Category: খেলাধুলা

  • এশিয়া কাপ যুবদলে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

    এশিয়া কাপ যুবদলে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

    অনূর্ধ্ব-১৯ যুব এশিয়া কাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বপ্নভ্রমণ শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। আফগানিস্তানকে হারিয়ে এই প্রতিযোগিতায় জয় সংগ্রামের ধারা শুরু করে বাংলাদেশি যুব ক্রিকেটাররা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামেন তারা নেপালের বিপক্ষে। যেখানে আগে বল হাতে নেমে ১৩০ রানে পুরো নেপালি দলের ইনিংস গুটিয়ে দেন বাংলাদেশিরা। সহজ লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের যুবরা সফলভাবে ৭ উইকেটের জয় লাভ করে, বলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৫১ বল হাতে রেখে ম্যাচটি সম্পন্ন করে।

    দুবাইয়ের সেভেনস স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। এই সিদ্ধান্তের সঠিকতা পুরোপুরি দেখিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা, যারা শুরু থেকে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান।

    নেপালের শুরুটা কিছুটা চনমনে হলেও খুব দ্রুতই ধসে পড়ে। দুই ওপেনার সাহিল প্যাটেল ও নিরাজ কুমার উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন। তবে ১৮ রান করা সাহিল প্যাটেলকে আউট করেন সাদ ইসলাম। এর পরে নেপালের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকেন। মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের বলের সামনে দাঁড়াতে পারেননি, ৫৪ থেকে ৬১ রানের মধ্যে পাঁচজন ব্যাটসম্যান ফিরে যান। উল্লেখ্য, ৪০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর মাত্র ৬১ রানে নেপাল দলের পাঁচটি উইকেট পড়ে যায়। ৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পরে দলটির ব্যাটিং ধস নামে, এবং স্কোর বাড়তেই থাকে উইকেট হারানোর ধারাবাহিকতা। অবশেষে, ১৩০ রানেই শেষ হয় নেপাল দলের ইনিংস। এই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন অভিষেক তিওয়ারি। বাংলাদেশের বোলিংয়ে দারুণ পারফর্ম করেন সবুজ, যিনি নেন তিনটি উইকেট।

    লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ওপেনার জাওয়াদ আবরার শুরুতেই আক্রমণ চালান। তবে শুরুটা ভালো হলেও চতুর্থ ওভারেই হঠাৎ বিপর্যয় ঘটে। ওই ওভারে রিফাত বেগ ও তামিম আউট হয়ে যান। রিফাত ৭ বলে ৫ রান করেন এবং তামিম মাত্র ১ বল খেলেই ১ রান করে ফিরে যান।

    এর পরে জাওয়াদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন কলাম সিদ্দিকী অ্যালেন। এক প্রান্ত ধরে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করছিলেন জাওয়াদ, তার সাহসী খেলায় সহযোদ্ধা হিসেবে সফল হন কালাম। এই জুটির ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিয়ে আসে। চাপের মধ্যে থেকেও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে খেলছিলেন জাওয়াদ। তিনি তুলে নেন এক অসাধারণ ফিফটি। এই ওপেনার আগের ম্যাচেও জয়ী রূপে দেখিয়েছেন তার দক্ষতা। শেষের দিকে কালাম সিদ্দিকী অ্যালেন ৬৬ বলে ৩৪ রান করে আউট হন।

    শেষ পর্যন্ত, অপরাজিত থাকেন জাওয়াদ আবরার, যিনি ৬৮ বলের মোকাবেলায় ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার পারফরম্যান্সের সঙ্গে সহায়তা করেন রিজান হোসেন, ৮ বলে ১২ রান করেন। এই জয় নিয়ে বাংলাদেশ দল ১৫১ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে ম্যাচ শেষ করে। এই জয়ে তারা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের আসরে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে।

  • আইপিএল ও পিএসএল আবারও একই দিনে শুরু হচ্ছে, দুটির সূচী সংঘর্ষস্থাপনা

    আইপিএল ও পিএসএল আবারও একই দিনে শুরু হচ্ছে, দুটির সূচী সংঘর্ষস্থাপনা

    আবারও দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় লিগ আইপিএল এবং পাকিস্তানের পিএসএল একই সময়ে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। টানা দ্বিতীয় বছর হিসেবে, এই দুই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগের সূচি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একে অপরের সাথে সংঘর্ষে шашানুপূর্ন হবে।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সোমবার নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আসর ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ শুরু হবে। এই টুর্নামেন্টটি এক মাসের বেশি সময় ধরে চলবে, এবং এর ফাইনাল হবে ৩ মে। এছাড়াও, নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যোগ হওয়ায়, ২০২৬ সালের পিএসএল হবে মোট আট দলের। নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি ইসলামাবাদে।

    এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়েছে, আইপিএল ২০২৬ শুরু হবে ২৬ মার্চ এবং চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। এই সূচি জানানো হয় সোমবার আবু ধাবিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিদের ও আইপিএল কর্তৃপক্ষের বৈঠকে। সূচি অনুযায়ী, এবারের আইপিএলের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আজ, আবু ধাবিতেই।

    আইপিএলের প্রধান নির্বাহী হেমাঙ্গ আমিন ব্রিফিংয়ে এই সূচির বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। সাধারণত, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের শহরেই উদ্বোধনী ম্যাচ হয়। তবে, এই বছর বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    গত বছর, আইপিএল শুরু হয়েছিল ২২ মার্চ। এরপর প্রায় ২০ দিন পর, ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় পিএসএল, যা চলে_ROOM_END_ দিয়ে ২৫ মে। সেই সময়, ভারতের পাকিস্তানসহ সামরিক উত্তেজনার কারণে কয়েকদিন খেলা বন্ধ ছিল। এবারও, একই সময়ে আইপিএল ও পিএসএল হওয়ার ফলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি, সম্প্রচার এবং খেলোয়াড়ের প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন কিছু আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • মেসির জন্য ক্ষমা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    মেসির জন্য ক্ষমা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    লিওনেল মেসির উপস্থিতি কলকাতাবাসীর জন্য এক অপ্রত্যাশিত ও কষ্টের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। নানা ধরনের অসংগঠিত ব্যবস্থা ও পরিকল্পনার অভাবে যুবভারতী স্টেডিয়ামস্থ অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল তেমন স্বাভাবিক নয়। এই ঘটনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেসির কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে শনিবার যে অব্যবস্থাপনা দেখা গেল, তা আমি গভীরভাবে বিচলিত ও দুঃখিত। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আমি লিওনেল মেসি, সকল ক্রীড়াপ্রেমী এবং তাঁর ভক্তদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

    আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেসি যুবভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই ভিড়ে পড়ে যান জনতার দাপটে। উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার ও তারকারা, তবে তার জন্য বড় ধরনের দুর্বিপাকের পরি‌স্থিতি তৈরি হয়। ভক্তরা তাকে কাছ থেকে দেখার জন্য তাড়াহুড়ো করে। এরফলে, গ্যালারিতে উপস্থিত কিছু দর্শক মেসিকে চাক্ষুষভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ডুগডুগি ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

    প্রসঙ্গত, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকায় কিছু সময়ের মধ্যে মেসিকে দ্রুত স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে, উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। স্টেডিয়াম থেকে বোতল ছোঁড়া হতে শুরু করে আর গ্যালারির চেয়ার ভাঙা হয়। ভাঙা চেয়ার ও বোতল মাঠের মধ্যে ছুড়ে ফেলা হয়। কিছু দর্শক আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে। তবে, সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    উত্তেজিত ভক্তরা একেবারে গ্যালারির সীমানা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ গোল পোস্টের জাল ছিঁড়ে ফেলেন, আবার কিছু জন সাজঘরের পথে ট্যানেলের ছাউনিও ভেঙে ফেলেন। স্টেডিয়ামের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সোফা, টেবিল ও অন্যান্য জিনিস পুড়িয়ে ফেলেন কেউ কেউ। এই পুরো ঘটনায় স্টেডিয়াম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অনেক দর্শক স্টেডিয়াম থেকে টাক ও ফুলের টবসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে বের হন। এভাবেই বিশাল ক্ষতি হয় স্টেডিয়ামের।

  • অ্যাশিয়া কাপের মিশন শুরুতেই রেকর্ডের পর রেকর্ড করে দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশ

    অ্যাশিয়া কাপের মিশন শুরুতেই রেকর্ডের পর রেকর্ড করে দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশ

    নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা বর্তমানে গর্বিত হয়ে বলছেন, ‘চ্যাম্পিয়নরা চ্যাম্পিয়নদের মতোই খেলছে’। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তরুণ দল দুর্দান্ত কাব্যিক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দুই ওপেনারের জোড়া ফিফটিতে রেকর্ড রান তাড়া করে বাংলাদেশ victory তুলে নিয়েছে। এই ম্যাচে আজিজুল হাকিম ও তামিমের অসাধারণ ব্যাটিং নজর কেড়েছে সবাইয়ের। মহাদেশীয় কিংবা বৈশ্বিক কোনো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এই প্রথম ২৮৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড স্থাপন করল। শনিবার দুবাইয়ে আফগানিস্তান যুব দলের দেওয়া ২৮৩ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ ৩ উইকেটে, অবশিষ্ট ৭ বল রেখে জয় পেয়েছে। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান করে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে বাংলাদেশ খেলতে নামে ৪৮ ওভার ৫ বল খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান করে, অর্থাৎ জয় নিশ্চিত করে। দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলের দুর্দান্ত সূচনা দেন। ৪৫ বলে ফিফটি করেন জাওয়াদ, যদিও ৯৬ রানে পৌঁছানোর আগে অপসারণ হয় তিনি। অন্যদিকে, রিফাত ফিফটি করেন ৬০ বলে। সবমিলিয়ে ৬৮ বলের মধ্যে তিনি করেন ৬২ রান। তার বিদায়ের পর দল চাপে পড়ে যায়। এরপর তামিম ত্রিশের বেশি রান করে, ৪৭ রান করেন তিনি। তবে তামিমের বিদায়ের পরে দলের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত ফেরার কারণে শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ দিকে রিজান হোসেন ও শেখ পারভেজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলের জয় নিশ্চিত করে। এই ম্যাচে আফগানদের হয়ে শিকার করেন ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ, প্রত্যেকটি দুইটি করে উইকেট। এছাড়াও ইকবাল ও সাদ ইসলাম একেকটি করে উইকেট পান। আফগানিস্তানের ওপেনার খালিদ আহমদজাই ৩ রান করে আউট হন। ওসমান সাদাত ৬৬ রানে ক্লান্ত করে তাকে ফয়সালক সঙ্গে একটি বড় জুটি formed করে। ফয়সাল ৯৪ বলে ১০৩ রান করে আউট হন। আফগানদের দিকে থেকে অন্যান্য ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে গেলে বড় পুঁজি গড়ার সংকটে পড়ে তারা। এখান থেকে আজিজউল্লাহ মিয়াখিল ও আব্দুল আজিজ দ্রুত রান তুলে ২৮৩ রানের সংগ্রহে অবদান রাখেন। মিয়াখিল ৩৮ ও আজিজ ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ দুইটি করে এবং সাদ ইসলাম, সামিউন বসির ও রিজান হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করেন। এশিয়া কাপের এই হ্যাটট্রিকের পথে বাংলাদেশ নতুন দু’টিই অর্জন করল। আগামী ১৫ ডিসেম্বর তারা খেলবে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে।

  • হায়দরাবাদে মেসির জন্য বিশেষ আলাদা মুহূর্ত

    হায়দরাবাদে মেসির জন্য বিশেষ আলাদা মুহূর্ত

    ভারত সফরের প্রথম পর্যায়ে কলকাতায় ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পর এবার হায়দরাবাদে দেখা গেল এক অন্যরকম চিত্র। এ শহরে মেসির উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশটি ছিল শান্তিপূর্ণ ও মুগ্ধকর। রাজীব গান্ধি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দারুণ আয়োজন সবাইকে আকৃষ্ট করে, যেখানে দর্শকদের মধ্যে ছিল বিপুল উৎসাহ। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি দর্শকদের চমকপ্রদ শৈল্পিক ফুটবল প্রদর্শন করেন, তার বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে সবাইকে আনন্দে ভাসিয়ে দেন। তিনি দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বার্তা দেন। মূলত ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’ এর অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে পৌঁছান মেসি, যেখানে তার সঙ্গে ছিলেন ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল ও লুইস সুয়ারেস। সেখানে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ চলছিল, যেখানে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডিও কিছুক্ষণ খেলেন। এই সময় মেসি, সুয়ারেস ও ডি পল ভিওআইপি থেকে খেলা দেখেন, মাঠে নেমে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে করমর্দন করেন, অটোগ্রাফ দেন এবং সবাইকে ছবি তোলার সুযোগ দেন। তিনি খেলোয়াড়দের সাথে বলও আদান-প্রদান করেন। ম্যাচ শেষে জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মেসি এবং সংক্ষিপ্ত ভাষণে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, হায়দরাবাদে থাকতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। ডি পলও এই সন্ধ্যাকে খুবই বিশেষ বলে অভিহিত করেন, এবং ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বকাপ জিততে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শেষে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আসরে যোগ দেন, এবং মেসি তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি ও রাহুল গান্ধিকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের দশ নম্বর জার্সি উপহার দেন। এরপর স্টেডিয়াম থেকে বিদায় নেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।

    এর আগে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতি ঘিরে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, মাত্র ২০ মিনিট তিনি স্টেডিয়ামে ছিলেন, কিন্তু দর্শকদের এক বড় অংশ তাকে দেখতে পাননি। জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা তৈরি হলে কিছু ক্ষণের মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও খবর হলো। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের মাধ্যমে উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকেও আটক করা হয়।

    কলকাতা ও হায়দরাবাদের পর মেসির ভারতীয় সফর শেষ হওয়ার পথে রয়েছে— যেখানে শেষ হবে তার এই বিশেষ পর্ব, মুম্বাই এবং দিল্লিতে দর্শকদের সঙ্গেই তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

  • রূপসা অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    রূপসা অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    রূপসা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন শহিদ মনসুর স্মৃতি সংসদের আয়োজনে অনিয়মিতভাবে চলমান ৬ষ্ঠ অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ রোববার বিকেলে কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এই ম্যাচে স্বাগতিক দল শহিদ মনসুর স্মৃতি সংসদ ও বটিয়াঘাটা তরুণ সংঘ মুখোমুখি হয়। প্রথমার্ধের শুরু থেকেই উভয় দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উৎসাহী হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে, খেলা ড্র থেকে গড়িয়ে ট্রাইব্রেকারে যেতে বাধ্য হয়। ট্রাইব্রেকারে স্বাগতিক দলের গোলরক্ষক, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বসুন্ধিয়া গ্রামের সন্তান আরিফুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে শহিদ মনসুর স্মৃতি সংসদ ৩-০ গোলে বটিয়াঘাটা তরুণ সংঘকে পরাজিত করে। এর মাধ্যমে তারা প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই আসরটি স্পন্সর করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মা জাহেদা জান্নাত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রীড়া সংগঠক এইচ এম মাসুদুল ইসলাম। খেলায় বিশেষ পারদর্শিতার জন্য বিজয়ী দলের ৮ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আনিস “ম্যান অব দ্য ম্যাচ” নির্বাচিত হন। খেলাটি পরিচালনা করেন রেফারি সুমন রাজু, আজিজুর রহমান ও আলী আকবর। কোয়ার্টার ফাইনাল উদ্বোধন করেন ক্রীড়া সংগঠক ও দৈনিক সময়ের খবর এর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ অধ্যাপক আহমেদুল কবির চাইনিজ। টুর্নামেন্টের আয়োজক মাফতুন আহমেদ রাজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম কামরুজ্জামান টুকু, ক্রীড়া সংগঠক ও মা জাহেদা জান্নাত ফাউন্ডেশনের সভাপতি এইচ এম মাসুদুল ইসলাম, পাশাপাশি অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। একাধিক রাজনৈতিক ও ক্রীড়া নেতা, সাংবাদিক ও সংগঠকের উপস্থিতিতে এই ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

  • মেসিকে ভারতে আনার প্রহসন: শতদ্রু দত্ত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে

    মেসিকে ভারতে আনার প্রহসন: শতদ্রু দত্ত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে

    আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির বাংলায় আগমনের খবরে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। এদিনের অনুষ্ঠানে মেসিকে আনতে কলকাতায় এসেছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী শতদ্রু দত্ত। তবে নিষ্ঠুর অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে তিনি তার পরিকল্পনা শেষ হতে পারেনি। অনুষ্ঠানের দিনই সিআইএসএফ ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শতদ্রু। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) তাকে বিধাননগর মহাকুমা আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আদালতে হাজিরের সময়ই বিজেপির কর্মীরাই বিক্ষোভ দেখায়, যারা শতদ্রুর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে শুরু করে।

  • ক্রিকেটার তোফায়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

    ক্রিকেটার তোফায়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

    গুলশান থানা পুলিশ গত সোমবার জনপ্রিয় ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ আইনের মামলা চালুর পর আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেছে। এই চার্জশিটটি নারীর উপর যৌন নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার অধীনে জমা দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত কর্মকর্তা এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম জানান, ৩০ নভেম্বর তিনি আদালতে এই চার্জশিট পেশ করেছেন। তিনি বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগ শতভাগ প্রমাণিত হওয়ায় এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালতে সাক্ষীরা আসলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করবেন।”

    প্রসিকিউশনের পক্ষের এসআই তাহমিনা আক্তার আরো জানান, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিটটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

    চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, তোফায়েল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্বের পর প্রেমের প্রস্তাব দেন তোফায়েল, যদিও সে নারী তা মেনে নেননি। তবে, তোফায়েল বিয়ে করার কথার আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি গুলশানের একটি হোটেলে তোফায়েল ওই নারীর ওপর ধর্ষণ করেছেন। এরপরও সময়ে সময়ে কিছু বার তার দ্বারা আবারও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটানো হয়। বাদী ১ আগস্ট গুলশান থানায় এই ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

    উল্লেখ্য, মামলার তদন্তের সময় তোফায়েল ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন प्राप्त করেন। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। বাদী অভিযোগ করেন, ‘তোফায়েল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরিবারকে জানানো সত্ত্বেও কোনও সমাধান হয়নি।’

  • অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের উদ্বোধন

    অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের উদ্বোধন

    উদযাপিত হলো তরুণদের উৎসব, খুলনা জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বাছাই পর্বের উদ্বোধন। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২৬ এর অংশ হিসেবে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপ-পরিচালক যুব উন্নয়ন খুলনা মোঃ মোস্তাক উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ আলীমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক জাতীয় দল খেলোয়াড় দস্তগীর হোসেন নীরা, মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ, শেখ হেমায়েত উল্লাহ। এতে অংশ নেন ছয়টি দল, যার জন্য তাদের কোচগণ উপস্থিত ছিলেন। এই প্রতিযোগিতা তরুণ ফুটবল তারকাদের উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতের ফুটবলার তৈরি করবে, যা খুলনা জেলার ক্রীড়া ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির प्रतीক।

  • পাকিস্তানের কাছে শেষ ম্যাচ হারিয়ে সিরিজও হারলো বাংলাদেশ

    পাকিস্তানের কাছে শেষ ম্যাচ হারিয়ে সিরিজও হারলো বাংলাদেশ

    নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে তারা পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৮৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে ১৮ বল হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের হাসি হাসে পাকিস্তান। ম্যাচে শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিং খুবই দুর্বহ হয়েছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪ রান করেই ওপেনার মায়মুনা নাহার সাজঘরে ফিরে যান। এরপর ব্যাটাররা এসে-যাওয়া করতে থাকেন। অচেনা জান্নাত, সাদিয়া ইসলাম, ফারজানা ইয়াসমিন ও সুমাইয়া আক্তার পঞ্চম, ষষ্ঠ উইকেটে নিজেরা সংগ্রাম করে কিছুটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশ ৩১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর হাবিবা ইসলাম ও সাদিয়া আক্তার ২২ রানের জুটি গড়ে থাকেন।শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯০ রানের মধ্যে অলআউট হয়। দলের জন্য ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন সাদিয়া আক্তার। পাকিস্তানের হয়ে বারিরাহ সাইফ ৩টি ও রোজিনা আকরাম ২ উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রথম বলেই উইকেট নেন পাকিস্তানের অতশী মজুমদার। এরপর দ্রুত দ্বিতীয় উইকেটও পড়ে। রানআউটে কাটা পড়েন ৮ বলের মধ্যে ১০ রান করা রাহিমা সাঈদ। এরপর ৩৭ রানের জুটি গড়েন কমল খান ও আকসা হাবিব। ২১ রান করে তারুশিনা ইয়াসমিনের শিকার হন আকসা। এরপর ২৫ রান করা কমল খানকেও হাবিবা ফিরিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতেও জিততে কোন সমস্যা হয়নি পাকিস্তানের। শেষদিকে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন ফিজা ফায়াজ ও আরিশা আনসারি।