Category: রাজনীতি

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সুষ্ঠু ও অপক্ষু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের সংস্কার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনাদের কি সত্যিই সংস্কার চাচ্ছিলেন না? তিনি আরও বলেন, এই সময়ে নানা বিভ্রান্তি ও অসংগতি হচ্ছে। আমাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেওয়া উচিত, যাতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব হয়।

    আমাদের কাছে ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, তবে এখনো পরিষ্কার করে বলা হয় নি, নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে। আমরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেকর্ড) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের অপরাধে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে এবং ভোট জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।

    প্রধান বক্তা আরও বলেন, যারা এই পদ্ধতিটি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতভেদ নিরাপদ নয়; এটা দেশের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে।

    তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আগে সরকারের দেওয়া তারিখে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি শেষবারের মত এই বললেন, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে, আগে যেসব বাধা রয়েছে তা মোকাবিলা করে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    দ্বৈত রাজনৈতিক দলের একজন বা একাধিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কারো কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন, আলোচনা করি। কোনোরকম বিভাজন বা বিভ্রান্তি না ঘটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আলোচনা ও আলোচনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। রাজনীতি ক্ষেত্রে এসব বিভ্রান্তি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, সেটা গুম-খুনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেও এগিয়ে চলছি। এক জন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়, তবে গুম রহিত করতে, অপরাধ নির্মূল করতে আমরা কোন রকম প্রয়াস নিতে পিছুপা হবো না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না। ২৯ আগস্ট, শুক্রবার, আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মা’য়ের ডাকের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার ভাগ্য ভাল আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি; আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি। অবিবেচকভাবে অতীত সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অনুশোচনার অভাব থাকার পাশাপাশি তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু জনগণ তাদের রাজনীতিতে যেমন আকৃষ্ট হবে না, তেমনি ক্ষমা করবে না। তিনি আরও বলেন, দু-একটি দল ধর্মের ভঙ্গিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে, যেখানে কোনো সংশয় থাকলে আলোচনা হওয়া উচিত। ঐক্য ভাঙার অপচেষ্টা বন্ধ করে বাস্তব আলোচনা প্রয়োজন। পরে আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গুমের শিকার হওয়া কয়েকজনকে জীবিত ফিরে পেয়েছি। তবে আরও অনেকের দাবি রয়ে গেছে, যারা এখনও ফিরতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়, যারা গুম হয়েছে তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে সব আশ্বাস অপূর্ণই রয়ে গেছে। গুম হওয়া শায়রুল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হই। ঐ সময় আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, আমরা পাঁচজন গুম ছিলাম। তার মধ্যে আমি ও একজন নিরাপদে ফিরে আসি, অন্যরা এখনও অনিশ্চয়তার মুখে। আমি তখন একটি অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে জেল খেটেছি, যার কারণে আমি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার দাবী, এই মামলার থেকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি, আমি বলবো, যারা গুমের শিকার তারা এখনো ফিরেনি, যারা করেছিল তারা এখনো দায়িত্বহীন। এছাড়া, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ, পরে হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবা চায়ের দোকান থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে অনেক নির্যাতনের শিকার হন। এতটাই মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে বাবা মারা যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাবাকে আটকের সময় থেকে শুরু করে নির্যাতনের বিভীষিকা সহ্য করতে হয়েছে। এই সব দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন সজল ও তার পরিবারের সদস্যরা।

  • তাহেরের মূল্যায়ন: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভন্ডুলের নীলনকশা

    তাহেরের মূল্যায়ন: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভন্ডুলের নীলনকশা

    নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আবুল্লাহ মাহমুদ তাহের মন্তব্য করেছেন, এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ভন্ডুলের পরিকল্পনা। তিনি আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সম্মেলনে এই মত প্রকাশ করেন।

    ডা. তাহের বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য বিএনপি কোনও আপত্তি করছে না। আমরা সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে একটি সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠ, অবাধ ও অবিচল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই চার্টারকে বৈধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া, যাতে ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। কিন্তু এই বিষয়গুলোর উদ্যোগ না নিয়ে যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি পুরোপুরি মনোযোগী নয় এবং এটিই সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের চক্রান্ত বলে মনে করেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবে জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। পাশাপাশি, অপার ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর এর মধ্যে কোনটি নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ধারণ না হওয়ার পর্যন্ত রোডম্যাপ কার্যকর হবে না। তিনি ভোটারদের প্রতি এই ধরনের অসাধুচরণে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

    এছাড়াও, তাহের বলেন, বাংলাদেশে জনগণ সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রতীক্ষায় রয়েছে। যদি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ভারতীয় আভ্যন্তরীণ অপ্রতিরোধ্য প্রভাবের বিরুদ্ধে শক্তিশালী গণজোয়ার তৈরি হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।

    প্রধান অতিথি হিসেবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • বের হয়ে গেলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই মাইনাস: সালাহউদ্দিন

    বের হয়ে গেলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই মাইনাস: সালাহউদ্দিন

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের বিষয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই এক ধরনের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, তবে যারা বাহানা দিয়ে নির্বাচন বয়কট করবে, তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নিজেকে মাইনাস করে ফেলবে।

    আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে گفتگوকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কিছু কিছু দল বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে; এটা তাদের কৌশল হতে পারে। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করি। এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হবে।”

    গণপরিষদ বা পিআর প্রতিষ্ঠার দাবিকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল বলেও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এটি মাঠ গরম করার জন্য একটি রাজনৈতিক বক্তব্য।”

    দেশে নির্বাচনি উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাইয়ে ধারণা করা কিছু বিষয় অযৌক্তিক মনে করেছে বিএনপি। বিকল্প প্রস্তাব ও আলোচনার জন্য তারা কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করবে।”

    বিএনপির শীর্ষ এই নেতা আরও বলেন, “সংবিধানের ওপরে যা কিছু থাকবে, তা মানা হবে না। তবে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সাংবিধানিক সংস্কারগুলোর জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেগুলো সম্মতিতে সম্ভব। কিছু সংস্কার আজই কার্যকর হলে কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা নির্বাচনের পরে বাস্তবায়ন করা হবে।”

    সালাহউদ্দিন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে কোনো জটিলতা চায় না বিএনপি। সবার ঐক্যমতে এই সরকার গঠিত হয়েছে, এবং তত্ত্বাবধায়কের বিষয়টি পুনর্বহাল হলে পরবর্তী নির্বাচনে সেটা কার্যকর হবে। এই সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন হবে, অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই।”

    ভোটের সময় কোনো রাজনৈতিক জোট নিয়েও তিনি জানান, “জামায়াতের সঙ্গে জোটের امکان নেই। তবে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তারা অন্যদের সঙ্গে জোট করতে পারেন। ভবিষ্যতেও তারা থাকতে পারে।”

    অতিরিক্তভাবে, তিনি জানান যে, কয়েকটি ইসলামি ঘরনার দলও তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। বলেন, “তাদের সঙ্গে জোট হতে পারে, তবে এখনই চূড়ান্ত নয়। বিগত আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে, এবং সেখানে জোটের সম্ভাবনা রয়েছে।”

  • বিএনপির শোকজ এডভোকেট ফজলুর রহমানের অপ্রদোষ কথার কারণে

    বিএনপির শোকজ এডভোকেট ফজলুর রহমানের অপ্রদোষ কথার কারণে

    বর্তমানে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও বেফাঁস বক্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির উপদেষ্টা এডভোকেট ফজলুর রহমান। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামপন্থী দলগুলোর বিষয়ে অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্যের কারণে বিএনপি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।

    বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৪ আগস্ট) বিকালে তার বক্তব্যের পরেও দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলটির পক্ষ থেকে আগ্রহের সঙ্গে জানানো হয়, এই নোটিশে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আপনি সম্প্রতি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিষংস্কারপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা শত্রুরা অপপ্রচার হিসাবে ব্যবহার করছে। আপনি শহীদদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা দলীয় আদর্শ এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। আপনার এসব বক্তব্য জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং মহামানবত্তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে wielu মনে করছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    নোটিশে আরও বলা হয়, এই সময়ে হাজারো নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, অনেক গুরুতর আহত হয়েছেন, এই বীরজনাদের অবমাননা করে আপনি নানা বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্য করেছেন। আপনি কেন এই ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্যের জন্য দায়িত্বে থাকবেন না, তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিতে বলা হয়েছে।

    অতীতে, এই বিতর্কিত মন্তব্যগুলোর জন্য ফজলুর রহমান সর্বপ্রথম আলোচনায় আসেন ৫ আগস্ট, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সেই সময় বলেছিলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, যারা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, এই সংগঠন তরুণ সমাজকে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করছে, এবং দেশের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব এখন সার্বজনীন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক শক্তি দিন দিন আরও বিকশিত হচ্ছে ও সামাজিক ও প্রশাসনিক স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এরপর তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হলে বিএনপি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ফিরে ক্ষমতায় যেতে পারে।

    এছাড়া, তিনি বলছিলেন যে, জামায়াতের জনসমর্থন বর্তমানে কমে গেছে, তবে তারা নিজেদের ছায়া-সরকার গঠন ও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে। দেশবাসীর কাছে তারা বেশ শক্তিশালী মনে করছে, যদিও তাদের রাজনৈতিক জনভিত্তি ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান। এই বক্তব্যগুলো দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • মুক্তিযোদ্ধার নাম ভুয়ে সভা-সমাবেশ নয়: মুক্তিযোদ্ধা দল

    মুক্তিযোদ্ধার নাম ভুয়ে সভা-সমাবেশ নয়: মুক্তিযোদ্ধা দল

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় কমিটির নামে সভা-সমাবেশ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নিয়ে সতর্ক করেছে বিএনপি সমর্থক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা দল। বুধবার সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, এই কমিটির কোনও সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখন থেকে এই সংগঠনের কার্যক্রমে কোনো বৈধতা রাখেন না।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বা তাদের অনুসারীরা এখনও এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে সভা-সমাবেশ করছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    এ কারণেই, সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে, কোনও সদস্য বা তার অনুসারীরা যদি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সভা বা বিবৃতি দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সংগঠনটি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে, বিভ্রান্ত না হয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তগুলো সম্মান করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। তিনি উল্লেখ করেছেন, অতি দ্রুত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে, যা সংগঠনের কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানা অপ্রাসঙ্গিক দাবি উত্থাপন করছে। তিনি এ দাবিগুলোর মাধ্যমে উদ্দেশ্যার্থ করে রাষ্ট্রের শান্তি ও গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন।

    আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অতি দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশের পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। তিনি বলেন, যখনই সুযোগ পান অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলি ক্ষমতা লাভ করে, তখন তারাই দেশের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে। এজন্য তিনি সকলকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

    স্মরণ করে তিনি বলেন, কাজী জাফর আহমেদ ষাট ও সত্তরের দশকে ছিলেন একজন কিংবদন্তি ছাত্রনেতা। তার বক্তৃতা শুনে তরুণরা অনুপ্রাণিত হতো। তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বললেন, যখন তিনি স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে যোগ দেন, তখন বিএনপি ও দেশের অনেকেই কষ্ট পায়। তবে অন্তর থেকে তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রপ্রিয় ব্যক্তি, যা তার বিপ্লবী আদর্শের প্রমাণ।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করতে নানা দাবি তুলছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মতো বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্পষ্ট নয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর ফলে ভোটের সত্যিকার ফলাফল বোঝা ও গ্রহণ অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে।

    বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দ্রুত নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের সাত-আট দিন পর আমি ঘোষণা করেছিলাম, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিন। কারণ, পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহণ করে অগণতান্ত্রিক শক্তিরা ক্ষমতা আঁকড়ে যায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

    ২০০৭ সালে এক-এগারো আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তখন দেরিতে নির্বাচন হওয়ায় ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতা হাতে নেয়, যা দেশের ১৬ বছরের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ক্ষতি হয়।

    মির্জা ফখরুল সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সংকটের সময় উঠে দাঁড়াতে জানে। তার মতে, বাংলাদেশ বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে।

    অবশেষে তিনি মরহুম মাওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যারা দেশের জন্য আপ্রাণ সংগ্রাম করেছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। দেশকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা সকলের দায়িত্ব।

  • ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

    ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। এই বার মোট ৪৭১ জন প্রার্থী ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যার মধ্যে ৬২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। কার্যক্রমের তৎপরতায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট চৌধুরী ভবনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে ২৮ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়াও, নির্বাচন অযোগ্য হয়ে যাওয়া ১০ জন প্রার্থী আপিল না করায় তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে হয়েছে। এরপর, চূড়ান্তভাবে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পদভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যা অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক ১৯ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ২৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ১৭ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ১১ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ১২ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা ৯ জন, ক্রীড়া ১৩ জন, ছাত্র পরিবহন ১২ জন, সমাজসেবা ১৭ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ১৫ জন, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক ১১ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ১৫ জন এবং সদস্য পদে মোট ২১৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থী মোট ৬২ জন, যাদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে একজন, এজিএস ৪ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ২ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া ৯ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ৩ জন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ২ জন, সমাজসেবা ১ জন, ক্রীড়া ১ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা ৩ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ২ জন, মানবাধিকার ও আইন ৩ জন এবং সদস্য পদে ২৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছাত্রকদের মধ্যে আস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরাও বেশ উৎসাহিত। প্রার্থীরা উৎসাহ দেখিয়েছেন এবং ভোটারাদের মধ্যেও অপ্রতিরোধ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদি এই উৎসাহ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকে, তবে নিখুঁত ও নিঃস্পৃহ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ভোটের দিন ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত হয়েছে এবং নির্বাচনি কেন্দ্রে সব ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও ভাবা যেতে পারে, তবে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশের প্রত্যাশা করছি।

  • বিএনপি ও আরও ২২ দলের জুলাই সনদ পর্যালোচনা শেষে মতামত জমা

    বিএনপি ও আরও ২২ দলের জুলাই সনদ পর্যালোচনা শেষে মতামত জমা

    জুলাই সনদের ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এই বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে শেষমেশ তারা নিজেদের মতামত জমা দিয়েছে। গত ১৬ আগস্ট রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রেরিত প্রথম খসড়ার মধ্যে কিছু ত্রুটি থাকায় তা সংশোধন করা হয় এবং সংশোধিত খসড়া আবার সকলের কাছে পাঠানো হয়। এরপর, গত ২০ আগস্ট কমিশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়เพิ่มเติม করে ২২ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে, মোট ২৩টি দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। দলগুলো হলো বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, আমজনতার দল, গণফোরাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), জাতীয় গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে, জানা গেছে যে এখনও পর্যন্ত সাতটি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত দেয়নি। কমিটি পরিষ্কার করেছে যে, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ার জন্য আর কোনো সময় বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ, এবারে সময় সীমা শেষ হলো। ফলে আশা করা হয়, শিগগিরই এই খসড়ার উপর সব দল মতামত পূর্ণাঙ্গভাবে জানিয়ে দেবে।

  • সম্পর্ক উন্নয়নে একাত্তরের ইস্যু সমাধান জরুরি: এনসিপি

    সম্পর্ক উন্নয়নে একাত্তরের ইস্যু সমাধান জরুরি: এনসিপি

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতর উন্নতি করতে গেলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো গুরুত্ব সহকারে সমাধান করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা সফরে থাকা পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা তুলে ধরা হয়। এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধান ছাড়াই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের পূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন এনসিপির নেতারা।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এতে এনসিপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছিল। বৈঠকের পরে আখতার হোসেন বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণের ঢাকা ও পাকিস্তানের মধ্যে নানা গোঁড়া ধারণার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছি। এনসিপি বিশ্বাস করে, অতীতের শত্রুতা কাটিয়ে আমরা সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো উন্নয়ন করতে পারি। তবে এর জন্য একাত্তর নিয়ে বিবাদগুলো অবশ্যই সমাধান করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো বড় ভাইসুলভ বা আক্রমণাত্মক মনোভাব যেন সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেটাও আমাদের আলোচনায় এসেছিল। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে ভাইচার্য্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইসহাক দারের সাথে বৈঠকে পাকিস্তানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা হয়েছে। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, দুই দেশের নদী ও পানি সমস্যা, ঐতিহ্যগত সহঅভিযোগ, ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং প্রতিরক্ষা খাতে উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিগত গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সার্ক সংকট নিয়ে ও সম্মেলনকে সক্রিয় করতে ধর্ম ইসরায়েলি সম্পর্কগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নাসিরউদ্দীন বলেন, ভারতের কারণে সার্কের কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, এই সংস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা। পাকিস্তানও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অবশেষে, একাত্তরের বিরোধ সমাধানে ইসহাক দার কি বলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আমরা তাদের বলেছি, এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান জরুরি। তারা বলেছেন, তারা এ ব্যাপারে প্রস্তুত। এনসিপি মনে করে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই ইস্যুগুলোর নির্মূল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।