Category: বিনোদন

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবির নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবির নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    বিনোদন অঙ্গনে আবারও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহিনা শিকদার বনশ্রী সোমবার ভোর ৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই দুঃখজনক খবরটি তার পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় শিকদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বনশ্রী। তার মৃত্যু হয় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে।

    তিনি ১৯৭৪ সালের ২৩ আগস্ট ওই উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের শিকদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব-রুস্তুম’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি সিনেমায় পা রাখেন। এই ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, যার সঙ্গে তিনি প্রথম জুটি বাঁধেন।

    অভিনয় জীবনের শুরুতেই ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন। ওই সিনেমা থেকে তিনি জনপ্রিয়তা পান, যা আগামীতেও আরও বেশ কিছু সিনেমায় কাজের জন্য পথ প্রশস্ত করে। বনশ্রী ছিলেন একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন, যেমন মান্না, আমিন খান, রুবেল প্রমুখ।

    নব্বইয়ের দশকে তার অভিনীত ‘সোহরাব-রুস্তম’, ‘মহা ভূমিকম্প’সহ বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়। এই সময় তিনি সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘরে আশ্রয় পান, যেখানে ফিরে যান নিজ এলাকা মাদারীপুরের শিবচরে। সেখানে ছেলেকে নিয়ে থাকতেন, যার নাম মেহেদী হাসান রোমিও।

    বনশ্রী এর আগে দর্শকপ্রিয় সিনেমার জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন এবং তার মর্মান্তিক মৃত্যু চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এক গভীর শোকের বিষয়।

  • সংগীতশিল্পী দীপের মৃত্যু সংবাদ

    সংগীতশিল্পী দীপের মৃত্যু সংবাদ

    র‍াস্টফ ব্যান্ডের অসাধারণ ভোকালিস্ট আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তিনি ডিয়েপি নামে পরিচিত ছিলেন। দীপের মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।

    ব্যান্ড র‍াস্টফ একটি শোকবার্তায় জানিয়েছে, এই দুঃখদায়ক মুহূর্তে সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রিয় ভোকালিস্ট, বন্ধু এবং সহযাত্রী আহরার মাসুদ “দীপ” মারা যাওয়ার সংবাদ আমাদের বেশ স্তম্ভিত করেছে। আমরা শোকের গভীরে ডুবে আছি, এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে তিনি আমাদের আর সাথে থাকছেন না। তিনি গত রাতেই আমাদের থেকে হারিয়ে গেলেন।

    ব্যান্ডটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘তার পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা ও প্রার্থনা। আমরা সবাই এই অপূরণীয় ক্ষতি বোঝার চেষ্টা করছি এবং দীপের অসাধারণ প্রতিভাকে সম্মান জানাতে সচেষ্ট। তবে তার চেয়েও বড় কথা, তিনি মানুষ হিসেবে আমাদের কাছে অমূল্য ছিলেন, সেটি স্মরণে রাখার চেষ্টা করছি।’

    সবশেষে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন, ‘এই কঠিন সময়ে সকলের প্রতি আহ্বান, দয়া করে পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন এবং দীপের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করুন। শান্তিতে ঘুমাও, দীপ। তোমার শূন্যতা চিরকাল আমাদের মনে দাগ কেটে থাকবে।’

    উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ‘ডি রকস্টার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীতজগতে পরিচিতি লাভ করেন দীপ। তখন তিনি ‘এক্লিপস’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তাদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘সুদূর কল্পনা’, ‘আহ্বান’, ‘পৃথিবীর প্রহর’, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

    এর পরের সময়ে তিনি ‘ক্রাল’, ‘কেলিপসো’, ও ‘র‍াস্টফ’ ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। সর্বশেষ তিনি র‍াস্টফ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে থাকতেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যান্ডের যেমন ‘মেটালিকা’, ‘সিস্টেম অব আ ডাউন’, ‘প্যান্টেরা’, ‘এলিস ইন চেইনস’ এর গান কভার করে তিনি রক সংগীতপ্রেমীদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দেশ-বিদেশের সংগীতপ্রেমীদের শোক থামিয়ে দিয়েছে।

  • প্রবীণ লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    প্রবীণ লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    বিনম্র শোকের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে, বাংলাদেশের বরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি সমস্ত জীবনজুড়ে সম্ভাবনাময় মানুষ ছিলেন, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি চার সন্তান ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ইমাম জাফর নোমানী, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আম্মা (ফরিদা পারভীন) আজ (শনিবার) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’

    ফরিদা পারভীন দীর্ঘ দিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সপ্তাহে দু’বার ডায়ালাইসিস করতে হতো। ২ সেপ্টেম্বর তিনি মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য ভর্তি হন। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যার ফলে চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখেন।

    বুধবার তার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। অবশেষে সেখানে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের লোকসংগীতের অমলিন ঐতিহ্যের একজন অমূল্য রত্ন। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও অনন্য গানের গুণাবলী চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক জগতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • বলিউডের সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডে অভিযোগ, ইডির তলব

    বলিউডের সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডে অভিযোগ, ইডির তলব

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং মানবতার মানুষের জন্য কাজ করে পরিচিত সোনু সুদ। তিনি সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি তার নামে এক নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে তিনি অনলাইন জুয়া অ্যাপের সঙ্গে জড়িত থাকার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (ইডি) তাকে সাময়িকভাবে তলব করেছে।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই জুয়া অ্যাপ সংস্থার সঙ্গে সোনু সুদের কী ধরনের চুক্তি হয়েছিল, শর্তাবলী কী ছিল, কত টাকা বিনিয়োগ বা পারিশ্রমিক নেওয়া হয়েছে, এবং তার সঙ্গে অন্যান্য তারকাদের সম্পর্ক কত দীর্ঘ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই দপ্তর এই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য অভিনেতার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত বছর থেকে অনলাইন জুয়া ও বাজির অ্যাপের প্রচার ও ব্যবহার নিয়ে বহু বলিউড এবং দক্ষিণী সিনেমার তারকার পাশাপাশি কিছু ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা, রানা দাগ্গুবাত্তी, প্রকাশ রাজ সহ আরও অনেকেই। অন্যদিকে, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা—হরভজন সিং, উর্বশী রাওতেলা, সুরেশ রায়না—ও এই বিষয়ে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    বিশেষ করে, গত জুন মাসে সুরেশ রায়না, হরভজন সিং প্রমুখ তারকারা এই বিষয়ে তাদের বিবৃতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটে (ইডি) প্রদান করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে, এই অনলাইন জুয়া অ্যাপের প্রচার ও ব্যবহার নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তারকাদের মধ্যে সোনু সুদকে ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাকে ২৪ সেপ্টেম্বর হাজিরা দিতে হবে।

    অন্যদিকে, এর আগে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ইডির ডাকে সাড়া দিয়ে হাজিরা দিয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলে, যেখানে তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দেন। ইডি এই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হয় এবং তদন্তের অগ্রগতি অব্যাহত রাখে।

  • অভিনয় ছেড়ে ধর্মের পথে তামিম মৃধার রিজিক নিয়ে মন্তব্য

    অভিনয় ছেড়ে ধর্মের পথে তামিম মৃধার রিজিক নিয়ে মন্তব্য

    বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তামিম মৃধা। তিনি ছিলেন একজন ইউটিউবার ও গায়ক, এবং বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন এই অঙ্গনে। তবে বেশ কিছু বছর ধরেই তিনি শোবিজ থেকে দূরে সরে এসে পুরোপুরি ধর্মের পথে হাঁটছেন। তার বাহ্যিক রূপেও গভীর পরিবর্তন এসেছে, এখন তিনি রাখছেন দাঁড়ি ও ইসলামিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত যুক্ত হচ্ছেন। তার মুখের ভাষা ও জীবনধারায় পরিবর্তন দেখে অনেকেই বুঝতে পারছেন যে তিনি জীবনধারায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। তিনি স্লোগান দিয়ে থাকেন ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করেন এবং রোজকার জীবনে ধর্মের দিক থেকে মনোযোগী হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি সিনেমা ও টেলিভিশন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বেশ কিছু ভক্ত ও অনুরাগীর মধ্যে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—তাদের জানার আগ্রহ রয়েছে, তার রিজিকের অবস্থা কেমন। গুঞ্জন ও প্রশ্নের জবাবে তিনি এবার স্পষ্ট করে উত্তর দিলেন।

    সম্প্রতি ওমরাহ পালনের জন্য তিনি Saudi Arabia পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তিনি তার ফেসবুক প্রোফিলে এক ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ওমরাহরত অবস্থায় রয়েছেন। পোস্টে তিনি রিজিকের বিষয়ে বলেন, ‘অনেকেই জিজ্ঞেস করে, এখন আমার রিজিকের অবস্থা কি। তবে আমি ভাবি, রিজিক বলতে আসলে কি বোঝায়?’ তিনি লিখেন, ‘আমি যখন ভাবি, ঘুমাই, কথা বলি, হাঁটি-ফিরি, শান্তি অনুভব করি বা সন্তুষ্ট থাকি, এই সবই আমার রিজিক। এগুলো যদি আমার জীবনে থাকে, তাহলে তবেই আমি সত্যিকারে ধন্য।’

    তামিম বলেন, ‘এই সব রিজিক নিয়েই আমি নিজেকে ধৈর্য্য ধরে আল্লাহর কাছাকাছি রাখতে পারি, যা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। আলহামদুলিল্লাহ।’ তিনি আশীর্বাদ করেন, ‘আসুন, আমরা সবাই প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমাদের প্রত্যেককে অন্তত একবার এই পবিত্র স্থান পর্যবেক্ষণের সৌভাগ্য দেন। আমিন।’ এই বার্তায় তিনি নিজের ধর্মীয় জীবন ও দোয়ার মাধ্যমে সকলের জন্য কল্যাণের কামনা ব্যক্ত করেছেন।

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবির নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবির নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    বিনোদন অঙ্গনে আবারও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকাই সিনেমার পর্দায় স্বতন্ত্র এক উপস্থিতি, জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহিনা শিকদার বনশ্রী মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবার থেকে জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সব রকম চেষ্টা চালিয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পথচলা শুরু করেছিলেন ১৯৭৪ সালের ২৩ আগস্ট শিবচর উপজেলার শিকদারকান্দি গ্রামে।

    ১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব-রুস্তুম’ সিনেমার মাধ্যমে তার সিনেমায় অভিষেক ঘটে। এই ছবিতে তিনি ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। শুরুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে কাজ করে দর্শকদের মনে আলাদা স্থান করে নেন বনশ্রী, শেষ পর্যন্ত এই জুটির অনুরাগ ছিল দর্শকের হৃদয়ে গভীর।

    শৈশব ও তরুণ জীবন কাটানোর পর তিনি মূলত কাজ করে গিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায়। ইলিয়াস কাঞ্চনের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন মান্না, আমিন খান, রুবেল, মত অভিনেতাদের সঙ্গেও। নব্বইয়ের দশকে ‘সোহরাব-রুস্তম’, ‘মহা ভূমিকম্প’সহ বেশ কয়েকটি নাটকীয় সিনেমায় তার অভিনয় ছিল গৌরবের।

    জীবনের বিভিন্ন সময় অসংখ্য ওঠাপড়া পার করে তিনি তার কর্মজীবনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেন। শেষপর্যন্ত তিনি নিজ এলাকায় ফিরে যান মাদারীপুরের শিবচরে, নানা বাঁধা-প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আশ্রয়ণের একটি ঘরে থাকতেন। সেখানে থাকতেন তার ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওর সঙ্গে। নিজস্ব জীবনযাত্রায় টিকে থাকার জন্য নানা সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

  • প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ও সংগীতের অক্ষরে অক্ষরে আলোকবর্তিকা ফরিদা পারভীন এক নীরব আর্তনাদে আমাদের মাঝে না-অক্সিজেনের মতো নিঃসৃত হয়ে উঠলেন। আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রাণের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার umur ছিল ৭৩ বছর। তিনি চার সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে আজ গভীর শোকের ছায়া জা centবিশ্বের প্রিয় এই শিল্পীর বিদায়ের খবরে বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন গভীর শোকের সুরে সুর তোলে।

    তার ছেলে ইমাম জাফর নোমানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আম্মা (ফরিদা পারভীন) আজ রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের এই প্রিয় শিল্পীর সমস্ত ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’

    ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তার চিকিৎসা চলছিল নিয়মিত। গত ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডায়ালাইসিসের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এর পর থেকে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়।

    বুধবার তার অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ হলে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। এরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের লোকসংগীতের অমুল্য সম্পদ ছিলেন। তার জীবনদর্শন, গানের জগতে অনন্য ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তার মৃত্যু বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয়া ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। তার বিদায়ে পুরো জাতি শোকস্তব্ধ, আরও এক কিংবদন্তির হারানোর দুঃখে আপ্লুত।

  • সালমান খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দিশা পাটানির বাড়িরও আতঙ্ক

    সালমান খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দিশা পাটানির বাড়িরও আতঙ্ক

    বলিউডের জনপ্রিয় দুই তারকার বাড়িতে ঘটমান গুলির ঘটনায় ভারতের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। প্রথমে সালমান খানের ভবনে গুলির ঘটনা ঘটার পরে, এখন তারই অংশ হিসেবে দিশা পাটানির বাড়ির সামনে গুলি চালানো হয়েছে। এই ভয়ংকর ঘটনায় কেউ আহত না হলেও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    গতকাল ভোর ৩টার দিকে, বরেলীর ওই এলাকায় অজ্ঞাত দুইজন মোটরবাইকে করে এসে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আক্রমণে কোনও ব্যক্তির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির দায় স্বীকার করেছে গ্যাং কালচার সম্পর্কিত গ্যাংরা—গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই। তারা জানিয়েছে, দিশার বাড়িতে গুলি চালানোর মূল কারণ হলো ‘হিন্দু ধর্মকে অপমান করা’।

    তবে এই গ্যাং দাবি করেছে যে, তারা দিশার ওপর নয়, তার বোন খুশবু পাটানিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। গোল্ডি ব্রার বলেছে, খুশবু পাটানি আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ ও অনিরুদ্ধ আচার্যকে অপমান করেছেন। তাদের দাবি, এটি সনাতন ধর্মের মহাদেবের অবমাননা এবং এজন্য এই হামলা।

    অভিযোগের ভিত্তিতে দিশার পরিবার দ্রুত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বাইরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    এদিকে, খুশবু পাটানি সম্প্রতিকালে এক বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে আচার্য অনিরুদ্ধের ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যে তিনি ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘নপুংসক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনিরুদ্ধকে। খুশবু বলেন, ‘যারা এই ধরনের ব্যক্তিদের অনুসরণ করেন, তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’

    পুলিশ এই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রিয় সংগীতশিল্পী দীপুলির মৃত্যু

    প্রিয় সংগীতশিল্পী দীপুলির মৃত্যু

    র‍াস্টফ ব্যান্ডের প্রখ্যাত ভোকালিস্ট আহরার মাসুদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গতকাল সোমবার রাতে সাড়ে ১০টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভক্তরা তাকে সাধারণত দীপ নামেই জানতেন। তার মৃত্যুর কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

    এক শোকবার্তায় ব্যান্ড র‍াস্টফ তাদের দু:খ প্রকাশ করেছে। তারা লিখেছেন, ‘এমন দুঃখজনক মুহূর্তে সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। প্রিয় ভোকালিস্ট, বন্ধু ও সহযাত্রী আহরার “দীপ” মাসুদ এর মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা শোকে ভেঙে পড়েছি, কিছুক্ষণ অবিশ্বাসের মধ্যে আছি। গত রাতেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’

    ব্যান্ডটি আরও জানিয়েছে, ‘তার পরিবারের, বন্ধু ও প্রিয়জনের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা। আমাদের সকলেরই চেষ্টা হলো দীপের অসাধারণ প্রতিভার মর্যাদা দিতে। মানুষের মতো মূল্যবান এই ব্যক্তিকে স্মরণ করতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

    সবশেষে তারা সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, ‘এই কঠিন সময়ে দয়া করে পরিবার ও কাছের ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পরিসর সম্মান করুন। দীপের আত্মার শান্তি কামনা করে সকলেই প্রার্থনা করুন। শান্তিতে ঘুমান, দীপ। তোমার শূন্যতা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেদনাময় হয়ে থাকছে।’

    উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ‘ডি রকস্টার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীতজগতে পরিচিতি লাভ করেন ব্যান্ড ‘এক্লিপস’-এর ভোকালিস্ট দীপ। তাদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে ছিল ‘সুদূর কল্পনা’, ‘আহ্বান’, ‘পৃথিবীর প্রহর’ — যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

    তারপরের সময়ে তিনি ‘ক্রাল’, ‘কেলিপসো’ ও ‘র‍াস্টফ’ ব্যান্ডের প্রধান একজন। সর্বশেষ তিনি ‘র‍াস্টফ’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করে থাকলেও, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যান্ডগুলো— ‘মেটালিকা’, ‘সিস্টেম অব আ ডাউন’, ‘প্যান্টেরা’, ‘এলিস ইন চেইনস’— এর গানের কভারে রকসংগীতপ্রেমীদের মনে অধীর প্রশংসা অর্জন করেন। তার এই অবদান বাংলা সংগীতাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • বলিউড তারকা সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডের অভিযোগ, ইডির তলব

    বলিউড তারকা সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডের অভিযোগ, ইডির তলব

    বিশ্বপ্রিয় বলিউড অভিনেতা এবং মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত সোনু সুদ আবারো আলোচনায়। মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্রশংসা পেয়ে থাকেন, তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে জুয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে অনলাইন জুয়া অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ডেকেছে।

    প্রতিবেদনে জানা গেছে, তদন্তকারীরা জানতে চাচ্ছেন, এই বিনোদন ও জুয়া অ্যাপের সঙ্গে অভিনেতার কী ধরনের চুক্তি হয়েছিল, কত টাকার বিনিময়ে তিনি এই অ্যাপের প্রচারে যুক্ত হয়েছিলেন এবং এই চুক্তির διάρκ্য কোথাও কত বছর ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোয়েন্দারা এসব তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছেন, যাতে কাগজে-কলমে ঠিকঠাক তদন্ত সম্পন্ন হয়।

    প্রসঙ্গত, গত বছর থেকেই বিভিন্ন বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা, ও কিছু ক্রিকেটার এই অনলাইন বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া প্রচার ও লেনদেনের জন্য জড়িত থাকার অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন। তালিকায় রয়েছে বিজয় দেবেরাকোন্ডা, রানা ডগ্গুবতী, প্রকাশ রাজের পাশাপাশি হরভজন সিং, উর্বশী রাওতেলা, সুরেশ রায়না সহ অন্য বেশ কয়েকজন।

    অভিনেতা সুরেশ রায়না, হরভজন সিং এবং অন্যান্য তারকারা গত জুন মাসে কড়া জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিয়েছেন। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয়, যেখানে এই অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রচার নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। এ সবের মধ্যে এখন সোনু সুদও ডেকে পাঠানো হয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর হাজিরা বাধ্যতামূলক।

    অন্যদিকে, এর আগে ইডির ডাকে সাড়া দিয়ে টলিিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী হাজিরা দিয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সব কথা দিয়ে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছেন এবং এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন তদন্তকারীরা। এই পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য তারকাদের মতো, সোনু সুদও হয়তো এই তদন্তের কেন্দ্রে থাকবেন আশু ফলাফলের জন্য।