Category: বিনোদন

  • চিরবিদায়: চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিরবিদায়: চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই। ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; অপমৃত্যু সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুসংবাদটি প্রথম জানিয়ে দেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমার মামি জয়শ্রী কবির বিখ্যাত নায়িকা, এককালের ‘মিস ক্যালকাটা’ — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যায়’ নায়িকা ছিলেন।” জাভেদ জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

    জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করতেন। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন; সেই পর্বের পরে আর বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা হয়নি।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ নির্বাচিত হওয়ার পর চলচ্চিত্রে জোরাল উপস্থিতি দেখানো শুরু করেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবিতে তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা। পরে উত্তম কুমারের বিপরীতে ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন।

    পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে জয়শ্রী কবির দুদিকের বাংলা চলচ্চিত্রেই পরিচিতি অর্জন করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশী পরিচালক আলমগীর কবিরের several চলচ্চিত্রে তিনি নায়িকা ছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    জয়শ্রী ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; কিন্তু দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রায় তিন বছরের মধ্যে অশান্তির ফলে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। এ সংসabethে তাঁদের একটি পুত্র—লেনিন সৌরভ কবির—আছেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে পুত্রকে নিয়ে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বাস শুরু করেন।

    জয়শ্রী কবিরের চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রে এক যুগপীত আবেগ ও স্মৃতিচিহ্ন রেখে গেল। শোবিজসহ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে তাঁর অভিনয়, লড়াকু চরিত্রচিত্র ও দুই বাংলার চলচ্চিত্রে অগ্রগতি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী যুগের দাপুটে নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। বহুদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যু সংবাদটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন জাভেদ। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে বসবাস করলেও পরবর্তীতে তাঁর কলাকৌশল ও প্রতিভা তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে আসে।

    জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি এবং নানা রকম শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসেও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়। গত কিছুদিন ধরে বাসায় রেখে চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে দেখাশোনা করছিলেন। ওই সকালে নার্সরা প্রথমে তাঁর শরীর ঠাণ্ডা লক্ষ্য করেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জাভেদের অভিনয়জীবন শুরু হয় নৃত্যনির্দেশক হিসেবে; পরে নায়ক হিসেবে সুবাখ্যাতি পান। ১৯৬৪ সালে উর্দু ছবিতে (নয়ি জিন্দেগি) নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে কাজ করে তিনি বহুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী আসন করান। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    রূপালি পর্দায় তার আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস; ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ মানেই ছিল জোরাল নাচ ও অ্যাকশনের অনবদ্য মিশ্রণ। তার প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের শিল্পীজীবন ও নৃত্যশৈলীর স্মৃতি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থাকবে। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরমপ্রেমে চলচ্চিত্রের দিকে পা বাড়ান—and শেষ পর্যন্ত জীবন কাটে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি; গত বছরের এপ্রিলে একবার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    জাভেদের স্ত্রী দলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালেই তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। তারা কয়েক দিন ধরে বাসাতেই চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন; হাসপাতালে থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে দুজন নার্স এসে জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিল্পী হিসেবে ইলিয়াস জাভেদের যাত্রা শুরু হয়েছিল নৃত্যপরিচালক হিসেবে; পরে অভিনয় করেই তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে প্রথমবার রুপালি পর্দায় আবির্ভূত হন তিনি। কিন্তু প্রকৃত প্রতিষ্ঠা পান ১৯৬৬ সালের ছবী ‘পায়েল’ দিয়ে, যেখানে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামেই পরিচিত করেন।

    একগুচ্ছ ব্যবসাসফল ছবি এবং ঝলমলে নাচের হাতখড়ি দিয়ে ৭০-৮০ দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে নায়িকা দলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পেশায় তিনি নৃত্যপরিচালনা থেকেই ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরে নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক দুঃখজনক অধ্যায়বন্দি—একসময় পর্দা কাঁপানো নাচ ও অ্যাকশনের এক অবিস্মরণীয় মিশ্রণ আজ স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘ সময় নীরবে চিকিৎসা নেয়ার পরও শেষপর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

  • চিরবিদায়: দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু

    চিরবিদায়: দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু

    দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    জয়ের মৃত্যু সংবাদ প্রথম জানানো হয় তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার মামি, বিখ্যাত নায়িকা জয়শ্রী কবির—এককালের ‘মিস ক্যালকাটা’—লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতিতে নায়িকা ছিলেন।” জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি; তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবিরের জীবন ও কর্মযাত্রা ছিল বৈচিত্র্যময়। ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন—পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শিক্ষাজীবন কেটেছে সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৬৮ সালে তিনি ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে শিশুকাল থেকেই আলোচনায় আসেন। চলচ্চিত্রে প্রবেশ ঘটে ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবির মাধ্যমে, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ সিনেমায় উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।

    পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশী চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরিচালক আলমগীর কবিরেরSeveral Several Several Several Several SeveralSeveralSeveralSeveral

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী দিনের খ্যাতিমান নায়ক ও উজ্জ্বল নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও নির্মাণশিল্পের আকর্ষণে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনেই স্থায়ী হন।

    জানি গেছে, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকা এই শিল্পী আরও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘ দিনের চিকিৎসাসেবা মূলত বাসাতেই চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা বাড়িতে এসে দেখাশোনা করতেন। আজ সকালে দুই নার্স এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জ্যেষ্ঠ এই অভিনেতার সিনেমাজীবন শুরু হয় নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে; পরে নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালের উর্দু চিত্রনাট্য ‘নয়ী জিন্দেগি’তে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক হলেও ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার বিপরীতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    তার পর থেকেই একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিলেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ ছিল পর্দার প্রাণবন্ত নাচ আর তীক্ষ্ণ অ্যাকশনের এক অনন্য মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে থাকা এই গুণী শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধানাজ্ঞা ও সমবেদনা।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুর সংবাদ প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তাঁর ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানান, জয়শ্রী কবির এককালের জনপ্রিয় নায়িকা ও ১৯৬৮ সালের ‘মিস ক্যালকাটা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা প্রতিদ্বন্দ্বী এবং পরিচালক আলমগীর কবিরের সীমানা পেরিয়ে, রুপালি সৈকতে, সূর্য কন্যা ও মোহনা–র মতো সিনেমায় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    পরিবার বা নিকটজন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি। জাভেদ মাহমুদ জানান, লন্ডনে অনেক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন; তারপর আর স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করে ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হওয়া তাঁর früতের সফল মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন; এরপর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় অসাধারণ যেখানে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রেও কাজ করে বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান—লেনিন সৌরভ কবির—রয়েছেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় যান এবং পরে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন; সেখান থেকে ছেলের সঙ্গে তিনি জীবনযাপন করেছেন।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক শান্ত ও মাধুর্যপূর্ণ কণ্ঠ নীরব হয়ে গেল। পরিবারের তরফ থেকে পরবর্তীতে যদি আরও তথ্য জানানো হয়, তা সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন

    ঢালিউডের স্বরেরা দিনগুলোর জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার ও নিকটজনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গতমাসগুলো জুড়ে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুদিন ধরে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল; নিয়মিত চিকিৎসক ও দুজন নার্স বাড়ি এসে তার সেবা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা শ্বাস-শব্দ না পেয়ে জানান যে তাঁর শরীর ঠাণ্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে ঘরছাড়া হয়ে চলচ্চিত্রের ডাক পেয়ে ঢাকায় এসে স্থায়ী হয়েছিলেন। অভিনয়জীবনের শুরুটা তিনি নৃত্যপরিচালক হিসেবে করেছিলেন; পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় ওঠেন। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস।

    নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ থেকে। কিন্তু সবার নজর কাড়েন ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমায়, যেখানে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে তিনি অভিনয় করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিতি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে নাচ ও অভিনয়ের অনবদ্য মিশ্রণে দর্শকদের মনে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে জায়গা করে নেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিখ্যাত চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চলচ্চিত্রে তিনি শতাধিক বস্তুনিষ্ঠ কাজ রেখে গেছেন; তার গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবনসঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’ প্রভৃতি।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রে এক যুগের ছাপ রেখে গেল। দীর্ঘসংগ্রামের পর নিভৃতভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী; তাঁর চলে যাওয়া চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আপূরনীয় ক্ষতি। পরিবার ও অনুরাগীদের কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু খবর শোনা গেছে। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানা দিয়েছেন; মৃত্যুকালে তার বয়স যেমন জানানো হয়েছে, তেমনই পরিবার সঠিক মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশ করেনি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সংবাদ প্রথম তাৎক্ষণিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি পোস্টে লিখেছেন, “আমার মামি — এককালের বিখ্যাত নায়িকা ও ‘মিস ক্যালকাটা’ — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’সহ অনেক চলচ্চিত্রে নায়িকা ছিলেন।”

    জাভেদ মাহমুদ জানান, জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের তরফে এখনও কোনো অফিসিয়াল শোকবার্তা বা জানালার সময়সূচি দেয়া হয়নি।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব ও কিশোরকাল কলকাতায় কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে সুবর্ণ সময় কাটান এবং ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ দিয়ে শক্তিশালীভাবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন — যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পকে চলচ্চিত্রায়িত করে নির্মিত হয়েছিল।

    ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি আরও প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বিশেষ করে পরিচালক আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবিতে তিনি মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন; এসবের মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ উল্লেখযোগ্য।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে তিনি আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই বিবাহ কয়েক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদে পরিণত হয়। এ দাম্পত্য থেকে তাদের একটি পুত্র সন্তান লেনিন সৌরভ কবির জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথম কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে লন্ডনে পাড়ি জমান; সেখানেই বহু বছর ধরে বসবাস করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পুত্রকে নিয়ে সেখানেই ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন; তারপর থেকে বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবির বাংলা অভিনেত্রী হিসেবে দুই বাংলার দর্শকের মনে যে স্থান করে নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। শিল্পী হিসেবে তার অবদান এবং স্মৃতি আরও অনেকের হৃদয়ে থাকবে। পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের বর্ষীয়ান নায়ক ও কৃতী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন; গতবারের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতালে করে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডলি বলেন, কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে নার্সরা এসে জানালে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পরিচিত নাম ইলিয়াস জাভেদ। প্রথমদিকে পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্থান করে নেন। নৃত্য পরিচালনা করেই ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে নায়কের ভূমিকায় বহুল জনপ্রিয়তা পান।

    তার চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি বড় পর্দায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটল জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনেও ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে তার পরিচয় ছিল ঝরঝরে নাচ ও অ্যাকশনের ৰোমাঞ্চকর মিশ্রণ হিসেবে। চলচ্চিত্র জীবন ও নৃত্যশৈলীর জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

    তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলাসিনোর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি—বিশেষত সত্তুর-আশির দশকের ভক্তদের কাছে—এমনকি নৃত্য ও বিনোদনশিল্পের এক যুগপতিক স্মৃতি।

  • চিরবিদায়: দুই বাংলার প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিরবিদায়: দুই বাংলার প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃত্যুর সঠিক কারণ পরিবারের তরফে জানানো হয়নি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর প্রথম জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি সেখানে জানান, ‘‘আমার মামি জয়শ্রী কবির, এককালের বিখ্যাত নায়িকা ও ১৯৬৮ সালের ‘মিস ক্যালকাটা’, লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’’ জাভেদ আরও বলেন, তিনি বহু দিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

    চলচ্চিত্রে জয়শ্রী কবিরের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্র থেকে। এরপর তিনি বাংলা সিনেমায় দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে বাংলাদেশি পরিচালক আলমগীর কবিরের Several ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে দুই বাংলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায় এবং পড়াশোনা করেছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জেতার পর চলচ্চিত্রে আসেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও দাম্পত্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মাথায় তারা বিবাহবিচ্ছেদ করেন। তাদের সংসথিত একমাত্র পুত্র সন্তানের নাম লেনিন সৌরভ কবির।

    বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রথমে কলকাতা ফিরে যান জয়শ্রী; পরে চলে আসেন লন্ডনে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ছেলে লেনিনকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন, এরপর থেকে বাংলাদেশে আর দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু বাংলা সিনেমাসাহিত্যের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা শেষকৃত্যের বিবরণ এখনও सार्वजनिक করা হয়নি।