Category: সারাদেশ

  • খুলনায় বাসে তল্লাশি, ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক 1

    খুলনায় বাসে তল্লাশি, ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক 1

    খুলনার কৈয়া বাজারে পুলিশের পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা সহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে। বুধবার দুপুরে নগরীর হরিণটানা থানা এলাকার কৈয়া বাজারের কাছে এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ চালকের আসনে থাকা মিলন মন্ডল (৩৮), যিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা এবং বাবুল মাল এর ছেলে, তাকে আটক করে।

    পুলিশ জানিয়েছেন, ইয়াবাগুলির চালান মূলত মিয়ানমার থেকে সাগর পাথর দিয়ে ভারতীয় জেলেদের মাধ্যমে আসে সাগর পথে। এরপর সড়ক পথে এগুলি সরবরাহ করা হয় খুলনা ও ঢাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিলন মন্ডলকে আটক করে। এর আগে এই রুট ব্যবহার করে বহু চালান পাচার হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এটি খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ের הגדולতম ইয়াবার চালান। উদ্ধারকৃত মাদক মোট সংখ্যার আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার পিস। তিনি আরও বলেন, আটক মিলন মন্ডলের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তিনি বেদেও সম্প্রদায়ের সদস্য। এই চক্রের সঙ্গে কারা-কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) টিপু সুলতান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সাতক্ষীরা থেকে একটি মাদক চালান খুলনা হয়ে ঢাকায় যাবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কৈয়া বাজারে চেকপোস্ট বসায়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাতক্ষীরাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি গাড়ি থামানোর সংকেত দেয়। গাড়ি থামার পরে পুলিশ তার তল্লাশি শুরু করে। মিলন মালের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তার ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ডাকাত আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে দুবলার চরের পাঁচ হাজার জেলে

    ডাকাত আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে দুবলার চরের পাঁচ হাজার জেলে

    বনদস্যুদের কবলা ও আতঙ্কের কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন দুবলার চরের প্রায় পাঁচ হাজার শুঁটকিকরণ জেলেসহ শত শত সাধারণ জেলের দল। গত দুই দিনেও অপহৃত ২০ জন জেলের খোঁজ মেলেনি, আর এটা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত সোমবার রাতের দিকে বনদস্যুরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগের আয়-রোজগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    দুবলার জেলেগোষ্ঠীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বললেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বনদস্যুদের terror ও চেতনা বাড়ছে। এ কারণে তারা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে চরে অবস্থান নিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে বসে অবসর কাটাচ্ছেন এবং মৌসুম শেষের আগে ঘর ফিরে যাওয়ার বিষয়টি ভাবছেন।

    তিনি আরও বললেন, সুন্দরবনে চারটি দল সক্রিয় রয়েছে— জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী। এ দলগুলো বনদস্যুদের নামে পরিচিত, যারা খাটাখাটনি ছাড়াই বন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, তারা জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে, কিন্তু টাকা দিতে না পারলে মারধর করে থাকে। গত সপ্তাহে চারজন জেলে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য রামপালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলিষ্ঠ না থাকায় দস্যুরা প্রকাশ্যে বিচরণ করছে। গত ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিল, কিন্তু এখন আবার দস্যুরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে— এটা চরম উদ্বেগের বিষয়।

    অন্যদিকে, আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে ছিলো, জলাধারে কুমির আর মাঠে বাঘ। এখন সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’ দস্যুদের তাণ্ডবের কারণে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ দিনেও অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের আমলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জনের সঙ্গে দস্যুরা যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়েছে, কিন্তু এ পর্যনতেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কের কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, ফলে রাজস্ব ও আয় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আরও জানানো হয়, সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের বেশ কিছু মুদি দোকানী— যেমন জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদার— বলেছেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    অন্যদিকে, শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চালাচ্ছেন।

  • নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত

    নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত

    নগরীর লবণচরা থানার বান্দাবাজার এলাকার রহমানিয়া গলির সামনে দুর্বৃত্তের দ্বারা গুলিবর্ষণের ঘটনায় যুবক আয়নুল (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় তার শরীরের ডান হাঁটুর উপরে দুটি গুলি বিদ্ধ হয়। আহত আয়নুল বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি স্থানীয় ভুতের আড্ডা পার্ক এলাকার বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে।

    প্রত আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীরা ও পুলিশ জানিয়েছেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে আয়নুল সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর অর্ণমূল্যে গুলি চালায়। দুইটি গুলি তার ডান হাঁটুর ওপর জড়িয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুতই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    লবণচরা থানার এসআই খালিদ হাসান জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়া আয়নুলের শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার অবস্থা খুবই সংকটজনক। তিনি বলেন, পুলিশ এখন ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

  • খুলনা বিএনপি: মাহে রমজানে পবিত্রতা রক্ষা সবার দায়িত্ব

    খুলনা বিএনপি: মাহে রমজানে পবিত্রতা রক্ষা সবার দায়িত্ব

    রমজান এসেছে রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে। এই পবিত্র মাসে পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন ইসলামী মূল্যবোধের অনুসারীরা। গতকাল বুধবার খোলনাবাসীর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা রমজানের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করেছে। পবিত্র রমজানে একজন রোজাদার মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করুণা ভিক্ষা করলে তিনি সন্তুষ্টচিত্তে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এই মাসে একজন প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি সারাদিন সংযম পালন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতি সচেতন থাকেন। তাকওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আমলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী হিংসা-বিদ্বেষ, অসংযম ও অশান্তি পরিহার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। রমজানের সম্মানে অবৈধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইফতারি ও সেহরি সময়ের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা চালু রাখতে ও খুলনা মহানগরীকে যানজটমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান হয়েছে। পাশাপাশি, অশ্লীলতা দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণসহ মজুদদার, মুনাফাখোর ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যক্রম নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। এইসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও অংশগ্রহণকারীরা, যেমন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ অন্যরা। সকলের উদ্দেশ্য হলো, রমজানের পবিত্রতা সংরক্ষণে সবাই সচেতন এবং উদ্যোগী হোন যেন এই মাসের শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়।

  • খুলনায় মাদক বিরোধের জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ

    খুলনায় মাদক বিরোধের জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ

    খুলনা মহানগরীর মওলার বাড়ি খালপাড় বোর্ড ঘরের সামনে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন।

    আহত যুবক ব্যক্তির নাম সোহেল ওরফে চেগা সোহেল, বয়স ২৮ বছর, তিনি শাহাদতের ছেলে। বর্তমানে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে নগরীর বিভিন্ন থানায়। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে হামলা করে।

    খুলনা থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, ওই রাতেও সন্ত্রাসীরা সোহেলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি তার কোমরের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকদের অবস্থা গুরুতর দেখে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঘটনাস্থলে পুলিশ মোবাইল করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।

  • সমাজসেবক থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন লায়ন ফরিদুল, মোংলা ও রামপালে খুশির জোয়ার

    সমাজসেবক থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন লায়ন ফরিদুল, মোংলা ও রামপালে খুশির জোয়ার

    বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সমাজসেবক লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই কারণেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এটি ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপির প্রাথমেই প্রথম বিজয়। মোংলা-রামপাল এলাকার মানুষের মাঝে এখন উৎসাহ এবং আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।

    নির্বাচন জয় করে সংসদে আসার পরই তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহের শেষ নেই। মোংলা ও রামপালে বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই খবর উৎসাহের সাথে গ্রহণ করেছেন। এলাকায় তিনি কেবল রাজনৈতিক দল হিসেবেই পরিচিত নন, বরং সামাজিক ও মানবিক কাজে তাঁর জনপ্রিয়তা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক। নিজ এলাকায় তিনি বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসাসহ অসংখ্য মানুষের সুরক্ষায় কাজ করেছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় করে তুলেছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ৩ হাজার ৭৭১ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। দেশ-সংখ্যালঘু এই নেতা তার দায়িত্বশীল চরিত্র এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকার মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছেন।

    বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোংলা পৌর বিএনপি’র সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মঞ্জুর হাওলাদার বলেছেন, ড. ফরিদুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় শুধু দলের নেতা-কর্মীরা নয়, পুরো বাগেরহাট জেলাবাসী গর্বিত। তবে মোংলা ও রামপালের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে, এই নেতার মাধ্যমে তাদের মৌলিক দাবি ও চাহিদাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

  • বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরের পৃথক দুটি স্থানে দস্যুরা অপহরণ করেছে ২০ জন জেলেকে। সোমবার গভীর রাতে নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়ির খাড়িসংলগ্ন জলসীমায় মাছ ধরছিলেন জেলে ও ট্রলার। এই সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা অস্ত্রের মুখে ওই ট্রলারগুলোতে হামলা চালিয়ে ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর স্থানীয় জেলেদের বলে জানা গেছে। জেলেদের মধ্যে আছেন হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়োল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা এবং আশাশুনি এলাকায়। বনবিভাগের পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির অফিসার মিল্টন রায় মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা দুইটি জেলেসহ ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা ট্রলার ছাড়ার আগে অন্য জেলেদের মোবাইল নম্বরও রেখে যায়। শরণখোলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর দখল করে দস্যুরা ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই ঘটনাগুলির ফলে জেলেরা মাছ ধরা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে এবং অপহরণের ভয়ে সাগরে যেতে চাইছে না। দস্যুদের চাঁদা ও মুক্তিপণের জন্য অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। পেশা ছেড়ে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছে কিছু ব্যবসায়ী। তিনি দ্রুত অপহৃত জেলেদের উদ্ধার ও দস্যুদমন অভিযান জোরদার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। জলদস্যুরা দাপটের সঙ্গে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকে নিজেদের কবজায় রাখার কারণে জেলেরা মারাত্মক আতঙ্কে আছেন, এবং এই জুলুমের অবসান জরুরি।

  • দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে নতুন সরকার

    দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে নতুন সরকার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ব্যাপক বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভাকে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে দেশ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের নতুন পথে প্রবেশ করেছে। অতীতের গণতান্ত্রিক সংকট কাটিয়ে বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রস্তুত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের হারানো ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন মন্ত্রিসভা কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে যেন দেশ আরও উন্নতি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারে—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন নেতৃবৃন্দ। তারা আরও বিশ্বাস করেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্পখাতের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে একটাদৃঢ় ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, খুলনা অঞ্চলের সার্বিক অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই ভেঙিবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বহুদিন বন্ধ থাকা মিল-কারখানা আবার চালু করা, খুলনায় গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণ এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ঘটানো হবে। নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অসংখ্য সফলতা কামনা করেন। পাশাপাশি তারা দেশপ্রেমিক এই সরকারের অংশ হিসেবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বাপ্পী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা সদর থানা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন।

  • খুলনায় ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    খুলনায় ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    খুলনার কৈয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলো মিলন মাল (২২), তিনি মুন্সিগঞ্জের লৌহজঙ্গ উপজেলার বাসিন্দা ও বাবুল মালয়ের ছেলে।

    হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) টিপু সুলতান জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে সাতক্ষীরা থেকে একটি মাদকবাহী ট্রাক খুলনা হয়ে ঢাকায় যাবে। এই খবরের ভিত্তিতে তারা কৈয়া বাজারের সামনে একটি চেকপোস্ট তৈরি করে। দুপুরের দিকে, সাড়ে ১১টার দিকে, সাতক্ষীরা থেকে আসা একটি ট্রাক সংকেত পেয়ে থামানো হয়। পুলিশ যখন ট্রাকটির তল্লাশি শুরু করে, তখন মিলন মাল তার আচরণে সন্দেহজনক হিসেবে ধরা পড়ে। পুলিশ তার ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। অভিযুক্ত এই মাদক কারবারি এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

  • খুলনায় মাদক বিরোধের জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ

    খুলনায় মাদক বিরোধের জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ

    খুলনা মহানগরীর মওলার বাড়ি খালপাড়ের বোর্ড ঘরের সামনে গুলি করে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আহত যুবক তাঁর নাম সোহেল ওরফে চেগা সোহেল, সে এলাকার শাহাদতের ছেলে এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রতিপক্ষের একটি গ্রুপ তাকে ঘায়েল করতে গুলি করে হত্যার চেষ্টার চেষ্টা করে।

    পুলিশের কথায়, সন্ত্রাসীরা লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, যার মধ্যে একটি গুলি তার কোমরের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। রাতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের পরামর্শে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতির সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।