বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে অস্বীকার করে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাতে সম্মিলিতভাবে টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

জিও নিউজের সূত্র বলেছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বিসিবি যদি পান ভারতীয় ভেন্যুগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে না পারলে দল নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির বোর্ড সভার পর সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্ট হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে। আইসিসি বলেছে, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে সূচি বদলানো বিবেচ্য নয়; এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে।

আইসিসি সভার ঠিক একদিন আগে বিসিবির আবেদন বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল—কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি।

বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ড বৃহস্পতিবারই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে দল পাঠানো বা না পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। খেলোয়াড়দের বড় অংশই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছে, তবে শেষ মুহূর্তে বিসিবি যদি পাকিস্তানের মতোই সরে যায় তাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

বিগত সময়ে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। সেটাই ছিলো বিসিবির অনুরোধ জানার পেছনের প্রধান কারণগুলোর একটি—বিশেষ করে আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাসহ সম্পর্কিত ইস্যুগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করেছে। ঘটনার পরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিসিবি তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জোরালো করেছে।

এই সব অচলাবস্থায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি আইসিসির কাছ থেকে ‘‘আর একটু সময়’’ চেয়েছেন—২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা—সরকারের সঙ্গে শেষ আলোচনার জন্য। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

তবে তিনি যোগ করেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারেই তাদের পরামর্শ জানানো হবে। আমিনুল বলেন, ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের প্রত্যাশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চাই আমাদের দল বিশ্বকাপে খেলুক, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কেবল খেলোয়াড়কেই নয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রসঙ্গকেও বিবেচনা করতে হবে।’’

এ অবস্থায় বিসিবির সামনে মৌলিক দু’টি পথ খুলে গেছে—নিজেরা অবস্থান প্রত্যাহার করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলা, না হলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি।

সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে; গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে নেপালের বিপক্ষে।

এই ইস্যু কেবল ক্রীড়াগত সিদ্ধান্ত নয়—এটি কূটনীতি, নিরাপত্তা ও খেলার স্বার্থের সংমিশ্রণ। পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বিসিবি ও সরকারের মধ্যকার আলোচনাই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ফাইনাল সিদ্ধান্ত এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের সামগ্রিক চিত্রও।