Category: আন্তর্জাতিক

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার পেছনে মূল কারণ ছিল বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা, যা মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জের ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, যেখানে দেখা যায় দুই দলের কর্মীরা নিজেদের দলীয় পতাকার ডাণ্ডা দিয়ে একে অপরকে মারধর করছেন। এই সংঘর্ষে বেশ কিছু নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কোনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন দরভাঙায় এক ব্যক্তি ভোটার অধিকারের ‘যাত্রা’ চলাকালীন কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় তরজা করে। এই ঘটনা সরাসরি ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। এর জেরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে ও কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

    দরভাঙা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এক্স-এ দারভাঙা পুলিশ লিখেছে, ‘সিমরি থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    বিহারেও এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। পাটনা শহরে শুক্রবার বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। সেই সময় কংগ্রেস সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং মারপিট শুরু হয়। পুলিশ বিশাল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সমঝোতা করার চেষ্টা করে, তবে শহরের অবস্থা এখনও উত্তপ্ত।

    অপর দিকে, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের অফিসের সামনে শুক্রবার এক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে বিজেপির কিছু সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তারা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে মুখোশে থাকা কয়েকজন ভবনের বাইরে ভাঙচুর করে। তাদের হাতে নাচে থাকা রাহুল গান্ধীর ছবি ও ব্যানার দেখতে পাওয়া গেছে। এ ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। অভিযোগ দায়ের হয়েছে এন্টালি থানায়।

    প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা দেউলিয়া, তাদের এই ধরনের কাজ করার সাহস হয় না। একমাত্র বিজেপির নেতা-নেত্রীরা নিজেদের চুরি ও দুর্নীতির রঙ ঢাকতে এইসব অপকর্ম করে। তারা আমাদের দলের ওপর রাগ প্রকাশ করছে, যখন পুরো দেশ জুড়ে তারা নানা দুর্নীতির অভিযোগে ধরা পড়ছে। এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় সরকারের মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমরা এর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

    অপর দিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দেন, ‘মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে বিজেপিকে দেবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।’

    স্বরաստ্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করে লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি অতি নিচে নেমে এসেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান ১১ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাকে অপমানের এই ভাষা মানা যায় না। এটি লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের প্রতি কলঙ্ক।’

    বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের উচিত ক্ষমা চাওয়া।’

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এ ঘটনাকে অবজ্ঞা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অশ্লীল মন্তব্য অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার এই পদচ্যুতির পেছনে মূল কারণ হলো একটি ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশ, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফোনে তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং কম্বোডিয়ার সেনার প্রাণহানির জন্য তাদের প্রতি গালি দেন। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যে সময় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। পরে এই ফোনকলের বিষ্ময়কর রেকর্ড ভাইরাল হলে গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের আপোস করছেন বলে। তিনি তখন ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য। এই সব ঘটনা শেষে, ১৫ জুনের ওই ফোনকলের ভিত্তিতে তিনি অংশবিশেষ বলেন, “যে কোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন, আমি দেখব।” এরপর নির্মম সত্যটি সামনে আসে, দেশটির আদালত ১ জুলাই তার প্রধানমন্ত্রীপদ স্থগিত করে। যদিও তিনি মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। এভাবে ২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্নের এই অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে দেশের নেতৃত্বে ধীর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ জরুরি।

  • ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এসব দাবি করেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা বলছেন, তাদের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এখন আবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে এ সমস্ত রোহিঙ্গারা, যারা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আশ্রয় খুঁজতে পালিয়ে এসেছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই নীতির কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তারা একাধিক সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই ঘটনা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করেছে।

    এপ্রেমে, ৯ মে তার সাথে শেষ বার কথা বলেন নুরুল আমিন, তাঁর ভাই খাইরুলের সাথে। ফোনালাপটা সংক্ষিপ্ত হলেও তা ছিল ভয়ংকর। জানাতে পারেন, ভারতের সরকারের দ্বারা তাদের খুমছে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিবার ও স্বজনরা কী দুর্দশার মধ্যে আছেন, তা কল্পনাও করতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য এর থেকে বড় দুঃখ আর কিছু হতে পারে না। জান্তার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী লড়াই করছে, ফলে এই পরিস্থিতিতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা অনেকটাই দূর্বল।

    দিল্লিতে বসবাসকারী ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমাদের বাবা-মা ও স্বজনরা কীভাবে কষ্টে আছেন, সেটা আমি ভাবতে পারছি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে মিয়ানমারে। অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধরাই ও অন্যান্য প্রতিরোধ সংঘঠনের কাছে, যারা জান্তার বাহিনী বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

    ভিডিও কলে সাক্ষাৎকারে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ।” তিনি আরও জানান, অন্য ছয়জনের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। শরণার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আনা হয় এক বিমানে, যেখানে তাদের দ্বারা লাইফ জ্যাকেট পরানো হয়। এরপর নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা বলছে, ঐ যুদ্ধজাহাজে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলো, খেতে পাওয়া যেতো ভাত, ডাল আর পনির। তবে সেই সময় অনেককে মারধর ও অপমান করা হয়।

    সৈয়দ নূর জানান, “আমার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় আর কেঁদে চিৎকার করতে হয়েছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন অবৈধভাবে ভারতে এসেছি?” এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান ছিলেন, যাঁরা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তারা ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের পেহেলগামের হামলার জন্য জড়িত বলে অপপ্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব রোহিঙ্গারা মূলত শহর থেকে পালিয়ে আসছে।

    ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন— তারা আসলে মিয়ানমারে ছিল। এর পর, ৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং এখান থেকে স্বজনদের খবর দেন। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের জন্য খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। তবে ভারতে থাকা পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, ভারতে এই ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সৌজন্যে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে রোহিঙ্গাদের। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের মিশনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন স্পষ্ট উত্তর পায়নি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে আনুমানিক ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর রেজিস্ট্রেড থাকলেও, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা সেখানে ৪০ হাজারের কাছাকাছি।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখের বেশি।

    বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় থাকা ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের দাবি করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর, তাদের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যানডাম নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে লেখাও ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’।

    সৈয়দ নূর বলছেন, “বাসে উঠার পরই আমাদের হাত প্লাস্টিকের হাতকড়া দিয়ে বাঁধা হয়, আর মুখ মেকাপের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, আমাদের এক যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়। সেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলাম, খেতে পেতাম ভাত, ডাল ও পনির। তবে চালাকচুরি, মারধর ও অপমানের সাক্ষীও হতে হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। অনেককে মারধর করা হয়েছে, চড় মারা হয়েছে।”

    ফয়াজুল্লাহ বলে, তিনি হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে সক্ষম। তিনি জানিয়েছেন, তার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়, চা খাইয়ে দেয়া হয়, আর জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে কেন এসো?” এর মধ্যে ১৫ জন মত খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তর করেছেন। এমনকি, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের হামলার সঙ্গে জড়িত বলে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে এসবের কোনো সম্পর্ক স্বীকার করেননি বা প্রমাণ দেখাননি রোহিঙ্গারা।

    পরবর্তীতে ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানো হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও, তারা জানে না, আসলে তারা মিয়ানমারে ছিলেন। পরের দিন, স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। ভারতে থাকা পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

    জনস্বার্থে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ ও নিপীড়নে বেড়িয়ে, প্রাণ বাঁচাতে।

  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: ভারত আমাদের হত্যা করছে!

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: ভারত আমাদের হত্যা করছে!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্ক নীতি আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেন তারা আমাদের হত্যা করছে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের জটিলতা কত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে এই মন্তব্য করেছেন যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক বিষয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। খবর এএনডিটিভির।

    মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্কট জেনিংস রেডিও শোতে বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তারা আমাদের বিপদে ফেলেছে। চীন যতই শুল্ক আরোপ করুক, ভারতের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক নেওয়ার কারণে তারা আমাদেরকে “हত্যা” করছে—অর্থাৎ আমাদেরকে হত্যা করছে। ব্রাজিলের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

    ট্রাম্প দাবী করেছেন, শুল্কের বিষয়টি তিনি একেবারে ভালো মতো বুঝতে পারেন। তিনি বলেন, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে শুল্ক আরও কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন ভারতই দ্রুত শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের ক্ষতি করেছে।

    গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতের শুল্ক সবচেয়ে বেশি—৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক। ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

    তার ভাষ্য, ভারতের এত বেশি শুল্ক আরোপের কারণ হলো, আমরা যদি শুল্ক না করতাম, তখন তারা আমাদের এখনকার মতো প্রস্তাব দিত না। তাই শুল্ক অপরিহার্য, যাতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকি। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের কঠোর অবস্থানে থাকাটাই একমাত্র সমাধান।

    এর আগে, ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এখনো একপাক্ষিক। তিনি এটাকে ‘একপাক্ষিক বিপর্যয়’ ও বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের হিসেবে, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিলেও, এই প্রস্তাব দেরিতে এসেছে এবং এটা ইতিবাচক নয়।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ককে незакон বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই রায়ผิดজ্ঞানে দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা জানে, চূড়ান্তভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে থাকবো।

    উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক দিয়ে থাকে, যেখানে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কেনা তেলের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’।

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন সাংবিধানিক আদালত। তার বিরুদ্ধে সন্দেহের দোসর ছিলো একটি ফোনলকের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথোপকথনে ছিলেন। সেই ফোনকলে তার কম্বোডিয়ার সাবেক নেতার কাছে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন ও সেনাবাহিনী নিয়ে মন্তব্যের কারণে তদন্ত শুরু হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশের পরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কিছু মাসের মধ্যেই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বন্ধ হয়।

    ফোনকালে পেতোংতার্ন বলেন, ‘যা কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, কারণ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক বাহিনীর মন্তব্যের মাধ্যমে তার গোপন কথোপকথন প্রকাশ পায়। তখন দেশটিতে সরকারী নিপীড়ন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়িয়ে তোলে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, তিনি গোপনে দেশের স্বার্থের ক্ষতি করেন।

    অবশেষে, তিনি দেশসেবার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, এইসব কথা দেশের জন্যই বলেছিলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। তার মতে, তিনি দেশের মঙ্গল এবং সৈন্য ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি তখনও সংস্কৃতিমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনীতি বদলে দিচ্ছে, তবে এটি নতুন নয়—২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের নির্দেশে ক্ষমতা হারিয়েছেন।

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইকে ইসরায়েলের হামলায় হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), দেশটির রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান এক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রধানমন্ত্রীসহ আরও বহু ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানায়, দখলদার ইসরায়েলি বিমান সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে, যেখানে বিদ্রোহী সরকারের নেতা আহমেদ আল-রাহাউই নিহত হন। আর অন্য একটি সূত্র, এডেন আল-ঘাদ বলছে, তিনি তাঁর আরও কয়েকজন কর্মীসহ প্রাণ হারিয়েছেন।

    অপরদিকে, ইংরেজি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, হামলার সময় ইসরায়েলি হামাজাসংক্রান্ত বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে—তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইয়ের ওপর আলাদা করে হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা তাদের প্রধান নেতা আবদুল মালেক আল-খুতির ভাষণ শুনতে জড়ো হয়েছিল। সেই সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিপ্লবের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়। এর পর থেকে তারা পরিবর্তিত সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে সানা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সৌদি আরবের নেতৃত্বে একাধিক আরব সার্কেল দেশ ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। তবুও হুতিরা নিজেরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই এই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ইসরায়েলি হামলার কারণে এই নেতা নিহত হওয়া রীতিমতো একটি বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।

    অপর দিকে, ইসরায়েলের গাজা অঞ্চলে ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে চলমান বর্বরতা ও হামলার মধ্যে হুতিরা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকালই ইসরায়েলি হামলায় হুতির প্রধান নেতা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিতে দ্বীপস্থলে নেওয়ার অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিতে দ্বীপস্থলে নেওয়ার অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন, তাদের দাবি, দিল্লি থেকে আটক করে দ্রুত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। এমন পরিস্থিতির মধ্যে, মিয়ানমারে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে এসব রোহিঙ্গা আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকির’ মধ্যে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে জানানো হয়, গোপন তদন্তে দেখা গেছে যে, ৯ মে রাতে রোহিঙ্গারা ফোনে জানিয়েছেন, তাদের এক পরিবারকে ভারতীয় সরকার ফেরত পাঠিয়েছে মিয়ানমারে — যেখানে তারা বহু বছর আগে পারিবারিক নিরাপত্তার অভাবে পালিয়ে এসেছিলেন। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই পরিবারগুলো সীমাহীন ঝুঁকির মুখে। জানিয়েছেন, জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, ‘আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কেমন কষ্টে আছেন, আমি তা কল্পনাও করতে পারছি না।’ বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে খুঁজে পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মির কাছে — যা একটি প্রতিরোধশীল গোষ্ঠী, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানান, ‘আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র।’ আশ্রয়স্থলটি কাঠের তৈরি; তিনি আরও বলছেন, তাদের সঙ্গে থাকা আরো ছয়জনের ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে বিবিসি এই ঘটনার বিস্তারিত পুনর্গঠন করেছে। তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরে একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছিল। পরে সাঁতরে তারা তীরে উঠতে সক্ষম হয়। বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল, কারণ এই দেশের পরিবেশে তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে তাদের পালিয়ে আসতে হয়েছে দ্বিগুণ নিপীড়ন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। একজন রোহিঙ্গা, জন, ফোনে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা ছিল, চোখ-মুখ ঢাকা ছিল, যেন বন্দির মতো। তারপর জাহাজে তোলা হয় এবং সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।’ তিনি আরও জানান, ‘মানুষের প্রতি এভাবে অবমাননা কীভাবে সম্ভব? মানবতা এখনও পৃথিবীতে আছে কি না, আমি জানি না।’ মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এই অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনের কাছে এসব প্রমাণ জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি। ভারতের কাছে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ তারা কোনোভাবেই শরণার্থী স্বীকৃতি না দিয়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুসারে, সংখ্যাটি ৪০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে যান, যেখানে বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় থানায় ডেকে আনা হয়। তাদের বলা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাদের শহরের ইন্দিরলোক আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আমিন জানান, সেই সময় তার ভাই ফোন করে জানায় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি আইনি সহায়তা ও ইউএনএইচসিআর কে খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর পর ৭ মে তারা হিন্দি বিমানবন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পৌঁছে, সেখান থেকে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বাসের গায়ে লেখা ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’। সৈয়দ নূর বলেন, ‘বাসে ওঠার সময় আমাদের হাত প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়, আর মুখোশ পরানো হয়। কিছুক্ষণ পরই আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয়। তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন, ভাত, ডাল আর পনির খাওয়ানো হয়েছিল। তবে এ সময় অনেকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়, মারধর ও অপমানের শিকার হয় তারা। সৈয়দ নূর জানাচ্ছেন, ‘আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুকে বারবার চড় মারা হয়, কিছুকে মারধর করা হয়।’ এক ভিডিও কলের মাধ্যমে ফয়াজ উল্লাহ দেখান, তার হাতে আঘাতের দাগ। তিনি জানিয়েছেন, তাকে ঘুষি, চড় মার five, বাঁশ দিয়ে খোঁচা করা হয়েছে। জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ভারতে অবৈধভাবে এসো কেন?’ তার মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, যারা জানিয়েছেন এরকম জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণ জানার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি তাদের খতনা দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্তও করা হয়, যদিও তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক প্রমাণ হয়নি। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায় তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলেপ্রবেশ করানো হয় সমুদ্রে। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। তবে বাস্তবে তারা মিয়ানমারে, যেখানে তারা মুক্তির আশায় এসেছে। পরে ৯ মে সকালে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পান। তারা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দেয় এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এরপর থেকে বাহটু আর্মি তাদের খাদ্য ও আশ্রয় দিচ্ছে। তবে ভারতে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে, ভারত এই রোহিঙ্গাদের ‘আন্দামান সাগরে ফেলে’ তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার এক আত্মীয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানো হয়, এবং এই নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি। তবে ভারতের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে আখ্যায়িত করেন। মামলার শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর হবে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হয় কি না, বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় কি না। এই ঘটনার পর ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে লুকোচুরি করছেন, আবার কেউ বাসায় থাকছেন না। নুরুল আমিন বলেন, ‘আমার মাথায় শুধু ভয় কাজ করে, ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। এখন আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না।’ জাতিসংঘের মুখপাত্র অ্যান্ড্রুজ মন্তব্য করেন, ‘রোহিঙ্গারা ভারত থাকতে চায়নি, তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে। তারা সত্যিই প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটছে।’

  • ইসরায়েল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে

    ইসরায়েল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে

    গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েল পুরো শহর গাজা সিটিকে আরো একবার যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। আজ শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক আক্রমণ শুরু করেছে। একই সঙ্গে, গাজা শহরে এখন থেকে কোন ত্রাণ ও সহায়তার জন্য বিরতি দেয়া হবে না বলেও তারা জানিয়ে দেয়।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি একে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে আক্রমণ চালানো শুরু করেছি এবং গাজা সিটিতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। গাজার উপকণ্ঠে এখন সেনা ও ট্যাংকের উপস্থাপনাও দৃঢ়।’

    বলা যায়, এর আগে ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজায় আর কোন সামরিক বিরতি কার্যকর থাকছে না। এই পরিস্থিতিতে গাজার উপত্যকা সত্যিই একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

    গত মাসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল প্রথমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল, যাতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি গাজায় সাহায্য পাঠাতে পারে। তবে, আগস্টের শুরু থেকে তারা হামলা অব্যাহত রাখে এবং শহরটিকে ধ্বংসের পথে চালায়। শহরের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে গাজার মানুষকে অসহায় করে তুলতে থাকেন তারা।

    এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার আক্রমণে প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষ আরম্ভের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,০০০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ২৪৪ জন আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    সংখ্যা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের মধ্যে নিহতের মোট সংখ্যা এখন ৬৩,০২৫ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যারা অপুষ্টি ও অসহায়ত্বের কারণে মারা গেছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, অক্টোবরে এখন অবধি ক্ষুধাযুক্তির কারণে নিহতের সংখ্যা ৩২২ জন। এর মধ্যে ১২১ জনই শিশু।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্য পাঠাতে গিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০০,২৩৫ জন। আহত হয়েছেন ১৬,০২২৮ জনের বেশি। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

    গত ২৭ মে গাজার হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই আহত-নিহত ঘটছে। তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

    সুত্র: আল জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এই হামলার জন্য দায়ী। সূত্র বলছে, মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাটির ফুটেজ দেখিয়েছে যে, দুই দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের দলের পতাকার ডান্ডা দিয়ে একে অপরের উপর আঘাত হেনেছেন। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তবে এখনো কারওর গ্রেপ্তার হয়নি। কংগ্রেস এই ঘটনাকে কঠোর পরিভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

    প্রথমে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্যের ঘটনা ঘটে যখন ভোটার অধিকার সংরক্ষণ যাত্রা চলছিল। অভিযোগ, দরভাঙ্গার একটি অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের এক নেতা তার পোশাকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার বিহার পাটনায় উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে বিজেপি রাস্তায় নামলে কংগ্রেসও মাঠে নামে। দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পরিস্থিতি অস্থির থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

    অন্যদিকে, বিহারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ছোবল পড়েছে কলকাতার ওপরও। জাতীয় কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সদরদপ্তরে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। এই সময় বিজেপি সমর্থকরা কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করে ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, রাকেশ সিংসহ কিছু নেতার নেতৃত্বে নেতৃস্থানীয় ভবনের বাইরে ক্ষতিসাধনের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধীর ছবি ও বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতি আজ দেউলিয়ার পথে। কংগ্রেসের চুরি ধরার রাগেই এই হামলা। পরিস্থিতি যে সময়ে এই ঘটনা ঘটলো, তখন দপ্তর ফাঁকা ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঘটছে। তাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল পথে। আমরা জবাব দেবো।’ এরই মধ্যে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মায়ের অপমানের বদলা বাংলার ছেলেরা নেবে, এবং এর জবাব তারা দেবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচে নেমে গেছে। একজন গরিবের ছেলে ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের উন্নতি করছেন, তা নেহায়েত অন্ধকারের বিষয়। তার উজ্জ্বল প্রতিমূর্তি ও তার প্রয়াত মাকে অপমান করে গণতন্ত্রের উপর কলঙ্ক ডেকে আনা হয়।’

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও এই ঘটনা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘অশালীন আক্রমণ সব সীমা অতিক্রম করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

    বিহার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে অপমান করা অস্বীকার্য এবং অনুচিত। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।’

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই এক ডাকা এলোপাতাড়ি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলা ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশটির রাজধানী সানা densely ধ্বংসের বর্বরতা চালায়।

    ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সানার এক অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে, যেখানে বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়েমেনের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, যেমন আল-জুমহুরিয়া, জানিয়েছে, আহমেদ আল-রাহাউইসহ ওই হামলায় আরও কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা নিহত হয়েছেন।

    অপর একটি সংবাদমাধ্যম এডেন আল-ঘাদ জানায়, নিহতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা রয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলির হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সম্প্রতি হুতিদের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত হামলার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকেও লক্ষ করে আলাদাভাবে আঘাত হানা হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়, যদিও হামলার স্থানটি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। তবে, হামলার প্রকৃত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি।

    ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পরে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর ফলে তখনকার প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসু হাদি সৌদি আরবের শরণার্থী হয়ে যান এবং হুতিদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব কোয়ালিশন ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালালেও, হুতিদের প্রতিরোধে তারা সক্ষম হয়নি। এখনো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সানাকে ধরে রেখেছে।

    প্রধানমন্ত্রী রাহাভি হুতিদের প্রতিষ্ঠিত সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা অত্র বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে হুতিরা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই, গতকাল ইসরায়েলি হামলায় এই রাষ্ট্রের নেতা প্রাণ হারালেন, যা গোটা অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল