রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সাবেক স্ত্রী রিয়া মনির মামলা অনুযায়ী আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম ও তার সহযোগী আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এ আদেশ দেন। মামলার বাদী রিয়া মনিরের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন না, এ জন্য তাদের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। জানা গেছে, এই মামলার এজাহার ২৩ জুন দাখিল করা হয়। আসল ঘটনা হলো, মনোমালিন্য হলে হিরো আলম তার স্ত্রী রিয়া মনিকে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মীমাংসার জন্য হাতিরঝিল থানার একটি বাসায় ডেকে এনে, সেখানে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের সহায়তায়, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে পিটিয়ে আহত করেন এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন।
Category: বিনোদন
-

আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড জিতল ‘সাইয়ারা’
মারকাটারির ভিড়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে রোমান্টিক ছবি ‘সাইয়ারা’, যার জন্য পরিচালক মোহিত সুরি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। ছবিটি এখন প্রেক্ষাগৃহে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে আর এর ফলস্বরূপ বক্স অফিসে উচ্ছ্বাসের গতি বাড়ছে। আর সম্প্রতি এই ছবিটি ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ইয়েলোস্টোন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫-এ পপুলার চয়েস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে। এটি অভিনেতা-পরিচালকের জন্য একেবারে প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা মোহিত সুরিকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই পুরস্কার জয়ে প্রতিভাধর এই পরিচালকের জন্য একটি বড় সম্মান এবং প্রেরণা। মোহিত সুরি বলেন, ‘এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। আমি গত ২০ বছর ধরে চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করি, আর এই প্রথম আমি কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলাম। এই ছবির সঙ্গে আমার জীবনে অনেক প্রথম হয়েছে। অভিনেতারা প্রথমবারের মতো সহকর্মী, আমি যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে প্রথম কাজ করেছি, প্রযোজক হিসেবে প্রথমবার কাজ করেছি অক্ষয়ীর সঙ্গে। ছোটবেলায় যখন আমি দিলওয়ালে দুলহানিয়া দেখতে সিনেমা হলে গিয়েছিলাম, সেই সময়ে প্রথম করেছিলাম জল-টপকোড়। তখন থেকেই ভাবতাম আমি একজন পরিচালক হব।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘প্রযোজক আদিত্য চোপড়াকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি প্রেমে বিশ্বাস না করলেও এখন নতুন করে বিশ্বাস জাগিয়েছেন। আপনিই আমার উপর আস্থার আরো বড় আস্থা দিয়েছেন। এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, সবাইকে উৎসাহিত করবে। তরুণ যুগলের প্রেমের জাদু ছুঁয়েছে সবাইকে।’
অভিনেতাদের প্রশংসা করে মোহিত বলেন, ‘ছবির পারফরম্যান্স এবং গল্পের জন্য আমরা বেশ প্রশংসিত।’
রোমান্টিক ছবি ‘সাইয়ারা’ ১৮ জুলাই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুক্তি পেয়েছিল। এটি বিশ্বজুড়ে বিশাল আয় করেছে প্রায় ৫০০ কোটি রুপির বেশি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এই সিনেমা শুধু দেশের মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দর্শকদের মন জয় করে চলেছে।
-

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভদ্রা বসু আর নেই
ওপার বাংলার নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করেছেন বর্ষীয়ান নৃত্য ও নাট্যশিল্পী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা ভদ্রা বসু। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৫ বছর।
ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কিছু দিন ধরেই শারীরিক গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। তার গলব্লাডারে স্টোনের খবর প্রথম জানা যায়, যা চিকিৎসকদের মতে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে অত্যন্ত উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের অসুবিধার কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। ওষুধের মাধ্যমে সমস্যা সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
কিন্তু পরিস্থিতি তখন আরো জটিল হয়ে উঠল, যখন হঠাৎ করেই তিনি ঘরে পড়ে গিয়ে স্নায়ুবিক আঘাত পান। এরপর তাকে প্রথমে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে কলকাতার জনপ্রিয় এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
সেখানে তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। পাশাপাশি কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের নানা চেষ্টার পরও অবস্থা অবনতি হলে শুক্রবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভদ্রা বসু ছিলেন প্রখ্যাত নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা অসিত বসুর সহধর্মিণী। তিনি Bühne ও ক্যামেরার সামনে এক অনন্য প্রতিভা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ও অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বেলা’ ছবিগুলো বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তার মৃত্যুতে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
-

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ঢাকার একটি আদালত মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই পরোয়ানা জারি করা হয় সম্প্রতি এক মামলায়, যেখানে অভিযোগ উঠে যে তারা পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি অর্থ laban করে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের অভিযোগ ওঠে।
আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হয়, কিন্তু তারা অনুপস্থিত থাকায় ১০ নভেম্বর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়া তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে, তাদের গ্রেপ্তারকামী তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বরের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বাদী দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় থাকা অবস্থায় আসামিদের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। তবে, টাকা পাওয়ার জন্য বারবার টাকা চাইলে আসামিরা সময়ক্ষেপন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে টাকা ফেরত দাবি করলে, আসামি ও তার সহযোগীরা আয়োজন করেছিলেন ভয়ভীতি ও হুমকি, এমনকি জীবনের জন্য ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। শোনা যায়, তারা বাদীর সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় জানানো হলে পুলিশ মামলা করতে পরামর্শ দেয়। এরপর, আমিরুল ইসলাম নামে একজন বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। এই মামলার মাধ্যমে এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন আদালত।
-

ভারতের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক মৈথিলী ঠাকুর
ভারতীয় রাজ্য বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নিশ্চিতভাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বিশাল বিজয় লাভ করেছে। শুক্রবার সকালে ভোট গণনা শুরু হতেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির নতুন চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিহারের ভোটাররা বিজয় মিছিল শুরু করেন, উচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়েন উৎসাহী ভোটাররা।
এই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিজেপি টিকিটে জিতেছেন জনপ্রিয় তরুণ সংগীতশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর। আলিনগর এলাকার রােজ্য জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী বিনোদ মিশ্রকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে তিনি এখন ভারতের সব থেকে যুবপ্রাপ্ত বিধায়ক হিসেবে পরিচিত। তার বয়স এখন মাত্র ২৫ বছর।
মৈথিলী ঠাকুরের জন্ম ২০০০ সালের ২৫ জুলাই বিহারের মধুবনীতে। শৈশব থেকেই বাবা ও দাদার সঙ্গে শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতের সূচনা করেন তিনি। ২০১৭ সালে রিয়েলিটি শো ‘রাইজিং স্টার’-এ রানারআপ হিসেবে তার পরিচিতি বাড়ে।
নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বিজেপিতে যোগ দেন মৈথিলী। এই সিদ্ধান্তে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার আমার কাছে অনুপ্রেরণার ź। আমি এখানে সমাজসেবা এবং বিহারের উন্নয়নে অবদান রাখতে এসেছি।’
এছাড়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) কে জানান, ‘এটা আমার স্বপ্নের মতো। আমি আমার এলাকাবাসীর ঘরের মেয়ে হয়ে তাদের সেবা করব। বর্তমানে আমি আলিনগরকে কেন্দ্র করে ভাবনা চিন্তা করছি, কীভাবে সেখানে কাজে লাগবো।’
-

প্রখ্যাত নির্মাতা লি তামাহোরি আর নেই
নিউজিল্যান্ডের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জেমস বন্ড সিরিজের মর্যাদাপূর্ণ সিনেমা ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ এর পরিচালক লি তামাহোরি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার পরিবারের পক্ষ থেকে রেডিও নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘদিন পারকিনসনের রোগে ভুগে তিনি বাড়িতেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার রেখে যাওয়া কীর্তি ও দ্যুতি তার সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের মধ্যে জীবিত থাকবে। তিনি যে নির্মাতাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, যারা সাহসিকতা ও মনোযোগ দিয়ে গল্প বলতেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। লি তামাহোরি ছিলেন দৃঢ়চেতা এক নেতা ও অসাধারণ সৃজনশীল একজন। তিনি পর্দার সামনে ও পেছনে মাওরি প্রতিভাদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
লি তামাহোরি ১৯৫০ সালে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাওরি ও ব্রিটিশ সূত্রে পুষ্ট। সত্তর ও আশির দশকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ শুরু করেন। তিনি জিওফ মারফির জনপ্রিয় সিনেমা ‘গুডবাই পার্ক প্লেস’ ও ‘দ্য কোয়াটার আর্থ’ এর ক্রু হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এছাড়াও, নাগিসা ওশিমার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সিনেমা ‘মেরি ক্রিসমাস’ ও ‘মিস্টার লরেন্স’-এ তিনি প্রথম সহকারী নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন।
তাঁর পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স ওয়ার রয়্যার্স’ ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়, যা সেই বছর নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সফল সিনেমা হয়ে ওঠে। এর পর থেকে তিনি ‘মুলহল্যান্ড ফলস’, ‘দ্য এজ’, ‘অ্যালং কীম আ স্পাইডার’ সহ আরও বেশকিছু হলিউড সিনেমা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেন।
২০০২ সালে পিয়ার্স ব্রসনানের সাথে তিনি জেমস বন্ড সিরিজের ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ সিনেমা পরিচালনা করেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সাফল্যের শিখরে পৌঁছে। হলিউডি অভিষানের পরে তিনি আবার নিউজিল্যান্ডে ফিরে যান এবং ‘মাহানা’ ও সাম্প্রতিক সিনেমা ‘দ্য কনভার্ট’ পরিচালনা করেন, যেখানে গাই পিয়ার্স ব্রিটিশ মিশনারির চরিত্রে অভিনয় করেন।
লি তামাহোরির মৃত্যু দেশের সিনেমা জগতের জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি, তার অসাধারণ সৃজনশীলতা ও আইকনিক নির্মাণ কীর্তিও চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
-

ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুঞ্জনে স্ত্রীর কড়া উত্তর: যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রবীণ এই তারকা বর্তমানে ভেন্টিলেশনে থাকলেও হাঁটু-পা শক্ত হয়ে যাওয়া ও তার অসুস্থতার গুজব ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে, যা নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। হঠাৎ এই ভুয়া খবরের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা।
অবশেষে তার স্ত্রী হেমা মালিনী এবং মেয়ে এষা দেওল এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই খবর সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং অপ্রাংক্তেয়। তারা বলেন, এটি সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য একটি ঘটনা। তার স্ত্রী কড়া ভাষায় উল্লেখ করেন, তাদের একার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গুজব ছড়ানো খুবই অনুচিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
একই সঙ্গে, ধর্মেন্দ্রর কন্যা এষা দেওল তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানান, তার বাবার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এ আশ্বাস দিয়ে তিনি সকলকে অবগত করেন যে, তারা যেন তাদের পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখেন। এষা আরো বলেন, ‘ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের পরিবারের গোপনীয়তা সম্মান করুন এবং ভুল বুঝবেন না।’
হেমা মালিনী আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ‘এ ধরনের গুজব ক্ষমার অযোগ্য। কীভাবে মানুষ সত্য না জেনে এই ধরনের মিথ্যা খবর ছড়ায়, আমি বুঝতে পারছি না। এটি একটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অসম্মানজনক পদক্ষেপ। সবাই আসুন, আমাদের পারিবারিক গোপনীয়তা রাখতে সহায়তা করি।’
পরিবার প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যে, বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে পরিচিত ধর্মেন্দ্র বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাড়া পাচ্ছেন। তারা সকলের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেছেন যেন ভুয়া খবর থেকে সাবধানে থাকেন এবং পরিবারিক গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান। সবার জন্য তাঁদের বার্তা, ‘আমরা আপনার সমর্থন, ভালোবাসা ও শুভকামনা কামনা করি। আপনারা দোয়া করবেন, তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ স্বস্থ্য হন।’
-

৩,৮০০ শিশুর হৃদয় সার্জারির খরচ বহন করে গিনেস বুকে পলক মুচ্ছলের নাম
কণ্ঠশিল্পীদের গিনেস বুকের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। তবে এবার এই কৃতিত্ব আলাদা, কারণ বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা পলক মুচ্ছল এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তার মানবতা ও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য। তিনি ৩,৮০০ দুঃস্থ শিশুর হার্ট সার্জারির খরচ নিজেই বহন করে তাদের জীবন রক্ষার মাধ্যমে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি লিমকা বুক অফ রেকর্ডস-এও স্থান করে নিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোট থেকেই নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গed করে চলেছেন পলক। তার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পলক পলাশ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন’ ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে খুব সহজভাবে এই উদ্যোগটি শুরু হলেও, নিজের শ্রম ও উৎসাহের মাধ্যমে এখন এটি তার জীবনসংলগ্ন মিশনে রূপ নিয়েছে। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এতগুলো শিশুর হৃদয় সম্পর্কিত জটিল রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গিনেসের খেতাব এনে দিয়েছে।
পলক বলেন, ‘আমি যখন ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, তখন থেকেই দুস্থ শিশুদের প্রতি মনের আবেগ দেখিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। ছোটবেলাতেই আমি কার্গিল যুদ্ধে আহত সেনাদের জন্য সংগীতের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, আমার অন্তরে কিছু করার আগ্রহ জেগেছে। এই মানসিকতা ধরে রেখেই আমি আজকের এই বড় স্বীকৃতি অর্জন করেছি। আমার এই কাজের প্রেরণা হলো সেই সব শিশুর জন্য, যারা চিকিৎসার খরচ বহন করতে অক্ষম।’
-

নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ, হাসপাতালে ভর্তি
বলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দকে বুধবার ভোরের দিকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আনুমানিকভাবে মাথা ঘুরে যাওয়া এবং অচেতন হয়ে পড়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইন উপদেষ্টা ললিত বিন্দাল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গোবিন্দ স্থிதিশীল এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ললিত জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে থেকে গোবিন্দ কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে এগারোটা থেকে বারোটা বাজতে না বাজতেই তিনি হঠাৎ দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। এরপর পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কিছু ওষুধ গ্রহণ করেন। রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
তবে মধ্যরাতে আবারও তার শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরা শুরু হয়। তখন তিনি ললিতকে ফোন করে অবস্থা জানান। ললিত বলেন, ‘রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আমি তার বাসায় পৌঁছাই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। রাত ১টার দিকে তাকে মুম্বাইয়ের ক্রিটিকেয়ার এশিয়া মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
প্রথমে তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তাকে সাধারণ কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে; তবে তার রেজাল্ট এখনও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরে নতুন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানানো হয়েছে। তার সাথে কথা বলেও জানানো হয়েছে, তিনি এখন অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন।
অবশ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা বা মেয়ে টিনা কেউই তার সঙ্গে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা থাকলেও ললিত স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সুনীতা তখন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, তাই হাসপাতালে আসতে পারেননি। রাতেই তিনি ফিরে এলেন এবং হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তাদের মেয়ে টিনা তখন চণ্ডীগড়ে ছিলেন এবং দ্রুত বাইরো পথে ছাড়া ফিরছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যে তিনি বাবার পাশে পৌঁছে যাবেন।’
উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগে অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে দেখতে গিয়েছিলেন গোবিন্দ। সম্প্রতি ধর্মেন্দ্র ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, গোবিন্দের দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীরা দোয়া করছেন।
-

হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Issued
রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হত্যা চেষ্টা, মারধর এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সাবেক স্ত্রী রিয়া মনির করা মামলায় আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ও তার সহযোগী আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এ আদেশ দেন। মামলার বাদী রিয়া মনির আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এই কারণ দেখিয়ে তাদের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বছরের ২৩ জুন দায়ের করা ওই মামলার এজাহার অনুসারে, বিভিন্ন মনোমালিন্য ঘটনায় হিরো আলম তার স্ত্রী রিয়া মনিকে পরিবারের সদস্যদের সামনেই বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মীমাংসার জন্য হাতিরঝिल থানার কাছাকাছি একটি বাসায় ডেকে নিলে সেখানে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনসহ আরও কয়েকজনের উপস্থিতিতে আসামিরা রিয়া মনিকে মারধর করেন এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনায় রিয়া মনির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়।
