Category: রাজনীতি

  • জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে

    জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে

    ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। তবে, নির্বাচন পূর্বকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অংশগ্রহণের জন্য সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই মন্তব্য করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মূসাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে সবাই যাতে মতামত দিতে পারে, এ জন্য সিইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত। নির্বাচন বিঘ্নিত করতে সন্ত্রাস ও অনিয়ম রোধে ভোট পদ্ধতিতে সাধারণতঃ প্রোপোরশনাল রিটেনশন (পিআর) বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি গ্রহণের কথা ভাবছে তারা। তিনি আরও বলেন, সবাই যদি চাই, তাহলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পদ্ধতিতে ভোটের ফলাফল বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সংবেদনশীল থাকবে। ফলে, জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। জামায়াত এই ধরণের একটি নির্বাচনের জন্য মাঠে থাকবে, পাশাপাশি তারা প্রস্তুতি নিবে।

    এক প্রশ্নে, অন্য কোনো আসনে তারা পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে কি-না, জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা বিষয়টি আলোচনা করেছি।’

    পিআর পদ্ধতি ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে কি না, এই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে, তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ফেয়ার ইলেকশনের প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করেছি। এই পদ্ধতিটিও আমরা দেশের জন্য উপকারী মনে করি এবং মনে করি এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক উত্তম পদ্ধতি। পিআর পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে ভোটারদের সঠিক মূল্যায়ন হবে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    জামায়াতের এই প্রতিনিধি দল যোগ করেছেন, তারা এমন সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমানে তারা তিনশো আসনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে অবস্থান করছে ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণে সক্রিয়।

    এর আগে, রোববার নির্বাচনীয় প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের এক বৈঠক হয়েছে।

  • উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা

    উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নতুন একটি ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এক সর্ম্মেলনে এই প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

    এই প্যানেলের প্রার্থী নেতাদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে দাঁড়াবেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া। তিনিও ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়বেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও পাঠচক্র ‘গুরুবার আড্ডা’ সংগঠক জাহেদ আহমদ।

    অন্যান্য পদে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন: মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে নূমান আহমাদ চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম (বিধান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাফিজ বাশার আলিফ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক সুর্মী চাকমা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অনিদ হাসান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সিয়াম ফেরদৌস ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাদিকুজ্জামান সরকার, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মো. রাফিজ খান, সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর সামাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ইসরাত জাহান নিঝুম, এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান নিসু।

    সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।

    উমামা ফাতেমা এ প্যানেল ঘোষণা করেন। এতে প্যানেলে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী, দু’জন আদিবাসী এবং ছয়জন নারী রয়েছেন।

    উমামা ফাতেমা বলেন, ‘নানান চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজ আমি একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপির দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। ক্যাম্পাসে আমি বিভিন্ন বছর অতিবাহিত করেছি। প্রথম বর্ষেই আমি ডাকসুতে নির্বাচনী প্রার্থী হিসাবে অংশ নিই। প্রথমে কবি সুফিয়া কামাল হলে পাঠচক্রের জন্য দাঁড়াই, কিন্তু ফলাফল হয়নি। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এর পরে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনাসহ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার চেষ্টা করেছি। আমার গণরুম ও গেস্টরুমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই প্রচেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের বোঝাতে চাই যে, তাদের কণ্ঠস্বর আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা তাদের ভোটে যেন মানসম্মত পরিবর্তন আনতে পারি।’

  • বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভবিষ্যৎ উদ্যাপন উপলক্ষে ৬ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী ১ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে। দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা এই কঠোর ও উৎসবমুখর কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন।

    বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বুধবার দলের ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন অনুসারে এক সভা শেষে নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচিগুলোর ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বলা হয়, ৩১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সকল বিএনপি কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হবে।

    দলের নেতা-কর্মীরা সকাল ১১টায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। একই দিন সারাদেশের জেলা ও শহর ইউনিটগুলো আলোচনা সভা, র‌্যালি ও অন্যান্য কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে।

    ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশাল র‌্যালি, যা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির সকল উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিটে সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর, দলের পক্ষ থেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের মতো নানা গণকর্মসূচি পালন করা হবে। আর ৫ সেপ্টেম্বর, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে, সহযোগী সংগঠনগুলো ও অন্যান্য ইউনিটগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করবে। এবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার, ক্রোড়পত্র ও বিভিন্ন উৎসবমুখর সামগ্রীর আয়োজন থাকবে।

    প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ দফা কর্মসূচি সহকারে বাংলাদেশ বিএনপি গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে বেশ কিছু সময় শাসনক্ষমতাও হাতে নিয়েছে।

    প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বর্ষপূর্তির স্মরণে, ১৮ আগস্ট বিএনপি একটি ১৬ সদস্যের ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মহান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে, দলটি তার সংগঠন ও অনুরূপ সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করবে।

  • ১৫ জুলাই আহত তন্বির জন্য ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি প্যানেলগুলো

    ১৫ জুলাই আহত তন্বির জন্য ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি প্যানেলগুলো

    গত বছর ১৫ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বি। এই ঘটনা ঢাকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এবার ডাকসু নির্বাচনে তিনি গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তার সম্মানে, এই পদে কোনও প্রার্থী দেয়নি ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ মোট পাঁচটি প্যানেল। এরা হলো- বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ পর্ষদ, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ এবং মাহিন সরকার নেতৃত্বাধীন সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ, এবং অপরাজেয় ৭১ প্যানেল। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, এই পদে তন্বির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের সংগঠনের কেউ মনোনয়ন দেয়নি, বরং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে। এর আগে, গত সোমবার ফেসবুকে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের এক পোস্টে জানান, এই পদে তাদের প্যানেলে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, তন্বি আমাদের জুলাইয়ের বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের প্রেরণা; তাই গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের পদটি শূন্য রাখা হয়েছে এবং তার প্রতি সার্বিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তবে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও জানা গেছে, প্রতিরোধ পর্ষদ এই পদটি তন্বির জন্য ছেড়ে দিতে পারে। সূত্র জানায়, প্রথমে প্যানেলটি গবেষণা ও প্রকাশনাবিষয়ক অধ্যায়টি বাতিল করতে চায়, যেখানে মনোনীত প্রার্থী সদস্য পদে স্থানান্তর করা হবে। অন্যদিকে, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারের নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকেও এই পদে কাউকেই মনোনয়ন দিচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালিদ। এছাড়া, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সমন্বয়ে গঠিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেলেও এই পদে কোনও প্রার্থী নেই। বুধবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়, যেখানে ব্যক্তিগত বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের হামলায় আহত তন্বির জন্য এই পদে কোনও প্রার্থী ছিল না। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তার ফেসবুক পোস্টে তন্বিকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে, তিনি কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন সম্পর্কে এখনও কিছু জানাননি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ সাজ্জাদ হোসাইন খান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে সিয়াম ফেরদৌস ইমন এই পদে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকবেন। অন্যান্য সংগঠনের ঘোষণা আসলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেন তন্বি, তিনি কোনও প্যানেলে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন। এর কারণ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার জন্য এই পদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্য তার। তিনি আরও বলেছেন, গবেষণায় শিক্ষার্থীদের জন্য তহবিল নিশ্চিত, বিভিন্ন জার্নালের অ্যাক্সেস দান, কর্পোরেট ও এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণা অর্থ সংগ্রহ, মানসম্পন্ন গবেষণার স্বীকৃতি ও সভা-সেমিনারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে গবেষণাকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার লক্ষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণায় বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা।zochtinvestigatetime.atansearchutzungassistinggroupjson.}

  • বাগছাসের ডাকসু প্যানেল ঘোষণা: ভিপি পদে আব্দুল কাদের, জিএস আবু বাকের

    বাগছাসের ডাকসু প্যানেল ঘোষণা: ভিপি পদে আব্দুল কাদের, জিএস আবু বাকের

    আজ বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন ঢাকা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার।

    সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’। প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যারা এ আন্দোলনে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা-ও উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্তভাবে, সংগঠনটির মুখপাত্র আশরেফা খাতুন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন। এই নির্বাচনে বাগছাসের পক্ষ থেকে ২৮টি পদের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদটি জুলাই আন্দোলনে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর জন্য খালি রাখা হয়েছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এমন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে:
    – মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক: মো. হাসিবুল ইসলাম
    – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক: আহাদ বিন ইসলাম শোয়েব
    – কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক: মিতু আক্তার
    – আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: মোহাম্মদ সাকিব
    – সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: নাহিয়ান ফারুক
    – ক্রীড়া সম্পাদক: আলামিন সরকার
    – ছাত্র পরিবহন সম্পাদক: মো. ইসমাইল হোসেন রুদ্র
    – সমাজসেবা সম্পাদক: মহির আলম
    – গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক: আহত সানজিদা হক তন্বী
    – ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক: রেজোয়ান আহমেদ রিফাত
    – স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক: সাব্বির আহমেদ
    – মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক: আনিকা তাহসিনা

    এছাড়া, সদস্য হিসেবে রয়েছেন: মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান, ফেরদৌস আইয়াম, ইসমাইল জবিউল্লাহ নাহিদ, তাপসী রাবেয়া, আরমানুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, রিফতি আল জাবেদ, আশরাফ অনিক, রওনক জাহান, মাহফুজা নওরিন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আরিফুর রহমান ও ফেরদৌস আলম।

    আগামী নির্বাচন বা প্যানেল ঘোষণা নিয়ে এর আগে ওই দিন দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেলটি ঘোষণা করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

  • ঢাবির ১৮ হলে ২০৫ প্রার্থীর নাম ঘোষণা ছাত্রদলের

    ঢাবির ১৮ হলে ২০৫ প্রার্থীর নাম ঘোষণা ছাত্রদলের

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্যানেল ঘোষণা করার পর এবার ১৮টি হলে ছাত্রদল তাদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দলটি এই প্যানেলের ঘোষণা দেয়, যেখানে মোট ২০৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

    প্রতিটি হলে বিভিন্ন পদে প্রার্থী তালিকা如下:

    মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সাংসদে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সহ-সভাপতি হিসেবে তরুণ নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জোবায়ের হোসেন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রিজভী আলম, সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ সিব্বির, সংস্কৃতি সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ইনডোর গেমস সম্পাদক রবিউল ইসলাম ইভান, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া সম্পাদক বিশ্বাস মো. ফাহাদ, সমাজসেবা সম্পাদক মো. মিফতাহুল ইসলাম, এছাড়া সদস্য হিসেবে তৌফিকুল ইসলাম প্রতীক, ইফতেখার হাসান রাদ, শাহরিয়ার মোস্তাক দিদার ও আদনান শাহরিয়ার প্রার্থী হচ্ছেন।

    কবি জসীমউদ্দীন হলের সংসদে ১৩ সদস্যের কমিটিতে সহ-সভাপতি মো. আব্দুল ওহেদ, সাধারণ সম্পাদক সিফাত ইবনে আমিন, সহকারী সম্পাদক মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, সাহিত্য সম্পাদক রাফি আহম্মেদ উৎস, সংস্কৃতি সম্পাদক মো. মুনতাসির, পাঠকক্ষ সম্পাদক সাফায়াত আহসান, ইনডোর গেমস তানজিম সাকিব, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া আদিল মাহমুদ, সমাজসেবা সম্পাদক আরিয়ান চৌধুরী, নতুন সদস্যরা হৃদয় ভূঁইয়া, মো. হাসান, মো. তানজিউর রহমান (হিশাম) ও নাহিদুল আলম।

    মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ১১ সদস্যের প্যানেলে সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, সাধারণ সম্পাদক লিয়ন মোল্যা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সামিউল আমিন গালিব, সাহিত্য সম্পাদক সিদরাতুল মুনতাহা আলিফ, সংস্কৃতি সম্পাদক সাব্বির হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক শাকিল আহাম্মেদ, ইনডোর গেমস নাজিম উদ্দিন, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া শাদমান সাকিব, সমাজসেবা সম্পাদক শিপন মিয়া, পাশাপাশি সদস্যরা রয়েছেন লিমন মেজর লিংকন, মো. সুমন হোসাইন, জাওয়াদ আহমেদ শিকদার ও যুহাম পাশা।

    বিজয় একাত্তর হলের প্রার্থীরা যথাক্রমে: সহ-সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিব বিশ্বাস, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুলতান মো. সাদমান সিদ্দীক, সাহিত্য সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সংস্কৃতি সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ, পাঠকক্ষ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ, ইনডোর গেমসের সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম হৃদয়, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া বিভাগের ফাহিম আহমেদ, সমাজসেবা সম্পাদক ইমতিয়াজ রনি।

    শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রার্থীরা রয়েছেন সহ-সভাপতি সাইফ আল ইসলাম দীপ, সাধারণ সম্পাদক রিনভী মোশাররফ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আজীম, সাহিত্য সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন, সংস্কৃতি সম্পাদক সাদমান সাকিব শাওন, পাঠকক্ষ সম্পাদক নাফি বিন মামুন, ইনডোর গেমসের শাকিল আহামেদ, আউটডোর গেমসের শাদমান সাকিব, সমাজসেবা সম্পাদক মো. তৌহিদুর রহমান তাহসিন।

    অপর প্রার্থীরা অন্য হলগুলোতে নিজেদের পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন, প্রতিটি হলের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের তালিকা ও বিস্তারিত সেখানে খুঁজে পাবেন। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া চলার সময় প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমজমাট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বৃহস্পতিবার তার ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ছয় দিনের দীর্ঘ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিস্তারিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকছে সমাবেশ, আলোচনা সভা, র‌্যালি, এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম।

    বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দলটির ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটির’ সভা শেষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, ৩১ আগস্ট দুপুর সোয়া দুইটায় রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর সকালের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সকল বিএনপি কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন। তার পর দিন জাতীয় নেতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দলের নেতা-কর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। একই সঙ্গে সারাদেশে জেলা ও শহর ইউনিটগুলো আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করবে।

    ২ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল দিন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল র‌্যালি বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে সারা দেশে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়া ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের মতো জনসেবামূলক বিভিন্ন গণ-প্রোগ্রাম পালন করবে বিএনপি। ৫ সেপ্টেম্বর, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে।

    কেবল কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোই নয়, বিএনপি’র সহযোগী সংগঠনগুলো ও মাঠে থাকা সকল ইউনিটও নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে বেশ যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে। এই দিনগুলোতে পারবে পোস্টার, ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ অন্যান্য সাংগঠনিক উদ্যোগ।

    প্রসঙ্গত, বিএনপি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশান্তরে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দলটি বেশ কয়েকবার দেশ শাসনেও ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

    বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য ১৬ সদস্যের একটি ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করা হয়, যেখানে নজরুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে।

  • জামায়াতের হুঁশিয়ারি: পিআর পদ্ধতি না মানলে কক্ষ দুটিতেই আন্দোলন

    জামায়াতের হুঁশিয়ারি: পিআর পদ্ধতি না মানলে কক্ষ দুটিতেই আন্দোলন

    নতুন বাংলাদেশ গঠনে সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সংবিধানে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনের ওপর বড় বড় রাজনৈতিক দলের মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রধানদলের একজন হিসেবে জামায়াতে ইসলামি সম্প্রতি ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি তুলেছেন। এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আগামী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    জামায়াতের দাবি, পিআর পদ্ধতি চালু হলে দেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে এবং সেবার মাধ্যমে দুর্নীতি কমে আসবে। দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর ছাড়া সত্যিকার নির্বাচন হবে না। এজন্য দলটির সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হবে। অন্যদিকে, দলের আরেক নেতা ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা মত প্রকাশ করেন, শুধু উচ্চকক্ষের পরিবর্তে নিম्नকক্ষণেও পিআর পদ্ধতি জরুরি, কারণ এতে সরকারের পরিচালনা আরও ভালো হবে।

    জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন পূরণের জন্য নির্বাচনের আগে প্রয়োজন সংস্কার ও পরিবর্তন। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনকে ইতিবাচক বলে মনে করেন। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, এই সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য আইনী ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এই ভিত্তির ওপরেই ভবিষ্যতের ভোট হবে। বাৎসরিক সংস্কার বা পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হলে তা দেশের পরিস্থিতি আগের মতোই জাহিলিয়াতের দিকে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

    অপরদিকে, জামায়াতের নেতারা মনে করেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এবং এর মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে, তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দেন, যদি বর্তমান ডাকা সংস্কার না মানা হয়, তাহলে কক্ষ দুটিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এই অবস্থায় তারা আশঙ্কা করছেন, পরিবেশ উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে।

  • পিআর পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূরণ হবে না: মির্জা ফখরুল

    পিআর পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূরণ হবে না: মির্জা ফখরুল

    সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনে জনগণের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি এবং বিএনপি এই পদ্ধতির পক্ষে নয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাকালে এ কথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে রেজুলেশন ও সব দলের অংশগ্রহণে সুস্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন। দেশের মানুষ এখন নির্বাচনের জন্যই অপেক্ষা করছে, কারণ সংকটের একমাত্র সমাধান হলো দ্রুত নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়া দরকার, যাতে সব অংশগ্রহণকারী অংশ নিতে পারে। তিনি বলছেন, দেশের মানুষ এখনই চায় নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন, এবং যারা সংস্কার চায় না, সেটি তাদের দলেরই ব্যাপার।

  • ফ্যাসিবাদ রুখতে সংবিধান আর লিখিত বিধি যথেষ্ট নয়: তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ রুখতে সংবিধান আর লিখিত বিধি যথেষ্ট নয়: তারেক রহমান

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সংবিধান কিংবা লিখিত বিধি-বিধান দিয়েই ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে শক্তিশালী জনগণের উপস্থিতি আবশ্যক। তিনি বলেন, জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতেই হবে, তখনই হয়ত ফ্যাসিবাদের বিকল্প নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির নির্বাচন শুরু হওয়া থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জনগণ যদি কল্যাণমূলক এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হন, তাহলে রাষ্ট্র এবং সরকার বিশ্লেষণীয় শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং শর্ত আরোপ করে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভেদ এড়ানোর আর্জি জানিয়ে বলেন, একাত্তর ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম, আর চব্বিশ ছিল স্বাধীনতা রক্ষা করার লড়াই। শহীদদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে থাকা এক ফ্যাসিস্টের পতন ঘটে, আর এখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে। এর ফলে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য অবহেলিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ে তোলাই এখন মানবিক লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য, যাতে শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হয়।

    তিনি তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশে করে বলেন, কথার রাজনীতি নয়, কাজে মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রচলিত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। প্রতিহিংসা বা ফ্যাসির রাজনীতি বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অंतত, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে তিনি জানান, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যেন শামিল না হন, যা জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। দলের অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখতে ও দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবকিছুতে সচেতন থাকতে হবে।