Category: জাতীয়

  • বাংলাদেশ যেন নির্বাচন থেকে যেন আর বিচ্যুত না হয়: ইসি সানাউল্লাহ

    বাংলাদেশ যেন নির্বাচন থেকে যেন আর বিচ্যুত না হয়: ইসি সানাউল্লাহ

    নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেন আর কোনো সময়ই নির্বাচনীয় পথে বিচ্যুত না হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত এবং আরও উন্নত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথপ্রদর্শক হবে।

    আজ শুক্রবার সকাল ১১টার কিছু আগে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর ভোটের জন্য সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সব আশঙ্কা কেটে গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্ত ভিত পেয়ে গেছে।

    সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারির সকালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন হয়ে থাকবে। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের মূল অঙ্গীকার ছিল, আইন বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ও একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন। এই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কোথাও কোথাও যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, তা অনিচ্ছাকৃত। গত দুই দিনের কিছু ঘাটতি থাকলেও, ভবিষ্যতে আমরা সেগুলো সংশোধন ও পূরণ করার জন্য চেষ্টা করব। নির্বাচনকে কেবল সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি ব্যাপক দায়িত্ব মনে করে কমিশন কাজ করে গেছে।

    দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সানাউল্লাহ বলেন, ভোটাররা ঈদের উৎসবের মতো পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন ঘিরে থাকা শঙ্কাও দূর হয়েছে। বাংলাদেশ আজ এক বিজয়ী জাতি।

    অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চান, দেশি ও বিদেশি সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিএনসিসির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

  • ইসি ঘোষণা করবেন না তিন আসনের নির্বাচনের ফলাফল

    ইসি ঘোষণা করবেন না তিন আসনের নির্বাচনের ফলাফল

    নির্বাচনি এলাকা শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আগামী সময়ের জন্য স্থগিত থাকছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে আদালতের আপিল বিভাগের আদেশ ও মামলার অবস্থা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, এ বিষয়ে আলাদা তিনটি চিঠি প্রকাশ করে ইসি।প্রথমে চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত একটি রিটের আদেশের কারণে এই আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে তার ফলাফল ঘোষণা তখন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যেটা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলবে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।

    অপরদিকে, চট্টগ্রাম-২ আসনের জন্য বলা হয়েছে, সরোয়ার আলমগীরও আপিল বিভাগের আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে তার ফলাফল প্রকাশের জন্যও এখনই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, যতক্ষণ না মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়।

    অবশেষে, শেরপুর-২ আসনের জন্য জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, কিন্তু তার ফলাফলও স্থগিত থাকবে। কারণ এই আসনের sonuç ঘোষণা আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশের ওপর নির্ভর করবে।

    এখনো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের শেষ সিদ্ধান্তের ওপর কেন্দ্রীয় প্রতিযোগীদের ফলাফলের ঘোষণা নির্ভরশীলতা থাকবে, যা নির্বাচনে সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

  • একজনের ভোট অন্যজনের দিতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    একজনের ভোট অন্যজনের দিতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন ভোট অন্যজনের দিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত নগণ্য বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগের সরকার আমলে কিছু বিতর্কিত নির্বাচনের সময় একজনের ভোট অন্যজনের দ্বারা দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সেই সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও যদি এই ধরণের কোনো ঘটনা ঘটে, আমরা তা দ্রুতই খতিয়ে দেখব।’

    তিনি আরও জানান, ছোটখাটো কিছু দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া, বর্তমানে নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, গোপন ও উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সংবাদমাধ্যমের সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে ভারতের কিছু অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে আমাদের সাংবাদিকরা সত্য সংবাদ পরিবেশন করলে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে আরও সাহায্য করবে।’

    পরে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় সমন্বয় কক্ষ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন।

  • ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে ভোটকেন্দ্রে মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত

    ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে ভোটকেন্দ্রে মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি সরকারি মার্সেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটের মুহূর্তে একজন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখা গেছে। ওসমান হাদি হত্যা মামলার শিকার ভাই রাসেল হাদির বোন মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রে যান, যেখানে তিনি ভাই হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। তার এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রের সাধারণ প্রাঙ্গণকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। ভোটার এবং পথচারীরা তাকিয়ে দেখছেন, যেন তারা বুঝতে পারছেন, এই ছোট্ট নারীর হৃদয়ে কতটা বিষাদ ও আকুতি। সবাই ওসমান হাদির শূন্যতা অনুভব করছেন এবং তার পরিবারের ভেতরকার এই গভীর যন্ত্রণায় সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন।

    ভোট দেওয়ার পর, আবেগে ভরা কণ্ঠে মাসুমা হাদি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার অভিযোগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা বিচার চাই, ন্যায়বিচার চাই। একজন নাগরিক হিসেবে আমার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে, আর ভাই হত্যার বিচার চাওয়া আমার নৈতিক কর্তৃত্ব।’

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ওসমান হাদির হত্যা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি, কারণ তদন্তে কিছুটা ধীরগতি থাকায় পরিবার ও স্বজনরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত বিচার চেয়ে বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন, যেন এই নিষ্পাপ ভাইয়ের হত্যা আদালত কোনওভাবেই অমীমাংসিত রেখে না দেয়।

  • ভোটাধিকার প্রয়োগে বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছি — ইভার্স ইজাবস

    ভোটাধিকার প্রয়োগে বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছি — ইভার্স ইজাবস

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভার্স ইজাবস উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগে খুবই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত thấy যা দেখেছি, তা খুবই আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইজাবস আরও বলেন, আমাদের প্রশ্নের উত্তর আমরা ১৪ তারিখে দেব। আপাতত আমরা কাজের মধ্যে রয়েছি। এদিন সকালের দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তিনি, যেখানে ইইউ পর্যবেক্ষক দলের মিশন প্রধানের ভাষ্য, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় দিন। তিনি আরো বলেন, সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেখেছেন আমরা। আমাদের বিশ্বাস, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করবে। তাঁর দল অনুযায়ী, সব কেন্দ্র থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত তারা সারাদেশে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবেন।

  • প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ

    প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক সাধারণ ভোটে প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় মোট ৩২ হাজার ৭৮৯টি ভোট কেন্দ্রে দেশজুড়ে গড়ে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় নির্বাচন ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী ভোটগ্রহণের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

    সচিব জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের তথ্য তাদের কাছে আসেছে। এসব কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ব্যাঘাত বা বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

    নির্বাচন কমিশনের সচিব আরও জানান, সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এই ভোটদান চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, তারপর গণনা কাজ শুরু হবে।

    প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের নিরবচ্ছিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশন নিয়মিতভাবে ভোটের সর্বশেষ পরিস্থিতি গণমাধ্যমকে জানিয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে ভিড় ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ

    ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে ভিড় ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ

    ঢাকা-৮ আসনের জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল বারোটার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনার ঘটনা ঘটে। ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে উসকানিমূলক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয় এবং তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সেসময় তারা নিরাপদে পাটওয়ারীকে কেন্দ্রে থেকে সরিয়ে বাইরে নিয়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাটওয়ারী কেন্দ্রে বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রবেশ করেন, যার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে, সেখানে থাকা কিছু ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তজনা বাড়তে থাকলে তাঁকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করার চেষ্টা চালানো হয়।

    সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হন। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং সেনারা পাহারায় পাটওয়ারীকে কেন্দ্র থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেন।

    অভিযোগ করা হয়, বিএনপি সমর্থিত কিছু ভোটার জানিয়েছেন, পাটওয়ারী কেন্দ্রে ১০০ থেকে ১৫০ জন বহিরাগত ব্যক্তিকে প্রবেশ করিয়েছেন, যা বৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে। এ বিষয়ে পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড

    ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের আইডি কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের পুনরায় কিছু করার প্রয়োজন নেই। আর যারা অনলাইনে আবেদন করেননি তাদেরকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে না; তারা সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে কার্ড ও স্টিকার নিতে পারবেন।

    এর আগে ইসি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য অনলাইনে আবেদনের আহ্বান জানায়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই প্রক্রিয়াকে ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়’ বলে উল্লেখ করে দ্রুত সমাধান দেয়ার আশ্বাস দেন।

    সাংবাদিক নেতারা সংগঠিতভাবে আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এসব জটিলতা মেটাতে ইসিকে আলটিমেটাম দিলে আভাস মেলেনি, এরপরই ইসি অনলাইনে-only পদ্ধতি থেকে সরে এসে ম্যানুয়ালি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

  • নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না

    নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনও পক্ষের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী এমন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।

    চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি কোনোভাবে জনসাধারণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদানের আহবান জানাতে পারবেন না।’’

    ইসি জানিয়েছে, সরকারের কর্মচারীদের পক্ষ-পক্ষান্তরে কথা বলার ফলে গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে এবং তা উল্লেখিত বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাই রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি)ও ইসি জানিয়েছিল যে, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণভোটে কোনো একটি পক্ষের পক্ষপাতমূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না; তবে তারা ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।

    নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারি করা এই নির্দেশনা সরকারি কর্মীদের আচরণগত সুষমতা নিশ্চিত করে গণভোটের নিরপেক্ষতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা প্রার্থী বা এজেন্ট থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না

    ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা প্রার্থী বা এজেন্ট থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই নির্বাচনে প্রার্থী, নির্বাচনি বা পোলিং এজেন্ট, কর্মী বা সমর্থকসহ কেউই কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার, পানীয় বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। বিষয়টি स्पष्ट করে তিনি বলেন, নির্বাচন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তাহমিদা আহমদ এসব কথা বলেন। এই সভায় নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিতব্য ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ও কর্মাবলির পর্যালোচনা করা হয়। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তারা কঠোর প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন, যা নির্বাচন থেকে ৪ থেকে ৫ দিন আগে শেষ করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ভোটগ্রহণে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ভোটের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা ও ফলাফলের সঠিক প্রেরণার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।

    তিনি নির্দেশ দেন, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্যানেল প্রস্তুত করতে হবে। তবে, কোথাও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাইবাছাই সাপেক্ষে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে এই বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ ও নিয়ম মাফিক করতে হবে।

    উল্লেখ্য, ভোটগ্রহণের আগের দিন ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে আনুষ্ঠানিক প্রচার, এবং ভোটগ্রহণ হবেন ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকল কর্মকর্তাকে এই সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বাচন আইনের নির্দেশনা, আচরণবিধি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে পারেন।