Category: অর্থনীতি

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় নেমে প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় নেমে প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত সংকটে পড়েছে; বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং যেগুলো মুনাফা করেছে, তাদেরও আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) প্রতিবেদনে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা কমে প্রায় ৪২ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। গত এক দশকে সিএসআর খাতে এটাই সর্বনিম্ন ব্যয়—এর আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালের ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (প্রায় ৩৪.৫৭%) কমেছে।

    ট্রেন্ডটি স্পষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে এই ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    খাতসংযুক্তরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিংতে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র বেরিয়ে আসে এবং খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসান সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপে পড়ে; কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব সেখানে স্পষ্ট হয়। এসব দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য — রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন মহলে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতে বেশি ব্যয় করত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো বর্তমানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ হয়ে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মের কারণে অনেক সময় অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্থ করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে—এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে নির্দেশনা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% এবং স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ হলেও প্রকৃত অনুপাতে বিতরণ অসম সমান।

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ওই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও একটি উদ্বেগজনক দিক—২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় ছিল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। তর্কিতভাবে, এসবের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে, ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতার অভাব মিলিয়ে সিএসআর খাতে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে এবং বরাদ্দের বাস্তবায়নও কাঙ্ক্ষিত না — যা সমাজে দায়বদ্ধতা বজায় রাখার জন্য উদ্বেগের কারণ। নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং তহবিলের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে—তবেই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী পুনরুজ্জীবন সম্ভব।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের মুনাফা প্রবল চাপে পড়ে। সেই প্রভাব সর্ম্পকে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেও পড়েছে—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই অবনতি եւ তার কারণগুলো উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি—ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে ন্যূনতম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম ব্যয় দেখিয়েছে, যা খাতটির জন্য নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা—যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতটির ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকার বেশি, প্রায় ৪৫ শতাংশের উপর।

    খাতের নেতারা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরে সরকার পরিবর্তন—এসব ঘটনাই ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ পেয়ে প্রকৃত আর্থিক দুরবস্থার চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানও পরিস্কার হয়েছে। বিশেষত শরিয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক বড় ধরনের চাপ অনুভব করেছে; সেখানে নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারও একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের অনেকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি কারণ। পূর্বে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠানের মতো খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় বাড়াত। অনেকক্ষেত্রেই এসব ব্যয় প্রকৃত সিএসআর লক্ষ্য বহির্ভূত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ যথেষ্ট কমে গেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ হয়ে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে হেকেটে দেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ করে যে, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—উদাহরণস্বরূপ ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা রয়েছে। তবে বাস্তবে নির্দেশনা কতটা মানা হচ্ছে তাতে প্রশ্ন আছে: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে (৩৬ শতাংশ), শিক্ষায় খরচ হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। এসব ব্যাংকের নাম—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও তাৎপর্যপূর্ণ যে, ২০২৪ সালে নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এমন ১৭টি ব্যাংককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক মুনাফা না থাকা সত্ত্বেও সিএসআর খাতে 일부 অর্থ ব্যয় করেছে—এর মধ্যে রয়েছেন এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    অবশেষে, প্রতিবেদকরা বলেন—ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সিএসআর খাতে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যথাযথ আর্থিক তত্ত্বাবধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকরা যদি সঠিকrops-পদ্ধতি সুসংহত করেন, তাহলে সিএসআর বরাদ্দ সমাজে বাস্তবিক সুফল বয়ে আনতে পারবে।

  • সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা

    সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা

    জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা হয়েছে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম—চিত্রটা যতোটুকু ভয়াবহ ছিল ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে রেকর্ড হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই তথ্য সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সাংসদ আবুল হাসনাতের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সর কামালের সভাপতিত্বে সোমবার (৬ এপ্রিল) উপস্থাপন করা হয়।

    অর্থমন্ত্রীর প্রকাশিত শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো—

    ১। এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড

    ২। এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড

    ৩। সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

    ৪। এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড

    ৫। সোনালী ট্রেডার্স

    ৬। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড

    ৭। গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড

    ৮। কেমন ইস্পাত লিমিটেড

    ৯। এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড

    ১০। ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

    ১১। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড

    ১২। দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড

    ১৩। পাওয়ার প্যাক মুতিারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

    ১৪। পাওয়ার প্যাক মুতিারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

    ১৫। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড

    ১৬। কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড

    ১৭। মুরাদ এন্টারপ্রাইজ

    ১৮। সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড

    ১৯। বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড

    ২০। রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড

    অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার নানামুখী কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানত যা বলেছে তা হলো—

    ১) ১০% বা ততোধিক শ্রেণিকৃত ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর সিনিয়ার ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক আলোচনা করে ব্যাংকগুলোকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করাতে হবে, যাতে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে বাধাগুলি চিহ্নিত করে তা সুসংহতভাবে সমাধান করা যায়।

    ২) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকভিত্তিক শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি/শ্রেণিকৃত ঋণের আদায়ের অগ্রগতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাচাই করা হবে।

    ৩) শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি এমন ব্যাংকগুলোর জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হবে।

    ৪) ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধিত) আইনে সংজ্ঞায়িত ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপী’ শনাক্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে বিআরপিডির সার্কুলার নং-০৬ (১২ মার্চ ২০২৪) অনুযায়ী নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

    ৫) ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান লিগ্যাল টিম/আইন বিভাগ শক্তিশালী করার নির্দেশনা বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৪/২০২৪ এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

    ৬) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ এর মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপী ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১% নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা (বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪) জারি করা হয়েছে।

    ৭) ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

    ৮) IFRS 9 অনুযায়ী Expected Credit Loss ভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত এবং ঝুঁকি কমাতে তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আরও কয়েকটি কর্মযোজনাও নেওয়া হয়েছে—

    ১) খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনসমূহ (ব্যাংক-কোম্পানি আইন, Negotiable Instrument Act, অর্থ ঋণ আদালত আইন, Bankruptcy Act) সংশোধনের কাজ চলমান আছে।

    ২) স্বল্প মেয়াদী কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনা করে হালনাগাদ করা হবে।

    ৩) খেলাপী ও ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

    ৪) নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের (ভালো ঋণগ্রহীতাদের) জন্য প্রণোদনা সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে।

    ৫) একজন ঋণগ্রহীতার জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    ৬) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের কিছু অংশ প্রযোজ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    ৭) অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল/জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা আছে।

    ৮) খেলাপী ঋণগ্রহীতারা যাতে রিট দায়ের করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে এটর্নি জেনারেল মহোদয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

    ৯) বেসরকারি খাতে Asset Management Company (AMC) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনপ্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

    ঋণ খেলাপির এই চিত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে—এমনটাই সরকার দাবি করেছে।

  • চার দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমল, ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা নামল

    চার দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমল, ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা নামল

    টানা চার দফা বাড়ানোর পর শেষমেষ কমেছে দেশের স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘোষণা করেছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম কমায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন রেট অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ২১ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    এর আগের সমন্বয় ছিল ১ এপ্রিল, যখন বাজুস ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তখন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৫২ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে ৩০ বার দাম বাড়ানো এবং ২২ বার দাম কমানো হয়েছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেদিকরে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে; নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সাল ব্যাংক খাতের জন্য কঠিনভাবে স্মরণীয় রেকর্ড হলো—বছর জুড়ে আর্থিক চাপে পড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। ওই বছরের ক্ষতচিত্রের ধাক্কা পরের বছরই সিএসআর খাতে স্পষ্টভাবে পড়ে: ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে—শতকরে প্রায় অর্ধেক কম।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় দিকগুলো দেখলে পরিষ্কার হয়, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে তা ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২4 ও ২০২5 ধারায় ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে—দুই বছরের ব্যবধানে খাতে ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে খাতটিতে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জুন—জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। একই সময়ে কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো আর্থিক চিত্রের বদলে প্রকৃত ক্ষতচিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের পরিমান বেড়ে যায়; বিশেষত শরীয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় চাপের মুখে পড়ে। এসব কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের উদ্যোগে কিছু ব্যাংক একীভূত করাও শুরু হয়।

    ব্যাংকারদের ভাষ্যে, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর খরচ কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা পর্যায় থেকে চাপ বসে অনুদান বা সহায়তা দেয়ার জন্য; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনুষ্ঠানিক অনুরোধে অনেক সময় ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও খরচ করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সর্তকভাবে সিএসআর বাজেট নির্ধারণ করছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি—রাজনৈতিক বা বাহ্যিক প্রভাবের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ বরাদ্দ হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: শিক্ষায় ৩০%, স্বাস্থ্যেই ৩০%, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০% এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নিয়মগুলো অনুশীলনে মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০%।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১১টি ব্যাংক একটিও টাকা সিএসআর হিসাবে ব্যয় করেনি। ওই ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি পাঁচফোঁট তালিকায়—এগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআরে অর্থ ব্যয় করেছে।

    ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সিএসআর কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে খাতের দক্ষ পুনর্গঠনের ওপর এবং সিএসআর-এ জবাবদিহিতা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের বিধান কতোটা কার্যকর করা যায় তার ওপর। নীতিনির্ধারকরা বলবেন—সামাজিক দায়বদ্ধতা শুধু সংখ্যা নয়; তা বাস্তবে সমাজ ও পরিবেশকে টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে হবে।

  • মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

    মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

    দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.১৩ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৩৫ শতাংশ। এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হলো খাদ্যপণ্যের দাম কমে যাওয়া, যা মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে ৮.২৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এটি ছিল ৯.৩০ শতাংশ, আগের বছরের মার্চে ছিল ৮.৯৩ শতাংশ। অন্য দিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যেখানে ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.०১ শতাংশ এবং গত বছরের মার্চে ছিল ৯.৭০ শতাংশ। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা দৃশ্যমান স্বস্তি এসেছে। গ্রামে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.২১ শতাংশ এবং গত বছরের মার্চে ছিল ৯.৪১ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি গ্রামে কমে ৮.০২ শতাংশে এসেছে, যেখানে গত মাসে ছিল ৯.০৭ শতাংশ। তবে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৯.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। শহরাঞ্চলে, মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.০৭ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.৮৭ শতাংশ। খাদ্যবহির্ঘূত মূল্যস্ফীতি অল্প বেড়ে ৮.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে, মজুরি বৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে মার্চে হয়েছে ৮.০৯ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি ছিল ৮.০৬ শতাংশ। এরপরও, মূল্যস্ফীতি এখনো মজুরি বৃদ্ধির হার থেকে বেশি থাকায় শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রকৃত আয় পুরোপুরি বাড়াতে পারছেন না। এর ফলে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত, মোট ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি যে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, তখন মজুরির বৃদ্ধি ছিল ৭.৯৩ শতাংশ। এর ফলে দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। বর্তমানে সেই ব্যবধান সংকুচিত হয়ে এসে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সূচিত করছে।

  • ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময় ঘোষণা, এক ঘণ্টা কমালো সময়সূচি

    ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময় ঘোষণা, এক ঘণ্টা কমালো সময়সূচি

    জাতীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সিদ্ধান্তে ব্যাংকের কার্যকাল এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি কার্যকর করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন পরিচালনা করবে, যা আগে ছিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর ফলে ব্যাংকের অফিস সময় কমে এখন বিকেল ৪টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে চলে আসবে। এই নতুন সময়সূচি শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রথাগতভাবে, ব্যাংকের অফিস সময় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকত। তবে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার এ্যাডজাস্টমেন্ট করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই পরিবর্তিত সময়সীমা ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে অন্তত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এটাই কার্যকর থাকবে।

    অন্যদিকে, সমুদ্র, স্থল ও বিমান বন্দর এলাকায় ব্যাংকের শাখাগুলি সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, আগের মতোই। এই সিদ্ধান্তটি গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়, এবং এটি দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিসের সময়সীমাও এক ঘণ্টা কমিয়ে ৭ ঘণ্টা নির্ধারিত হয়েছে। এখন থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে এবং বিয়ে বাড়িতে আলোর সাজসজ্জাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তত্পরতা বৃদ্ধি করেছে। এজন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার প্রকাশের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাস ভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সেটি নিরীক্ষা বছর শেষের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। একই নিয়মে ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে।

    আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য ইতোমধ্যে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিবিশ্লেষণ ভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একইভাবে দেখা না হয়, বরং যেসব ব্যাংকের ঝুঁকি বেশি, তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগেভাগে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর প্রভাব একদিকে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা, বিশেষ করে ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমগ্র ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি پাবে।

  • ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতের লোকসান ও সিএসআর খাতে হ্রাস

    ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতের লোকসান ও সিএসআর খাতে হ্রাস

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাতে এক কঠিন আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। বছরজুড়ে অর্থনৈতিক চাপে পড়ায় মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। যে ব্যাংকগুলো মুনাফা করেছে, তাদের আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি, যার প্রভাব পড়ে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের ওপর, যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার প্রকাশিত সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট খাতে কেবল ৩৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। 이는 আগের বছরে বা ২০২৪ সালে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বছরে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস।前年ের তুলনায় এটি ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই পরিমাণটাই এখন পর্যন্ত এই খাতের সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড, যা গত দশকে দেখা যায়নি।

    আগের বছরের সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ২০১৫ সালে, যেখানে শুধুমাত্র ५২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এরও আগে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আবারও খরচের নিম্নমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত করছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে আরও বেশি—প্রায় ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় কমে গেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়, অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট, ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে, যা প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে প্রকৃত লোকসান ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা আগে কাগজে-করা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত অর্থনৈতিক দুর্বলতা উন্মোচন করে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো এই চাপের মধ্য দিয়ে পড়েছে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের বিষয়গুলো পরস্পর জড়িয়ে রয়েছে। সরকার এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়, যাতে তাদের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।

    ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের এই হ্রাসের পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগের সময়ে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকার যখন আসে, তখন বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য চাপ থাকত। ফলে ব্যাংকগুলো বেশি ব্যয় করত, যেগুলোর অনেকটাই প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেতো। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে এই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বেশি বিবেচনা করে গণমানুষের জন্য প্রকৃতার্থে প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে কখনো কখনো এই অর্থ অপ্রয়োজনীয় ও অপুষ্টি খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করবে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যে, এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে খরচ করা যাবে।

    তবে বাস্তবে এই নির্দেশনা গুরুত্বের সঙ্গে মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ ‘অন্যান্য’ খাতে ব্যয় করেছে, যেখানে শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবেশে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না থাকায় এসব খাতে কম ব্যয় দেখানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনও অর্থই ব্যয় করেনি, যাদের মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, এই বছর লোকসানে থাকা বেশ ক’টি ব্যাংকও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয়ের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আছে- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক অনেকটাই লোকসানে থাকলেও তারা এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাড়া দিয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার দায়িত্বে আরও গুরুত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলো চার দফা দাম বৃদ্ধির পর

    স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলো চার দফা দাম বৃদ্ধির পর

    টানা চার দফা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পর দেশের বাজারে এখন কিছুটা কমে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃপক্ষ ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এখন থেকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকায়। এ তথ্য সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবং নতুন দাম কার্যকর হবে একই দিন সকাল ১০টা থেকে। সংগঠনটির মতে, স্বর্ণের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের বাজারে বর্তমানে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। এর আগে, ১ এপ্রিল সকালে বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের ভরি দামের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা ঘোষণা করেছিল। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল, যেমন ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা। এখন পর্যন্ত এই বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩০ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ২২ দফা দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার মূল্য বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম হ্রাস করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, রুপার দামেও সংশোধন আনে বাজুস। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে এখন রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দাম হলো, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।