Category: খেলাধুলা

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃডিসিপ্লিন দাবা ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উন্মাদনা

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃডিসিপ্লিন দাবা ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উন্মাদনা

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও চর্চা বিভাগের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে এক দুর্দান্ত আন্তঃডিসিপ্লিন দাবা ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার বিকেলে এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

    দাবা প্রতিযোগিতায় গণিত ডিসিপ্লিন চ্যাম্পিয়ন ও হিউম্যান রিসোর্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) ডিসিপ্লিন রানার্সআপ হিসেবে জিতে নেয় গৌরবের খেতাব। অন্যদিকে, ছাত্রদের টেবিল টেনিসের ক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন চ্যাম্পিয়ন এবং ফার্মেসী ডিসিপ্লিন রানার্সআপ হয়। সংগ্রামরত ছাত্রীরা যাতে পিছিয়ে না থাকে, সে জন্য অ্যাক্টিভ প্রতিযোগিতায় স্থাপত্য ডিসিপ্লিন চ্যাম্পিয়ন ও এইচআরএম ডিসিপ্লিন রানার্সআপ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, দাবা সত্যিই শিক্ষার্থীদের কৌশলগত চিন্তা, ধৈর্য্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়ায়। একই সঙ্গে, টেবিল টেনিস শরীরের গতি, চোখ-হাতের সঙ্গতি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলে।

    এনও তিনি জানা ও জানালেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান রয়েছে জিমনেশিয়ামের উন্নয়ন কাজ, যেখানে দ্রুতই ইনডোর গেমসের জন্য স্থান প্রস্তুত হবে। ভবিষ্যতে এই জিমনেশিয়ামে আরও বিভিন্ন ইনডোর গেমসের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, ছাত্রীদের জন্য দুটি হলে নির্মিত হচ্ছে ব্যায়ামাগার ও খেলাধুলার মাঠ, যেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন ক্রীড়াদলে অংশগ্রহণ ও শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে পারবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। এ জন্য সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা ও চর্চা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক, প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন বিভাগের উপ-পরিচালক, এস এম জাকির হোসেন।

    পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের মেডেল ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের প্রধান, প্রফেসর ড. রুমানা আসাদ, পাশাপাশি অন্যান্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • ভারতীয় ক্রিকেটের নেতৃত্বে আসছেন মিঠুন মানহাস

    ভারতীয় ক্রিকেটের নেতৃত্বে আসছেন মিঠুন মানহাস

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পরবর্তী সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাবেক ক্রিকেটার ও দিল্লির সাবেক অধিনায়ক মিঠুন মানহাস। ভারতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হবেন। এটি ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনে এক নতুন দিক উন্মোচন করছে, কারণ এই প্রথম কোনও ক্রিকেটার, যিনি জাতীয় দলে ছিলেন না, বোর্ডের সভাপতি পদে আসছেন।

    অথচ, কেন মিঠুন মানহাসকে নির্বাচন করা হলো? টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের গড়া লোধা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ডের শীর্ষ পদে একজন সাবেক ক্রিকেটার থাকাটা জরুরি ছিল। শুরুতে সৌরভ গাঙ্গুলি, রঘুরাম ভাট ও হরভজন সিংয়ের নাম আলোচনায় এলে, শেষ পর্যন্ত বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া জোর দিয়ে মিঠুন মানহাসের পক্ষে মন্তব্য করেন।

    একটি বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো সহজ ব্যাপার ছিল না। প্রযুক্তিগত, আইনি ব্যাপার সবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। অবশেষে বোর্ড একজন অভিজ্ঞ সাবেক ক্রিকেটারকে সভাপতি পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    মিঠুন মানহাসের সম্পর্কে বললে, তিনি ৪৫ বছর বয়সী এবং জম্মু ও কাশ্মীর থেকে উঠে আসা প্রথম বিসিসিআই সভাপতি হতে চলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে কাশ্মীরের হয়ে খেলেছিলেন তিনি, পরে দিল্লিতে আসেন এবং সেখান থেকেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫৭টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি শুধু ব্যাটিংয়ে দক্ষ নন, অধিনায়ক হিসেবেও সফলতা অর্জন করেছেন।

    দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিয়ে গৌতম গম্ভীর, আকাশ চোপড়া ও বীরেন্দ্র শেবাগের মতো তারকাদেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। আইপিএলে তিনি খেলেছেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পুনে ওয়ারিয়র্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে।

  • আফ্রিদির সঙ্গে কুকুরের মাংস বিতর্ক: আবারও উত্তপ্ত হলো পরিস্থিতি

    আফ্রিদির সঙ্গে কুকুরের মাংস বিতর্ক: আবারও উত্তপ্ত হলো পরিস্থিতি

    সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রখ্যাত ক্রিকেটার ও সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি একটি নতুন করে আলোচিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইরফান পাঠানের পূর্বেকার মন্তব্যের বিষয়ে। পাকিস্তানের সামা টিভিতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরফান পাঠান যে কুকুরের মাংস খাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করে আফ্রিদিকে ব্যঙ্গ করেছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আফ্রিদির অভিযোগ, পাঠান এইসব ঘটনা সাজিয়ে বলছেন শুধুমাত্র নিজেকে একটি ‘মহান ভারতীয়’ হিসেবে প্রমাণ করতে। তিনি যোগ করেন, ‘‘পাঠান সবসময় পেছন থেকে কথা বলে। যদি সত্যিই সাহস থাকে, সোজা সামনে এসে চোখে চোখ রেখে কথা বলুক। আমি সেই মানুষকে পুরুষ মনে করি, যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলে।’’ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম দ্য লাল্লনটপ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাঠান এক পুরোনো ঘটনা মনে করে বলেন, ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরের সময় তিনি প্লেনে আফ্রিদির সঙ্গে ছিলেন। তখন আফ্রিদি তাকে ‘কিড’ বলে সম্বোধন করেন এবং তার চুল ছুঁয়ে মজা করেন। এরপর পাঠান জবাবে বলেন, ‘‘তুমি কখন আমার বাবা হয়ে গেলে?’’পাঠান আরও দাবি করেন, এক সময় তিনি আফ্রিদিকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘তূমি কুকুরের মাংস খেয়েছ, তাই এতক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছেন।’’ উপস্থিত সবাই হয়তো হাসি চেপে রাখতে পারেননি, আর আফ্রিদি কিছু বলতে পারেননি।এ বিষয় নিয়ে আফ্রিদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই ঘটনা পুরোপুরি সাজানো। আমি কখনোই এমন কিছু বলিনি বা করিনি। পাঠান মিথ্যা বলছেন, কারণ তিনি নিজের ভাবমূর্তি সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য পাকিস্তানিদের অপমান করতে চাইছেন।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘তার সারাজীবনই নিজের পরিচয় ভারতীয় প্রমাণ করার চেষ্টা। আপনি দেখবেন, সে সবসময় পাকিস্তানিদের কটাক্ষ করে কথা বলবে।’

  • এক দিনের জন্য বন্ধু শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোর শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

    এক দিনের জন্য বন্ধু শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোর শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

    এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারের পরেও নিশ্চিত ছিল না বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠতে। তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফল। পরিস্থিতি ছিল স্পষ্ট—আফগানিস্তান হারলেই বাংলাদেশ সুপার ফোরে ওঠার সুযোগ পাবে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট প্রেমীদের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথার লড়াই সাধারণ ছিল। তবে আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগের রাতে এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ফেসবুকে অনেক বাংলাদেশি প্রকাশ্যে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন জানাতে শুরু করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা একদিনের জন্য মনে করেন তারা ‘ডাই-হার্ড ফ্যান’।

    শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশকে হতাশ করেনি। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে তারা আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্বপ্নের সুপার ফোরে পা রাখে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও এটি এক ধরণের উৎসাহের বার্তা। তারা এখন এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায় এবং জয় দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথ শুরু করতে চায়। তাদের লক্ষ্য, প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া। আজ (শনিবার) দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি শুরু হবে।

    সুপার ফোরে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের জন্য শ্রীলঙ্কাকে হারানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে দুই মাসে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ তিনবার শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করেছে, যার মধ্যে অনেকটাই মনে করা হয় তারা শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের খেলার ধরন ও পিচের এইচএম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যার সাহায্যে সাম্প্রতিক তথ্যসমূহকে কাজে লাগাচ্ছে।

    এশিয়া কাপে মোট ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে লঙ্কানরা ১৫ বার জিতেছে, তিনবার ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ চারবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে দু’বার জয় পেয়েছে। প্রথম আসরে, ২০১৬ সালে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩ রানে জিতেছিল। ২০২২ সালে তাঁরা বাংলাদেশকে দুই উইকেটে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়। সেই আসরেই শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    আজকের ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কিছুটা বিশ্রাম পেয়েছে। গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর তারা চার দিন বিশ্রাম নিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার জন্য কঠিন এই সময়টা হয়েছে—তাদের আরও দুই ম্যাচ খেলতে হয়েছে ঘামের গরম আবহাওয়া আর দ্রুত সময়ে। পাশাপাশি, তাঁরা দুবাই থেকে আবুধাবি যেতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে উইকেট খেলা কঠিন হয়ে উঠেছে। এবার দেখা হবে, দুবাইয়ের স্পোর্টিং উইকেটে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন কি বাংলাদেশ।

    নাম ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোয়াডে অখণ্ডনীয় নেতা লিটন দাস উইকেটরক্ষক হিসেবে থাকছেন, এছাড়া তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ Hamiltonে, ইমন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, শামিম হোসেন, নুরুল হাসান, শেখ মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

    শ্রীলঙ্কার স্কোয়াডে অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা থাকছেন, অন্য খেলোয়াড়রা হলো পাথুম নিশাঙ্কা, কুশাল মেন্ডিস, কুশাল পেরেরা, নুয়ানিডু ফার্নান্দো, কামিন্দু মেন্ডিস, কামিল মিশারা, দাসুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ভেল্লালাগে, চামিকা করুনারুত্নে, মাহিশ থিকসানা, দুশমান্থ চামিরা, বিনুরা ফার্নান্দো, নুয়ান থুশারা ও মাথিশা পাথিরানা।

  • শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ সম্পন্ন জয়

    শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ সম্পন্ন জয়

    অ্যাশেজ ক্রিকেট এশিয়ান কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে নিজের গৌরব ফিরিয়ে আনল। সুপার ফোরে উঠার পর, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা আগের দিন থেকেই আশা করেছিলেন যে তারা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করবে। গ্রুপ পর্বে খেলার নির্দিষ্ট মানসম্মত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় বেশ কিছু অস্বস্তি এবং সন্দেহের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে তারা দেখাল, তাদের কাছে হার মানা কঠিন সত্যি। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অসাধারণ দলগত প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই জয়টি যেন তাদের প্রতিশোধের ইঙ্গিত।

    শুরুতেই শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা ঝলমলে হাফ সেঞ্চুরির পরও, মুস্তাফিজুর রহমানের বলেই বাংলাদেশ তাদের লক্ষ্য ১৬৮ রানে আটকে দেয়। ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের জন্য ভাল শুরুর বিকল্পটা ছিল না কারণ, ইনিংসের প্রথম ওভারেই টানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায়। তবে লিটন দাস ও সাইফ হাসান দুরন্ত আক্রমণ চালিয়ে দলের জয় পাতে জন্য পথ তৈরি করে দেন। সাইফের পর হাফ সেঞ্চুরি করে হৃদয়ও নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দেখান, এবং তাদের দুজনের ইনিংসে বাংলাদেশের পুঁজি প্রতিষ্ঠিত হয়। পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছে চেষ্টা চালিয়ে যান, আর এটা নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশ তার জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে শুরু হয়, কারণ টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারান। তিনি পাথুম নিশাঙ্কার সুদক্ষ ডেলিভারিতে ঝলক দেখাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে আউট হন। তবে ব্যাটসম্যানরা দুর্দান্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। লিটন ও সাইফ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন—বিশেষ করে সাইফ চার ও ছক্কায় দ্রুত রান যোগ করেন। এই দুজন পাওয়ার প্লেতে দলের জন্য ৫৯ রান সংগ্রহ করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হলে তারা উইকেট হারায় লিটন ও সাইফের ঝাঁপিয়ে পড়ার পর।

    সাইফ তার প্রত্যাশিত হাফ সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন ৩৬ বলে, আর হৃদয় ধীরে ধীরে খেলতে থাকেন। একদিকে তিনি ঝোড়োভাবে আঘাত হানেন, অন্যদিকে তার সাজানো জুটি সতর্কতার সঙ্গে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয়। এরপর, শ্রীলঙ্কার বলের বিপরীতে হৃদয় দ্রুত রান তুলতে থাকেন—৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান, যা তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দীর্ঘ দিন পর ফিরেছে। সক্রিয় ভাবে খেলতে থাকা হৃদয় ও শামীম হোসেন শেষ মুহূর্তে ধীরগতি না দেখিয়ে দ্রুত রান সংগ্রহে মনোভাব নিয়ে একে অপরের সঙ্গে ঘরোয়া সঙ্গীতে অন্যরকম স্পন্দন বাড়ান।

    শেষে, নাসুম আহমেদ ও শামীম হোসেন দলকে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে মনে করে ক্রিকেট অনুরাগীরা।

    অপরদিকে, শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরুও ছিল উড়ন্ত। ওপেনিং জুটিতে তারা ৪৪ রান তুলে ঝড়ো সূচনা করে। তবে, এর পরে ধীরগতি শুরু হয়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা খুব ভালো শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত ১৭০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ডেথ ওভারে বেশ দক্ষভাবে বোলিং করেন এবং তিন উইকেট তুলে নেন। মূলত, শ্রীলঙ্কার শানাকা কিছুটা ধীরগতির হলেও শেষ দিকে রানের চালানি চালান এবং অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে যান। তবে, বাংলাদেশ তাদের ধারাবাহিক সংগ্রামে নিজেদের মানপ্রমাণ করে বিশ্বের শক্তি দেখিয়েছেন, এবং এই জয়ে তারা সুপার ফোরে পৌঁছানোর পথে একদ langkah এগিয়ে গেল।

  • হাসিবুল শান্ত ও সালমা খাতুন হলেন জাতীয় দলের নির্বাচক

    হাসিবুল শান্ত ও সালমা খাতুন হলেন জাতীয় দলের নির্বাচক

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশেষে নতুন সংযোজন করেছে দেশের ক্রিকেটের নির্বাচক প্যানেলে। পুরুষ দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং এই সম্মাননা বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আনন্দের খবর হলো, নারী দলের নির্বাচক হিসেবে প্রথমবারের মতো নিয়োগ দেওয়া হলো একজন নারী, তিনি সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতунিকে। তিনি এখন আমাদের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তারা দুজনেই কাজ করবেন বর্তমান প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপনের সঙ্গে।

    আজ বিকেলে বিসিবির জরুরি সভার শেষে বোর্ডের মিডিয়া ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাসিবুল শান্ত জাতীয় দলে খেলাধুলার সঙ্গে সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলে নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় দলে আনতে সহযোগিতা করেছে। অন্যদিকে, সালমা খাতুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী দলের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সালমা ২০১৪-১৫ সালে আইসিসির সেরা অলরাউন্ডার নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন। মিঠু মনে করেন, এই নতুন সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও দলগত ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন, কোচিংয়ে মনোযোগী হওয়ার জন্য। এরপর থেকে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও আবদুর রাজ্জাক ধীরে ধীরে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল ব্যস্ত ছিল বড় বড় সিরিজ খেলায়—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সময়েই শূন্যপদে নতুন নির্বাচক নিয়োগের জন্য জোর আলোচনা চলছিল। অবশেষে বিসিবি সেই শূন্যতা পূরণ করল।

    এদিকে, নারী ক্রিকেটের জন্য প্রথমবার আলাদা নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সালমা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন তিনি এবং দেশের জন্য অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন। মাঠের বাইরে থেকে এবার তিনি নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গঠনে বড় দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষ ও নারী দুই দলের জন্যই একসঙ্গে নতুন নির্বাচক নিয়োগ দেওয়া হলো। হাসিবুল শান্তর অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের পেস আক্রমণ ও টিমের কৌশলগত দিকগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখাতে সহায়তা করবে বলেই মনে করছেন বোর্ডের officials। অন্যদিকে, সালমা খাতুনের নেতৃত্ব ও খেলার অভিজ্ঞতা নারীর ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা করছেন বিসিবি। এই নিয়োগ দুই দলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • পাকিস্তান ফের বাংলাদেশে আসছে

    পাকিস্তান ফের বাংলাদেশে আসছে

    ২০২৬ সালে ভারতের কলকাতা এবং শ্রীলঙ্কায় বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। এই মহাযজ্ঞের উত্তাপ পত্তন হওয়ার আগেই বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হবে নতুন এক উচ্চপ্রতিরোধ্য সিরিজ। আগামী বছর মার্চের শেষ সপ্তাহে শক্তিশালী পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে দুই টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে।

    আশ্চর্যজনকভাবে, এই সিরিজে থাকছে না কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যা আগে আইসিসির ফিটপ্লান-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ সিরিজের মাধ্যমে টাইগারদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হচ্ছে। কারণ পাকিস্তান সফরের আগেই বিশ্ব মঞ্চে লড়াই চালিয়ে যাবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল, আইসিসি বিশ্বকাপে ততটাই গুরুত্ব দিয়ে। এই বৈশ্বিক লড়াই শেষ করে, ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে আতিথ্য দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৬ মার্চ ওই সিরিজের প্রথম লড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ তারিখেই শুরু হবে এই সিরিজের প্রথম টেস্ট, যেখানে খেলা হবে বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু নির্ধারিত হয়েছে সিলেটের পাহাড়ঘেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে।

    তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ পুরোপুরি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে খেলাধুলার এই আসর পরিচালিত হবে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা হবে, চট্টগ্রামে এটি হবে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে সিরিজের আয়োজন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তাবিত সূচি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে পাঠিয়েছে, এবং পিসিবির সম্মতিই চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে। পাকিস্তান সিরিজের পর টাইগারদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও এক কঠিন চ্যালেঞ্জ—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি হোম সিরিজ, যা তাদের জন্য নতুন এক পর্যায়ের শুরু হবে।

  • শেষমেষ পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপের সিদ্ধান্ত আসছে

    শেষমেষ পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপের সিদ্ধান্ত আসছে

    পাকিস্তান অবশেষে তার জয় ঘোষণা করে এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাকিস্তানের অসন্তোষ। পাকিস্তান জানায়, ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের ভূমিকা সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে এশিয়া কাপ থেকে প্রত্যাহার করার দাবি তোলে পাকিস্তি ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। যদি এই দাবি না মানা হয়, তবে তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এরই মধ্যে পাকিস্তান ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দেয় নিজের দাবিতে অটল থাকায়।

    একটি ক্রিকববজের প্রতিবেদনে জানা গেছে, করমর্দন বিতর্কে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এশিয়া কাপের পাকিস্তান দল মাঠে নামতে পারছে। আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে ঈষৎ পথ সুগম হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান ক্রিকেট বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গিয়েছে।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান দাবি ছিল—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর প্রয়োজনীয়তা। তবে আইসিসি এই দাবি মানেনি। সূত্রের খবর, আজ (বুধবার) পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচে পাইক্রফট দায়িত্বে থাকবেন না। তার বদলে পারেন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আইসিসির অন্য রেফারি রিচি রিচার্ডসনকে। তবে পাইক্রফট এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবেই থাকবেন। এই বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে, পিসিবি কঠোর অবস্থান নেয় 당시—যদি পাইক্রফট দায়িত্বে থাকেন, তারা ম্যাচ খেলবেন না। পাকিস্তান অভিযোগ জানায়, ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাইক্রফট পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়, এবং পাকিস্তানের এশিয়া কাপ থেকে সরে যাওয়ার শঙ্কা জেগে ওঠে। পরে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেন এবং সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অবশেষে কিছু ‘ফেস সেভিং’ পরিবর্তন আনা হয়, যা পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    তবে, এখনো পিসিবি বা আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানান, “আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ জানানো হবে।” পিসিবির সভাপতি মহসিন নাকভি ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ফিরার পর বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জানা গেছে, সরকার পর্যায়ের আলোচনায় করমর্দন বিতর্ক, এর প্রভাব, এবং আইসিসির সঙ্গে অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

  • বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবন রক্ষাকারী জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে হারিয়ে তারা প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনও নিশ্চিত নয় সুপার ফোরের টিকিট। কাউন্টার এই গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে, বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপ ‘বি’ এর শেষ ম্যাচের দিকে, যেখানে শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের।

    বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো, শ্রীলঙ্কা যদি জয় লাভ করে বা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তাহলে তারা সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছাবে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে। এর ফলে কোনও জটিল সমীকরণের দরকার পড়বে না।

    তবে যদি আফগানিস্তান জিততে পারে? তখন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৪, এবং তখন নির্ভর করবে নেট রান রেটে। আফগানিস্তানের বর্তমানে +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬, এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে বদলে যেতে পারে?
    আফগানিস্তান যদি আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান তোলার মতো পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়া নিশ্চিত হবে।

    অথবা, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তাহলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    এছাড়াও, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তানের জয় পেতে হলে ১১-১২ ওভারের মধ্যেই ম্যাচটি শেষ করতে হবে। তাতেই বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়া সম্ভব।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে, বাংলাদেশ শেষ চারে পৌঁছানোর পথে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেটাই আলাদা করে তাকানো পুরো গ্রুপের শেষ ম্যাচ, শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তানের দিকে।

  • অফসাইডের বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা

    অফসাইডের বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা

    বি গ্রুপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হয়। এ ম্যাচে জয় লাভ করে শ্রীলঙ্কা, যে তাদের সামনে বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে সুপার ফোরে স্থান করে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই সফলতার মূল কারিগর ছিলেন নুয়ান থুসারা, যিনি চার উইকেট শিকার করেন, এবং কুশল পেরেরা, যিনি হাফ সেঞ্চুরি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শ্রীলঙ্কার এই জয়ে তারা প্রথমে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং পরবর্তী ধাপে আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে নিজেদের দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে।

    আফগানিস্তানের শুরুটা খুবই হতাশাজনক ছিল। ওপেনিং জুটি মাত্র ২৬ রানেই ভেঙে যায়। রহমত উল্লাহ গুরবাজ ৮ বলে ১৪ রান করে শর্ট থার্ড ম্যানের ক্যাচ দেন, এরপরই প্রমোশনের ফলে ট্র্যিকিতুম জানাতকে বোল্ড করে দেন থুসারা। তৃতীয় ওভারে এসে সেদিকউল্লাহ অতলকেকে আউট করেন থুসারা, ফলে প্রথম ৪০ রানে ৩ উইকেট হারায় আফগানরা।

    পাওয়ার প্লে শেষে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে ৪৫ রান করে, তবে এরপরই আরও বিপর্যয় শুরু হয়। তারা بسرعة আরও ৩ উইকেট হারায়, ডারউইশ রাসুলীকে থামান দুশমান্থ চামিরা। কুশাল পেরেরা শর্ট বল টপ এজ করে ক্যাচ দেন, এর ফলে তিনি মাত্র ৯ রান করেন। এর পর আজমতউল্লাহ ওমরজাই বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি, দ্রুত আউট হন স্টাম্পে আঘাত পেয়ে।

    অফরুলাই বাজে স্নায়ুচাপে পড়ে থাকে আফগানিস্তান, যেখানে এক প্রান্তে ইব্রাহীম জাদরান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তিনি বেশিদূর যেতে পারেননি। মূলত সিনিয়র অলরাউন্ডার রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবি জুটি পাকড়াও করে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করে। শেষ ওভারটিতে আফগানিস্তান রেটে ১৬৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায়, যেখানে নবি ২২ বলে ৬০ রান করেন, পঞ্চম বোলার হিসেবে সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই করেন। শেষ বলে রান আউট হন তিনি, কিন্তু এর মধ্যেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫০ প্লাস রানের ইনিংস উপহার দেন। এই রেকর্ড সংগ্রহের ফলে আফগানিস্তান তাদের সংগ্রহ দাঁড় করায় ১৬৯ রান।