আতঙ্ক বা প্রত্যাশার এক পঙক্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট: যদি ভারত গিয়ে না খেলতে হয় তাহলে আইসিসির সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বে বাংলাদেশ। তবুও অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (আইসিসি) আরও সময় চান—সরকারের সঙ্গে ‘শেষবারের মতো’ কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং আইসিসি সেই সময় দিয়েছেন।
বুলবুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় চাই। আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।” তিনি জানান, সরকারের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তা আইসিসিকে জানিয়ে দেয়া হবে।
বিসিবি সভাপতির কথায় স্পষ্ট হতাশা মিশে আছে—বিশ্বকাপে খেলতে প্রত্যেকের ইচ্ছা আছে, কিন্তু নিরাপত্তা প্রশ্নে সরকারকে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আইসিসির কাছ থেকে কোনো ‘অলৌকিক’ সমাধানের আশাও করছেন বলে জানিয়েছেন।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে বিসিবির একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে দিলেও গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। বিসিবি আয়ারল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে’র সঙ্গে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা নতুন কোনো দলকে গ্রুপে নিতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’ তে রয়েছে—একই গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী টাইগারদের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষটি মুম্বাইয়ে। উদ্বোধনী দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি, দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুর সূত্রপাত মূলত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে বললে বিষয়টি বিবেচনায় আসে। আনুষ্ঠানিক কারণ না জানালেও কূটনৈতিক উত্তাপের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে গুরুতরভাবে দেখা হয়। এর পরদিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইসিসিকে জানায়—নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। তারপরেও একাধিক বৈঠকের পর বিসিবির অবস্থান সহজে বদলায়নি।
অন্যদিকে আইসিসি মোস্তাফিজ ইস্যুকে বিশ্বকাপ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত নয় বলে বিবেচনা করেছে। তাদের যুক্তি ছিল—একটি ঘরোয়া লিগে একজন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
এখন দৃষ্টিপথে সরকারি সিদ্ধান্তই—বিসিবি সরকারের চূড়ান্ত অবস্থানের উত্তর অপেক্ষায় আছে। সময় খুবই কম; সিদ্ধান্ত না বদলালে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত বলে দৃশ্যমান।
