খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং বিভাগে সম্প্রতি দুইটি অত্যাধুনিক ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ল্যাবগুলো হলো ‘এডভান্সড প্রিন্টমেকিং ল্যাব’ ও ‘ইনটাগিও প্রিন্টমেকিং ল্যাব’, যা এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন দিশা উন্মোচন করবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এই দুটি ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি সরাসরি ল্যাবগুলো পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলি সম্পর্কে অবহিত হন। উপাচার্য ব্যক্ত করেন, শিল্পচর্চা ও গবেষণায় আধুনিক অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। এই নতুন ল্যাবগুলো থেকের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান ও চারুকলা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম। সভাপতিত্ব করেন প্রিন্টমেকিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের প্রধান ড. তরিকত ইসলাম, ভাস্কর্য বিভাগের প্রধান শান্তনু মন্ডলসহ স্কুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নতুন এই ল্যাবগুলোতে সংযোজিত হয়েছে আধুনিক কম্পিউটার, লিথোগ্রাফি প্রেস, ইনটাগ্রীও প্রেস, অটোমেটেড ইনটাগ্রীও প্রেস, লিনোকাট মেশিন, লিনোকাট প্রেস মেশিন, গ্রেইনার মেশিন, ফিউম হুড, লার্জ ফরম্যাট ইকো-সলভেন্ট প্লটার, প্লটার প্রিন্টার এবং লেজার কাটিং ও এনগ্রেভিং মেশিন—এমনকি আরও নানা ধরনের উন্নত সরঞ্জাম। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের প্রিন্টমেকিং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং সৃজনশীলতা আরো বিকাশ ঘটাবে। এই উদ্যোগের ফলে প্রিন্টমেকিং বিভাগ শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য আরও একটি মাইলফলক অর্জন করল।
Category: সারাদেশ
-

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনও টালবাহানা চলবে না
মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যদি সংখ্যালঘিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনগণের অমত বা অস্বীকৃতি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তাকে ফ্যাসিবাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব বা ধীরগতির সুযোগ দেওয়া হবে না। গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে সচেতন ও সুসংগঠিত থাকতে হবে।
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খুলনা-৩ আসনের নির্বাচনের পরে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমীর হিমেল হোসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ ইমামুল ইসলাম, ১৫ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, কবির হোসেন, ফজলুল হক, মাসুম বিল্লাহ, বাবুল হোসেন, ফয়সাল ও সাইফুল প্রমুখ। বক্তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সনদ এর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
-

যশোরে তারাবির নামাজ শেষে গ্রাম্য ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া মোড়ে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, সাড়ে ১০টার দিকে। নিহত ব্যক্তি আল-আমিন, বারিপোতা গ্রামের বাসিন্দা ও নাভারণের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ নির্মম হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন নিজ গ্রাম বারিপোতা থেকে একটি চিকিৎসা চেম্বার পরিচালনা করতেন। এলাকাবাসীর মাঝে তিনি পরিচিত একজন চিকিৎসক ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই তিনি তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু গাতিপাড়া হাইস্কুলের সামনে, ‘তারের বেড়া’ নামে একটি স্থান পৌঁছানোর সময়, ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অপ্রত্যাশিতভাবে তার উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তার অবস্থার অবনতি ঘটলে অবশ্যই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে এলাকার মানুষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এর পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ব বিরোধ থাকতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তদন্ত চালানো হচ্ছে।
-

ফুলতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবলীগ নেতা প্রিন্সের মৃত্যু
ফুলতলা উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এস এম শহিদুল্লাহ প্রিন্স (৪৫) বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি গাড়াখোলা গ্রামের শেখ রওশন আলীর ছেলে। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিন্স ফুলতলা বাজার থেকে মোটরসাইকেল (নং-খুলনা-ল-১১-১৪৩৯) চালিয়ে তার দামোদর পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাসায় ফেরছিলেন। তখন তিনি খুলনা-যশোর মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিসের পার হয়ে বাড়ির রাস্তায় প্রবেশের সময় এক যশোরগামী ট্রাকের (অজ্ঞাত) ধাক্কায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার মধ্যে তার মৃত্যু ঘটে। এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে।
-

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ হবে আজ রাতে, কাল আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন
মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু শোকের দিন নয়, এটি আমাদের স্বাধিকার ও আত্মপরিচয়ের অমোঘ প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের ফলশ্রুতিতে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এই ভাষা আন্দোলনের চেতনা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার সংগ্রামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় এ কথা বলেন। সভাপতির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একুশ আমাদের জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তি। এই চেতনা ধারণ করে বিএনপি সকল নেতাকর্মীকে একসঙ্গে কাজ করে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার করে। তিনি সকলকে কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানান। মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। একুশের সব অনুষ্ঠানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না নিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা হবে একুশের প্রকৃত শ্রদ্ধা। নেতাকর্মীদের সবাইকে সময়মতো উপস্থিত থাকার জন্য তিনি আদেশ দেন। সভার শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা আজ ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহানগরীর সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইদিন বাদ জোহর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়া আগামী ১৫ রমজান পর্যন্ত মহানগরীর বিশিষ্টজনদের সম্মানে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, বদরুল আনাম খান, শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, এড. শেখ মোহাম্মদ আলী, থানার সাধারণ সম্পাদক মোলল্লা ফরিদ আহমেদ, শেখ ইমাম হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, তাঁতী দলের নেতা আবু সাঈদ শেখ, ওলামা দলের নেতৃত্ব মাওলানা মোঃ আবু নাঈম কাজী, শ্রমিক দলের নেতা মো. মজিবর রহমান, মহিলা দলের যুগ্ম-আহবায়ক এড. হালিমা আক্তার খানম, জাসাসের সদস্য সচিব কে এম এ জলিল, কৃষক দলের সদস্য সচিব শেখ আদনান ইসলাম দীপ, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফি, আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলমগীর তালুকদার, থানা সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, মতলেবুর রহমান মিতুল, নুরুল হুদা পলাশ ও সৈয়দ তানভীর আহমেদ প্রমুখ।
-

ডাকাত আতঙ্কে দুবলার চরের ১০ হাজারের বেশি মৎস্যজীবী মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন
দুবলার চরে বনদস্যুদের আতঙ্কে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন দশ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। গত দুই দিনেও নিখোঁজ হয়েছে সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলেকে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।
দুবলার ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে বনদস্যুদের অবাধ বিচরণ ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে জেলেরাই এখন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। তারা এখন চরে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন সে চিন্তায় আতঙ্কে থেকের। তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে চারটি বনদস্যু গ্রুপ; এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করছে। যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় চার জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের রামপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকার কারণে দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করলেও, বর্তমানে আবার বন্দুকের নলের মুখে পড়েছেন জেলেরা।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী জানান, আগে ছিলো ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ’—এখন বলি, সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। গত ১৫ দিনে অনেক জেলে দস্যুদের হাতে অপহৃত হয়েছেন। এখনো কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের একটি গ্রুপের কবজায় আছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে অপহরণ করার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। এতদিনেও তাদের কেউ উদ্ধার বা সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দপ্তর ও সরঞ্জামাদির কার্যালয় সূত্র জানায়, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে রাজস্ব আদায় ও আয়ের বড় ক্ষতি হচ্ছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বাড়ায় জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকছেন। এ কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের লক্ষ্য ভেঙে পড়ছে।
অন্যদিকে, শরণখোলা বাজারের মুদি দোকানদাররা বলেন, জেলেরা বনদস্যুদের ভয়ে সুন্দরবনে যাচ্ছে না, ফলে তাঁদের বিক্রিও কমে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বেড়ে গেছে বনদস্যুদের তৎপরতা, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছেন।
-

নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত
নগরীর লবণচরা থানার বান্দাবাজার এলাকার রহমানিয়া গলি থেকে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে যেখানে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার রাতে ভোর ৮টার দিকে। আহত যুবক, আয়নুল (৩০), বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি লবণচরা থানার ভুতের আড্ডা পার্ক এলাকার বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকেলে আয়নুল রহমানিয়া গলির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে ধারালো গুলি বর্ষণ করে। twee গুলিতে তার ডান পা’র হাঁটুতে গুরুতর জখম হয়। এলাকাবাসী দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, আয়নুলের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার পরিস্থিতি খুবই সংকটাপন্ন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করেছে।
-

মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব: খুলনা বিএনপি
রমজান এখন মাত্র কয়েক দিন দূরে, যারা রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসছে এই পবিত্র মাস। এই সময় সমাগত হলেও পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি। পবিত্র রমজান পালনকারী সকল মুসলমানের উচিত এই মহৎ মাসের শিক্ষা ও আদর্শে নিজেদের জীবন গড়ে তোলা। খোলনাবাসীর পাশাপাশি পুরো বিশ্বে মুসলমানদের জন্য এ সময়ের তাৎপর্য অপরিহার্য।
গতকাল বুধবার, খুলনা বিএনপি তাদের মিডিয়া সেল থেকে একটি বিবৃতিতে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, এই মাসের মহত্ত্ব শুধু রোজা ও নামাজে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি কল্যাণময় জীবন গড়ার সময়। মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও কৃত্তিম অহংকার থেকে মুক্তির জন্য এই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সৎ মুমিন ব্যক্তি সারাদিন সংযমী থাকেন, মহান আল্লাহর কাছ থেকে রহমত ও বরকত প্রাপ্তির আশায় সব কিছু নিবেদন করেন।
খুলনা বিএনপি অপরদিকে পবিত্র রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, অশ্লীলতা ও অসাংগঠনিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারা মনে করেন, এই মাসের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় সবাই একসাথে কাজ করতে হবে।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, রমজানের সময় রোজাদারদের জন্য প্রয়োজনীয় ইফতারি ও সেহরীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত, বিদ্যুৎ ও পানির স্বচ্ছন্দ ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, যানজটমুক্ত করে নগর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন ও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, মজুদদার, মুনাফাখোর ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। তারা সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতায় এই মাসটিকে সুন্দর ওসবস্ত রাখতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, নগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
-

শৈলকুপায় জমির বিরোধে কৃষক নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুর জয়ন্তী নগর গ্রামে জমির বিরোধের জেরে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। নিহত ব্যক্তির নাম কেসমত আলী (৫৬), তিনি নদীয়ার সিরাজ সর্দারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে এই গ্রামের কেসমত আলী ও তার ছোট বোনজামাই নবছদ্দির মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা অচিরেই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই বচসার মধ্যে নবছদ্দি ও তার পরিবারের লোকজন কেসমত আলীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তাকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নবছদ্দি এবং তার ছেলে রফিকুলকে বোয়ালিয়া গ্রামে পিকেট করে এলাকায় আটক করে পুলিশ।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারিয়া তাহসিন জানান, কেসমত আলী হাসপাতালের মরদেহ নিয়ে আসা হয়, সেখানে তার যত্নে আঘাতজনিত বা স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে, বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
-

যশোরে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান
যশোর শহরে যানজট কমাতে এবং সড়ক সুন্দর ও সরু করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্ছেদ অভিযান চলেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১২টার দিকে, শহরের চৌরাস্তা থেকে দড়াটানা পর্যন্ত প্রধান সড়কের দু পাশে অবৈধ পন্থায় নির্মিত শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন, রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট, বাড়তি শেড এবং ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে, স্থানীয় দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেয়া হয় যাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দখলদারিত্ব না করে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী জানান, আজ মোট শতাধিক দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহরে ফুটপাত মুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন ফুটপাত না দখল করে, বরং নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করে শহরকে পরিচ্ছন্ন এবং সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়তা করেন।
এই দলের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যশোর শহর আরও সুন্দর, শান্ত ও交通জনিত ঝামেলা থেকে মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
