Category: খেলাধুলা

  • জোড়া সেঞ্চুরিতে রান পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ অলআউট হলো

    জোড়া সেঞ্চুরিতে রান পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ অলআউট হলো

    মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত রেকর্ড গড়েছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক নজির স্থাপিত হয়েছে। দুজনের জোড়া সেঞ্চুরির সুবাদে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ রান। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডের জন্য এই টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন, যিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ফাইফার (৫ উইকেট) লাভ করেন।

    মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ২৯২ রান করেছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) দ্বিতীয় দিনের শুরুতে, আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম ১০৬ রানের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে শততম ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির স্বাক্ষরে নজর কাড়েন। তাঁর এই ১০৬ রানের ইনিংসটি ২১৪ বলে খেলে ৫টি চারের সাহায্যে সাজিয়েছেন।

    এরপর লিটন দাসও নিজের প্রথম ইনিংসে পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি করে ১২৮ রান করেন। এর সাথে বাংলাদেশের জন্য এটি হয়ে যায় তিনতথ্যইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি, কারণ এটা মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ উইকেটে ধারাবাহিকভাবে ১০০ রানের জুটি গড়তে সক্ষম হয়েছে। এর আগে, কেবল ভারত (১৯৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) এবং পাকিস্তান (২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) এই রকম কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছিল।

    অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০৭, মুশফিক ও লিটনের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১০৮ এবং লিটন ও মিরাজের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২৩ রান যোগ হয়।

    মুশফিক-লিটনের এই জুটি বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সপ্তমবারের মতো একশ’র বেশি রান করার রেকর্ড গড়েছে। প্রতিপক্ষের সেই বিশেষ মুহূর্তটি তখন ঘটে যখন, দলীয় ১৮ রান যোগ করার সময়, ম্যাথু হামপ্রিসের ক্যাচে পাওয়ায় মুশফিকের ১০৬ রানের ইনিংস শেষ হয়। তিনি ৫টি চারে সাজিয়েছেন এই ইনিংসটি, যা খেলেছেন ২১৪ বল। মুশফিকের এই ১৩তম টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে তিনি (মুমিনুলের সঙ্গে) যৌথভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড রাখেন।

    পরবর্তীতে, লিটনও খুব বেশিদিন টিকে থাকতে পারেননি। দ্রুত রান তোলার প্রচেষ্টায় তিনি হাম্প্রিসের বলে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্লিপে। তার ১২৮ রানের ইনিংসটি আসে ১৯২ বলের হয়ারে, যেখানে তিনি ৮ চার ও ৪ ছক্কা হাঁকিয়েছেন। শেষ দিকে ক্যামিও হিসেবে খেলেছেন এবাদত, যিনি ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৪৭৬ রানে অলআউট।

    আয়ারল্যান্ডের জন্য এবার সর্বোচ্চ কারবার করেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার ম্যাকব্রাইন, যিনি ৬ উইকেট শিকার করেছেন। তার পাশাপাশি ম্যাথু হাম্প্রিস ও গ্যাভিন হোয়ে প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

  • সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রাঙালেন লিটন দাস, ম্যাচের স্মরণীয় মুহূর্ত

    সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রাঙালেন লিটন দাস, ম্যাচের স্মরণীয় মুহূর্ত

    দেশের ক্রিকেট আলোচনায় এখন মুখরিত মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টের জন্য। তবে এই ম্যাচকে আরও বিশেষ করে তুলছেন দলের অন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার, লিটন দাস। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০তম ম্যাচ, এবং সেই বিশেষ দিনে তিনি তুলে নিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।

    বৃহস্পতিবার, মুশফিকুর রহিম যখন আউট হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন, ঠিক তখনই লিটন তার নিজের ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন। তিনি ১৫৮ বলে ৭ চার এবং ২ ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

    দিনের শুরুতে বাংলাদেশ দল স্টাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ৪ উইকেটে ২৯২ রান। প্রথমে ধীরস্থির থাকলেও পরে দলের জন্য একের পর এক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখিয়েছেন। মুশফিক, যিনি এই দিনটি ছিল তার ১৩তম টেস্ট সেঞ্চুরির দিন, ১৯৫ বলে ১০৬ রান করে আউট হন। তিনি ৫ চার মেরে দলের ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন এবং ২১৪ বলে ১০৬ রান করে ফেরেন।

    মুশফিকের বিদায়ের পরে লিটনের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের যৌথ প্রচেষ্টায় দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করে যান। এই দিনের ম্যাচে লিটনের সেঞ্চুরি এবং মুশফিকের শততম টেস্টের আলাদা অর্জন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেট সিরিজ স্থগিতের আশঙ্কা

    বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেট সিরিজ স্থগিতের আশঙ্কা

    ভারতীয় পুরুষ দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিতের পরে আরেকটি আসন্ন সফরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ভারতের সফর নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে নির্ধারিত এই সিরিজ স্থগিতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের (এফটিপি) আওতায়, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল আগামী মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই থেকে জানা গেছে, এখনো এই সিরিজের জন্য দরকারি সরকারি অনুমোদন মেলেনি।

    বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি জটিল থাকায় এই সিরিজের আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে সিরিজের সময়সূচি বা ভেন্যু ঠিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    প্রায় এক বছর আগে, গত আগস্টে ভারতীয় পুরুষ দলের বাংলাদেশ সফরও পিছিয়ে যায়। তখন বিসিসিআই জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি এবং দুই দেশের সুবিধাজনক সূচির কারণে সিঁদান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিরিজটি এখন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার নারী দলের সফরও একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিসিসিআই কর্মকর্তারা ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি বিকল্প হোম সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছেন। এবারের ভারতের নারী দলের জন্য এটি প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ হবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর।

    যদিও, জানুয়ারির শুরুর দিকে রয়েছে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) এবং এরপর অস্ট্রেলিয়া সফর। ফলে, যদি সফরটি হয়, তা সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অর্থাৎ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

  • ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, বাংলাদেশ জিতল ভারতকে হারিয়ে

    ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, বাংলাদেশ জিতল ভারতকে হারিয়ে

    ফিলিপাইনের রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষায় ছিল পুরো জাতীয় স্টেডিয়াম। যখন রেফারি বাঁশি বাজালেন, তখন দর্শকদের উল্লাসে মুখরিত হলো গ্যালারি। ফুটবলাররা তখন অনুপ্রেরণার ঝাঁকুনি পেয়েছেন। এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কারণ, তারা দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে এই জয় অর্জন করতে সক্ষম হল। এর আগে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে মতিউর মুন্নার জোড়া গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের ওপর জয় লাভ করেছিল। এবার,২০১-এরশিয় যুদ্ধের জয় এনে দিয়েছেন শেখ মোরসালিনের বিস্ময়কর গোল। ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটে বাংলাদেশের জন্য প্রথম গোলটি আসে, এবং তারা সেই লিড প্রায় ৮০ মিনিটের জন্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়। এই জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বাংলাদেশ হংকং ও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করেছিল, যেখানে রক্ষণ বা গোলরক্ষকের ভুলে হারতে বসেছিল। কিন্তু আজ, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। ভারত দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণ চালিয়েও গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয় হাফের শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ তীব্র হলেও বাংলাদেশের রক্ষণ আর গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ৬৫ মিনিটে বাংলাদেশের এক কৌশলী Counter Attack থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়, তবে সে এগিয়ে যেতে পারেনি। ৭৮ মিনিটে শাকিল আহাদ টপ বলতে বললেন, দূরপাল্লার শট দিলেও ভারতীয় গোলরক্ষক সান্ধু দুর্দান্ত সেভ করেন। ৯২ মিনিটে ভারত সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের মানসিকতা আর মিতুল মারমার সাফল্যে তারা সফল হয়নি। পরে, ৯৬ মিনিটে বাংলাদেশের নিরাপদ অবস্থানে থাকার ফলে তারা জয় নিশ্চিত করে। সন্ধ্যার ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, বাংলাদেশ জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ যথাসাধ্য আক্রমণ করে ভারতের রক্ষণকে চাপে রাখে। খেলায় একমাত্র গোলটি আসে ১১ মিনিটে, মাঝমাঠ থেকে রাকিব হোসেন তার দ্রুততার মাধ্যমে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তুলে বল পাঠান শেখ মোরসালিনের দিকে। মোরসালিন দ্রুতই গোল করেন, যা পুরো দলের মনোবল বাড়ায়। এরপর, রাকিব আরও একটি সুযোগ তৈরি করেন, তবে ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু বল প্রতিরোধ করেন। ৩১ মিনিটে পরিস্থিতির অবনতি হয়, যখন ভারতীয় খেলোয়াড়রা গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার সময়, গোলপোস্টের কাছে বল বাইরে চলে যায়। এরপর ৩৫ মিনিটে খেলার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, দুদলের মধ্যে হাতাহাতি ও ঝগড়া শুরু হয়। অর্ধেকের শেষ দিকে, হামজা চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ এক ডিফেন্সিভ ক্লিয়ারেন্স করেন, যাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে, হামজার এক সেরা শট ভারতীয় রক্ষণের অদম্য প্রতিরোধের কারণে গোলের বাইরে চলে যায়। এই জয় বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের জন্য নতুন আশার কথা, তারা দীর্ঘ ২২ বছর পর এই মনোমুগ্ধকর জয়ে জয়ের স্বাদ পেলেন।

  • বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে শান্ত, মিরাজ ও সাইফ

    বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে শান্ত, মিরাজ ও সাইফ

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য সুখবর এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সবাইকে জানানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তিনটি ফরম্যাটে নতুন করে সহ-অধিনায়ক নিযুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড এটি নিশ্চিত করেছে। টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্বে আছেন মিডফিল্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এই দুজনকেই বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫ বছরের দায়িত্বে থাকা শান্তকে এই দায়িত্বে আরও শক্তিশালী করেছে বোর্ড।

  • ভারতকে হারানোর জন্য হামজা-জামালদের ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

    ভারতকে হারানোর জন্য হামজা-জামালদের ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

    বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই যেন এক আবেগের উত্তাপ আর অশেষ উন্মাদনা। আজকের ম্যাচের আগে থেকেই গ্যালারিতে উপচে পড়া দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের জয় উপভোগ করতে দর্শক শ্রোতাদের সাথে ছিলেন।

    আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ ২-১ গোলে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। এই জয়কেই চারদিকে উৎসাহ এবং খুশির ছোঁয়া। বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা ড্রেসিংরুমে গিয়ে ফুটবলারদের সাথে এই বিজয় উদযাপন ভাগ করে নেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করার জন্য ২ কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছেন।

    বাফুফে কর্মকর্তারা জানান, এই ঘোষণা ফুটবলারদের মধ্যে নতুন এই জয়কে উৎসাহী ও অনুপ্রাণিত করেছে। উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি, যিনি হোটেলে উপস্থিত থেকে নৈশভোজে অংশ নেন। আগামীকাল সকালে হামজা ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

    উল্লেখ্য, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি নারী ফুটবল দলের জন্য দুই দফায় মোট দেড় কোটি টাকা দিয়েছেন। গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এক কোটি টাকা এবং এশিয়া কাপের কোয়ালিফাই করার জন্য ৫০ লাখ টাকা। তিনি তাদের সব প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবলারদের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দেড় কোটি টাকা ঘোষনা করলেও একটি বছর পার হলেও অর্থাফল এখনও পাননি। এই পরিস্থিতিতে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আশা করেন, শীঘ্রই এই অর্থ পরিশোধ হবে।

  • ভারতের বিপক্ষে ২২ বছর পর জয় বাংলা ফুটবল দলের জন্য লজ্জার হার

    ভারতের বিপক্ষে ২২ বছর পর জয় বাংলা ফুটবল দলের জন্য লজ্জার হার

    বাংলাদেশ ফুটবল দল সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছে, যা ২২ বছর পরে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করল। গতকাল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে, বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন শেখ মোরসালিনের একমাত্র গোলের জন্য ধন্যবাদ, তারা ১-০ ব্যবধানে ভারতের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। এই জয়টির ফলে স্বাগতিক ফুটবলাররা উল্লসিত ও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন, যেন তাদের স্বপ্নের সত্যি হওয়ার মুহূর্ত।

    অন্যদিকে, ভারতের ডাগআউটে হতাশার আর্তনাদ পড়ে যায়। অনেকটাই মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়েন খালিদ জামিলের শিষ্যরা। দেশটির গণমাধ্যমেও এই হারকে ‘লজ্জার’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা একজন পর্যবেক্ষককেও ভাবিয়ে তুলেছে।

    দক্ষিণ এশিয়ান ডার্বির পর ভারতের বেশকিছু বিশ্লেষক এবং গণমাধ্যমে ফুটে উঠেছে, এই হারকে দেশের জন্য বড় ধাক্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম যেমন দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ফার্স্ট পোস্ট ইত্যাদি ভারতের হারকে ‘লজ্জার’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

    প্রায় ২০০৩ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের জন্য মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলের মাধ্যমে ভারতকে পরাজিত করেছিল। সেই সময়ের স্মৃতি এখন আবার ফিরে এসেছে, কারণ ২২ বছর পরে একই মাঠে বা উল্লেখযোগ্যভাবে একই স্থানে বাংলাদেশ জয়লাভ করল, এতে ফুটবলে নতুন আশা জাগছে। ম্যাচের ১২ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন শেখ মোরসালিন, যা পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এই গোলের ফলে তারা অবিস্মরণীয় জয় ছুঁয়ে দেয়, যা দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে অনন্তকাল।

    বাংলাদেশের ফুটবল সূচনায় একটি নতুন সূর্যোদয় দেখছে ফুটবলপ্রেমীরা, যার সূচনা হয়েছিল একজন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অবদান দিয়ে। তার দেখানো পথে হাঁটছে তরুণ ফুটবলাররা যেমন- সামিত সোম, ফাহামিদুল, জায়ান আহমেদ ও কিউবা মিচেল। অন্যদিকে, ভারতের ফুটবল ধীরে ধীরে অস্তাচলে চলে যাচ্ছে। অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী বা অন্য তারকারা এ সময় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি, এমনকি কোচ বদলেও জয় আশা এখন ধীরে ধীরে দূর হওয়ার পথে।

    এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর বাছাইপর্বের আগেই দুই দলই এই টুর্নামেন্টের জন্য বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। তার পরও ঢাকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক রূপের নবজাগরণের মঞ্চ। অন্যদিকে, ভারত ছিল ‘মানরক্ষার’ আশায় মাঠে নামলেও তারা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করল তাদের ফুটবলে পরিবর্তন আসছে, যদিও এখন পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবুও এই জয় বাংলার জন্য এক নতুন ইতিহাসের সূচনা, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ১৮৩ নম্বরে অবস্থান করছে, আর ভারতের র‌্যাংকিং ১৩৬।

    অভিযান শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভ ঠিকই ফুটে উঠেছে। তারা এই হারের জন্য কোচ খালিদ জামিল সহ সমর্থকদের সমালোচনায় মুখর। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের জয়ের সংখ্যা এখন শূন্য, ফলে তারা গ্রুপে তলানিতে। এই হেরে দেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এই জয়টি ছিল উৎসবের মতো, যা ফুটবলে তাদের নতুন প্রেরণা যোগাচ্ছে। যদিও এখন আর পরের পর্বের জন্য সুযোগ নেই, কিন্তু এই জয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ভবিষ্যতের জন্য।

  • সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জেতল এশিয়া কাপের ম্যাচ

    সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জেতল এশিয়া কাপের ম্যাচ

    ক্রিকেটের লিস্ট এ সংস্করণে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আগেই গড়েছিলেন হাবিবুর রহমান সোহান। এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও দেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে তিন অঙ্কের মাইলফলক ছোঁয়ার কীর্তি অর্জন করলেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার।

    দোহার এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টে হংকং ও চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ এ দলের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করে এরপর ৩৫ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন সোহান। এটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির রেকর্ডও।

    শনিবার, ১৫ নভেম্বর, দোহার ওয়েস্ট ইন্ড পার্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোহানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে হংকংকে ৮ উইকেটে বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ এ দল। লক্ষ্য ছিল ১৬৮ রান, যা সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫৪ বল হাতে রেখেই অর্জিত হয়।

    বাংলাদেশের এই সংস্করণে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল পারভেজ হোসেন ইমনের দখলে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফরচুন বরিশালের হয়ে তিনি ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্রায় ৬ বছর পর এই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সোহান।

    বিশেষ বললে, বিশ্ব রেকর্ডে এখনও বেশ দূরে সোহান। তিনি মাত্র ২৭ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছেন ইস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের নামে। এর আগে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম শতকের রেকর্ড ছিল ৪৯ বলে সোহানের।

    রান তাড়ায়, মাত্র ৩৫ বলে ৮ চার ও ১০ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ প্লাস স্কোর করেন সোহান। এর পাশাপাশি ইনিংসে বিস্ফোরক খেলেছেন অধিনায়ক আকবর আলি, যিনি ১৩ বলে ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৪১ রান করেছেন। ওপেনার জিসান আলম ১৪ বলে ২০ রান করেন।

    এই ইনিংসটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ডও। এখনও পর্যন্ত, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর ইনিংসে ১১টি ছক্কার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া, জিসান আলমের ঝড়ো ইনিংসে ১০ ছক্কার রেকর্ড রয়েছে।

    প্রথমে, হংকংয়ের ব্যাটসম্যান বাবর হায়াত ৪৯ বলে ৬৩ রান ও ইয়াসিম মোর্তুজা ২২ বলে ৪০ রান করে যথাক্রমে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় স্কোরবোর্ডে, যেখানে তারা ১৬৭ রান করে ৮ উইকেট হারিয়ে। তবে সোহানের আক্রমণে সেটি מספיק ছিল না।

    এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারে বাংলাদেশের গ্রুপে আছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ১৭ নভেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে, আর ১৯ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮:৩০ মিনিটে।

  • আসিফের মন্তব্যে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ ও বাফুফের প্রতিক্রিয়া

    আসিফের মন্তব্যে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ ও বাফুফের প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আসিফ আকবরের এক বিবৃতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর), বিসিবি সেই চিঠির জবাব দিয়েছে Officially। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আসিফের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আসিফ আকবর মূলত জেলা প্রতিনিধি হিসেবে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তিনি বিসিবির পরিচালক নন।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এমন মন্তব্য তিনি করেছিলেন জেলা প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধি হিসেবে, বিসিবির একজন সদস্য হিসেবে নয়।” আরও জানানো হয়, আসিফ সম্ভবত তার নিজ জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও মাঠের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘ দিনের হতাশা ও জটিলতা থেকে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বশে এই মন্তব্য করেছেন।

    বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করে বলেছেন, “উক্ত বক্তব্যটি আসিফের ব্যক্তিগত অভিমত মাত্র, এটি কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের official stance বা অবস্থান নয়।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “যদি এই বক্তব্যের কারণে ফুটবলপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা আঘাত সৃষ্টি হয়ে থাকে, আমি নির্দ্বিধায় দুঃখ প্রকাশ করছি।”

    বিষয়টি নিয়ে বিসিবি দুঃখ প্রকাশ করলেও, আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত মন্তব্যের কারণে ফুটবল পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় সোনালী অতীত ক্লাবের এক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে আসিফের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চিঠির শেষ অংশে বিসিবি সদস্যরা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের অবদান স্বীকার করে, ফুটবলের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “খেলাধুলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ঐক্য ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। তাই বিসিবি সব ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করে।”

    উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ আকবর মন্তব্য করেন যে, ফুটবলের আধিপত্যের কারণে ক্রিকেটের জন্য মাঠে পরিবেশ সংকটে পড়ছে। তিনি ফুটবলারদের বিরুদ্ধে উইকেট ভেঙে ফেলার অভিযোগ করেন এবং ক্রিকেটকে ‘আভিজাত্যের খেলা’ হিসেবে অভিহিত করে, মাঠের অধিকারের জন্য মারামারির প্রস্তুতির কথাও বলেন। social media-য় এই মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে, যেখানে সাবেক ফুটবলার ও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এর নিন্দা জানিয়ে আসেন।

  • ৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনের মধ্যেই ইডেনে লজ্জাজনক পরাজয়

    ৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনের মধ্যেই ইডেনে লজ্জাজনক পরাজয়

    ইডেন গার্ডেনে চিত্তাকর্ষক এক টেস্টের শেষপর্ব তিন দিনে শেষ হয়ে গেল। মাত্র ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্যে ভারতের প্রতিউত্তর দেওয়ার আশা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের স্বপ্ন ভেঙে দিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ভারত ৩০ রানের ব্যবধানে হার মানলো। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলো।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার সঙ্গে করবিন বশের (২৫) জুটিতে প্রোটিয়াদের লড়াকু পুঁজি বৃদ্ধি পায়। বাভুমা শেষ পর্যন্ত ১৩৬ বলের মোকাবেলায় ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর এই দৃঢ়তার কারণে প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৩ রানে। ভারতের লিড বাদ দিয়ে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪ রান। ভারতের হয়ে রবীন্দ্র জাদেজা চারটি এবং মোহাম্মদ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব দুইটি করে উইকেট তুলে নেন।

    লাঞ্চের আগে ভারত লক্ষ্যচ্যুত হয় ১২৪ রানের। ব্যাটিং শুরু করেন একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো। মার্কো ইয়ানসেনের আঘাতে প্রথম ওভারে জৈবিকভাবে ফেরেন যশস্বী জয়সোয়াল (০)। এরপরই লোকেশ রাহুল (১) লেগে যান দলের হাল ধরতে। চোটের কারণে অধিনায়ক শুভমান গিল হাসপাতালে থাকায় বোলিং অর্ডারে পরিবর্তন আনা হয়, কিন্তু ধ্রুব জুরেল (১৩) ও ঋষভ পন্ত (২) ব্যর্থ হন। স্পিনার সাইমন হার্মার এই দুজনকে ফেরালে ভারত পড়ে যায় মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে।

    একদিকে অক্ষর প্যাটেল ঝড় তুলছিলেন, অন্যদিকে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে খেলা উইশিংটন সুন্দর প্রহরার জন্য থাকেন। রবীন্দ্র জাদেজা (১৮) তার সঙ্গে জুটি বাঁধতে চাইলে হার্মার তাকে আলগা করেন। ৬ উইকেট পড়ে ৭২ রানে ভারতের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে, অক্ষর প্যাটেল ১৭ বলে ২ ছক্কা আর ১ চারে ২৬ রান করে জয়ের সম্ভাবনা দেখান। কিন্তু শেষমেষ কেশভ মহারাজ তাঁর বলেই সুন্দরকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মোহাম্মদ সিরাজ (০) ওয়ে আউট হয়ে ভারতের শেষ আশা শেষ করেন। সুন্দরও ৩১ রানে আউট হন।

    অবশেষে, ভারতের ইনিংস শেষ হয় ৯৩ রানে অলআউট হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হার্মার ৪টি উইকেট লাভ করেন, ইয়ানসেন ও কেশভ মহারাজ ২টি করে উইকেট নেন। এই বাজে ফলাফল বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য লজ্জার মুহূর্ত হয়ে রইল।