Category: আন্তর্জাতিক

  • চীনকে পর্যাপ্ত চুম্বক সরবরাহের কথা না মানলে ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    চীনকে পর্যাপ্ত চুম্বক সরবরাহের কথা না মানলে ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে চুম্বক ও অন্যান্য দুর্লভ খনিজ সরবরাহ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে বা অন্য কোনো কড়া পদক্ষেপ নেবে। এই মন্তব্য তিনি সোমবার (২৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দেন, খবর রয়টার্সের ভিত্তিতে।

    ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, চীন যদি আমাদের প্রচুর চুম্বক না দেয়, তাহলে আমাদের তাদের ওপর কঠোর শুল্ক চাপাতে হবে। এই হুঁশিয়ারি বিশেষ করে তখন এসেছে, যখন বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করছে। এপ্রিলে চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের একাধিক পণ্য রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর পাল্টা জবাব।

    অন্যদিকে, আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীন দুর্লভ খনিজের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীন রফতানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, যা বিশ্ব বাজারে চুম্বকের সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। এই উপাদানগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য, যেমন সেমিকন্ডাক্টর চিপে, ব্যবহৃত হয় এবং স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে অপরিহার্য।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ইন্টেল কর্পোরেশন তাদের শেয়ার ১০ শতাংশ কিনেছে, যা এই কোম্পানির অর্ধেকেরও বেশি নির্ভরশীল দুর্লভ খনিজের ওপর। এর ফলে, এই বিষয়ে জোড়ালো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    অন্যদিকে, চীনের বিরল খনিজের রফতানি জোরালোভাবে বাড়ছে, যা চীনা কাস্টমসের তথ্য থেকে জানা গেছে। জুলাই মাসে এই খনিজের রপ্তানি জুনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৪,৭০০ টনের বেশি হয়েছে।

    বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই চলমান শুল্ক বিরোধ মোকাবেলা করতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপগুলো আরো জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। চলতি মাসের শুরুশতেই উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা সমঝোতার আভাস থাকলেও, ট্রাম্পের নতুন হুমকি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে।

    সম্প্রতি, ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের উপর শুল্কের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়িয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা আলোচনার জন্য আরও সময় পাবে। যদি এই সময়সীমা না বাড়ানো হতো, তাহলে শুল্কের হার ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারত।

    এর আগে, মে মাসে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যেখানে শুল্ক হার ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হয়েছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের ওপর ৩০ শতাংশ আঘাত হানা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল। এখন পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠছে, কারণ এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে।

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে সম্প্রতি অভিযান চালানো হয়েছে তাদের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, ১৪ থেকে ২০ আগস্ট, বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে মোট ২২ হাজার ২২২ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানটি মূলত আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত হয়। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন তাদের আইন অনুযায়ী অসংগতির কারণে। আবাসন আইন লঙ্ঘনের জন্য ১৩ হাজার ৫৫১ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের দায়ে ৪ হাজার ৬৬৫ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য ৪ হাজার ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রেফতারকৃত প্রবাসীদের মধ্যে ২০ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯২০ জনকে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৭৮৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়ান ও ইয়েমেনি নাগরিকের সংখ্যা বেশি। আবার, অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টায় আরও ৩৩ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এছাড়াও, অবৈধ প্রবেশ ও প্রবেশের চেষ্টাকারীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেওয়ায় ১৮ জন ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রবাসীর বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া চলমান, যার সংখ্যা প্রায় ২৫,৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৩,৪১৯ জন এবং নারী ২,৫০২ জন।

    সৌদি আরবে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ বা অবস্থানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত এসব বিষয়ের ওপর সতর্কতা জারি করছে।

    প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাসের এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই শ্রমিক বা অন্য সম্প্রদায়ের সদস্য। বিশ্ববাখ্যাত এই দেশটি নিয়মিত আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে।

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০ জনের বেশি, অন্যান্য সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

    গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০ জনের বেশি, অন্যান্য সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

    ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের আল-নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, যারা মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের মধ্যে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আল জাজিরা এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে—প্রথম আঘাতের পর যখন উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন, ঠিক তখনই আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে শুধু সাংবাদিকরাই নয়, আরও চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস নিশ্চিত করেছেন।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এটি এক “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

    এই ঘটনার পর থেকে চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা এখন প্রায় ২০০। আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) জানিয়েছে, গাজার এই পরিস্থিতি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের একটি হিসেবে পরিণত হয়েছে, যেখানে গত দুই বছরে আরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য গাজায় প্রবেশের উপর কঠোর restriction আরোপ করেছে, ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকরাই পরিবেশন করে থাকেন।

    বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড শুধু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চিকিৎসাকর্মী এবং সাংবাদিকরা সংঘাতের মাঝেও কতটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।” তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করেন।

    জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, “আরও সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে সেই শেষ কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যারা দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া শিশুদের খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।” ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই হামলায় গভীর মর্মাহত বলে জানান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোও বলেন, এই ঘটনা “অসহনীয়”।

    এদিকে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হন, তাঁদের মধ্যে চারজন আল জাজিরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫৮ জনের মরদেহ গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অসংখ্য মরদেহ আটকা পড়েছে বলে জানানো হয়। নিহতের মধ্যে ২৮ জন খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গেলে হামলার শিকার হন।

    অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, যাতে রয়েছে দুই শিশু। এভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০০-এ, যাদের মধ্যে ১১৭ জনই শিশু। এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২,৭৪৪ জন, যা আন্তর্জাতিক মহলের বিশ্বাস অনুযায়ী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য।

  • অতীতের শক্তিশালী ধাক্কা দিতে চলেছে কাজিকি ঘূর্ণিঝড়

    অতীতের শক্তিশালী ধাক্কা দিতে চলেছে কাজিকি ঘূর্ণিঝড়

    ভিয়েতনাম উপকূলে বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় কাজিকি ইতিমধ্যে আঘাত হানা শুরু করেছে। সোমবার বিকেল থেকে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে বিবিসির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা প্রবল বাতাসে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসের গতি এখনও বিপজ্জনক পর্যায়েই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ঝড়টি গত বছরের ভয়াবহ টাইফুন ইয়াগির মতোই শক্তিশালী হতে পারে। ইয়াগি ছিল গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড়, যার কারণে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ঝড়ের মোকাবিলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে হা তিঙ্ঘ উপকূলীয় প্রদেশ থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাংসহ বেশ কয়েকটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে ব্যাপক সুরক্ষার জন্য সর্তকতা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র প্রমানিত করছে বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর উদারতা

    যুক্তরাষ্ট্র প্রমানিত করছে বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর উদারতা

    বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা প্রকাশ করেছেন দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা particularly উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের অসাধারণ মানবিকতা ও সাহসিকতার জন্য, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ব্যাপক সহায়তা ও আশ্রয় প্রদান করে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রশংসা করেছে, কারণ বাংলাদেশ বহু বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখেও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে চলেছে।

    ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রোববার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমাস টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দেখেছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলটির অন্যান্য দেশও শরণার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে।

    বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিল চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

    বর্তমানে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে, নতুন করে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছেন মোট ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানবিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জকে আরও বৃদ্ধি করছে, তবে দেশের মানসিকতা ও উদারতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ঐতিহাসিক রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া হলো বিদ্রোহীদের হামলায়

    মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ঐতিহাসিক রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া হলো বিদ্রোহীদের হামলায়

    বোমা হামলা চালিয়ে মিয়ানমারের এক ঐতিহাসিক রেলসেতু ধ্বংস করেছে দেশটির সামরিকবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। এই সেতুটি ঔপনিবেশিক যুগের অন্যতম ব্যতিক্রমী নির্মাণ এবং বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলপথের সেতু হিসেবে পরিচিত। সামরিক জান্তার দাবি, তারা এই সেতুটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে।

    রোববার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক অভ্যুত্থানবিরোধী গোষ্ঠী বোমা হামলা চালিয়ে এই ঐতিহাসিক সেতুটি ধ্বংস করেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার পর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহী দল ও গণতন্ত্রকামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    জান্তা বাহিনীর একজন মুখপাত্র, জ্য মিন তুন, ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘‘তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং ঐতিহাসিক গোকটেইক রেলসেতু ধ্বংস করেছে।’’

    গোকটেইক রেলওয়ে সেতু মিয়ানমারের সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো, যা প্রায় ৩৩৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি ১৯০১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয় এবং তখন এটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু রেলওয়ে ট্রেসেল বলা হতো। প্রকাশ্য ভিডিও ও ছবি থেকে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় সেতুটি আংশিকভাবে ধসে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অপরদিকে, টিএনএলএর মুখপাত্র, লওয়ে ইয়াই, অভিযোগ করেছেন, জান্তার বোমা হামলায় এই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আজ সকালে মিয়ানমার সেনারা ড্রোন ব্যবহার করে আমাদের ঘাঁটিগুলিতে হামলার চেষ্টা করে। তারা আমাদের লক্ষ্য করে বোমা ফেলে, যার প্রভাব পড়েছে গোকটেইক সেতুতেও।’’

    সম্প্রতি নাওংকিও ও কিয়াউকমি শহরগুলোতে দেশটির জান্তা বাহিনী ও টিএনএলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। যদিও জান্তা গত জুলাইয়ে এই শহরগুলো পুনর্দখলের দাবি করেছিল। এই পরিস্থিতি মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের চিত্রটিকে আরও জটিল করে তোলে।

    সূত্র: এএফপি

  • রাহুল গান্ধী বললেন, মোদি সরকার দরিদ্রদের ভোট চুরি করছে

    রাহুল গান্ধী বললেন, মোদি সরকার দরিদ্রদের ভোট চুরি করছে

    ভারতের বিহার রাজ্যে নিভৃত পর্যবেক্ষণের নামে ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষের বেশি নাম অবৈধভাবে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জোরালো প্রত্যাখ্যান জানিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এই ধরনের তালিকা হালনাগাদ ও সংশোধনের নামে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সরকারের এই প্রচেষ্টা মূলত ভোট চুরি করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পন্থা, যা নির্বাচন কমিশনের কূটচালে পরিচালিত। রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে বিহার জুড়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন। রোববার তিনি আরারিয়ায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ সব কথা বলেন। তিনি তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ওপর। তিনি দাবি করেন, মোদি সরকার বিহারে বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংষ্করণ (এসআইআর) এর মাধ্যমে দরিদ্রদের ভোট চুরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাহুল গান্ধী এই প্রক্রিয়াকে বলে, ‘ভোট চুরির এক প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি’, যা নির্বাচন কমিশনের অনুকূল চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে চলে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি খাতের বিভিন্ন সংস্থা বেসরকারিকরণের পর এখন এসআইআর এর মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। কংগ্রেসের এই নেতা নির্বাচন কমিশনকে ‘নির্বাচনী ওমিশন (ব্যর্থতা)’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ও বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করে সমাজের ক্ষুদ্র প্রান্তিক অংশগুলোকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা। রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই তিনি মনে করেন, এসআইআর আইনসভা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিহারের মানুষ বিজেপি ও তার মিত্রদের উপযুক্ত জবাব দেবে এবং নির্বাচনে তাদের ভোট দিয়ে সচেতন ও শক্তিশালী প্রান্তিকে প্রাধান্য দেবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি প্রায় দেড়শ শতাংশ বাড়ছে

    যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি প্রায় দেড়শ শতাংশ বাড়ছে

    আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার (বি১/বি২) ফি ব্যাপক বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে মার্কিন কংগ্রেস এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনতে সম্মতি করা হয়। নতুন আইনের আওতায় পর্যটন ভিসার ফি আগে ছিল ১৮৫ ডলার, কিন্তু এখন থেকে সেটি বাড়িয়ে ৪৩৫ ডলার নির্ধারিত হয়েছে, যা গতিবেগে ১৩৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। বাংলাদেশি টাকায় এর মান প্রায় ৫৩ হাজার টাকা।

  • পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬৬

    পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬৬

    পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে মৌসুমি বর্ষণের ফলে শুরু হওয়া আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে রোববার কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম। এর ফলে, দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে মৃতের সংখ্যা মোট ৪৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলমান বর্ষাকালে এই অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা জানান, গত এক দিনে তীব্র বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো বাতাসের কারণে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রদেশে প্রায় ৪০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বুনের জেলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩৩৭ জন।

    অপরদিকে, দক্ষিণ সিন্ধু, দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান, উত্তর গিলগিট-বালতিস্তান এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে মোট ৬০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

    জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জুনের শেষের দিকে থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে দেশজুড়ে মোট প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

  • মালয়েশিয়ায় ২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলে গেছে

    মালয়েশিয়ায় ২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলে গেছে

    মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য কলিং ভিসার কোটা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ খবর দেশের বিভিন্ন প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩টি খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, গার্ডেনিং ও খনি খাতের পাশাপাশি সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ, যেমন হোলসেল এন্ড রিটেল, ল্যান্ড ওয়্যারহাউস, সিকিউরিটি গার্ডস, মেটাল ও স্ক্রাপ ম্যাটেরিয়ালস, রেস্টুরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো এবং বিল্ডিং ক্লিনিং।

    তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাতের জন্য নিয়োগ কেবল সরকারি প্রকল্পের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে, উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এমআইডিএ) নতুন বিনিয়োগগুলোকে।

    নতুন এই কলিং ভিসার জন্য আবেদন শুধুমাত্র অনুমোদিত অফিসিয়াল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে করতে হবে। কোনো এজেন্ট বা সরাসরি নিয়োগকর্তা পূর্বে মত আবেদন করতে পারবে না। আবেদন যাচাইবাছাই শেষে তা অনুমোদন দেবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিক্যাল কমিটি এবং পরে জয়েন্ট বা যৌথ কমিটি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিকের কোটা চালু রয়েছে, যা বছরের শেষ পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) অব্যাহত থাকবে। এরপর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা দেশের মোট জনসংখ্যার ১০% পর্যন্ত সীমিত করা হবে।

    তবে, বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য এই কোটা কতজনের জন্য নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে আসামি বা মিডিয়াগুলো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।