Category: রাজনীতি

  • হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানের; রায়ও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য সালাহউদ্দিন আহমদ

    হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানের; রায়ও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং তার রায়ও বাস্তবায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যারা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখাচ্ছেন, তাদেরই এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কেবল একটি রাজনৈতিক দল ছিল না, বরং এটি একটি মাফিয়া সংগঠন। এই সংগঠনের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারায় অন্য দলের কার্যক্রমকে বাধা দেওয়া উচিত নয়। আমাদের এমন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ১৯৭১ সালের শহীদদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়। সরকারকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শেখ হাসিনার রায় কার্যকর করতে হবে, যা অবশ্যই হবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে, তাদেরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ৮ দলের একটি দল আমি-ডামির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তাদের সঙ্গে অন্যান্য দলের ঐক্য গঠন নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি জামায়াতকে বিভ্রান্তিমূলক পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং তাদের জনগণের দাওয়াকে সমর্থন দেওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছাত্র গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র ৩৬ দিনে হয়নি। যারা ২৪ বছরের চেতনায় এককভাবে রাজনৈতিক পেশা চালাতে চাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই আওয়ামী লীগের শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে আর করদ রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

  • মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: পিআর বা গণভোট মানুষের বোঝার বাইরে

    মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: পিআর বা গণভোট মানুষের বোঝার বাইরে

    বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ‘পিআর’ বা ‘গণভোট’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অবগত নয়। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে ‘মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাব বললেন। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখনো গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বোঝে না এবং শেষ পর্যন্ত বুঝবে কি-না, সন্দেহ আছে। বিগত সরকারগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশে একটি ভয়ংকর ও দানবীয় সরকার শাসন পরিচালনা করেছে। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসানোর জন্য দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে, শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি সব সময় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি সমাজে নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, এত ধর্মপ্রিয় দেশের মধ্যে কেন এত অন্যায়, কেন এত পাপ, এবং মানুষ কেন চুরি-দুর্নীতি করে সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেয়। তিনি বলেন, একটি মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকা স্বত্ত্বেও একটি ভালো মানুষ তৈরি করার ক্ষেত্রে সেই আগ্রহ কোথায় চলে যায়। আলোচনা সভাসংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

  • ইসি-প্রতিক ক্ষোভ: ‘ইচ্ছামতো’ আইন-শৃঙ্খলা সংশোধনে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা প্রয়োজনের দাবি

    ইসি-প্রতিক ক্ষোভ: ‘ইচ্ছামতো’ আইন-শৃঙ্খলা সংশোধনে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা প্রয়োজনের দাবি

    সরকারের উৎখাতের পর গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিধি ও আইনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে গিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করার জন্য বিরোধী দল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ সাকি এই পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও দায়িত্বশীল সরকারের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন।

  • আমীর খসরু বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগামী নির্বাচনগুলোকে করবে গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য

    আমীর খসরু বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগামী নির্বাচনগুলোকে করবে গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগ, আত্মদান, জীবন বিসর্জন আর ভোটাধিকার হরণের ফলে অপশাসন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনাগুলোর ফলে আরও সুসংহত ও গ্রহণযোগ্য হবে। এসব কথা তিনি আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালেআগলীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কমল মেডিকেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট (কমল মেডিএইড) কর্তৃক আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের জবাবে ব্যক্ত করেন।

    আমির খসরু বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা নির্বাচনের সম্মুখীন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, যদিও এই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দিষ্ট কোনো বিষয় এখনো আলোচনায় আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচিত সরকারের অভাবে দেশের অগ্রগতি থমকে গেছে। অতীতেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ চলছে, যা জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়ে কাজ করছে। তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কেয়ারটেকার সরকারই একটি উপযুক্ত পথ।

    সংগঠনের অন্যন্য সদস্যরা সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে এসব কাজ স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণের অংশ। বাংলাদেশেও এই ধারা আরও মান্যতা পেলে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসবে।

    আবার এক পর্যায়ে তিনি অবাক হয়ে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো ফার্মেসি নেই, যা দর্শাচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্যসচেতনতার স্তর। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হলে ব্যক্তি ও পরিবার উভয়ের জন্যই এটি উপকারী হবে।

    উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানকে সামনে রেখে সকলের হাতে হাত মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই আজকের এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জনগণের মূলস্বপ্নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হলে সরকারকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ছাত্রজীবনে যেখানে অসুস্থতা সবার জন্য তখন বোঝা যায় না, পরে তার পরিণাম ভোগ করতে হয়। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ফার্মেসি বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাধারণ অসুস্থতার জন্য যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে যেতে পারে, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, হামিমের উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা জোরদার করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

    কমল মেডিএইডের প্রতিষ্ঠাতা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ২০২৪ সালে জুলাইয়ে যখন আন্দোলন শুরু হয় তখন আমি লক্ষ্য করলাম, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপদ ও দ্রুত ওষুধ পৌঁছে দেয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। এই চিন্তা থেকেই কমল মেডিএইডের যাত্রা শুরু। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার এখনো অপ্রতুল। তিনি মনে করেন, ডাকসু যেন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে।

  • জন্মদিনে নারী নিরাপত্তায় পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন তারেক রহমান

    জন্মদিনে নারী নিরাপত্তায় পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট লিখেছেন, যেখানে দেশের নারী বিষয়ক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল যুগের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তিনি নিজের জন্মদিনে স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমার সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

    তারেক রহমান লিখেছেন, প্রযুক্তির বিশ্ব এখন আমাদের জীবনের প্রতিটি দিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক স্তরে রাষ্ট্রের সম্পর্ক সবই বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির গতির সঙ্গে। এই দ্রুত পরিবর্তন আমাদের সবাইকেই স্বীকার করতে হবে যে, প্রযুক্তি বিশ্ব এবং বাংলাদেশকে কীভাবে বদলে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেছেন, আমাদের কিছুক্ষেত্রে মনে হয়, আমরা যে প্রজন্মের অঙ্গীকারে বড় হয়েছি, তার তুলনায় আজকের কন্যাদের পৃথিবী কতটা ভিন্ন। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের মনে আশা ও উদ্বেগ দুটিই কাজ করে। কারণ, এখন যেমন বেশি সুযোগ রয়েছে, তেমনি হুমকিও বেড়ে গেছে।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যদি এগিয়ে যেতে চায় তাহলে আমাদের মেয়েরা, নারী, বোনেরা ও সহকর্মীরা যেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নির্বিঘ্নে জীবন কাটাতে পারে। প্রতিদিনই নারীদের হয়রানি, হুমকি, বুলিং এবং সহিংসতার শিকার হতে হয়— শুধু কথা বলার, কাজের, পড়াশোনার বা স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য।

    তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নারীর অনলাইনে, অফলাইনে, ঘরে, বাইরে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও নিরাপদ থাকতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।

    প্রথমত, ন্যাশনাল অনলাইন সেফটি সিস্টেম: যেখানে নারীরা দ্রুত ও সহজে সাইবার বুলিং, হুমকি, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ জানাতে পারবে। এর জন্য ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত রেসপন্ডার থাকবে। বড় প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলায় কন্টেন্টের দ্রুত মডারেশন নিশ্চিত করা হবে।

    দ্বিতীয়ত, পাবলিক লাইফে নারীর সুরক্ষা: সাংবাদিক, কর্মী, শিক্ষার্থী বা কমিউনিটি নেত্রী হিসেবে যারা আক্রমণ বা হয়রানির শিকার হন, তাদের জন্য যথাযথ নির্দেশিকা, দ্রুত আইনি ও ডিজিটাল সহায়তা ও গোপনীয় রিপোর্টিং চ্যানেল তৈরি করা হবে। নারীদের জনজীবনে অংশগ্রহণের স্বার্থে এই উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

    তৃতীয়ত, ডিজিটাল সেফটি বিষয়ক শিক্ষা: স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য বাস্তবসম্মত ডিজিটাল নিরাপত্তার ট্রেনিং দেওয়া হবে। যারা প্রশিক্ষিত হবেন, তারা ‘সেফটি ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবেন। বার্ষিক সচেতনতা কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

    চতুর্থত, সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী কমিউনিটি ভিত্তিক প্রতিরোধ: কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ রাস্তাঘাট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং ট্রমা-সেন্টিভ রেসপন্ডার নিয়োগের মাধ্যমে নারীরা আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত জীবন পার করবেন।

    পঞ্চমত, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় উদ্যোগ: লিডারশিপ ট্রেনিং, মেন্টরিং নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি, স্কুল ও অফিসে চাইল্ড ডে কেয়ার সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারেন, সফল্য অর্জন করতে পারেন এবং সমাজে অবদান রাখতে পারেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, নারী উন্নত হলে দেশও এগিয়ে যাবে। তাঁর মতে, আমাদের রাজনীতি, ধর্ম, জাতিসত্তা বা লিঙ্গ যাই হোক, একবাক্যে স্বীকার যে, নারীরা যত বেশি নিরাপদ, সমর্থিত ও ক্ষমতায়িত হবেন, বাংলাদেশ ততই অপ্রতিরোধ্য হবে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, কন্যাদের জন্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করার।

  • জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আসন সমঝোতা’ ভিত্তিতে যেন আরও অনেক দল মিলিতভাবে অংশ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিত মারকম ভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল যদি এই প্রক্রিয়ায় একত্র হয়, তাহলে তারা নির্বাচনে একটি সুসংহত ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকের মতে, বিএনপিসহ অন্যান্য সমমনা দলের জন্য নির্দিষ্ট আসন দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করার এই কৌশলটি জামায়াতের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। এতে তাদের লক্ষ্য, নির্বাচনে আরো বেশি জনপ্রিয়তা এবং সমর্থন জাগানো।

    জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (প্রপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন) সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জুলাই মাসে সংবিধানে এই পদ্ধতিকে আইনি বৈধতা দিতে এবং নভেম্বরের মধ্যে সাধারণ ভোটের পরিকল্পনা করছে তারা। এর পাশাপাশি, তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে, যাতে ভবিষ্যতের নির্বাচনে তাদের প্রার্থী তালিকা শক্তিশালী হয়। সম্প্রতি, জামায়াত ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যা তাদের মাঠে দৃঢ় অবস্থান জানান দিচ্ছে। প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী থাকছে এবং কোনো আসনে বিদ্রোহী বা অপ্রত্যাশিত প্রার্থী দেখা যায়নি। এই মনোভাব তাদের পরিশ্রমের ফল, কারণ তারা ইতিমধ্যে ভোটারদের কাছে নিজের পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছেন।

    আটটি রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধ জোটের জন্য জামায়াত কিছু আসন ছাড়বে বলে জানা গেছে। এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তারা আসন ভাগাভাগি নিয়ে কাজ করছে, তবে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন কি হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তারা বলছে, তারা চাইতে চান যে, সংসদে আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। অতীতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে ১০০টি আসন ছাড়ার কথা, যাতে সব ইসলামপন্থি দল একসঙ্গে আসতে পারে। তবে এখন তারা এই অবস্থান থেকে সরে এসে মনোনয়ন বিষয়ক সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে, যেখানে কোন দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সেই বিজয়ী হবে—প্রত্যেক দলই তার জন্য কাজ করবে।

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, “আট দলের শরিকরা এখন আসন সংখ্যা নিয়ে ভাবছেন না। তারা এখন জিতে আসতে চান এবং ইসলামের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চান। যেহেতু তারা মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় থাকবেন, মুতাবেক বিজয়ীর জন্য বেশি মনোযোগ থাকবে। তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও নির্বাচন মাঠে আনতে চান।

    এছাড়াও, জানা গেছে, জামায়াত নিজের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তারা অন্তত চারজন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) এবং কিছু প্রখ্যাত ছাত্র নেতা যারা জুলাই আন্দোলনের মুখোমুখি ছিলেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষক-প্রভাষক এবং সম্মুখসারির নেতাদেরও সম্ভাব্য মনোনয়ন থাকছে।

    সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি নিয়েও জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, তাকে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। জামায়াতের সূত্র এ বিষয়টি অস্বীকার করেনি, বরং বলেছে যে, তারা দেশের প্রখ্যাত আলেমদের সংসদে আনতে চাইছে। পাশাপাশি, কুষ্টিয়ার একটি আসন থেকে জনপ্রিয় আলেম আমির হামজার মনোনয়নও চূড়ান্ত হয়েছে। এর সাথে অন্য অনেক ইসলামিক ব্যক্তিত্বকেও মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাদের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হয় ও একত্রিত হতে পারে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, এলাকা দীর্ঘ দিনের কলঙ্ক মোচন

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, এলাকা দীর্ঘ দিনের কলঙ্ক মোচন

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ে জাতির স্বল্প দিনের কলঙ্ক কাটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন। আখতার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখনো বেশির ভাগ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। তবে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে একতরফা রায় দেওয়া হয়েছিল, যা বৈধতার প্রশ্ন তুলে উদাসীনতা সৃষ্টি করে। সেই অবৈধ রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনর্বহাল হওয়া দেশবাসীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন। এটি জাতির দীর্ঘদিনের কলঙ্কের অবসান ঘটিয়েছে। আখতার আরও বলেন, নির্বাচনকে গণমুখী ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে হবে। জুলাই সনদে থাকা কিছু অস্পষ্টতা দূর করতে হবে, তাহলেই এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করবে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম-আহবায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম-সচিব ডাঃ তাসনিম জারা ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা হোক রিটার্নিং অফিসার: মঈন খান

    ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা হোক রিটার্নিং অফিসার: মঈন খান

    নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচননী আচরণবিধি, প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয় ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা এবং রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে লোকবল নেওয়া এড়িয়ে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল দিয়ে এই দায়িত্ব পালন করা উচিত। এর ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।

    বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। ড. মঈন খান বলেন, এই ধরনের সংলাপ নতুন বিষয় নয়; এর আগে বিভিন্ন সময় আমরা এগুলোর মাধ্যমে কিছু সফলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। তবে সংলাপের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই।

    প্রার্থীদের করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আবেদনকারীকে অবশ্যই নিয়মনীতি মেনে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আচরণবিধির প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। এটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

    তফসিলের বিষয়ে তার কঠোর অবস্থান না থাকলেও তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি অনুমান করেন, তফসিলের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এর জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু সব কিছু বাস্তবায়নে এখনও দেখিনি।

    নিয়মনীতি প্রণয়নের বিষয়ে তিনি ভিন্নমত ব্যক্ত করে বলেন, যতই অঙ্গীকারনামা নেওয়া হোক, যদি নিজস্ব পরিবর্তন না আসে, তবে তা কার্যকর হবে না। এই ধরনের অঙ্গীকারনামায় শাস্তির স্পষ্ট বিধান থাকা দরকার, কারণ নিয়ম লঙ্ঘন বাড়তেই থাকবে।

    বর্তমানে কথাবার্তা ও মতবিনিময় পরিবেশে প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন ছড়ানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক। বাকস্বাধীনতা থাকা জরুরি, তবে এর অপব্যবহার রুখতে দায়িত্বশীলতার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশ এখন একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে, এ সময়ে ইসি-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করে স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। ইসি তাদের নিজস্ব লোকবল থেকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের দাবি জানান তিনি, কারণ এতে যে গুণগত পরিবর্তন আসবে, তা দেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    ড. মঈন খান জানান, নিয়ম ভাঙলে তা মহামূখ্য হয় না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে সবকিছু করে ফেলা নয়; এ জন্য কিছু নিয়মকানুনের ভেতর থেকে কাজ করতে হয়।

    অঙ্গীকারনামা দেওয়ার নিয়মের বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, তিনি নিজে অনেক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, কিন্তু কখনো অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। তিনি সতর্ক করে দেন, যদি নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে অঙ্গীকারনামা কেবলই ভিত্তিহীন হয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যাতে নিয়মকানুন সহজ ও সরল করে দেয়, যাতে মানুষ সচেতন ও সঠিক পথে থাকতে উৎসাহ পায়, এ বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন।

    প্রযুক্তির ব্যবহারে তিনি স্বীকার করেন, নিজে একজন প্রযুক্তিবিদ না হলেও তিনি এআই ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভুল তথ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরও বলেন, বাকস্বাধীনতা থাকা অবশ্যই জরুরি, তবে এর অপব্যবহার রোধে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্য না থাকা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি একমত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধর্মকে কেবলমাত্র রাজনীতির কারণ হিসেবে ব্যবহার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সবশেষে, তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থেকে লোক নেওয়ার পরিবর্তে, কমিশনের নিজস্ব নিয়োগে জোর দেন। এতে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গুণগত মানসম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ইসি যেন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যবহার করে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • মির্জা ফখরুলের আহ্বান: গণতন্ত্র রক্ষায় মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসার প্রয়োজন

    মির্জা ফখরুলের আহ্বান: গণতন্ত্র রক্ষায় মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসার প্রয়োজন

    দেশে সত্যিকারভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গুলির মাধ্যমে সমর্থন সংগ্রহের পথে এগোনো যাবে না—এই স্লোগান উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো, অন্যের মতামতকে সহ্য করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি বলে, আমি নিজের কথা বলবো, কিন্তু অন্যের বক্তব্যকে মেনে নিতে পারি না; এসে অস্ত্রের মুখে দমন-পীড়ন চালানো, লাঠিচার্জ বা হামলা-লোটের মধ্য দিয়ে হয়তো কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু এটাই গণতন্ত্র নয়। এটা মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের মূল চেতনা হলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা—এবং সেটি অবাধে চালিয়ে যাওয়া। এই কথাগুলো বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে গুলশানের লেকশোতে এক আলোচনা সভায় বলেন তিনি। এটি ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবের অংশ, যেখানে এর আগে গণঅভিযান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান সুর হলো, আমি অন্যের মতের প্রতি সম্মান সহকারে মেনে নিতে শিখি। আমি যদি আমার স্বাধীনতা কাজে লাগানোর জন্য চেষ্টা করি, তবে সেটি মানসম্পন্ন অবদান। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেক সময় অন্যের মতামতকে মানতে পারি না, বরং তাকে উপদ্রব করে উড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের এই মনোভাব পরিবর্তন করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দেশে যদি সত্যিকার অর্থে স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যেমন বিচার ব্যবস্থা, মিডিয়া, পার্লামেন্ট—এসবের স্ব autónদ্ববতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা জরুরি।”

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা যেখানে দেখা যায়, সেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবর্তে কিছু মহল যেন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। এই বিষয়গুলো আমাদের গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যাতে বিভৃতি সৃষ্টি না হয় এবং সত্যের পথে থাকা যায়।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি কোনও বিপ্লবিক দল নয়; আমরা একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং এর জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করি। আমাদের গন্তব্য হলো, সব ধর্ম, বর্ণ, মতের মানুষের একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ আর সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।”

    আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের কিছু রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল কিছু হতাশার কথা বলেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে মব ভায়োলেন্স ও গুলির ঘটনা অব্যাহত থাকছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ মহল হয়তো সরকারি রায়ের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে চাচ্ছে, যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আমরা সবাই জানি, বিএনপি কোনও বিপ্লবী দল নয়; আমরা লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে আমরা জোরপূর্বক লড়াই করি এবং আমাদের ভেতরে কোনও বিপ্লবের ধারণা নেই। এই দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে এসেছে।”

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “আমরা সবাই চেসে-চাপিয়ে বা বিদ্বেষ দিয়ে দমন-পীড়ন চালানো বন্ধ করতে হবে। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পর্যায়ে বিশ্বাসের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে পারবো।”

  • পাচারে তারেক ও জিয়ার ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ: ইসি নির্দেশনা

    পাচারে তারেক ও জিয়ার ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ: ইসি নির্দেশনা

    নির্বাচনী প্রচারে দলের প্রধানের বদলে তারেক রহমান বা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ব্যবস্থা নিতে বলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সংলাপে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দলটির নেতারা।

    এনসিপির যুগ্ম-সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, দলীয় প্রধানের ছবি ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার না করার বিধানকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। এখন বিএনপির প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া থাকলেও, যদি তারেক রহমান বা জিয়াউর রহমানের ছবি প্রচারে দেখা যায়, সেক্ষেত্রে এই বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে করে কমিশনের সক্ষমতা পরীক্ষিত হবে।

    বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে কাপড় দিয়ে তৈরি আদর্শ প্র্যাকটিক্যাল নয় বলে মনে করেন তারা। দলে ব্যয় ধরেছে ৫০ লাখ টাকা, কিন্তু একটি বিলবোর্ডে খরচ হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। ফলে এই ধরনের প্রতিযোগিতা অঢেল ব্যয় ও অসহনীয় খরচের মধ্যে পড়ে যায়। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নতুন একটি কার্যকরী বিধি দরকার, তবে বর্তমানে আইনটিতে কিছু অস্পষ্টতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে।

    নেতারা আরও বলছেন, মাইক ব্যবহারে ৬০ ডেসিবেলের শব্দের সীমা নির্ধারণ করা হলেও, মাপার যন্ত্রের উপস্থিতি ও ব্যবহার বিষয়ে সংশয় রয়ে গেছে। নির্বাচনের সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ও শব্দনিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, কারণ এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন ও সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করা যায়।

    তারা তরুণ প্রার্থীদের জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে। পেশিশক্তি, কালো টাকা বা অস্ত্রের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা যারা করে, তাদেরও একই মঞ্চে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সচিব তাসনিম জারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে মেটা ও টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “দল যদি নিজস্ব প্রতীক নিয়ে জোট গঠন করে তবে ভোটের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত অটুট থাকবে।’’ তিনি আরও বলেন, “নিজের শরীর থাকলেও অন্যের জামা পরে থাকলে সেটি ঠিক নয়। এখন এলাম নিজ দল নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ এসেছে।”

    পাটওয়ারী আরও বলেন, প্রতিটি দলের জন্য একজন করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োজিত করলে যোগাযোগ সহজ হবে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এই সংলাপে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।