Category: রাজনীতি

  • ফ্যাসিবাদ রুখতে সংবিধান আর লিখিত বিধি যথেষ্ট নয়: তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ রুখতে সংবিধান আর লিখিত বিধি যথেষ্ট নয়: তারেক রহমান

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সংবিধান কিংবা লিখিত বিধি-বিধান দিয়েই ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে শক্তিশালী জনগণের উপস্থিতি আবশ্যক। তিনি বলেন, জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতেই হবে, তখনই হয়ত ফ্যাসিবাদের বিকল্প নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির নির্বাচন শুরু হওয়া থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জনগণ যদি কল্যাণমূলক এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হন, তাহলে রাষ্ট্র এবং সরকার বিশ্লেষণীয় শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং শর্ত আরোপ করে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভেদ এড়ানোর আর্জি জানিয়ে বলেন, একাত্তর ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম, আর চব্বিশ ছিল স্বাধীনতা রক্ষা করার লড়াই। শহীদদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে থাকা এক ফ্যাসিস্টের পতন ঘটে, আর এখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে। এর ফলে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য অবহেলিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ে তোলাই এখন মানবিক লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য, যাতে শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হয়।

    তিনি তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশে করে বলেন, কথার রাজনীতি নয়, কাজে মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রচলিত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। প্রতিহিংসা বা ফ্যাসির রাজনীতি বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অंतত, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে তিনি জানান, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যেন শামিল না হন, যা জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। দলের অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখতে ও দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবকিছুতে সচেতন থাকতে হবে।

  • ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা, ভিপি আবিদুল ও জিএস তানভীর

    ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা, ভিপি আবিদুল ও জিএস তানভীর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের নির্বাচনী প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেলে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আবিদুল ইসলাম খান, জিএস পদে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস পদে আছেন তানভীর আল হাদী মায়েদ।

    বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাশে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, আন্দোলন চলাকালীন ১৫ জুলাই ঢাবিতে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্যানেলের গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে তারা প্রার্থী দিচ্ছে না।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে মনোনয়ন পেয়েছেনঃ
    – মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক : আরিফুল ইসলাম
    – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক : এহসানুল ইসলাম
    – কমনরুম, পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক : চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা
    – আন্তর্জাতিক সম্পাদক : মো. মেহেদী হাসান
    – সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক : আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান
    – গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক : খালি (সানজিদা আহমেদ তন্বীর সম্মানে)
    – ক্রীড়া সম্পাদক : চিম চিম্যা চাকমা
    – ছাত্র পরিবহন সম্পাদক : মো. সাইফ উল্লাহ (সাইফ)
    – সমাজসেবা সম্পাদক : সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক
    – ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক : মো. আরকানুল ইসলাম রূপক
    – স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক : আনোয়ার হোসাইন
    – মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক : মো. মেহেদী হাসান মুন্না

    সদস্য পদে নির্বাচিত হবেন : মো. জারিফ রহমান, মাহমুদুল হাসান, নাহিদ হাসান, মো. হাসিবুর রহমান সাকিব, মো. শামীম রানা, ইয়াসিন আরাফাত আলিফ, মুনইম হাসান অরূপ, রঞ্জন রায়, সোয়াইব ইসলাম ওমি, মেহেরুন্নেসা কেয়া, ইবনু আহমেদ, সামসুল হক আনান ও নিত্যানন্দ পাল।

    সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসির শিক্ষকদের ও আওয়ামী দোসর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।

  • অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪ নামে প্যানেল দিল তিন ভিন্ন বিরোধী ছাত্রসংগঠন

    অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪ নামে প্যানেল দিল তিন ভিন্ন বিরোধী ছাত্রসংগঠন

    আজ বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন তাদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সমর্থিত নেতারা। ঘোষণা অনুযায়ী, এই ১৫ সদস্যের প্যানেলের বাইরে আরও সদস্য সংযুক্ত হবে পরে। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার এই প্যানেলটি ঘোষণা করেন। এই প্যানেলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪’। এতে প্রধান প্রার্থীরা হলেন, বিতর্কিত ভিপি পদে নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক পদে এনামুল হাসান অনয় এবং অ্যাসিস্টেণ্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে অদিতি ইসলামের নাম। এসব পদে তারা নির্বাচিত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্যানেল নতুন উদ্যোগে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

  • দেশ যেন চরমপন্থি ও মৌলবাদের কেন্দ্রবিন্দু না হয়: তারেক রহমান

    দেশ যেন চরমপন্থি ও মৌলবাদের কেন্দ্রবিন্দু না হয়: তারেক রহমান

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে কখনোই চরমপন্থি ও মৌলবাদের অভয়ারণ্য হিসেবে রূপান্তরিত হতে দেব না। তাঁর এই প্রত্যাশা সব দলের ও জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়। তিনি বলেন, দেশের মালিকানা শুধুমাত্র জনগণের হাতে, তাই ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের বিকাশে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্র উত্তরণে কবি সাহিত্যকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানুষ ভোটের অধিকার রক্ষা করে শুধু ভোটাধিকার কেই নয়, সেই সাথে মুক্ত আকাশে বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার সামর্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।

    প্রজন্মের গণআন্দোলনের উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যে স্বৈরাচার দেশের জনগণ কিছুদিন আগে বিতাড়িত করেছে, সেই স্বৈরাচারের আবার ফিরে আসা রোধে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং বিভিন্ন মতাবলম্বী কবি-সাহিত্যিকেরা দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এককভাবে ভিন্ন হলেও মূলত লক্ষ্য একই।

    তারেক রহমান কবি-সাহিত্যিকদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা সাধারণ মানুষের অনুভূতি সুন্দর করে তুলে ধরেন এবং শিল্পীদের মতো দেশের মেধা ও মনোভাবের প্রতিচ্ছবি। তিনি শেক্সপিয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, তাঁরা নিজেকে জাতির মুখপাত্রে পরিণত করেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘প্রথম বাংলাদেশ’ গানকে দলের সঙ্গীত করার পেছনেও এই উচ্চতার অনুপ্রেরণা ছিল, বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান কবি নুরুল ইসলাম মনি ও অন্যান্য কবি-সাহিত্যিক ও দলের নেতাকর্মীরা।

  • জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন চায় জামায়াত-এনসিপি, বিএনপি ভিন্ন অবস্থানে

    জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন চায় জামায়াত-এনসিপি, বিএনপি ভিন্ন অবস্থানে

    রাজনৈতিক দলগুলো বহু দফা আলোচনা শেষে জুলাই সনদের খসড়া প্রস্তুত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে পাঠিয়েছে। এই কমিশন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জুলাই সনদ ঘোষণার পরিকল্পনা করছে, তবে বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বৈচিত্র্যময় মতবাদ ও সংকটের মুখোমুখি হয়েছে দলগুলোর মধ্যে। বিবিসি বাংলার রিপোর্টে জানা গেছে, বিএনপি মনে করে, নির্বাচিত সংসদই এই সনদ বাস্তবায়ন করবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ ভাষ্য দিয়েছেন, এই সনদ গঠনে গণভোট বা গণপরিষদ নির্বাচন কিংবা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকরী আদালতের রায় ও প্রাধান্য থাকবে। ফলে, এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর মতামতের দিকে তাকিয়ে আছে। সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “এ সিদ্ধান্ত আসলে রাজনৈতিক দলগুলোরই সিদ্ধান্ত, আমরা কোনো চাপ প্রয়োগ করব না।” এছাড়াও, তারা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিএনপি যদিও এর আগে অনড় অবস্থানে ছিল, এখন তারা আলোচনায় আগ্ৰহী বলে জানিয়েছে। বিএনপি স্ট্যান্ডার্ড কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা মনে করি, এ আলোচনা মধ্য দিয়ে একটা সমাধানে আসা সম্ভব। আমরা অংশগ্রহণ করব।” অন্যদিকে, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর মেনে নেয়া এখন বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি। তারা দ্রুত এই সনদ গণভোট বা গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার তাগিদ দিচ্ছেন। দীর্ঘ আলোচনার পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর মতামত ও যৌথ ধারণা অনুযায়ী খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এই সনদ তৈরি করা হয়েছে। এই সনদ প্রচলিত আইন বা আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে প্রাধান্য পাবে এবং এর জন্য একটি বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের লক্ষ্য, এই সনদের আইনি ভিত্তি দৃঢ় করিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার অপশন বন্ধ রাখা। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। জুলাই সনদকে সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য আইনি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সৃষ্টি করা হয়েছে। অধ্যাপক রীয়াজ বলছেন, “সাবেক বিচারপতি, আইনের শিক্ষক, সিনিয়র আইনজীবীদের মতামত নিচ্ছি। তাদের কাছ থেকে এখন একটা অপশন আসবে।” এই প্যানেল জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দেবে, যা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য উপস্থাপন হবে। এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি আগামী ২৫ অগাস্টের পরে দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। রীয়াজ যোগ করেছেন, “আগামী সংসদে কীভাবে আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা যাবে, সেটাই মূল বিষয়। এ ক্ষেত্রে, জুলাই সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে তা সংসদ নির্বাচনের আগে বা পরে কার্যকর হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” সম্প্রতি, ৫ अगस्त অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণাপত্রে জুলাই বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও কিছু দল, যেমন এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী, এই ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করছে এবং বলে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অচিরে গণভোট বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা দরকার। মূলত, ঐকমত্য কমিশন প্রথমে যে খসড়া অঙ্গীকারনামা তৈরি করে ছিল, তা অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকারের দুই বছরের মধ্যে এই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত এবং যে বিষয়গুলো একমত হয়েছে, তা আসলে পরবর্তী সংসদই বাস্তবায়ন করবে।” অন্যদিকে, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামিক আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ এই সরকারের সময়েই গণভোট বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন চায়। এনসিপি বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অনেক প্রাণহানির পর যে সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি হচ্ছে, যদি তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার বাস্তবায়নের ব্যাপারে শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “জুলাই সনদকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইনি ভিত্তি দিয়ে গঠিত হওয়া উচিত। গণপরিষদ নির্বাচনই আমাদের মূল সমাধান। যদি বর্তমান সরকার এই সনদকে আইনিভাবে মঞ্জুর না করে বাধা দেয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।” একই অবস্থানে আছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও। তারা বলছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংস্কার জরুরি এবং এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি। এজন্য, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন অপরিহার্য। না হলে আমাদের আন্দোলনে নামো লাগবে।” তবে বিএনপি এই বিষয়ে একটু কৌশলী রূপে অবস্থান নিয়েছে। তারা জানায়, চলতি মাসে আলোচনার জন্য যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তাতে অংশ নেবে এবং প্রস্তাবনা শুনবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে যাব। তারা কি প্রস্তাব দেয়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে, আর বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো বিকল্প প্রস্তাব আসে কি না সেটাও দেখা হবে।” এরপর, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও কিছু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে গেছে। প্রথম পর্বে ৮৪টি বিষয় নিয়ে ঐকমত্য হয়, যেখানে বেশ কিছু প্রস্তাবের ওপর ভিন্ন মত থাকলেও বেশির ভাগ সিদ্ধান্তে ঐকমত্য প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে আরও ২০টি মৌলিক সংস্কার বিষয় আনা হয়, যার মধ্যে ১১টি বিষয়ে ঐকমত্য-মত ও ৯টি বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশিত হয়। সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “এই জুলাই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক ডকুমেন্ট, যা ঐকমত্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে।” তবে, এই খসড়ায় কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে দলগুলো একমত নয়, সেগুলোর বিস্তারিত দলগত নোট অব ডিসেন্ট দেয়া হয়েছে। সবশেষে, বিবিসি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়া ও আলোচনা চলছে এখনো, যেখানে রাজনৈতিক মতামত ও আইনি দিক ধারাবাহিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • জামায়াতের দাবি, আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চায় ডা. তাহের

    জামায়াতের দাবি, আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চায় ডা. তাহের

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুলাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আপনি বলেছেন, সংস্কার সম্পন্ন হলে নির্বাচন হবে। তাহলে এখন কেন সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছেন? আমরা কি ৩০ দিন চড়ুইভাতি খেলার জন্য গিয়েছিলাম? এটা কি কোনও খেলা বা হাড্ডুডু? আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বের। আমরা বিষয়টিকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি।’

    রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন, যেখানে দলের ‘জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা হয়।

    সৈয়দ আব্দুলাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা বহুবার বলেছি, সংস্কার করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন—সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এবং তারপর নির্বাচন। আমরা সেই কথায় আছি। তবে আপনি এখন শুধু কমিশন গঠন করে দিয়েছেন, বাস্তবায়ন করেননি। আমরা বারবার ঐকমত্যে পৌঁছেছি, এবার তার বাস্তবায়নের দায়িত্বও আপনার। আপনি বাস্তবায়ন না করেই তারিখ ঘোষণা করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তারিখের ব্যাপারে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি না। আমি অনুরোধ করবো—তারিখটি আগাহে নিয়ে আসুন, যেন তা ১৩ ডিসেম্বর হয়। জামায়াতে ইসলামী চাই আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ।’

    উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অসুবিধা থাকলেও, আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। ডিসেম্বর, জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি—যে কোনও মাসে নির্বাচন হলেও কোনও সমস্যা নেই। এর জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত।’

    তাহের বলেন, ‘এখন কি এটা কোনও খেলা? জনগণের আন্দোলনের ফলে যাদের উপর আস্থা রেখে জাতি তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, আজ সেই লোকেরা জাতির প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ।’

    তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাদের মর্মে অন্তর্দৃষ্টি থাকা উচিত। জনগণ কি মরে গেছে? অতি জরুরি অবস্থায়ও জনতার ভোটের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। ওরা যে কোনওভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে—সেজন্য আমরা সবাই সাবধান থাকি।’

  • ফজিলাতুন্নেছা হলে মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি ছাত্রদলের অভিযোগ

    ফজিলাতুন্নেছা হলে মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি ছাত্রদলের অভিযোগ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্বাচন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ওপর বাধা এবং বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন হল থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা পেয়ে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বাধ্য হন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিত মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নামকরণ হওয়া এই হলের নির্বাচনে এ ধরনের অশান্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক বলে তারা দাবি করেন।
    সংগঠনের নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দরকার। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাসর্বোচিত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অঘটন আর না ঘটে। সংগঠনটি পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করে, কিছু অসাধু ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার ও বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
    নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, অভ্যুত্থানের পর বছর পার হয়েও এখনও কিছু ছাত্রলীগের ক্যাডার বিভিন্ন হলের মধ্যে অবস্থান করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আবার মালিহা বিনতে খান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রদল আহ্বায়ক, জানান, হলের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই এবং তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে কিছু শিক্ষার্থী বাধা দেয় এবং গায়ে হাত তোলারও চেষ্টা করে। তিনি প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
    সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিরপেক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অশান্তি আর না ঘটে।

  • শিবির ঘোষণা করছে ডাকসু নির্বাচনের প্যানেল

    শিবির ঘোষণা করছে ডাকসু নির্বাচনের প্যানেল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনের এই ঘোষণা অনুযায়ী, ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে মনোনীত হয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান শিবির শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ, এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাখার সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান।

    ১৮ আগস্ট সোমবার, মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহের পর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এই প্যানেল ঘোষণা করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ২৮ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্যানেলে ভিপি হিসেবে আবু সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এস এম ফরহাদ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মহিউদ্দিন খান মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া, ফাতিমা তাসনীম জুমা, যারা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ইনকিলাব মঞ্চ থেকে যুক্ত, তারা প্যানেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    বিভিন্ন পদে অন্যরা হলেন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার; কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা; আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসীম (যিনি এই বছরের জুলাইয়ে চোখ হারানোর ঘটনা ঘটিয়েছেন); সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাব্বির; ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন; ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ; সমাজসেবা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মুয়াজ; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান; ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ; মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া। এছাড়া, আরও ১৩টি পদও রয়েছে এই প্যানেলে।

  • মধ্যরাতে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

    মধ্যরাতে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

    চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

    এরপর সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়ে চকবাজার থানা ও আশেপাশের এলাকা। সংঘর্ষে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ আলাদাভাবে অবস্থান নিয়ে থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উভয়পক্ষকে নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    ঘটনার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দাবি, কয়েকদিন আগে যুবদলের কয়েকজন অনুসারী চাঁদাবাজি করতে গেলে মহসিন কলেজের শিবির নেতা আরিফসহ কয়েকজন তাদের ধরে পুলিশে দেয়। এ ঘটনার ক্ষোভে আরিফকে একা পেয়ে ছাত্রলীগ বলে থানায় নিয়ে যায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা। খবর পেয়ে তাকে ছাড়াতে যায় শিবিরের নেতারা।

    অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, ছাত্রলীগের একজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। শিবিরের নেতারা তাকে ছাড়াতে যায়।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, এক ছাত্রকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করার ঘটনায় ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছি। 
     
    চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শিবিরের প্রচার সম্পাদক সিরাজী মানিক বলেন, চকবাজারে ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে।
     
    মহানগর উত্তর শাখা শিবিরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, আরিফুল ইসলাম নামে আমাদের একজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে চকবাজার থানায় গেলে যুবদলের বহিস্কৃত নেতা এমদাদুল হক বাদশার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা থানায় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
    নগর ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি থানায় বৈঠকে রয়েছেন বলে জানান।

  • ফেনীতে বন্যার ত্রাণ নিয়ে প্রশ্ন, উপদেষ্টার থেকে হিসাব জানতে বললেন সারজিস

    ফেনীতে বন্যার ত্রাণ নিয়ে প্রশ্ন, উপদেষ্টার থেকে হিসাব জানতে বললেন সারজিস

    ফেনীতে ২০২৪ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় দুর্গত মানুষের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে তোলা ত্রাণের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি, এমন অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২১ জুলাই) রাতে ফেনী সফরে গেলে এ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    শুরুতে সারজিস গণমাধ্যমের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরায় বিমান ট্র্যাজেডির কারণে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সার্কিট হাউসের প্রবেশমুখে গাড়ি থেকে নেমে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন, মিডিয়া কখনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী বা কারো পক্ষের হয়েই কথা বলবেন না। পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন। বাংলাদেশে আপনি যদি ফেরেশতাও হন, তারপরও কিছু লোক আছে, যারা আপনাকে শয়তানের তকমা দিবে। কারণ এখানে তার ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তি উদ্দেশ্য রয়েছে।

    টিএসসির গণ-ত্রাণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি এক বছর আগের আলাপ। টিএসসিতে আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের যত টাকা উঠানো হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক একটি ফার্মের মাধ্যমে অডিট করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। পাই টু পাই টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যে ফান্ড রয়েছে সেখানে জমা দিয়েছি। কারণ এখানে কাজ করার মতো আমাদের সেই লজিস্টিক ও জনবল ছিল না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের কথা। এর আগে এমন কাজ করার অভিজ্ঞতাও আমাদের নেই। এতে টাকাগুলোর অপব্যবহার হতে পারতো। এ টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য সরকারের ফান্ডে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের জনবল, দপ্তর ও নির্দেশনার ধারাবাহিকতা রয়েছে।’

    ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করার কথা বলে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের ওপর আস্থা না রাখি, তাহলে কার ওপরে রাখব? এটি তো আওয়ামী লীগের মন্ত্রণালয় না। এটি অভ্যুত্থান পরবর্তী ড. ইউনূসের মন্ত্রণালয়। এখন প্রশ্নটি কাকে করবেন।’

    তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন করবেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যে উপদেষ্টা রয়েছে, তাকে। জিজ্ঞেস করবেন, আপনাদের অভ্যুত্থান পরবর্তী যে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন করেছে, তারা ৯ কোটি বা যে টাকা দিয়েছে সেখান থেকে আপনি ফেনীর জন্য কত টাকা খরচ করেছেন, কত টাকা করেননি এটির হিসাব দেন।’

    এনসিপির কেন্দ্রীয় এ নেতা আরও বলেন, ‘সামনে আরও বেশি পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এটির জন্য লজিস্টিক সাপোর্টসহ যা যা তৈরি করা প্রয়োজন, সেটি আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে বুঝে নেবেন। আমরা ফেনীর সচেতন নাগরিক সমাজকে অনুরোধ করব, আপনারা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে এটি জানতে চাইবেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে ফেনীর যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যিনি উপদেষ্টা তার সঙ্গে কথা বলে এ টাকা খরচ করা হয়েছে কিনা খবর নেবেন। যদি না হয়, কেন হয়নি বা যদি এর বেশি হয় তাহলে সেই খরচের বিস্তারিত বিবরণ যেন ফেনীর মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন, সেই বিষয়ে বলবেন।’

    এ সময় এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত, কেন্দ্রীয় সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, জাহিদুল ইসলাম সৈকতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, গেল বছর ফেনীর ভয়াবহ বন্যার সময়ে টিএসসিতে তোলা গণ-ত্রাণ কর্মসূচির টাকা যথাযথভাবে খরচ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানুষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা।