Category: রাজনীতি

  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী

    পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী

    বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের হাতে প্রার্থী বাছাইয়ের কোনও সুযোগ থাকবে না। ভোট দিতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীককে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ এখনও এই পদ্ধতির বিষয়ে সচেতন নয়, কারণ পূর্বে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কখনো এই পদ্ধতির ব্যবহার দেখেনি দেশবাসী। হঠাৎ করেই কিছু রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির কথা বলছে। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড়ে জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ণ ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী অভিযোগ করেন, কিছু দল পিআর এবং নির্বাচনে সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে, যা বিএনপি বোঝে। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষিত, শ্রমিক ও ভদ্র সমাজের মানুষই বিএনপির সদস্য হবে। তবে যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে দলের সদস্য হতে চাইবে না। যারা গণতন্ত্রকে কণ্ঠরোদের মাধ্যমে দমন করে রেখেছিল, তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। আসল সদস্য হবে সমাজের গুণীজন এবং দেশপ্রেমিকরা। রিজভী উল্লেখ করেন, এ দেশটি কড়া ত্যাগের বিনিময়ে ৩০ লাখ মা-বোনের আবেগের সঙ্গে অর্জিত। তিনি বলেন, সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সেই হিংস্রতা বাংলাদেশের ওপর চালিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাকে পরাজিত করে নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’s অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন দলের টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপন প্রমুখ। পরে তিনি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির জন্য ফর্ম বিতরণ করেন। পাশাপাশি, এই কর্মসূচির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিলসহ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে।

  • সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ সালের ইস্যু সমাধানের গুরুত্ব উসাইন করলেন এনসিপি

    সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ সালের ইস্যু সমাধানের গুরুত্ব উসাইন করলেন এনসিপি

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এখনও সমাধান না হওয়ায় দুদেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের কিছু বিষয়, যা এখনও পুরোপুরি মিমাংসা হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলো।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কার্যালয়ে এনসিপির কমিটি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেন এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠকের পরে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা পাকিস্তান সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণের অভিজ্ঞতা ও ধারণাগুলি তাদের কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে শত্রুতা ও বিভাজন ছিল, তা থেকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই, একাত্তরের যুদ্ধের মতো ইস্যুগুলিকে দ্রুত সমাধান করতে হবে, এই বিষয়টিতে সব পক্ষের ঐকমত্য থাকতে হবে।

    আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা। এ জন্য বড় ভাই বা আধিপত্যবাদের মনোভাব একান্তই এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক যেন ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

    পক্ষে ইসহাক দার নিজেকে উপস্থাপন করেন, দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে যদি পুনরায় যুদ্ধ দাঁড়ায়, তবে নদীসহ পানি বিষয়ক নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিখেছে কিভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায়। সম্প্রতি তারা ওষুধ শিল্পে কিছু সহযোগিতা চালু করেছে, যার মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গড়ে তোলা সম্ভব। এরপর সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়, এভাবে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব বলে বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়।

    সার্ক বা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা নিয়ে আলোচনা হয় এবং ভারতের কারণে এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির অবস্থানেও আলোচনা হয়, যাতে করে এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

    সবশেষে, ইসহাক দারকে বলে দেওয়া হয় যে, একাত্তরের সমস্যাগুলো তৎক্ষণিক সমাধান জরুরি। তারা জানান, পাকিস্তান এই বিষয়ে প্রস্তুত এবং দ্রুত সমাধানে সুবিধা হবে। এই আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সদয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

  • সবকিছু এক বছরে ঠিক হবে এমন ভাবা ভুল: মির্জা ফখরুল

    সবকিছু এক বছরে ঠিক হবে এমন ভাবা ভুল: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এখন যে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের কথা বলছি, সেখানে দীর্ঘদিনের অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য ও দুর্নীতি কাটিয়ে একদিনে সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এক বছরের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে পারেন— এ ভাবনাও বাস্তবসম্মত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫৩ বছরে আমরা ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বন করতে পারিনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন একটি সময়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে হঠাৎ করে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’ শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

  • উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’র প্যানেল ঘোষণা

    উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’র প্যানেল ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নতুন স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন উমামা ফাতেমা।

    এই প্যানেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে থাকছেন আল সাদী ভূঁইয়া, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাহেদ আহমদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র ও পাঠচক্র ‘গুরুবার আড্ডা’ সংগঠক।

    অন্য পদে মনোনীতরা হচ্ছেন মুমিনুল ইসলাম (বিধান) — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, নাফিজ বাশার আলিফ — আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সুর্মী চাকমা — কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক, অনিদ হাসান — সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সিয়াম ফেরদৌস ইমন — গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মো. সাদিকুজ্জামান সরকার — ক্রীড়া সম্পাদক, মো. রাফিজ খান — ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, তানভীর সামাদ — সমাজসেবা সম্পাদক, রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা — ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক, ইসরাত জাহান নিঝুম — স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক এবং নুসরাত জাহান নিসু — মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক।

    সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।

    উমামা ফাতেমা এই প্যানেল ঘোষণা করেন। এই প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন কলেজের পাঁচজন শিক্ষার্থী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছয়জন নারী এবং দু’জন আদিবাসী ছাত্র।

    উমামা ফাতেমা বলেন, অনেক পথ পেরিয়ে আজ আমি এই প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। ক্যাম্পাসে আমি ৭-৮ বছর ধরে রয়েছি। জীবনের প্রথম বর্ষে যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি, তখনই আমার ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়। তখন কবি সুফিয়া কামাল হলে পাঠচক্র পদে নির্বাচন করে আমি হেরে গিয়েছিলাম, কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এরপর আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সংগ্রাম চালিয়ে গেছি, কীভাবে ক্যাম্পাসকে আরও নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ করা যায়। আমি আমাদের গণরুম ও গেস্টরুমের অধিকার রক্ষা করতে সংগ্রাম করেছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের কথা এবং মতামত সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া। এই প্যানেল তাদের ভয়েস হয়ে কথা বলার জন্য এসেছে।

  • জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত জমা

    জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত জমা

    জুলাই সনদ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জাতীয় ঐক্যমত সংক্রান্ত কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন। এই আলোচনা মূলত সরকার ঘোষিত নতুন সনদ সংশোধনের জন্য নেওয়া হয়। গত ১৬ আগস্ট, পূর্বের খসড়াতে কিছু ত্রুটি 발견 হওয়ায় সংশোধনী প্রক্রিয়া চালনা করা হয় এবং উন্নত সংস্করণ তাৎক্ষণিকভাবে সকল রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হলো।

    তারপরে, ২০ আগস্ট বুধবার, কমিশন ঘোষণা করে যে সবাই যাতে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারেন, সেই জন্য ২২ আগস্ট বিকেল তিনটা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলো। আজ (২০ আগস্ট) পর্যন্ত, বিভিন্ন দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। জোটে রয়েছে বিএনপি, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামি, জেএসডি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, ১২ দলীয় জোট, গণফোরাম, বাসদ, জাতীয় গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

    অন্যদিকে, সাতটি রাজনৈতিক দল এখনও তাদের মতামত দেননি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আর সময় বাড়ানো হবে না, ফলে সকল দলকে তাদের মতামত দ্রুত জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেন নতুন সনদ কার্যকর করার জন্য সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

  • শেখ হাছিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাছিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা বর্বরোচিত হত্যা ও গুমের জন্য দায়ী। তাঁর শাস্তি তিনি অবশ্যই এই দেশের মাটিতেই পেতে হবে। তিনি বলেন, এই অপরাধের বিচারের জন্য সকল দেশের নাগরিকের মতই তার জন্যও দীর্ঘদিন অপ্রত্যাশিত অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

    শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুমের রহস্য উন্মোচন ও গণশুনানির জন্য গুম কমিশনকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের কান্না বন্ধে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই জনতার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিতা ও নিপীড়িত মানুষের পাশে আছি। আমাদের নেতারা বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় বছরখানেক কারাগারে ছিলেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ বাধ্য হন নির্বাসনে যেতে। এমনকি নেতৃত্বের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা বা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ফলে মনে করা ভুল হবে যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব অন্ধকার ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিএনপি চায় নির্বাচন হবে, এবং সেই মাধ্যমে এসব বিচার সমাপ্ত হবে বলে প্রত্যাশা করে।

    মির্জা ফখরুল বল_CLICKেস, আমাদের অন্যতম দাবি ছিল— গুম ও হত্যার সুবিচার। তিনি অঙ্গীকার করেন, গুম হওয়া শিশুসহ সব ভুক্তভোগীর পাশে থাকবেন এবং যতক্ষণ না ন্যায়বিচার হয়, ততক্ষণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, গুমের শিকার প্রত্যেকের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তিনি আশ্বস্ত করেন, পরিবারগুলো নিরাশ হবেন না। জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি— এর প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে যারা পিতা, ভাই বা সন্তান হারিয়েছেন, তারা নিশ্চিত ন্যায়বিচার পাবেন। এই আন্দোলন সত্যিই মর্মস্পর্শী এবং দেশের নির্যাতিত পরিবারগুলোকে একটি আশার আলো দেখিয়েছে।

  • নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এখনও উপযোগী নয়: তারেক রহমান

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এখনও উপযোগী নয়: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এখনও উপযুক্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনে এই পদ্ধতি নিয়ে বহু মতবাদ এবং বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের একটি জটিল আর্থ-সামাজিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি নির্বাচন করার উপযোগিতা নেই। মানুষের অন্যতম অধিকার হলো নিজ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করে সংসদে পাঠানোর বিষয়টি জানা। কিন্তু প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে এতে সরাসরি স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা অনেকটাই অনুপস্থিত।

    তিনি মন্তব্য করেন, আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল জন্মাষ্টমী উপলক্ষে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে জাতীয় সংসদ বা সরকারে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জনগণের কাছে গিয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন আদায় করতে হয়। পিআর পদ্ধতি এবং কিছু অন্যান্য ইস্যুতে বিরোধী মতের জন্যতা থাকলেও এই ধরণের ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলছিলেন, যেসব ব্যক্তির ক্ষমতায় আসার প্রবণতা রয়েছে কিংবা এবারের নির্বাচনের পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তারা গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদি এই জটিলতা আরও বাড়ে, তাহলে স্বৈরাচার ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্রের পথে হাঁটছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভবত ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নানা ধরনের মন্তব্য ও শর্ত দেয়া বরাবরের মতো ভোটের পরিবেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    বিএনপির এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে জনগণ নিজেদের পছন্দের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এরই প্রতিরোধে কিছু স্বৈরাচারী গোষ্ঠী বিভিন্ন শর্ত আরোপের মাধ্যমে ভোটের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতি যেন রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা হয়, জনগণের ওপর আস্থা রাখতেই হবে। বিএনপি যদি জনগণের রায় পায়, তবে তা রুখে দেয়ার ক্ষতিকর চেষ্টা না করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেই বিরোধ কখনো পরস্পরের অপকর্ম আড়াল করার জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। সব বিষয়েই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, বিশেষ করে স্বৈরাচারী শক্তি পুনর্বাসন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়।

    অর্থাৎ, তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সকলের জন্য সমান অধিকারের স্থান, সেখানে কে কি দেশের নাগরিক, ধর্ম বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই সমান। দেশের সবাই আইন অনুযায়ী সকল হক ভোগ করবেন, এটাই বিএনপির মূল নীতি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন দলের অন্য নেতারা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। অতিথিরা সকলেই দেশের স্বার্থে ঐকমত্য ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

  • জামায়াতের ঘোষণা: নির্বাচন নিশ্চিত করতে এনসিওর দাবি

    জামায়াতের ঘোষণা: নির্বাচন নিশ্চিত করতে এনসিওর দাবি

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো নির্বাচনকে সময়োপযোগী ও সুষ্ঠু করার জন্য এনসিওর করা। এই কথা সোমবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। জামায়াতের এ নেতার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে তারা সব বক্তব্য সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য ইসিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে চাইলে সন্ত্রাস এবং অনিয়ম বন্ধ করতে হবে এবং ভোটের জন্য পিআর পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। সবাই সব দাবি না রাখতে পারে, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিই জাতির জন্য উপকারী বলে তিনি মনে করেন। জেলেদের সমর্থনে তিনি বলেন, জনগণ যদি এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়, তাহলে এটি দেশের জন্য কল্যাণকর। তিনি উল্লেখ করেছেন, জামায়াত মাঠে থাকবে এই দাবি নিয়ে, পাশাপাশি নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তুতিও সম্পন্ন করবে। প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছি।’ পিআর (সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি) ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে- এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি, তবে জানান, নির্বাচনের ব্যাপারে তারা সবসময়ই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত, আমরা ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সচেতন। এই পদ্ধতিও আমরা মনে করি দেশের জন্য খুবই উপকারী। এটি ভোটার মূল্যায়নে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা বাড়াবে।’ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, তারা বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই মতো, তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং মাঠে-ময়দানে জনমত গড়ে তুলছে। এর আগে, রোববার (২০ আগস্ট) জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ইসির সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।

  • জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব

    জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব

    নতুন বাংলাদেশের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে জুলাই সনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং সেটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সংবিধানে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য নেই। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) অনুসারে সংসদের উভয় কক্ষে নির্বাচন চান। তারা মনে করে, পিআর ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য ক্ষতিকর হবে। অনায়াসে এই পদ্ধতিটি চালু হলে, জনগণের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি কমে আসবে বলে তাদের ধারণা। জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন কার্যকর হবে না। তিনি ঘোষণা দেন, তারা যথাসাধ্য এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন। অন্যদিকে, দলের আরেক নেতা ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, মধ্যবর্তী সরকারের সময়ে উচ্চকক্ষের কয়েকটি প্রস্তাবে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন প্রস্তাব এসেছে, তবে তারা উচ্চ কক্ষের পাশাপাশি নিম্নকক্ষেও পিআর দেখতে চান। কারণ, শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে পিআর থাকলে এর প্রভাব কম হবে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জনগণের স্বার্থে গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্বাচন আগে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবাই একমত হলে, জুলাই সনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংস্কারগুলো কার্যকর করতে হবে এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়িত হবে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলছেন, সংখ্যানুপাতিক সংস্কার বা পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচন যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়। তিনিWarning দেন, এমন নির্বাচন হলে দেশ আগের মতো জাহিলিয়াতের দিকে ফেরত যাবে। অন্যদিকে, মুজিবুর রহমান জানান, যদি নির্বাচন আগের মতো হয় এবং সংস্কার হয় না, তবে জুলাই আন্দোলন ও ছাত্রপরিষদের রক্ত বৃথা যাবে। সে কারণেই, তিনি বলছেন, সংস্কার ও পরিবর্তনের পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উত্তম। প্রতিপক্ষের মতে, সংস্কার না থাকলে নির্বাচন হবে অনির্দিষ্ট ও অকার্যকর, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

  • নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির উপযোগিতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ: তারেক রহমান

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির উপযোগিতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ: তারেক রহমান

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এখনও উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পদ্ধতি হিসেবে পিআর নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক মানদণ্ডে এই পদ্ধতিটি এখনও পুরোপুরি উপযোগী নয়। জনগণের অধিকার রয়েছে যেন তারা নিজেদের ভোটে কাকে বা কার প্রতি বিশ্বাস করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাঠাচ্ছেন, কিন্তু প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে এ বিষয়টি জনসমর্থনের জন্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়া কঠিন।

    আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করা হয় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যদি জাতীয় সংসদ বা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে অবশ্যই জনগণের সাথে সরাসরি সাক্ষাত ও আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে তাদের রায় পান। বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি হচ্ছে পিআর, তবে এই পদ্ধতিতে কিছু রাজনৈতিক মতভেদের বিষয় রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য স্বাভাবিক। এ সকল ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে যারা আসন্ন নির্বাচনের পরিস্থিতিকে ঘোলা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা আসলে গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছেন। পাশাপাশি যদি শর্তের পর শর্ত আরোপ করে নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়, তাহলে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর পথ সুগম হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাষ্ট্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী নানা মন্তব্য ও শর্ত দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

    বিএনপি নেতা আরও বলেন, যদি জনগণ সত্যিকারভাবে ভোট দানে এগিয়ে আসে, তাহলে তারা বিএনপিকে সরকারি দায়িত্ব নিতে পারবে। তবে স্বৈরাচার বিরোধীরা ভোটের মুক্ত পরিবেশ ঠেকাতে অজ্ঞান অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপির বিজয় ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। দেশকে একন execution সরকারের মতো পরিচালিত করে দুর্বার জেলখানায় রূপান্তরিত করার ইতিহাস রয়েছে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যারা মনে করেন, নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবে, তারা ভুল ভাবনা ভাবছেন। এই পরিস্থিতিতে যারা বিএনপির জয় রুখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, রাজনীতি মোকাবিলা করতে রাজনীতি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর বিশ্বাস রাখুন। বিজয় জনগণের, তাই তাদের রায় রুখতে বাধা দেওয়া ভুল।

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধগুলো যেন পরস্পরের অপকারে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে প্রচুর গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেক দল একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন শুধু গোষ্ঠী বা দলের নয়— এটি আমাদের সবার। এই বাংলাদেশ আমাদের, আপনারা, আমি, সব নাগরিকের গর্বের জায়গা। সব মানুষ, ধর্ম, গোষ্ঠী নির্বিশেষে এই দেশের নাগরিকরা সমান অধিকার ভোগ করবেন, এটি বিএনপির মূলনীতि।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন ও দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহসংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, নিপুণ রায় চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য তপন চন্দ্র মজুমদার, এসএন তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য, পূজা উদযাপন ফ্রণ্টের জয়দেব জয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইসচেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদসহ আরও অনেকে।