Category: খেলাধুলা

  • বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবন রক্ষাকারী জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে হারিয়ে তারা প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনও নিশ্চিত নয় সুপার ফোরের টিকিট। কাউন্টার এই গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে, বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপ ‘বি’ এর শেষ ম্যাচের দিকে, যেখানে শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের।

    বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো, শ্রীলঙ্কা যদি জয় লাভ করে বা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তাহলে তারা সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছাবে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে। এর ফলে কোনও জটিল সমীকরণের দরকার পড়বে না।

    তবে যদি আফগানিস্তান জিততে পারে? তখন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৪, এবং তখন নির্ভর করবে নেট রান রেটে। আফগানিস্তানের বর্তমানে +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬, এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে বদলে যেতে পারে?
    আফগানিস্তান যদি আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান তোলার মতো পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়া নিশ্চিত হবে।

    অথবা, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তাহলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    এছাড়াও, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তানের জয় পেতে হলে ১১-১২ ওভারের মধ্যেই ম্যাচটি শেষ করতে হবে। তাতেই বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়া সম্ভব।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে, বাংলাদেশ শেষ চারে পৌঁছানোর পথে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেটাই আলাদা করে তাকানো পুরো গ্রুপের শেষ ম্যাচ, শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তানের দিকে।

  • পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য জয়: রমিজ রাজা

    পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য জয়: রমিজ রাজা

    বাংলাদেশ সময়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও পরে আঁকা অ্যান্ডি পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়াকে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক বোর্ড প্রধান রমিজ রাজা। তবে তিনি এও মনে করেন, ইংল্যান্ডের রেফারির এই আচরণে ভারতের স্বার্থ প্রতিফলিত হচ্ছে, কারণ ভারতের জন্য এটি সুবিধাজনক।

    এশিয়া কাপের পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের সময়টিতে টসের আগে ও পরে ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন না করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট নিজেই হাত না মিলানোর জন্য খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই রেফারির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। পরবর্তীতে आवश्यक ব্যতিক্রমী বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রাজা বলেন, এটা সত্যিই আমাদের জন্য একটি গুরুত্তপূর্ণ জয়। পুরো পরিস্থিতিটা খুবই জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তখন আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে চাইলেও, আমরা তা করিনি। যদি টুর্নামেন্ট বর্জন করা হতো, তাহলে দেশের ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি হতো। আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে আমাদের শান্ত ও সংযমী থাকা আবশ্যক, কারণ এর ফলে মাঠে সত্যিকারের ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

    আশ্চর্যজনকভাবে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষে সূর্যকুমার যাদব জয় উদযাপন করেন এবং এই জয়কেই দেশের সেনাবাহিনী ও পেহেলগাম হামলার শিকার পরিবারদের কাছেই উৎসর্গ করেন। তবে, রমিজ রাজা বলছেন, এই বিষয়টিতে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তিনি মনে করেন, পাইক্রফট ভারতীয় দলের অত্যন্ত প্রিয় একজন রেফারির মধ্যে অন্যতম। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধরনের আচরণ কি সত্যিই সততার পরিচায়ক, না কি কিছু স্বার্থের জন্য চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

    তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীর সময় কথাগুলো নিয়ে। যদি ক্রিকেটকে রাজনীতির আঙিনায় রূপান্তর করা হয়, তবে আসল কোনো অর্জনই সম্ভব নয়। এই ধরনের মনোভাব খেলাকে দূষিত করে দিচ্ছে।

    একটি বিষয় যা নজরে আসছে, তা হলো অ্যান্ডি পাইক্রফটের ব্যাপারে রমিজ রাজা জানান, আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনায় তিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছেন সাউথ আফ্রিকার জন্য—১৩৫টি ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর শ্রীলঙ্কা (১৩২), ভারত (১২৪), পাকিস্তান (১০২), ইংল্যান্ড (১০৭), বাংলাদেশ (৮৩) ও অস্ট্রেলিয়া (৮০) ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি বিশ্বের শীর্ষ রেফারিদের একজন। তবে, তার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে উঠে আসা প্রশ্নগুলোকে যেন তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নৈর্ব্যক্তীয়তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • বাংলাদেশের সামনে সুপার ফোরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

    বাংলাদেশের সামনে সুপার ফোরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবনের অন্তরবর্তীতেই বাঁচার জন্য একমাত্র পথ হলো আফগানিস্তানকে হারানো। এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নয় তাদের সুপার ফোরের টিকিট। পঞ্চম ম্যাচের ফলাফলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ফলে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো শ্রীলঙ্কার জয় বা তার ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়া। যদি এভাবে শ্রীলঙ্কা জিতে বা ম্যাচ বাতিল হয়, তাহলে চার পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।

    অন্যদিকে, যদি জিতে যায় আফগানিস্তান, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে। তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান—৪—এবং তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নেট রান রেটের হিসাব। আফগানিস্তানের বর্তমান রেট +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬ এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    এখন কী হতে পারে তার কিছু সম্ভাব্য চিত্র হলো: যদি আফগানিস্তান আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান করতে পারে—তাহলে সরাসরি বাংলাদেশ সুপার ফোরে নিশ্চিত হবে। আবার, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তবে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    অন্যদিকে, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তান জিততেই হবে ১১-১২ ওভারেই, তখনই বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই সময়ে বাংলাদেশ শেষ চারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন শুধুমাত্র তাকিয়ে আছেন সুপার ফোরে বাংলাদেশের পথের জন্য শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে।

  • পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে সাধারণত উত্তেজনা থাকেই, তবে এবার এই উত্তেজনার মাঝে একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সব কিছু শুরু হয় গত রোববার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যেখানে ভারত পাকিস্তানকে হারালো। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু ম্যাচের পরের ঘটনাগুলি যেন আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছে, তা খেলার উত্তেজনাকে ছাপিয়ে গেছে।

    জয়ের পর সূর্যকুমার খেলোয়াড়রা সঙ্গে হাত মিলাননি, সেটি নিয়ে অনেকেরই সমালোচনা হয়েছে। টসের সময়ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেননি। এই আচরণকে অনেকেই অখেলোয়াড়সুলভ বলে সমালোচনা করেছেন।

    এই বিতর্কের মাঝে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফের হাত ধরে। এক টিভি আলোচনায় তিনি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বলে গালি দেন। সঞ্চালক বারবার তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও, ইউসুফ নিজেও যেন থামতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, ‘ভারত সিনেমার দুনিয়া থেকে বের হতে পারছে না। তারা আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির মাধ্যমে জিতছে। এটা নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক!’ এরপর তিনি আরও গালাগাল করতে থাকেন।

    এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। ভারতের ক্রিকেট ভক্তরা ইউসুফের এই অশোভন আচরণের জন্য রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

    ঘটনার দীর্ঘপরবর্তী সময়ে, ইউসুফ এক্স-এ (সাবেক টুইটারে) একটি পোস্টে বলেন, ‘আমি কাউকে অসম্মান করতেই চাইনি। আবেগে তার কথাগুলো বলে ফেলেছি। তবে এরকম পরিস্থিতি মনে করে দেখুন, যখন ইরফান পাঠান আফ্রিদিকে ‘ঘেউ ঘেউ করা কুকুর’ বলে ডেকেছিলেন, তখন ভারতের মিডিয়া সেটাকে প্রশংসা করেছিল!’

    ইউসুফ যে ঘটনা উল্লেখ করছেন, সেটি ২০০৬ সালের পাকিস্তান সফরে ইরফান পাঠানের এক পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। সেখানে পাঠান বলেছিলেন, ‘আফ্রিদি অনেকক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছে, নিশ্চয়ই কুকুরের মাংস খেয়েছে।’ এরপর থেকে আফ্রিদি আর কখনো তার সঙ্গে কোনো বাকবিতণ্ডা করেননি। এই ঘটনাগুলি ফুটে উঠেছে শুধু ক্রীড়া নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের পর্যায়ে।

  • আফগানদের হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বজায় রাখলো বাংলাদেশ

    আফগানদের হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বজায় রাখলো বাংলাদেশ

    তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরির জোরে প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ ৮৭ রান তুলেছিলো, তবে এরপর ব্যাটিংয়ে তারা ঠিকঠাক করার রাখতে পারেনি। এই কারণে ভালো শুরু পাবার পরও ১৫৪ রানে আউট হতে পারেনি বাংলাদশের ব্যাটসম্যানরা। লক্ষ্য অনুযায়ী দ্রুত রান সংগ্রহের চেষ্টায় আফগানরা নিয়মিত উইকেট হারাতে শুরু করে। নাসুম আহমেদ ও রিশাদের দুর্দান্ত স্পিনে তাদের ১৪৬ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। এর ফলে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ রানে জেতা বাংলাদেশ সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয় লিটন-তাসকিন আহমেদের দল।

    আফগানিস্তান শুরুতেই নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই সেদিকউল্লাহ অটলের উইকেট হারায় তারা। নাসুম আহমেদের লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে গিয়ে খেলার চেষ্টায় লেগ বিফোরে আউট হন বাঁহাতি ওপেনার সেদিকউল্লাহ। একই ওভারে সেখানে মেইডেন হয় এবং উইকেটও পান নাসুম। দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ পেলো সুযোগ, ইব্রাহিম জাদরান কাট করতে গিয়ে কাটা পড়েন।

    দ্বিতীয় ওভারে স্ট্রাইক পান রিশাদ, তিনি বেশ কিছু ভালো ডেলিভারি করেন এবং ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে দেন। ইব্রাহিমের ১২ বলে ৫ রানের ইনিংস এভাবেই শেষ হয়। আফগানরা প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ২৭ রানে এগোতে পারেনি। তবে গুরবাজ ও গুলবাদিন বড় শট খেলার জন্য উঠে আসে, যদিও রিশাদ তাদের প্রথম জোড়া আউট করেন গুলবাদিনকে লিডিং এজে ক্যাচ করে। এরপর গুরবাজের ক্যাচ ইভেন্টে মহামূল্যবান হয়ে ওঠে।

    মোহাম্মদ নবি সঙ্গে কিছুটা ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত রানের জগতে কিছুটা নীচে পড়ে। তাকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজ। নবি ১৫ বলে ১৫ রানে আউট হন। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই স্বভাবতই ব্যাটে ঝড় তোলে। তিনি প্রথমে সাইফের চার ও দুই ছক্কা মারেন, পরে তাসকিনের ওভারে আবার ছক্কা মারেন। তবে ওমরজাইকে তাসকিন ফিরিয়ে দেন। করিম জানাতের রান আউটের পর রশিদ ও গাজানফারকেও ফেরান মুস্তাফিজ। আফগানদের রানের ঝুড়ি শেষ হয় ১৪৬।

    অন্যদিকে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই উজ্জীবিত হয়। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটও হারায়নি তারা। ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফের দুর্দান্ত সূচনায় বাংলাদেশ দ্রুত শুরু করে। বিশেষ করে, তানজিদ মাত্র ২৮ বলে সাতটি ছোড়া উড়ান নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন যা বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের পথ দেখায়। তবে অন্য ব্যাটাররা অনুকরণে সক্ষম হয় না, ফলে সংগ্রহ থামে ১৫৪ রানে।

    বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুরন্ত চাপের মধ্যে দুটি জোড়া উইকেট নেয় আফগান স্পিনার রশিদ ও নূর আহমেদ, তারা মাত্র ৮ ওভারে ৪৯ রান খরচ করে। এই স্পিনারদের বোলিংয়ের ফলে বাংলাদেশ উড়ন্ত সূচনা সংগ্রহ করলেও ফলাফল আশা অনুযায়ী হয়নি। সাইফ ২৮ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন, তবে অন্যপ্রান্তে তানজিদ ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান। তিনি ঢুকে পড়েন নিজের সপ্তম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরিতে। ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয় ৮৭/১, যা দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়।

    তবে মধ্যভাগে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে। তাওহীদ হৃদয় ২০ বলে ২৬ রানসহ আউট হন, আর শামীম হোসেন ১১ বলে ১১ রান করেন। শেষের দিকে জাকের ব্যাটে চাপ বাড়িয়ে ১২ রানে ১৩ বলে ১২ রান করেন। নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে ১২ রান করে দলের রান ১৫২ পার করেন। অবশেষে, বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ১৫৪ রান, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা সংগ্রহ।

  • বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    আগামী ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, যা নির্বাচনের পরিচালনা করবে।

    সম্প্রতি, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পূর্ণাঙ্গ ভোটের tফসিল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে, যার মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা, যাচাই-বাছাই, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, ভোটদান এবং ফলাফল ঘোষণা।

    বিশদ বিবরণে জানা যায়:
    – ২০ সেপ্টেম্বর: ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ ও আপত্তি গ্রহণ শুরু
    – ২১ সেপ্টেম্বর, দুপুর ১টার মধ্যে আপত্তি দাখিলের সময়সীমা
    – ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায়: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে
    – ২২-২৩ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র বিতরণ
    – ২৫ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন
    – ২৬ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
    – ২৭ সেপ্টেম্বর: আপিল ও শুনানি
    – ২৮ সেপ্টেম্বর: প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও বৈধ প্রার্থীদের তালিকা স্থির করা হবে
    – ২৮ সেপ্টেম্বর: ডাক ও ই-ব্যালট বিতরণ
    – ৪ অক্টোবর: ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা
    – ৫ অক্টোবর: চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা

    এটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এ তফসিলের মাধ্যমে বোর্ড নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

  • অসহযোগিতা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের এশিয়া কাপে প্রত্যাবর্তন

    অসহযোগিতা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের এশিয়া কাপে প্রত্যাবর্তন

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপ থেকে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখার জন্য কঠোর অবস্থান থেকে সাময়িক পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাথে হাত মেলানোর অস্বীকৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে পিসিবি দ্ব্যর্থহীনভাবে অভিযোগ তোলে যে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের ভূমিকা ছিল এই ঘটনায়। তারা দাবি করে, যদি তাদের এই অভিযোগ মানা না হয়, তবে তারা এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করবে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের এই অভিযোগ নাকচ করে দেয়। এরফলে, নিজস্ব দাবিতে অনড় থাকা পিসিবি একটি সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করে দেয়, যেখানে তারা তাদের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করার কথা ছিল।

    এর মধ্যেই ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করমর্দন বিতর্ক ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। আইসিসি-প্রস্তাবিত আলোচনার ফলে এই চাপ কমে এসেছে এবং এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমানের ক্রিকেট বোর্ড এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।

    সূত্রের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দাবির প্রেক্ষিতে—অ্যান্ডি পাইক্রফটকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর দাবি আইসিসি মানেনি। তবে, জানা যাচ্ছে যে, আজ (বুধবার) পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরবর্তী ম্যাচে পাইক্রফটের বদলে অন্য আইসিসির রেফারি, রিচি রিচার্ডসন, দায়িত্ব নেবেন। তবে, পাইক্রফট টুর্নামেন্টের ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে থাকবেন। এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে, পিসিবি কঠোর অবস্থান নিলেও, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে তাদের পিছু হটতে হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ ছিল যে, ভারতীয় ম্যাচে পাইক্রফট পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছিলেন। যদিও আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এরপর ওমান ও ইউএই বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যান এবং পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে কিছু ‘ফেস সেভিং’ পরিবর্তন আনা হয়।

    অবশ্য, এখনো পিসিবি বা আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষনা আসেনি, তবে গতকাল (মঙ্গলবার) পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানিয়েছেন, “আলোচনThings চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজই জানানো হবে। পাকিস্তানের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, পিসিবির প্রধান মহসিন নাকভি ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ফেরার পর বোর্ডের একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে সরকারের পর্যায়ে আলোচনা বাকিটা বিষয় নিয়ে চর্চা হয়, যেখানে করমর্দন বিতর্ক, পরিস্থিতির প্রভাব এবং আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কের অচলাবস্থার বিশদভাবে আলোচনা হয়।

  • নতুন করে কিছুদিনের জন্য স্থগিত এনসিএল টি-টোয়েন্টি

    নতুন করে কিছুদিনের জন্য স্থগিত এনসিএল টি-টোয়েন্টি

    প্রথম আসরের সফলতার পর, এবার এনসিএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসর নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও বগুড়ায় এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য ছিল এক অন্যরকম উত্তেজনা। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, চরম আবহাওয়ার কারণে সব আনন্দের মুখোশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টির কারণে এখন এই আসরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

    ১৪ সেপ্টেম্বর এটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দ্বিতীয় আসর শুরু হয়। প্রথম দিন রাজশাহীর ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে খুব বেশি ছাড়াই শেষ হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত, পরিস্থিতির কারণে ওইদিন ৫ ওভার করে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বগুড়ার ম্যাচটিও আবহাওয়ার কারণে পরিত্যক্ত হয়।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলেছিল, পরবর্তী দুই দিনও বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তাই বগুড়ার ম্যাচগুলো রাজশাহীতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিলেও লাভ হয়নি। বৃষ্টির কারণে রাজশাহী স্টেডিয়ামে স্থানান্তর করা ম্যাচগুলোও বিভিন্ন দিন পরিত্যক্ত হয়। টানা তিন দিনের বৃষ্টির কারণে, মোট ছয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি মাঠে অনুষ্ঠিত হতে পেরেছে; বাকি পাঁচটি বাতিল হয়েছে।

    আবহাওয়ার এই অবস্থা দেখে টুর্নামেন্টের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারেনি, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ফলে, সব আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে, অবশেষে এই প্রতিযোগিতা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

  • আফগানদের হারিয়ে সুপার ফোরে বাংলাদেশের স্বপ্ন বেঁচে রইল

    আফগানদের হারিয়ে সুপার ফোরে বাংলাদেশের স্বপ্ন বেঁচে রইল

    বাংলাদেশের জন্য বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ছিল বেশ অনিশ্চিত। শুরুতেই চাপের মধ্যে পড়ে গেলেও, তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম ১০ ওভারে ৮৭ রান তুলে, দেশের দর্শকদের আশা জাগিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যাটসম্যানরা.expected প্রস্তুত করা যায়নি, যার ফলস্বরূপ, ১৫৪ রানের বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশ দল মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় অনবরত উইকেট হারাতে থাকলে, আফগানিস্তানের দিক থেকে জয়ের আশা দুর είনায় যেড়ে। তবে, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত স্পিনিং পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানকে ১৪৬ রানে আটকে রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে, বাংলাদেশ ৮ রানে জয় লাভ করে এবং তাদের সুপার ফোরের স্বপ্নটি অক্ষত থাকলো।

  • পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    পাকিস্তানি কিংবদন্তি সূর্যকুমারকে ‘শূকর’ বললেন

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে সবসময়ই ছিলো কঠিন টানটান উত্তেজনা, আর এবার সেই উত্তেজনার সূত্র ধরেছে নতুন এক বিতর্কের সৃষ্টি। সম্প্রতি দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ক্রিকেট ম্যাচে ভারতের জয় হয় শক্তিশালী পাকিস্তানকে দুয়ারে হঠাৎই উড়িয়ে দিয়ে। এই ম্যাচের নায়ক ছিলেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তবে ম্যাচের পরের ঘটনা যেন এই জয়ের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে গেছে, সৃষ্টি করেছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।

    জয়ের পর কোনও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার। এমনকি টসের সময়ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে করমর্দন বা কুশল বিনিময় করেননি তিনি। অনেকের কাছে এটি অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ বলে প্রশংসিত হলেও কিছুজনের সমালোচনায় পড়েছে।

    কিন্তু এই বিতর্কের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফের হাত ধরে। এক টিভি আলোচনায় সূর্যকুমারকে নিয়ে আলোচনায় বসে তিনি একাধিকবার তাকে ‘শূকর’ বলে গালি দেন। সঞ্চালক বারবার তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও ইউসুফ যেন নিজেই থামতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘ভারত সিনেমার দুনিয়া থেকে বের হতে পারছে না। আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারির মাধ্যমে জেতা হচ্ছে। এটা লজ্জাজনক!’ এরপর তার গালাগাল বন্ধ হয়নি, চলতে থাকে।

    এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ভারতের ক্রিকেটভক্তরা ইউসুফের এই আচরণে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

    অবশ্য এই বিতর্কের পরে ইউসুফ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে বলেছেন, ‘আমি কাউকে অসম্মান করতে চাইনি। আবেগের বশে কথাগুলো বলে ফেলেছি। তবে ইরফান পাঠান যখন আফ্রিদিকে ‘ঘেউ ঘেউ করা কুকুর’ বলে বলেছিল, তখন তো ভারতীয় মিডিয়া সেটাকে প্রশংসা করেছিল!’

    ইউসুফ যে ঘটনার কথা বলছেন, সেটি ইরফান পাঠানের এক পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে নেয়া। সেখানে পাঠান জানান, ২০০৬ সালের পাকিস্তান সফরে আফ্রিদির আচরণে বিরক্ত হয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছিলেন, ‘আফ্রিদি তো অনেকক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছে, নিশ্চয়ই কুকুরের মাংস খেয়েছে!’ এরপর থেকে আফ্রিদি আর কখনো তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেননি বলে উল্লেখ করেন।