক্তরাষ্ট্রই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ভাবছে — এটা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য বিব্রতকর যে, তিনি আগে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন, আর এখন তেলের কারণে সেই সীমাবদ্ধতাগুলো শিথিলের কথা ভাবছেন।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক শিথিলতা আনতে পারলেও টেকসই সমাধি নাও হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘‘এটি তেলবাজারের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুত বা বিকল্প পথ আমরা হাতে পাইনি।’’

    ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন যে, এই তেলের অর্থ ইরান সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রাখার নীতি অব্যাহত থাকবে। তথাপি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, 140 মিলিয়ন ব্যারেল তেলটি বিশ্ব বাজারের মাত্র প্রায় এক থেকে দেড় দিনের চাহিদার সমান — সুতরাং মজুত খোলার এই পদক্ষেপ তেলের দাম কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে কি না তা সন্দেহজনক।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে; কিন্তু জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধতা রয়ে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলবে, ততদিন তেলের সংকট কেবল থাকবে বা বাড়তেই পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স সামান্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যগুলো পূরণ হলে তেলের মূল্য আগের চেয়েও নীচে নামতে পারে — তবে সেই লক্ষ্য কবে ও কীভাবে অর্জিত হবে, সেটির তারিখ বা বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়।

    সব মিলিয়ে, রণক্ষেত্রের তীব্রতা ছয়েই নয়, তেলের অস্থিরতাও এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। (তথ্যসূত্র: সিএনএন)