Category: সারাদেশ

  • খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত

    খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত

    খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন সামরিক, সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ।

    বিকেল অর্ধেকের দিকে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে অবস্থিত শহিদ মিনারে মহান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ, কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। একই সময় নগরীর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তর ও ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ ভোরে শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শোভাযাত্রা করেন।

    নগরভবনে আয়োজন করা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। বাদ জোহর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে ভাষা শহিদদের রূহের মাগফেরাত ও দেশের কল্যাণের জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়েও দু’আ ও প্রার্থনা সম্পন্ন হয়। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রচনা, চিত্রাঙ্কন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

    সকাল ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার সূতো। মাতৃভাষা আমাদের আত্মার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি ভাষা শেখার পাশাপাশি মাতৃভাষার প্রতি সজাগ থাকতে হবে, কারণ বাঙালির অস্তিত্ব ও চেতনায় এই ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।

    প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়েন উদ্দীন এবং পুলিশ সুপার মো: মাহবুবুর রহমান।

    দিবসের গুরুত্ব এবং আবেগঘন স্মৃতি বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ, ক্রোড়পত্র ও বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশিত হয়, যা এ দিনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও চেতনাবোধকে আরও জোরদার করে।

  • খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস পালিত

    খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস পালিত

    খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যা ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সংগঠিত হয়।

    সভার সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর। বক্তারা বলেন, একুশের চেতনা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং মাতৃভাষাকে সবার মাঝে সমুন্নত রাখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। বক্তারা অঙ্গীকার করেন, সর্বস্তরে বাংলার মর্যাদা রক্ষা ও ভাষা ব্যবহারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সদস্য এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, যারা ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও একুশের আদর্শের সক্তি প্রদর্শনে অংশ নেন। বক্তারা ভাষা শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন, যা পরিচালনা করেন ক্লাবের ইমাম মাওলানা মো. ইউসুফ হাবিব।

    একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পপলু, মো. জাহিদুল ইসলাম, কাজী শামিম আহমেদ, শামসুদ্দীন দোহার মতো নেতৃবৃন্দ।

    সকালে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সবশেষে দোয়া অনুষ্ঠানে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

  • নড়াইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আওয়ামী লীগ অফিসের শুভ উদ্বোধন

    নড়াইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আওয়ামী লীগ অফিসের শুভ উদ্বোধন

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দীর্ঘ ১৮ মাস পরে নতুন স্বপ্নের সূচনা হলো। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুক্তির প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লোহাগড়া উপজেলার মানিকগঞ্জ বাজারে নিজস্ব আঞ্চলিক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে তারা দেশপ্রেম ও মুক্তির শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান উচ্চারণ করেন।

    পুরো অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়, নড়াইল জেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি কাজী আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে এই কার্যালয় উন্মুক্ত করা হয়। এরপরে, অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে নেতাকর্মীরা নানা দেশের মুক্তি ও স্বাধিকার এর মূলমন্ত্রে অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানে হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠেন, যেমন: ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কে বলে রে মুজিব নাই, মুজিব সারা বাংলায়’, ‘আজকের এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘শেখ হাসিনা সরকার, বার বার দরকার’ ইত্যাদি।

    কাজী আব্দুল আলিম ফেসবুক পোস্টে বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস পরে এই নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হলো, যা জাতির জন্য এক নতুন উত্তেজনা ও উদ্দীপনার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লোহাগড়া উপজেলার জনগণের জন্য উন্নয়ন ও নতুন সূচনার ব্যাপক সম্ভাবনার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    অপরদিকে, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনাটি শুনেছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’ সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উৎসাহ ও প্রত্যাশার পাশাপাশি পুলিশের করণীয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

  • সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

    সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

    আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায়, বনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী এলাকার মধ্যে মানিব্যাগ, অস্ত্র, গোলাবারুদসহ একজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জানা যায় যে, সুন্দরবনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল ও তৈয়বের খাল এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। সেই ভিওয় ভিত্তি করে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মোংলা এবং নলিয়ান কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চলাকালীন, ওই এলাকায় থেকে চারটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১০ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। অতিরিক্তভাবে, এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে যার নাম বাদশা শেখ (২৫), তিনি রামপাল থানার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, বাদশা দীর্ঘ দিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে যোগ থাকার পাশাপাশি ডাকাতি, অস্ত্র সরবরাহ ও অন্যান্য দুষ্কর্মে সম্পৃক্ত ছিল। জব্দকৃত অস্ত্র ও আলামতসহ তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়, কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যে সুন্দরবনে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর পাঁচটি আস্তানা ধ্বংস করে দেয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে, কোস্ট গার্ডের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।”

  • সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

    সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই অসাধু দস্যুতা ও সন্ত্রাসী गतिविधির কারণে এই বনকে নিরাপদ করা খুবই জরুরি। এজন্য দ্রুতই একটি সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সহায়তা করবে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলায় খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় বনজ সম্পদ, মাছ ধরার জেলেরা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা এবং এই ঐতিহ্যবাহী বনকে বিষমুক্ত করার জন্য also সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এ সময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোঃ মতিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম এ সালাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান tonight, কাল দোয়া ও মানবন্ধন

    পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান tonight, কাল দোয়া ও মানবন্ধন

    মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল শোক দিবস নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। ভাষা আন্দোলনের শহীদরা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ভাষা আন্দোলনের চেতনাই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে কেন্দ্রীয় করে তোলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় বক্তৃতা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একুশ আমাদের জাতীয় চেতনার ভিত্তি। এই আত্মা ধারণ করে বিএনপি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তিনি নেতাকর্মীদের সফলতার জন্য সকলের সহযোগিতা ওসহযোগিতার আহ্বান জানান। মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। একুশের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে, এই চেতনাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানশেষে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আজ ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০:৩০ এর মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, রাত ১২:০১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সূর্য ওঠার সাথে সাথে মহানগরীর সকল দলীয় কার্যালয়ে পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন। একই দিন বাদ এশা দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হবে। এছাড়াও, ১৫ রমজান এর মধ্যে মহানগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, বদরুল আনাম খান, শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, এড. শেখ মোহাম্মদ আলী, থানা সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শেখ ইমাম হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মৌলানা মোঃ আবু নাঈম কাজী, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবর রহমান, মহিলা দলের যুগ্ম-আহবায়ক এড. হালিমা আক্তার খানম, জাসাসের সদস্য সচিব কে এম এ জলিল, কৃষক দলের সদস্য সচিব শেখ আবদুলনাহার, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফি, আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলমগীর তালুকদার, থানার সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, মতলেবুর রহমান মিতুল, নুরুল হুদা পলাশ ও সৈয়দ তানভীর আহমেদ প্রমুখ।

  • কালীগঞ্জে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    কালীগঞ্জে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ষষ্ঠ দিনের মতো বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে তারা। জুলাই ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে এ কার্যক্রম সংগঠিত হয়।

    উপজেলা সূত্র জানায়, রমজানের আগে থেকেই যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করে তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি চালানো হচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন মুদি ও ফল ব্যবসায়ীদের মানসম্মত ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    মনিটরিং এর সময় বিভিন্ন অসাধুভাব সফলভাবে শনাক্ত হয়; এর কারণে দুই ফল আমদানিকারককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোট ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা দলের পাশাপাশি কালীগঞ্জ থানার পুলিশও উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

    এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ বলেন, রমজানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রেখে মনিটরিং অব্যাহত আছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি বা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় ক্রেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি চালু থাকলে রমজান মাসে বাজারের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তাদের লাভ হবে।

  • যশোরে তারাবির নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম্য চিকিৎসককে হত্যা

    যশোরে তারাবির নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম্য চিকিৎসককে হত্যা

    যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া এলাকায় এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আল-আমিন বারিপোতা গ্রামের বাসিন্দা ও নাভারণের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হামলা করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং গ্রামের মধ্যে তার একটি চেম্বার ছিল। সাধারণত তিনি প্রতিবছরই তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরতেন। אך ওই রাতে গাতিপাড়া হাইস্কুলের সামনে তারের বেড়া নামক স্থানে পৌঁছালে, দুর্বৃত্তরা ওৎ পেতে থাকা অবস্থায় তাকে উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে শার্শা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-আলম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। অচিরেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুরুতে মনে হচ্ছে এটি পূর্ব বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের হয়ে থাকতে পারে। এখনও ব্যাপারটি তদন্তাধীন।’

  • বিশেষ শিক্ষকের বাড়িতে দুর্বৃত্তের অগ্নিসংযোগ: গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি

    বিশেষ শিক্ষকের বাড়িতে দুর্বৃত্তের অগ্নিসংযোগ: গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বসত বাড়িতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে চিংড়াখালী ইউনিয়নের ২৯৬ নম্বর সিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুলিয়া বেগমের বাসভবনে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে কেউ ছিল না, কারণ বাড়িটি ছিল তালাবন্ধ। ফলে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ঘরের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের জমাকৃত সম্পদ ও স্মৃতির ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা পূর্ব শত্রæতা রয়েছে। চিংড়াখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রুলিয়া বেগম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের ভাড়া বাসায় থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বা বাড়িতে আসেন। তিনি আরও বলেন, তার উপর স্থানীয় শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে রাতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন।

    ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে স্থানীয় পুলিশ ও বিএনপি নেতা সোমনাথ দে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মো. মাহমুদুর রহমান নামে থানা ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লীদের ঢল

    রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লীদের ঢল

    বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার নামাজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লীরা ধীরে ধীরে মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে থাকেন। সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুরে এর পর্যায়ে ব্যাপক সংখ্যক মুসল্লীর সমাগম ঘটে, ফলে পুরো মসজিদটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।