Category: আন্তর্জাতিক

  • ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন, দিল্লি থেকে তাদের আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে করে সাগরের মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়। এইসব নিপীড়িতরা এখন আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, কারণ তারা জানে না আবার কবে তারা স্বজনদের সাথে মিলিত হতে পারবে বা কোন পরিস্থিতির মুখে পড়বে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের এই অবহেলা রোহিঙ্গাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছে।

    নুরুল আমিন নামে একজন রোহিঙ্গা বলছেন, গত ৯ মে তিনি বর্তমানের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি জানতে পেরেছেন তার পরিবারের চারজনসহ তাকে ভারতের সরকার ফেরত পাঠিয়েছে। তারা বহু বছর ধরে প্রাণভয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, যেখানে বর্তমানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনী জোরালো লড়াই চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ এক অজানা অপূর্ণতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসরত ২৪ বছর বয়সী আমিন মনে করেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী দুঃখ-কষ্টে আছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদেরকে দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা সাঁতরে তীরের কাছে ফিরে আসে। এখন তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, কারণ এরই মধ্যে তারা অত্যাচার, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার।

    জন নামে একজন রোহিঙ্গা জানান, “আমাদের হাত পেঁচানো, চোখ ও মুখ ঢেকে জাহাজে তুলে নেওয়া হয়, তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।” তিনি ও তার সাম্প্রতিক ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নুরুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “মানুষকে কোনওভাবেই এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেয়া যায়? মানবতা কোথায়?

  • গাজা সিটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত, নিহতের সংখ্যা এখন ৬৩,০০০ ছাড়ালো

    গাজা সিটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত, নিহতের সংখ্যা এখন ৬৩,০০০ ছাড়ালো

    গাজা উপত্যকার বড় শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে এই মুহূর্তে প্রাথমিক হামলা চালাতে শুরু করেছে। সাথে সাথে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে গাজা সিটিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আর কোনো বিরতিও দেওয়া হবে না। আইডিএফের মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা সিটিতে প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছি। উপকণ্ঠে শক্তিশালী আক্রমণে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি সেনারা বলেছে, ‘আজকের (শুক্রবার) সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো শান্তির্ত্ব আলোচনা চলবে না। এখন থেকে গাজা সিটি একেবারেই এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’ এই ঘোষণার পর, গত মাসে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরায়েল স্বল্প সময়ের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৌশলগত বিরতি দেয়। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাদের অনুরোধে তারা এই বিরতিকে কিছুটা সময়ের জন্য স্থগিত করে। তবে আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজায় বিভিন্ন স্থানে বোমা বর্ষণ ও হামলা চালাতে শুরু করে, শহরটির উপকণ্ঠে ট্যাংক অবস্থান নেয়। এর ফলে, প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবারের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামলায় আরও কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৪৪ জন। এখন পর্যন্ত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের মধ্যে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জনে। নিহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা হাসপাতালে অনাহর, অপুষ্টি ও যুদ্ধের কারণে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে, অক্টোবরে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ১২১ জনই শিশু। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সাহায্য চাইতে এসে ২৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। মোট সহায়তা চাওয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ২,০২৩ জন নিহত ও ১৬,২২৮ জন আহত হয়েছেন। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২৭ মে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই আলাদা কিছু ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রাণহানি হয়। সূত্র: আল জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পেছনে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও সূত্রে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকার ডন্ডা দিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুরো ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস।

    ঘটনার সূচনায়, অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটের প্রচার চলাকালে দরভাঙ্গায় এক কংগ্রেস কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন, যা ধরা পড়ে ভিডিওতে। এর ঠিক পরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

    দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, মামলার নথি ঢুকানো হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

    বিহারেও এই ঘটনা নিয়ে উত্তজনা দেখা দিয়েছে। পাটনায় বিজেপি আজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। অন্যদিকে, কংগ্রেস কর্মীরাও মঞ্চে উঠে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, এখনও পুরো এলাকা উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।

    আবার, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। সেখানে অভিযোগ ওঠে, কিছু বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। নেতৃস্থানীয় বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার ছেড়ে দেওয়া হয়।

    এমনকি, রাহুল গান্ধীর ছবিসহ বিভিন্ন ব্যানারও সেখানে দেখা গেছে। এ ঘটনার পক্ষে প্রদেশ কংগ্রেস নিন্দা জানিয়েছে এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া না হলে এ ধরনের কাজ কেউ করে না। দেশের স্বার্থে কংগ্রেস চেষ্টা করছে; কিন্তু বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে আকাশে ভাসছে। তারা এই ধরনের কাজ করছে যখন দপ্তর ফাকা ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে ডেম্যান্ড করছি, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেন, ঘটনাগুলির মদদ দিচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা। তিনি বলেন, “নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমাদের জবাব দিতে হবে।”

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, “মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি সন্তান নেবে। আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব।”

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের ছেলে ১১ বছর ধরে দেশ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানা যায় না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ভাষা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক।”

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, “এ ধরনের অশালীন আক্রমণ চরম অগ্রহণযোগ্য। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে অবমাননা করা অনুচিত। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি আদালত। সম্প্রতি একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর তা জনসম্মুখে আসে, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করেন। এই ফোনকলে তার সেনা বাহিনীর সমালোচনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ১৫ জুনের ফোনকলটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি তিক্ততর হয়ে উঠে। এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হলে দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে দেশটির সেনাবাহিনী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয় পেতোংতার্নকে। তিনি তখন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রতি অবমূল্যায়ন, দেশের স্বার্থের সাথে আপোষের অভিযোগ উঠেছে। গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি বর্তমানে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে মোট পাঁচজন থাই প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে সম্প্রতি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার জন্য দায়ী মূলত বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় যখন প্রধানমন্ত্র নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানী ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দলের যোগ্য কর্মীরা দলের পতাকার ডান্ডা হাতে একে অপরকে মারধর করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতি করে তোলে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে। কংগ্রেস ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে, দরভাঙ্গায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে, পাটনায় বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়, সেখানে কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

    বিহার রাজ্যের পরিস্থিতিও গুরুতর। বিহারের পাটনায় বিজেপি নেতারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে, যেখানে কংগ্রেসের কর্মীরা পাল্টা আন্দোলনে অংশ নেয়। পাটনায় সংঘর্ষে অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    কলকাতা শহরেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের বিধান ভবনের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশে বিজেপি সমর্থকররা কংগ্রেস দপ্তরে ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছে।

    অভিযোগের সুরে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতি দেউলিয়া না হলে এই ধরনের কাজ কেউ করে না। মোদি-প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়ার জেরেই এই হামলা হয়েছে, এবং এটি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন আমরা। দোষীদের দৃষ্টিতে আনা ও সাজা দেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ জানান, প্রত্যক্ষতভাবে এই ঘটনার পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে এবং তিনি নীতীশ কুমারের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জবাব দেব।’ অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মায়ের অপমানের বদলার জন্য বাংলার প্রতিটি ছেলে কংগ্রেসকে দেবে। আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি এত নিচে নেমে গেছে যে, তারা দেশের উন্নয়নের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ভাষা লজ্জার ও গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্কজনক।’

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও বলেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা অতিক্রম করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

    বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ও তার প্রয়াত মায়ের সম্মাননির্বাচন অশোভন ও অবমাননাকর। আমি এর নিন্দা জানাই।’

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দণ্ডবিধির অবৈধ ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর দেশটির সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই ফোনকলটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়। ফোনালাপে তিনি তার দেশের সেনাদের সমালোচনা করেন এবং বলেন, তাদের কারণেই কম্বোডিয়ার একটি সেনা নিহত হয়েছে। এই রেকর্ডটি ভাইরাল হলে দেশের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাস পরই থান্ডার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্ত হয়।

    প্রথমে জানা যায়, ১৫ জুনের ওই ফোনালাপে পেতোংতার্ন আবারও বলেন, “যেকোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাতে পারেন। আমি বিষয়টি দেখব।” এই বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সীমান্তে তখন উত্তেজনা চরমে থাকায় জাতীয়তাবাদে গা গাঢ় হয়ে উঠে সাধারণ মানুষের মনোভাব। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, তিনি গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এর পর তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, তিনি কেবল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য এ কথাগুলো বলেছেন।

    রায় ঘোষণার পর, সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পান্তোংতার্ন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বলেছেন, তার লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। এ সময় তিনি যোগ করেন, তিনি দেশের নাগরিক ও সেনাদের সুরক্ষায় কাজ করেছেন। তবে, ১ জুলাই দেশটির সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় থাকেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম থাইল্যান্ডে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা হারিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রমাণ।

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একটি হামলা চালায়। এই হামলায় দখলদার বাহিনী সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে, যেখানে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনি সংবাদ মাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কয়েকজন সঙ্গীও প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, এডেন আল-ঘাদ বলা হয়েছে, এই হামলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কিছু বিদ্রোহী নেতা মারা গেছেন। ইসরায়েলি হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলা চালানোর সময় হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চোরেকভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। বেসামরিক সূত্রের মতে, এই অত্মঘাতী হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা, যারা ইরান সমর্থিত। এরপর থেকে তারা নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন, যার মুখপাত্র ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাহাভি। এই পরিস্থিতিতে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি এখনো অস্থির, এবং দেশটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। অপরদিকে, ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বরতা চালিয়েই চলেছেন, যেখানে তারা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। তবে, এই বিষয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরই নিশানা করা। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর একটি জাহাজে তুলে নিজ অভিবাসনের স্বপ্ন ছুঁড়ে ফেলে বাংলাদেশ, তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলো রোহিঙ্গাদের দাবি করেছেন ৪০ জন শরণার্থী। তারা বলছেন, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে তাদের ধরে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা জীবনের ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। এই ঘটনা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে ঘটেছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য ভবিষ্যৎ রয়েছে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের মতে, ভারতে থাকা এই রোহিঙ্গাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে। ব্রিটিশ ব্রেকিং সংবাদমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের পর বহু রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও বাংলাদেশে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। বর্তমানে, ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেলেও, রীতিমতো চাপের মধ্যে থাকেন তারা। গত মে মাসের ৬ তারিখে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় পুলিশ ডেকে আনা হয়। বলানো হয়, তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের জন্য। এরপর তাদের হিন্দুস্তানইন্দিরা বিমানবন্দর থেকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে, বাসে চলন্ত তারা জানায়, তাদের গায়ে বাঁধা হয়েছিল প্লাস্টিকের রশি এবং মুখোশ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, তাদের একটি নৌবাহিনীর বড় জাহাজে তোলা হয় যেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলেন। এই সময়ে তাদের সাথে মারধর, অবমাননা ও হয়রানি করা হয়। সাক্ষাৎকারে-ফলে জানা গেছে, তাদের অনেকের হাতে আঘাতের দাগ, বেধড়ক মারধর এবং অবমাননাকর আচরণ সহ—তাদের প্রশ্ন করা হয় কীভাবে তারা অবৈধভাবে ভারতে এসেছেন। এটি বিশেষ করে আশ্চর্যজনক যে, সাতজনের মধ্যে চারজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গাকেও জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম ছেড়িয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। এমনকি, একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায়, ছোট ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামাতে বাধ্য করা হয় তাদের, যেখানে হাত বাঁধা ও লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে—কিন্তু আসলে তারা মিয়ানমারে ছিল। পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়, এবং তাদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়, যেখানে তারা স্বজনদের খবর দেয়। এরপর থেকেই মিয়ানমারের বাহটু আর্মি তাদের সহায়তা দেয়, কিন্তু ভারতে থাকা পরিবারগুলো এখন বড় আতঙ্কে। জাতিসংঘের দাবি, ভারতের এচর্য্য এই রোহিঙ্গাদের জীবন ‘চরম ঝুঁকিতে’ ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদে, মে মাসের শেষে, নুরুল আমিন ও তার আত্মীয়রা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় এবং এই নির্বাসন বন্ধ হয়। তবে ভারতের একটি আদালত এই অভিযোগকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে আখ্যায়িত করে, এবং মামলাটি সেপ্টেম্বরে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে, ভারতের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ গা ঢাকা দিয়েছে, কেউ বাসায় থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার কাছে শুধু ভয় কাজ করছে, কখনও ভারতের সরকার আমাদেরও সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। আমি এখন ঘর থেকেও বের হতে ভয় পাচ্ছি।” জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি, তারা রক্ষা পেতে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমারের ভয়ংকর সহিংসতা থেকে।” এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত এখন চলমান, এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে এই ঘটনায়।

  • গাজা শহরকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা দখলদার ইসরায়েলের, নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার

    গাজা শহরকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা দখলদার ইসরায়েলের, নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকায় এক বড় যুদ্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যখন দখলদার ইসরায়েল গাজা শহরকে সম্পূর্ণরূপে ঘোষণা করেছে যে এটি এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচালিত হবে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আফিসিয়ালভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে গাজা শহরে কোনও ত্রাণ সহায়তার জন্য বিরতি দেওয়া হবে না।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা শহরে হামলার প্রাথমিক পর্যায় শুরু করেছি এবং এখন স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃহৎ শক্তি নিয়ে অপারেশন চালাচ্ছি।’ এর আগে মে মাসের শেষের দিকে গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিল করে ইসরায়েল। তখন তারা জানিয়েছিল, আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি চলবে না এবং এটি এখন একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে।

    অতীতে, ইসরায়েল গাজায় কৌশলগত বিরতি ঘোষণা করে তখন বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহযোগিতায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হামলা বন্ধ রাখত। কিন্তু এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই গাজায় সক্রিয় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। আগস্টের শুরু থেকেই গাজা শহরের বিভিন্ন অংশে তারা বোমাবর্ষণ ও ট্যাংক অবস্থান করে রেখেছে।

    এটির কারণে দিন দিন বেশির ভাগ নিরীহ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক রাতে কমপক্ষে ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ২৪৪ জন আহত হন। নিহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

    শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩৫২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে দাঁড়িয়েছে।

    অন্যদিকে, গাজার হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারে অনাহার ও অপুষ্টি পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই সময়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মোট প্রাণহানি ৩২২ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য নিতে গিয়ে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সহায়তার জন্য চলমান সংঘর্ষে ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০২০৩ জন নিহত এবং ১৬,২২৮ জন আহত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ২৭ মে থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পর থেকে প্রতিদিনই এই ত্রাণ কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রাণহানির ঘটনাগুলি ঘটছে। এসব শনাক্তের পর অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

    গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

    রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর গোলাবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৮৬ জন নিহত হয়েছেন, আর আহত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। এ তথ্য সোমবার সন্ধ্যার পর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতি জানিয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, আর বাকিরা খাদ্য সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে মারা গেছেন। মন্ত্রণালয় বলছে, সোমবারের এই ঘটনায় গাজার হাসপাতালগুলোতে ৮৬ মরদেহ আনা হয়েছে এবং আহত ৪৯২ জনকে চিকিৎসায় পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যক্তিপ্রচেষ্টার অভাবে তাদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান চলাকালে গাজায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬২,৭৪৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক।

    উল্লেখ্য, গাজার উপত্যকায় বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা। এর পর থেকে চলছে ব্যাপক সংঘর্ষ, এ ঘটনায় গত পাঁচ মাসে মৃতের সংখ্যা ১০,৯০০ এবং আহত হয়েছেন ৪৬,২১৮ জন।

    আগের মাসে গাজায় ত্রাণ ও খাদ্য সংগ্রহে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে প্রথম গাজায় ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার সময় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে, যা এখনো নিয়মিত ঘটছে। এ পর্যন্ত এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২,১২৩ এবং আহত হয়েছেন ১৫,৬১৫ জন।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাসের সৈন্যরা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি হামলা চালায়। গুলির মাধ্যমে তারা এক হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৫১ জনের অধিককে জিম্মি করে নেয়। এর জবাবে ১৫ মাস ধরে গাজায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় উদ্যোগের চাপের কারণে ২০২৪ এর জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হামাসের জিম্মি ও সংগঠনকে দুর্বল করতেই অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

    জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার ইসরায়েলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, অপরদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে দুর্বল ও জিম্মিদের মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যতক্ষণ না লক্ষ্য অর্জিত হয়, অভিযান চালানো চলবে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি