Category: অর্থনীতি

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দর বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের মূল্যও নিম্নরূপ নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার সাথে সাথে রুপার দামও বেড়েছে। রুপার প্রতি ভরি দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। এর মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার মূল্য ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    দেশের ব্যাংক খাতে ২০২৪ সালের আর্থিক সংকট ও পরবর্তী সময়ের অস্থিরতার প্রভাবে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় বড়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা—আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তফসিলে ২০২৪ সালের সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা অথবা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। গত এক দশকে ২০২৫ সালের এই ব্যয়ই সর্বনিম্ন—এর আগে ২০১৫ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খাতে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম জনায়, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    খাতের লোকজন ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার বদলের প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে–কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের হিসাব স্পষ্ট হয় এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধাক্কায় পড়েছে। দুর্বল কিছু ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের একাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর প্রধান কারন। আগে রাজনৈতিক সরকার থাকাকালে নানা পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকাত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় করানোর অনুরোধ ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর এসব চাপ অনেকটাই কমে যায়, ফলে ব্যাংকগুলো এবার বেশি সতর্কতা নিয়ে সিএসআর প্রকল্প বাছাই করছে।

    অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ বা অনিয়মের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল ১০ শতাংশই ব্যয় করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। শূন্য ব্যয়কারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ১৭টি ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি লোকসানভোগী ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতের আয় ও মুনাফা সংকট, রাজনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চয়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব মিলিয়ে সিএসআর খাতে ব্যয়ে বড় ধাপ কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষুন্ন হতে পারে—এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরলেও সিএসআর কার্যক্রমকে পুনরায় গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

  • সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা, ১০টি এস আলমের

    সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা, ১০টি এস আলমের

    ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এই তালিকার মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মালিকসুলভে রয়েছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম। সোমবার সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের ঋণের মোট পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় নি। শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সিকদার গ্র“পের, আর দু’টি সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো শিল্প গোষ্ঠীর। এছাড়া, বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের নামও উঠে এসেছে এই তালিকায়।

  • অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

    অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রগতি আরও ত্বরাণ্বিত করতে, সরকার এক মহা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে—তুলনামূলক দৃষ্টিতে স্বপ্নের মতো, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো। এই ambitious লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিন ঢাকার সংসদ ভবনে, সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবিএস-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ ডলার। তবে সরকারের স্বপ্ন আরও উঁচু লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হলো শীঘ্রই ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার আকারে প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও স্পোর্টস ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে, সরকার বিভিন্ন দিক থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি ও প্রবাস অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার।

    সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, মূলত সরকারের লক্ষ্যগুলো হলো- বেকারত্ব কমানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে আনকোরা করে তোলা। শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করে, শিল্পের উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়া, এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করাও এর অংশ।

    বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এসএমই খাতে, যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী ও যুবকদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাদের আয় করার সামর্থ্য বাড়ছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে এবং রপ্তানি পণ্যকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার কাজ চলমান।

    প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগের বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হচ্ছে, যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বহু পদক্ষেপের কাজ শুরু হবে। অনেকগুলো উদ্যোগ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো একদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখবে, অন্যদিকে ২০৩৪ সালের লক্ষ্যের দিকে একই সাথে ইতিবাচক অগ্রগতি নিশ্চিত করবে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ও ছন্দপতন নেই, কারণ দেশবাসীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য এই মহৎ উদ্যোগ অপ্রতিরোধ্য।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

    বংলাদেশের ব্যাংক খাত ২০২৪ সালে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে এবং অভ্যন্তরীণ ঝড়ঝাপের কারণে বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জনে অক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও, বেশকিছু ব্যাংক মুনাফা করলেও তাদের আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছেনি। এর ফলে, ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাতে ব্যয় কমিয়ে আনতে হয়েছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২% কম। এই কমতি নিয়ে এরই মধ্যে বলাবলি হচ্ছে, গত এক দশকে এটিই সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার মানে, এবার এই খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭%।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩% কম। এর আগের বছর ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছর ধরে এই খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, তথা সরকারে পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের ঘটনাও প্রকাশিত হতে থাকে। এসব কারণে, মুদ্রিত বা কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পাশাপাশি প্রকৃত আর্থিক চিত্র পুনরায় উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ক্ষতির হিসাব বাইরে উঠে আসে।

    বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়ে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায়, সরকার দফায় দফায় ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার অন্যতম কারণ হলো রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। আগের সময়গুলোতে, রাজনৈতিক সরকারের পাশ থেকে নানা পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত। সেই সময়ে ব্যাংকগুলো অনুরোধের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করত, অনেক সময় প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে। ২০২৪ সালে জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে, এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনাপূর্ণভাবে সিএসআর ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অপপ্রয়োগ হয়, যা মূল উদ্দেশ্য- সামাজিক উন্নয়ন থেকে দুরে সরায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য এবং ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে পারলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বরাদ্দ ছিল কম।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, ছয়টি ব্যাংক এমনও আছে যেখানে মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

  • সোনার দামে বড় দিনবদল, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দামে বড় দিনবদল, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে আবারো বৃদ্ধি পেল সোনার দাম। ব্যতিক্রমী এই পরিবর্তনে ভরির মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মতে, এখন থেকে একটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। এটি জানানো হয় বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে, যা আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, লেনদেনে ব্যবহৃত তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন দামের ফলে, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    এছাড়াও, রুপার দামও বেড়ে গেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে, ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন হচ্ছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার নিম্নমুখী

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আবার কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে এই প্রবৃদ্ধির হার ৩.০৩ শতাংশ, যা আগে প্রত্যাশিত ছিল। এর আগের জুলাই-সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩.৩৫ শতাংশের বেশি ছিল। অর্থাৎ, গত দুই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার বেশ কমেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি সরবরাহের ব্যাঘাতের কারণে দেশের জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার নেয়া শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, পরিবর্তিত সরকারের সময়েও অর্থনৈতিক সংকটজনিত কারণে উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে, দেশের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও কমতে থাকে।

    বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতে এই হার ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবাখাতে ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮২ শতাংশ, যা এ সময়ে অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে, কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিল্প খাতের অবদান দেশের জিডিপিতে কেন্দ্রীয় হলেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় পুরো দেশের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২.০৫ শতাংশে নেমে আসে, তবে প্রথম প্রান্তিকে আবার এটি ৪.৯৬ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু চলতি প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি আবার কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব হয়ে উঠছে না।

  • জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বরে) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বৃদ্ধির হার ফের নিম্নমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংবাদমতে ওই প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের growth ছিল ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের growth ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। লক্ষণীয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকে এ খাতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কমেছে। অন্যদিকে কৃষি ও সেবা খাতে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার বেড়েছে।

    পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; এরপর প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও কমে গেল।

    প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা শিল্প ও পরিবহন খাতে কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। এছাড়া সূত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সীমা থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত বৃদ্ধির পর গ্যাস ও তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়েছে, যা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মূল্যবৃদ্ধি এনেছে। এসব কারণ মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হচ্ছে।

    আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারী অর্থায়নে ঘাটতি—বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময়ে অর্থসংকট থাকার ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তহবিলে বাধা পড়েছে, যা পরিকল্পিত কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখতে সমস্যা তৈরি করেছে।

    অবশেষে, জিডিপিতে শিল্প খাতের যে গুরুত্ব তা বিবেচনায় রেখে এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রয়াত হলে বছরের সমষ্টিগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। শিল্প খাতের দুর্বলতা পুরো অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই শীঘ্রই অবস্থা স্থিতিশীল করে তুলতে নীতি ও বাস্তবায়নে মনোযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত গভীর আর্থিক চাপের মুখে পড়েছিল; ১৭টি ব্যাংক নিট থেকে লোকসান ঘোষণা করেছিল। এই অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতেও—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় গত বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    সেন্ট্রাল ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট খরচ করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সবচেয়ে কম ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে ন্যূনতম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে—যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য দেখায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের (৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা) তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    ব্যালান্সশিটের অবনতি, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকিং খাতে প্রকাশিত অনিয়ম-লুটপাট এসব পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের (জুন–জুলাই) ছাত্র-জনতার আন্দোলন, আগস্টে সরকার পরিবর্তন ও সেই সময়কার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে নানা ব্যাংকের অনিয়ম, ঋণ অনুষঙ্গ ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রচারে আসায় কাগজে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় বাস্তব লোকসানও সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়ারভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বেশি চাপে পড়েছে এবং কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ-অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এসব কারণে দুর্বল অবস্থায় পড়া ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরে আনতে সরকার একাধিক банка একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ কমে আসা। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠানসহ নানা খাতে অনুরোধের ভিত্তিতে ব্যয় করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পরে এসব চাপ অনেকটাই কমেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে যাচাই-বাছাই করে খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ন্ত্রিত চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়; তা হলে সিএসআর-এর মূল সামাজিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়—এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষার জন্য, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য উপযোগী খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না; ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে বেশি, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। এসব ব্যাংকের নাম: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকদের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এদের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আর্থিক চাপ, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধরণ ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং সিএসআর অর্থ সমাজের বাস্তবে পৌঁছে দিতে নিয়ম-নীতি কড়াকড়ি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও প্রকল্পগুলোর ফলাফল-পর্যালোচনা জরুরি।

  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্লো হয়ে এসে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকের ৩.৩৫ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের ৪.৯৬ শতাংশের থেকে কম। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিএসের রিপোর্ট ও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়া এবং সরবরাহে বিঘ্ন জনিত কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। দেশের ভেতরেও জ্বালানির সংকট ও সরবরাহ ঝামেলা দেখা দেয় ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

    খাতে ভাগাভাগি অনুযায়ী গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি — ৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতের এই বড় ধরনের কমতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে আরও সীমিত করেছে।

    গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে উঠে আসে, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও নিচে নেমে এসেছে। চূড়ান্তভাবে বছরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে — বিশেষত কারণ শিল্পখাতই জিডিপিতে বড় অবদান রাখে এবং এ খাতের প্রবৃদ্ধি যখন ক্ষীণ হয় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রার পথে বাধা তৈরি হয়।