দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো প্রভাবশালী শক্তির মাধ্যমে বিরোধী দেশগুলোকে শায়েস্তা করার জন্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করছে। এই কৌশলটির কতটা কার্যকর, এ নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও এর ফলে কোটি কোটি মানুষ জীবন হারাচ্ছেন, এটা নিঃসন্দেহে সত্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে কত মানুষ হতাহত হয়েছেন।
Category: আন্তর্জাতিক
-

একদিনে আরও ৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত, ইসরাইলের বর্বরতার মধ্যেই দখল গাজায়
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের হামলায় এক দিনে আরও ৬৯ জন ফিলিস্তিনি মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন। এই অস্থির পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় অন্তত ৬৪ হাজার ৩০০ জন ফিলিস্তিনি জীবন হারিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর প্রতিবেদন সংস্থা আনাদোলুর।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নিকৃষ্ট রূপে পড়ে ৬৯টি লাশ আনা হয়েছে, পাশাপাশি আহত হয়েছে ৪২২ জন। এর ফলে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৬২,০০৫ জনে।
ইসরাইলি বর্বরতা এতটাই ভয়ংকর যে, অনেক মৃতদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা রাস্তায় পড়ে রয়েছে, যেখানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছে না।
এছাড়া, গত এক দিনে মানবিক সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টা চলাকালে গুলিতে আরো ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, ২৭ মে থেকে এই পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৩৬২ জনে ও আহতের সংখ্যা ১৭,৪৩৪ জনের বেশি।
অতিরিক্ত, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে ও অপুষ্টিতে আরও তিনজন মারা গেছেন। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৭৬ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৩৪ শিশু।
এদিকে, ২০২৩ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজার সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়, ফলে ২৪ লাখের বেশি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই অঞ্চলে তীব্র দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, যা জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ মাসের শেষে এটি পুরোপুরি উত্তর গাজায় ছড়িয়ে পড়বে।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কাতার, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইলি সেনারা নতুন করে গাজায় হামলা চালাচ্ছে। তখন থেকে গাজায় কমপক্ষে ১১ হাজার ৭৬৮ জন নিহত ও ৪৯ হাজার ৯৬৪ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও, গাজায় চলমান এই সংঘর্ষের জন্য ইসরাইল গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মোকাবিলা করছে।
-

নেপালে বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
নেপাল সরকার বেশ কিছু জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউবসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো, এসব প্রতিষ্ঠানেরা সরকারের নির্ধারিত নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। বৃহস্পতিবার নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং জানান, দেশের মূল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে একাধিকবার নিবন্ধনের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তা মানেনি। এই অবস্থায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবিলম্বে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তবে কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন টিকটক, ভাইবার এবং আরও তিনটি প্ল্যাটফর্ম সচল থাকবে, কারণ তারা সরকারি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। সরকারের দীর্ঘদিনের চেষ্টায় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর জন্য দেশজুড়ে একটি অফিস বা প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা খুলতে বলা হয়েছে। এ জন্য সংসদে একটি বিলও পাসের প্রক্রিয়া চলছে, যার هدف হল সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচালনা, দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
তবে এই বিল এখনো সংসদে সম্পূর্ণ আলোচনা হয়নি। বলাবাহুল্য, সমালোচকেরা মনে করেন, এটি মূলত সেন্সরশিপ আরোপের জন্য, যাতে সরকারের সমালোচকদের দমন করা যায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ ধরনের আইনের কারণে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ও শেয়ার হওয়া বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ব্যবহাকারী এবং অপারেটর—উভয়ই তাদের কার্যকলাপের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন।
-

ভারতে মহারাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৮ নিহত
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের নাগপুর জেলায় একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কারখানায় ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ছে, আর অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার বিকেল সাড়ে বারোটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এই কারখানা, যা নাগপুরের ভান্দারা এলাকার মধ্যে অবস্থিত, ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও এর আওয়াজ শোনা গেছে। জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কোলতে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কারণে কারখানার ছাদ ধসে পড়ায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়েন। দ্রুতই উদ্ধার কাজ শুরু হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, পাশাপাশি আরও ২৫ জনকে জীবিত অবস্থায় আনিত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিস্ফোরণ ঘটেছে কারখানার আরডিএক্স (অ্যাকসিডাইজড রেডিয়ওঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্স) উৎপাদনের প্লান্টে। এক শ্রমিকের ভাষ্য, হঠাৎ চারপাশে ধোঁয়া ছেয়ে যায়, এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা শুরু হয়। তার সঙ্গে আরও একজন ধারনা দেন, সুপারভাইজার বলেছিলেন, দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে যেতে। এরপরই বিস্ফোরণ ঘটে।
একজন শ্রমিক জানান, বিস্ফোরণের সময় কারখানাটি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। এই ধাক্কার কারণে তিনি এবং অন্য একজন সহকর্মী মাটিতে বিছানা খেয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা প্রাণপণে কারখানার বাইরে ছুটতে শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০২৩ সালে এই একই কারখানায় অতীতে একটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে নয়জন শ্রমিক নিহত হন। এই ঘটনার মতোই আজকের দুর্ঘটনা শ্রমিকদের জন্য এক ভয়াবহ ট্রাজেডি।
-

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই হামলার সূচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে অশালীন ভাষায় কটাক্ষের মাধ্যমে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে তা স্পষ্ট হয়েছে যেখানে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকাসহ ডান্ডা দিয়ে একে অপরের উপর আঘাত চালাচ্ছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এই ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’ কার্যক্রমের সময় দরভাঙ্গায় এক কংগ্রেস নেতার গায়ে দলের পতাকা জড়ানো একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় কটু মন্তব্য করেন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিহারেও শনিবার পাটনায় বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। এ সময় কংগ্রেস কর্মীরাও মাঠে আঘাত হানে, ফলে পরিস্থিতি মারামারিতে দখল হয়ে যায়। পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও পাটনায় এখনও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপরদিকে, এই উত্তেজনা কলকাতার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। শহরের জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভের আয়োজন করে বিজেপি। বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি, রাহুল গান্ধীর ছবি ও বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান প্রদেশ কংগ্রেস।
কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া ব্যক্তিরাই এই ধরনের কাজ করতে পারে। বিজেপি সব সময় ইন্ধন দেয় আমাদের বিরুদ্ধে গোপন চোরাচালানের জন্য। এই সময় তারা দপ্তর খালি পাওয়ায় সুযোগ নিয়ে দুষ্কর্ম করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার।”
বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ পাল্টা অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পেছনে সরকারেরই ইন্ধন রয়েছে এবং নীতীশ কুমারও ভুল করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা জবাব দেবো।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মা সম্মান নিয়ে যা হয়েছে তার বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে নিবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়াতে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচের দিকে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটাই তাদের সহ্য হয় না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ভাষা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রে কলঙ্ক।”
বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, “এ ধরনের অশালীন হামলা সব সীমা পার হয়েছে। রাহুল গান্ধী ও তৈজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বেআইনি ও অনুচিত, যাতে সহ্য করা হবে না।”
-

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত
থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে তার বিরোধপূর্ণ একটি ফোনকলের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথা বলতেন। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পরই তার সরকারে অবনতি ঘটে এবং আদালত তার পদ স্থগিত করে। আজ, শুক্রবার ২৯ আগস্ট, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে তাকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
পেতোংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের সবচেয়ে কম বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। এক বছরের মধ্যে তিনি ক্ষমতা হারালেন, যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি একজন প্রভাবশালী নারী নেতা এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।
ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, পেতোংতার্ন তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেন। সেই সময় তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, দেশের সেনাদের জন্যই কম্বোডিয়ার এক সেনা নিহত হয়েছে। এই ফোনকল প্রকাশ পেতেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাসের মধ্যেই, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছে।
১৫ জুনের ওই ফোনকলের মধ্যে আরও বলা হয়, ‘যেকোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দরবারে এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার সময় দুই দেশের সীমান্তে কঠোর উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদও বাড়তে শুরু করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, বিরোধী দল অভিযোগ তোলে যে, পেতোংতারা গোপনে তাদের স্বার্থে কাজ করছেন। তখন তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন এবং বলেন, এই ধরনের কথোপকথন তিনি উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বলেছেন।
রায় ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পেতোংতার্ন বলেছিলেন, তিনি দেশের স্বার্থে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, কোনও ব্যক্তিগত লাভ নয়। তিনি আরও বলেন, আমি দেশের নাগরিক ও সেনাদের রক্ষা করতে চেয়েছি। এই রায় থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যেখানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তবে, গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি এখনও সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সালের পর, এটি পঞ্চমবার যখন থাইল্যান্ডের মূল ক্ষমতাধর নেতাদের মধ্যে কেউ না কেউ আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ছাপ ফেলেছে।
-

ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ
নৌবাহিনীর এক অভিযানে অভিযোগ উঠেছে যে ভারতীয় জাহাজে করে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ কতিপয় ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছ থেকে এসেছে, যারা জানিয়েছেন, তাদেরকে দিল্লিতে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে উঠিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে উপযুক্ত পরিচয় ছাড়াই তাদেরকে ফেলে দেওয়া হয়।
বর্তমানে, মিয়ানমার যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আছে, তার মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত একেবারে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কার্যক্রম তাদের জীবনকে অনেক বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মে দিনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যখন নুরুল আমিন তার ভাইয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সবল আলাপ করেন। উজাড় হওয়া এই ফোনালাপে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরও চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্তে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণভয়ে এলোপাথারি পালিয়ে এসেছেন, কারণ বর্তমানে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, যেখানে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত সংগ্রাম চলছে।
আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও পুরো পরিবারের কী অবস্থায় আছেন, এই কষ্টের কথা আমি ভাবতেই পারছি না।”
বিবিসি তাদের অনুসন্ধান এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, এবং মিয়ানমারে এই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পেয়েছে। বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বেহু আর্মির কাছে,যদিও তারা মূলত জান্তার সেনাদের বিরোধী গোষ্ঠী।
ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানিয়েছেন, “আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত, চারপাশের পরিস্থিতি যেন যুদ্ধক্ষেত্র।“ তার সঙ্গে আরও ছয়জন রোহিঙ্গা ছিলেন আশ্রয়ের ওই কাঠের আশ্রয়ে।
শরণার্থীদের ভাষ্য ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, তাদেরকে বিমানযোগে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয় এবং অবশেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও ছিল, তারা পরে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে, তারা আবার মিয়ানমারে ফেরার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে বরাবরই নিপীড়ন এড়াতে তারা পালিয়ে এসেছে।
জন নামে একজন রোহিঙ্গা তার ভাইকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা, চোখ মুছে জাহাজে তোলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়’।
আতঙ্ক shared করে নুরুল আমিন বলেন, ‘মানুষকে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? এখনও মানবতা বেঁচে আছে বলে আমি মনে করি, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে মানবতা খুঁজে পাই না’।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনকারীর মতে, টমাস অ্যান্ড্রুজ এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনকে এই বিষয়ে প্রমাণও জমা দিয়েছেন, যদিও এখনও কোনও উত্তর পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, কিন্তু কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তারা সরকারিভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবেই বিবেচিত। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর অভিযানের পর, লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে তাদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ মর্যাদাক্রমে।
বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানা ডেকে নেওয়া হয়। তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার জন্য বলা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরে, তাদের শহরের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
আ Min বলেন, সে সময় তার ভাই ফোন করে জানায়, তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি সহায়তা ও জাতিসংঘের সংস্থাকে খবর দিতে বলে। এরপর ৭ মে তাদের হিন্দান বিমানবন্দরে পৌঁছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, কায়দা ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনী” লেখা।
সৈয়দ নূর বলেন, “বাসে উঠতেই আমাদের হাত প্লাস্টিকের খাপ দিয়ে বাঁধা হয়, মুখও কালো কাপড় দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের একটি জাহাজে তোলা হয়, যেখানে তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিল। খাওয়ানো হয়েছিল ভাত, ডাল আর পনির, তবে এ সময় তাদের অনেককে মারধর, অপমান এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়। সাঁতরাতে সক্ষম হওয়া বেশিরভাগই এখন আবার মিয়ানমারে ফিরতে চাইছে।
অপর এক রোহিঙ্গা ফয়াজ উল্লাহ তার আঘাতের দাগ দেখিয়ে বলেন, তাকে মারধর, ঘুষি, চড় ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে এসো কি করে?”
এমনকি, কয়েকজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা এই অভিযানে ছিলেন, যারা জিজ্ঞেস করা হয় কেন ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং হিন্দু হিসেবে না। এমনকি, তাদের খতনা হয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করা হয়।
বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগামে ঘটানো হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও এ ব্যাপারে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
৮ মে সন্ধ্যায়, তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে হ্যান্ড লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মিয়ানমারে ছিল।
পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খোঁজ পান এবং ফোন ব্যবহার করে তাদের পরিবারের খবর জানিয়ে দেন। এরপর থেকে বহটি আর্মি এই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে চলেছে, কিন্তু তাদের পরিবারের আতঙ্ক দূর হয়েছে না।
জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত রোহিঙ্গাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়ে তাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকি’তুলি ফেলেছে।
গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার একজন স্বজন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করে, যেখানে অনুরোধ করা হয় তাদের ফিরিয়ে আনা, নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। তবে, ভারতের বিচারপতি এই অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দেন। মামলার শুনানি হয় ২৯ সেপ্টেম্বর, তখন সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গারা কি শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না।
ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে এ ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গোপন হয়েছে, অনেকে বাড়িতে থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার শুধু ভয় কাজ করে, যে কোনো সময় আমাদেরকেও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে। তাই এখন আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না।”
অবশেষে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে ভয়াবহ সহিংসতা থেকে পালিয়ে, জীবন বাঁচানোর জন্য। তারা সত্যিই এই দেশে থাকতে এসেছিল।”
-

শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্কের কারণে আমেরিকা বহু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেন তাদের দ্বারা হত্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ওয়াশিংটনকে কোনও নতুন শুল্ক আরোপ না করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
মঙ্গলবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভারতের শুল্ক আরোপের কারণে আমাদের বিপর্যয় ঘটে। চীন আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করে থাকলেও ভারত আমাদের ক্ষতি করছে বেশি। তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের ওপর শুল্ক দিয়ে আমাদের হত্যা করছে এবং ব্রাজিলও একই পথ অনুসরণ করছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বিষয়ে তিনি বিশ্বের অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করল, সেই সময় থেকেই ভারত শুল্ক কমানো শুরু করে।
তিনি ভারতের অন্যতম শুল্ক আরোপকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের কাছে তারা জানিয়েছে, এখন থেকে আর কোনও শুল্ক থাকবে না। তিনি বললেন, শুল্কের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য, যদি আমরা শুল্ক আরোপ না করতাম, তাহলে তারা এ ধরনের প্রস্তাব দিত না। এর ফলে, শুল্ক থাকা জরুরি, কারণ এতে করে আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
তবে এটি প্রথমবার নয় যখন ট্রাম্প এই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে, সোমবার তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতদিন ছিল একপাক্ষিক। এই সম্পর্ককে তিনি একপাক্ষিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এটি অনেক দেরিতে এসেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈध বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে বলেছেন, আদালত ভুলভাবে শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা বললেও, তারা জানে যে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা জিতবে।
ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক ৫০ শতাংশ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শুল্ক আরোপকে নয়াদিল্লি ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেছে।
-

গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার
গাজা উপত্যকার বৃহৎ শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের প্রথমবিন্দু অভিযানের শুরু করেছে। এ ছাড়া, এখন থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। এখন থেকেই আমরা গাজা সিটিতে হামলার প্রথম পর্যায় শুরু করেছি। গাজার উপকণ্ঠে যুক্তিসঙ্গত শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল জানায়, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো সামরিক বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে গাজা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে ঝুঁকি বাড়ছে।’
গত মাসে, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল। এটি জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার অনুরোধে ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য করা হয়েছিল। তবে, আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবিরাম বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংকও অবস্থান করছে।
ইসরায়েলির এই অজস্র হামলায় প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,২৫১ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৪৪ জন। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছে আহতদের সংখ্যা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৫৯,৪৯০ এ পৌঁছেছে। সম্প্রতি, অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে চলতি বছরেই এই কারণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২২ জনে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।
পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ২৩ জন হতাহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত, সাহায্য নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২,০০২,০৩ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৬,০২২৮। অনেক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ।
বিশেষ করে, ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রে প্রাণহানি বা হামলার ঘটনা ঘটছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
-

ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার
গাজা উপত্যকা এখন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, কারণ দখলদার ইসরায়েল গাজা সিটিকে সম্পূর্ণভাবে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শহরটিতে এর আগে কোনও বিরতি ছাড়াই গৃহীত সামরিক কার্যক্রম এখন তীব্রতর হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা সেখানে ব্যাপক প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতেও ত্রাণ সহায়তার জন্য কোনও বিরতি দেওয়া হবে না। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, গাজায় ঘরে ঘরে যুদ্ধের ধাক্কা চলমান, আর জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক্সে তার এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান এবং হামলার প্রথম পর্যায়। আমরা শক্তির সঙ্গে উপকণ্ঠে দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল যে, কৌশলগত বিরতিটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, “আজ শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে শহরটি পুরোপুরি একটি ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্র।” প্রথমে ২৪ ঘণ্টার জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে ইসরায়েল গাজায় হামলা বন্ধ রেখেছিল, তবে সেটি পরবর্তীতে বাতিল করে দেয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সময়ে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আহ্বানে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সাময়িক বিরতি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত শহরে এখন ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালসহ সর্বত্র যুদ্ধের থাবা। আগস্টের শুরুর দিক থেকে শুরু করে ইসরায়েল গাজায় বরাবরই বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, আর শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংক অবস্থান নিয়েছে। এসব হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনি সাধারণ জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে।।
প্রতিরোধের জন্য শহরটিতে প্রতিদিনই দ্রুত নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, তারা টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশি সংখ্যক মানুষ, যার সংখ্যাটা এখন ২২৪ জন।
অথচ, এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও নিরীহ মানুষজনের জীবন বাঁচানোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চললেও অনেকের চোখে আজও শান্তির দেখা মেলেনি। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জন।
আরও আরও মৃত্যুর খবর আসছে, বিশেষ করে অনাহার ও অপুষ্টির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষুধাজনিত কারণে নিহতের মোট সংখ্যা ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের ফলে মানবিক সহায়তা নেয়ার জন্য গাজায় গিয়ে জীবন দিয়ে যেতে হয়েছে ২৩ জন ফিলিস্তিনিকে। আপাতত, ২৭ মে থেকে এই পর্যন্ত যাদের সাহায্য পেতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ২০৩ জন এবং আহত হয়েছেন মোট ১৬ হাজার ২২৮ জন। এই পরিস্থিতিতে এখনও প্রচুর মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) চলতি বছরের ২৭ মে থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে, এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এই কেন্দ্রগুলোর কাছে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। সূত্র: আল জাজিরা।
