রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে সাতানব্বই লাখ নয়—কমলা। আসলে, রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাসের জ্বালানি বা প্রায় ৬০ লাখ নয়—এখনই নয়। ঠিক করা যাক: বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (স্যাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগে ভারতের জন্য একই ধরনের স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছে—আমরা সেটি আমল করে বাংলাদেশকেও এমনই ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে রাশিয়া থেকে যেন আমাদের অন্তত দুই মাসের জ্বালানি বা ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার অনুমতি দেয়া হয়, সেই আবেদন তুলে ধরেন।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে চিঠি চেয়েছিল তা আমরা ঈদের পরেই পাঠিয়েছি এবং এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি এটাকেই এ বিষয়ে অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখাচ্ছেন।

একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি থাকলেও যুদ্ধ-পরিস্থিতির আগে ভারত থেকে মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন তেল পেয়েছি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল, তাও পূরণ হয়নি—শুরুতে মাত্র ৫ হাজার মেট্রিক টন পেয়েছিলাম। পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপদস্থ বৈঠকের পর সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে; এ পর্যন্ত তিনটি পার্সেলে তিনবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ও একটি পার্সেলে ৭ হাজার মেট্রিক টন এসেছে—মোট করে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছি।

তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি কার্গো ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি শিপ শিগগিরই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বিকল্প উৎস খোঁজা চলছে—সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মনীতিমালাও আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই আশ্বাসও পেয়েছি; পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও এঙ্গোলা থেকে এলএনজি এসেছে বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক সমুদ্রনিরাপত্তা প্রসঙ্গে যুগ্মসচিব বলেন, হরমুজ প্রণালীর সীমিতভাবে পাঁচটি দেশের—ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া এবং বাংলাদেশ—নৌচলাচলের অনুমতি দেয়ার খবর এসেছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে; সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া আশা করা যাচ্ছে। তবু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত রয়েছে; বিশেষত বাংলাদেশি পতাকা ছাড়া অন্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

জ্বালানি বিভাগ বলেন, পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সব পথ খুঁটে দেখতে অব্যাহত রাখছে যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে খুঁত না পড়ে।