Category: বিনোদন

  • অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারসহ পাঞ্জাবে স্থানান্তরিত হলেও, নিয়তি তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে আসে। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই তার শারীরিক অবনতি হচ্ছিল। হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চলে আসছিল, তবে তার শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে অবশেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

    তার অভিনয় জীবন শুরু ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে। তবে প্রথম বড় সাফল্য পায় ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। এই সিনেমার মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। পরিচালক মুস্তাফিজ তাকে জাভেদ নামে ডাকতেন।

    এরপর তিনি অসংখ্য সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    অংকিতা নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি নৃত্য পরিচালনা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, পরে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অভিনীত শতাধিক চলচ্চিত্র রয়েছে। ১৯৭০ ও ৮০ শতকের ডিজনি দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন পর্দার উত্তেজনাপূর্ণ নাচ ও অ্যাকশনের সমাদৃত শিল্পী।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের শেষের আলো। দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত এই গুণী শিল্পী নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ।

  • বলিউড অভিনেতা গুলিবর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

    বলিউড অভিনেতা গুলিবর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

    ভারতের মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউডের অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান ওরফে কেআরকে-কে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলমান।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এই ঘটনা চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ঘটেছে, যেখানে ওশিওয়ারা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চারটি গুলি ছোড়া হয়। স্থানীয় সিসিটিভি ক্যমেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে- বলেন, গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। নিজেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, বন্দুক পরিষ্কার করার সময় সেটি পরীক্ষা করার জন্য তিনি গুলি ছুড়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, গুলি চালানোর সময় বাতাসের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিগুলো পাশের এক ভবনে গিয়ে লেগেছে।

    কামাল আর খান বলিউডে এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের নিয়ে কটাক্ষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে।

  • লন্ডনে প্রয়াত দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির, বয়স ৭৪

    লন্ডনে প্রয়াত দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির, বয়স ৭৪

    দুই বাংলার পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। এই মৃত‍্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ।

    জাভেদ মাহমুদ এক পোস্টে জানান, “আমার মামি জয়শ্রী কবির — একসময়ের ‘মিস ক্যালকাটা’ ও বহুল পরিচিত নায়িকা — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, জয়শ্রী সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’সহ several সিনেমায় কাজ করেছেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে তার অভিনয়ও দর্শকের স্মরণে রয়ে গেছে।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হয়নি। জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, লন্ডনে বহু দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে আলোচনায় আসেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জীবনে পদার্পণ করেন, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে কাজ করেন।

    ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হলেও এই সংসার বেশি দিন টেকেনি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে সমস্যা দেখা দিলে তারা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ করে। এই দাম্পত্য থেকে তাদের এক পুত্রসন্তান লেনিন সৌরভ কবির জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে স্থায়ীভাবে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় একবার এসেছিলেন; তারপর থেকে দেশে দেখা মেলেনি।

    জয়শ্রী কবিরের প্রয়াণে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিজন ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘসময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্ম নেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাব চলে গেলেও পরবর্তীকালে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ শুরু করেন।

    জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ক্যানসারে ভুগছিলেন জাভেদ; পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতালে তখন চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাঁর দেখাশোনা করছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয়। দুই নার্স এসে জানায় শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অভিনয় ও নৃত্যের সাথে শুরু থেকেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল জাভেদের। তিনি zunächst নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটলেও প্রকৃতভাবে খ্যাতি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে বিপরীতে ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক ছবিতে এবং সত্তর-আশির দশকে দর্শকদের মনে তিনি ছিলেন নাচ-অ্যাকশনের এক অনবদ্য মিশ্রণ। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা-বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের শেষচিহ্ন, অনেকেই তাঁর চলে যাওয়াকে বাংলা সিনেমার ভাণ্ডারের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সহশিল্পী ও অনুরাগীরা।

  • ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের প্রখ্যাত নায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ জীবনবোধ থেকে বিদায় করেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে ভুগে ৮২ বছর বয়সে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস জাভেদ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গতবছরের এপ্রিলেও তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিছু দিন ধরে বাড়িতে শয্যাশায়ীভাবে চিকিৎসা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে জানাচ্ছেন তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক এবং দুজন নার্স কয়েকদিন ধরে তাঁর পরিচর্যা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানান তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিনয়ের সূচনা। তবে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড়পর্দায় খ্যাতি পান; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং পরে নায়ক হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দর্শকের হৃদয়ে তিনি ‘ড্যানসিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন—সত্তরের ও আশির দশকে তাঁর নাচ-বলো ও অ্যাকশনের মেশানো অনবদ্য ধরনে কোটি দর্শক মুগ্ধ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুরো ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো: ‘নয়ী জিন্দেগি’, ‘পায়েল’, ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন কঠোর রোগঝঞ্ঝাটের মধ্যে থেকেও তিনি সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন—তার এই অবদান চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার প্রাক্তন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, আমার মামি জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।

    জাভেদ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমার মামি ছিলেন বিখ্যাত নায়িকা এবং এক সময়ের ‘মিস ক্যালকাটা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতির মতো চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন।’’

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়; শিক্ষাজীবনও কাটে সেখানেই—তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে পরিচিতি পান এবং ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন।

    পরবর্তীতে জয়শ্রী কবির বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরিচালক আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবিতে তিনি প্রধান ভূমিকায় দেখেন—সেগুলোর মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ উল্লেখযোগ্য।

    ১৯৭৫ সালে তিনি আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; কয়েক বছরে সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিচ্ছেদ করে। এই সংসারে তাদের এক পুত্র সন্তান—লেনিন সৌরভ কবির—আছেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী শুরুতে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে স্থায়ীভাবে লন্ডনে যান। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন।

    প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় একবার এসেছিলেন; এরপর থেকে তাকে দেশে দেখা যায়নি। শিল্পজীবনে বাংলাদেশের ও ভারতের চলচ্চিত্রের মাঝেই তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়েছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সহকর্মীরা শোক জানিয়েছে।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমার মামি, এককালের খ্যাতনামা নায়িকা জয়শ্রী কবির লন্ডনে মারা গেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’-এ ও আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতি ছবিতে নায়িকা ছিলেন।”

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবির বহু বছর লন্ডনে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় কয়েকবার এসেছিলেন; এরপর থেকে বাংলাদেশের কাঁধে তাকে আর দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবিরের জন্ম ১৯৫২ সালে কলকাতায়। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব-কৈশোর Kolkata-তেই কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে খেতাব অর্জন করে মিডিয়া ও বিনোদন জগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

    চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রে। পরে ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে শুরু করে জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত বেশ কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জয়শ্রী। এ বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয় এবং পরে বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে তারা আলাদা হন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে—লেনিন সৌরভ কবির।

    বিচ্ছের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান, এরপর জীবনের একপর্যায়ে লন্ডন পাড়ি জমান এবং সেখানে ছেলে লেনিনকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

    চলচ্চিত্র ও সাহিত্য প্রেক্ষাপটে দুই বাংলার একটি সময়ে আলোচিত মুখ ছিলেন জয়শ্রী কবির। তার নান্দনিক উপস্থিতি ও অভিনয়শৈলী দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে বিশেষ ছাপ রেখে গিয়েছে। পরিবারের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা থাকবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালি দিনের পরিচিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন ৮২ বছর বয়সী।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে স্থায়ী হয়ে যান।

    জানা গেছে, অনেক বছর ধরে ক্যানসারসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের সহায়তায় এবং পরে বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে দিনের পর দিন দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্স দু’জন এসে জানান, তাঁর শরীর পুরোপুরি ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়কের ভূমিকায়। তবে বড় পর্দায় খ্যাতি পান ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে; সেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও পরে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে নাচ ও অ্যাকশনের অনবতিত মিশ্রণে দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবেই স্থায়ী জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মোটে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

    জাভেদের কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণকে বহু দর্শক ও কলাবিলাসী বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে মনে করছেন। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে ছিলেন এই গুণী শিল্পী; তাঁর চলে যাওয়া চলচ্চিত্র ও শিল্পাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানাই।

  • উভয় বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    উভয় বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    জেলা চিত্রজগতে সাড়াজাগানো এক মুখ, উভয় বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির গত ১২ জানুয়ারি লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ।

    জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘‘আমার মামি জয়শ্রী কবির — বিখ্যাত নায়িকা, এককালের ‘মিস ক্যালকাটা’ — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’ ও ‘সূর্য কন্যা’ সিনেমাগুলোর নায়িকা ছিলেন।’’

    মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি; তবে জাভেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

    জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় একটি সফর করেছিলেন; তারপর থেকে আর নিয়মিত বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম ছিল জয়শ্রী রায়। তিনি দক্ষিণ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্র দিয়ে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। ১৯৭৬ সালে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘অসাধারণ’ ছবিতেও অভিনয় করেন।

    পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রে সক্রিয় থেকে তিনি বাংলাদেশের দর্শকমহলে খ্যাতি অর্জন করেন। আলমগীর কবির পরিচালিত Several চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবেকে দেখা গেছে — তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    ব্যক্তিগত জীবনে জয়শ্রী ১৯৭৫ সালে পরিচালক আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। تاہم দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কয়েক বছরের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের সংসায় একটি পুত্র সন্তান — লেনিন সৌরভ কবির — রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে আবার কলকাতায় থাকেন এবং পরবর্তীতে পুত্রকে নিয়ে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

    চিত্রজগতের এই আলোকিত ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলার চলচ্চিত্র ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে। তাঁর জীবন ও কাজ প্রজন্মে প্রজন্মে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বীকৃত অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। সনির ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম গ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস, যাকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্রজগৎকে পরিচিত করেন ইলিয়াস জাভেদ নামে। শৈশবে তার পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তী সময়ে অভিনয় জীবনের কারণে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন।

    জানানো হয়, ক্যান্সারের পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে-বাসার মিশ্র চিকিৎসাসেবা চলছিল। স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে; দুজন নার্স এসে জানান, শরীর ঠান্ডা থাকায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ছিল। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়কের ভূমিকায় রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন; এই কাজেই শাবানার সঙ্গে জুটিবন্ধনে দর্শক হৃদয়ে বিশেষ স্থান করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে চলচ্চিত্রে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    প্রাথমিকভাবে নৃত্যপরিচালনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা জাভেদ পরে নায়কের ভূমিকায় উঠে এসে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন নৃত্য ও অ্যাকশনের মিশেলে এক মার্কসধর্মী পারফর্মার — তাই তাঁকে ‘ড্যান্সিং হিরো’ বলা হতো।

    ব্যক্তিগত জীবনেও ইলিয়াস জাভেদ একজন পরিচিত নাম; ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    ইলিয়াস জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায় বন্ধ হলো; দীর্ঘদিন গোপনে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী। চলচ্চিত্রভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।