Category: রাজনীতি

  • শেখ হাসিনা কখনই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি পাবেন না

    শেখ হাসিনা কখনই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি পাবেন না

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই নির্মম প্রকোপের দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবেন না। বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ‘ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের সকল মানুষ দেখছেন— তিনি হাঁটতে পারছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে বের হেতেন অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী চার বছর গৃহবন্দি অবস্থায় থাকাকালীনই তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা না পেলেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। অবশেষে এই নেত্রীকে মৃত্যুর কাছে হার মেনে নিতে হয়। এই মৃত্যুের জন্যই শেখ হাসিনা দায়ী, কারণ তিনি কখনোই এই দায় থেকে মুক্তি পাবেন না।’

    নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জনগণের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বে ইমার্জিং টাইগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।’

    বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়ার জন্ম, পারিবারিক জীবন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিবাহ, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর সংকটময় সময়ে তার রাজনৈতিক নেতৃত্বদান, পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সরকারের পরিচালনাসহ বিভিন্ন দিক বিশদে তুলে ধরেন।

  • মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও উচ্চতায়: সালাহউদ্দিন

    মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও উচ্চতায়: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সফলতা কেমন হবে এই নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের এ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মানুষের অন্তরে এখনও বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের মা হিসেবে খ্যাত, মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। আজ তাঁকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাঁর জন্য সাধারণ জনগণের এক অম্লান ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছেন। যারা যেতে পারেননি তারা গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। এত বড় একটি জনসমাগমের ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ভবিষ্যতে বর্ণনা বা পরিসংখ্যান দেওয়া হতে পারে, কিন্তু এই আকাশচুম্বী সাড়া সত্যি অবর্ণনীয়।’

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশ্বাস করা হয় যে, একজন সাধারণ গৃহিণীও সারা বিশ্বের গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের জয়গান করতে পারেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে করতে নিজের জীবন, পরিবার সব কিছু উৎসর্গ করেছেন।’

    তিনি যোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্য দেশের প্রতি তার ভালবাসা, ভক্তি, এবং দেশপ্রেমের স্বভাব চিরঞ্জীব। তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, কিন্তু তিনি অর্জন করেছেন যে উচ্চতায়, যা পৃথিবীর অন্য কারো নয়।’

    সালাহউদ্দিন ভবিষ্যতের লক্ষ্য করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের צעচেষ্টা থাকবে; যে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্যই আমাদের এই পরিশ্রম। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী নয়, গণতন্ত্রের জন্য এক অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক। সবাই তাকে সেই মর্যাদার সামনে দাঁড় করিয়েছে।’

    মনের গভীর থেকে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শঙ্কা প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজকের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, তা পূরণ করতে পারবো কি না, সেটা মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আকাশের মতো বিশাল। সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সবাইকে একত্রিত রেখে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়— এই নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সামর্থ্য ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সবাইকে একত্রিত করে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ দেখা হবে কতটুকু আলোকিত বা সফল হতে পারে।’

    বিএনপির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বেগম জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে চান। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য এই শোককে টুল হিসেবে ব্যবহার করার মতো আমরা সংকীর্ণ নই। তার শোককে জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে চাই। যেহেতু তিনি এখন আর আমাদের মাঝে নেই, তাই মনোনয়ন বা প্রতীক বাছাইয়ে প্রার্থীর পরিবর্তন হবে। নির্বাচনে যেখানে ভোটদানের আগে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার প্রভাব পড়বে না।

    নির্বাচন পেছানোর কোনও আইনি সুযোগও নেই, কারণ মনোনয়ন বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর যদি সেটি হতো, তাহলে আইনী জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হতে পারত। কিন্তু এখন সেরকম পরিস্থিতি নেই, কারণ তিনি মনোনয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে মারা গেছেন। সুতরাং, তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।

    মায়ের শোকের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোবল ভেঙে পড়েছেন কি না—এ প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে, এর বিকল্প কিছু নয়।’

  • বিএনপি র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেনি: বাবর

    বিএনপি র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেনি: বাবর

    সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় অবিচল থাকতেন। তার নির্দেশনায় আমরা র‌্যাব গঠন করেছি। তবে, বিএনপি কখনোই র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে এক ঘণ্টা বা একদিনের জন্যও ব্যবহার করেনি। শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই কথা বলেন।

    বাবর বলেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে র‌্যাবকে ব্যবহার করেছি, এটা কেউ বলতে বা প্রমাণ দেখাতে পারবে না। অন্যায় করলে বিএনপি নেতাকর্মীরাও ছাড় পেত না। তাদের মধ্যে নেত্রী খালেদা জিয়া এই সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন।

    তিনি আরও যোগ করেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার নেত্রীর মধ্যে যে গুণাবলী আমি খুঁজে পেরেছি, তা অন্য কারো মধ্যে দেখিনি। অনেক পরে তার ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আমি সেই গুণাবলী দেখতে পেয়েছি। সব মানুষ দোয়া করবেন যেন তার নেতৃত্বে জনগণের জন্য এক সুন্দর রাষ্ট্র গঠন করতে পারি।

    বাবর ব্যক্ত করেন, তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানে এসেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা নয়, ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নিয়ে এসেছেন।

    এছাড়া, বিএনপির এই নেতা বলেন, নেত্রীর সঙ্গে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং তার দেশের জন্য গভীর প্রেম দেখেছেন। স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের দিক থেকে তিনি কখনো আপস করেননি।

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে গভীর শান্তি অনুভব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও গণসংযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার এই মৃত্যু দেশের স্থিতিশীলতা স্থাপনে এক বিশাল ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি শোকপ্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোক প্রকাশ করছি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে, যখন দেশ চলমান গভীর সংকটে ভুগছে – সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় জীবন কাটাচ্ছেন, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে চলেছে – তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য এক গভীর ক্ষতি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতে নানা বিরাজনীতি ও অসংখ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও, খালেদা জিয়া নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য সফলতা অর্জন করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তার অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে তার মৃত্যু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বড় ধাক্কা বলেও তিনি মূল্যায়ন করেন।

    সবশেষে, তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা সৃষ্টি

    বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘোষণা দেন দলীয় নেতা ও চিকিৎসকরা। এই অপূরণীয় ক্ষতি আর শোকের ভিড়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু দল নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই বড় এক হেরফের হয়ে গেল। এটা নেত্রীর আত্মার শান্তির জন্য আমাদের গভীর শোক ও দুঃখের ভাষা মেলা কঠিন। তিনি আরও বলেন, এই শূন্যতা শুধুই রাজনৈতিক নয়; এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।

    মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এই শোকের সংবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি, আজ এই দিনটি দেখতে হবে। আমরা অমূল্য প্রত্যাশা করেছিলাম, সবার মতোই তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু এই দুঃসংবাদ আমাদের সবাইকে খুবই বিষন্ন করে তুলেছে। তারা ডাক্তার শাহাবুদ্দিনের ঘোষণা শুনিয়েছেন, সকাল ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের নেত্রী এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখলেন না। তার জন্য আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

    মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এই শোক অপ্রতুল, অপূরণীয়। দেশের ইতিহাসে এই নেত্রীর অবদান অপরিসীম, তার জীবন ও সংগ্রাম তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবন মানুষের অধিকার, কল্যাণ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে গেছেন। এখন তিনি আমাদের মাঝে নেই—এটা আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। রাজনৈতিক কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমাদের পক্ষে এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। দেশের রাজনীতি এক বিশাল শূন্যতা অনুভব করছে, যা পূরণ হওয়া সহজ নয়।

    বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে তার মরদেহের ব্যবস্থা, জানাজার আনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও দলের নেতারা এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সামনে আরও কাজ করবেন এবং সব কিছু জানিয়েছেন জনগণের সামনে transparently তুলে ধরা হবে।

  • খালেদা জিয়া কোনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি

    খালেদা জিয়া কোনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মধ্যে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি পৃথিবীর আলোর আলো থেকে চিরবিদায় নেন। তাঁর অকাল মৃত্যু দেশের রাজনীতি ও জনগণের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে থেকে থাকবে।

    খালেদা জিয়া ছিলেন এক অসাম্প্রদায়িক, আপসহীন নেতা, যিনি জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি তিনটি সংসদ নির্বাচনে প্রতিবারই জয় লাভ করেন এবং তিনি নির্বাচনী এলাকাগুলোর ইতিহাসে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই জয়ী হন।

    অবাক করা বিষয় হলো, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে, এমনকি ২০১৮ সালে তার দুর্নীতির মামলার কারণে আদালতের বিধান অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে, তিনি অনেকটা ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও, তার প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা আজও অবিচল। দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে তিনি তার আসনকে নিয়ে ভাবতে পারেননি। তবুও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি তার তিনটি আসন থেকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ছয় বছর, তবে দ্বিতীয় দফায় মাত্র এক মাসের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৯১ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিজয়ী হয়। ওই সময় তিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যা রাষ্ট্রপতি শাসিত থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

    ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একমাসের জন্য তিনি ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী থাকেন। পরবর্তীতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচনে জয়ী হন, তবে ওই নির্বাচনে তার দল বিএনপি হেরে যায় এবং তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।

    ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকেন। কৈশোর থেকে শুরু করে রাজনীতিতে তাঁর পথচলা ছিল সংগ্রামী, আর তার সাহস ও নেতৃত্বের জন্য তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

  • খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়া ছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’। তার দীর্ঘ জীবনের অর্জন, সংগ্রাম ও শোকের গল্প দেশের বহু হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির একজন ক্ষণজন্মা নেতা, যিনি জীবনভর সংগ্রাম, সাফল্য ও বেদনার প্রতিচ্ছবি আঁকেছিলেন।

    খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে। তার বাবার নাম ইস্কান্দার মজুমদার, মা তৈয়বা বেগম। পরিবারের তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার শৈশব কেটেছে পরিশ্রমে, পরিচ্ছন্নতা ও ফুলের প্রতি গভীর ভালোবাসায়। পড়াশুনা আগেই শুরু করেন সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে, পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছোটবেলায় তাকে ‘পুতুল’ ডাক নাম দেওয়া হয়েছিল কেননা তার অবয়ব হয়েছিল খুব সুন্দর।

    বিবাহ life: ১৯৬০ সালে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দিনাজপুরের বালুবাড়িতে বিয়ে হয় তার। এই দম্পতির দুই ছেলে— তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন।

    মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে, তিনি বেশ কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন, পরে ১৬ মে ঢাকায় এসে নৌপথে ঢাকায় প্রবেশ করেন। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সেনানিবাসে বন্দি করে। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি মুক্তি পান এবং সংসার ও রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    রাজনৈতিক জীবনের শুরু: তার রাজনৈতিক জীবন ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয়, তখন তার বয়স ছিল ৩৬। তিনি প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারপারসন ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তার পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য।

    তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে তার জীবনেও রয়েছে বিতর্ক, বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগে। তবে তার দৃঢ়তা ও সংগ্রামী চেতনা তাকে দেশের মানুষের হৃদয়ে অম্লান করে রেখেছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে ভুগে শেষ পর্যন্ত শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

    তার জীবনের শেষ সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন, তিনি বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আর আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়নি। অবশেষে, তিনি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির জন্য বিদায় নিলেন। তার জীবন ও কর্ম দেশবাসীর জন্য সত্যিই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।

  • বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি শুক্রবার তার সাংগঠনিকstructure অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নয়জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী tarafından প্রত্যেকের নাম ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

  • সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কার ব্যাখ্যা

    সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কার ব্যাখ্যা

    বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি মনে করেন, এই মৃত্যুটি বর্তমান বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এক বড় ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এক পোস্টে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টে বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন এবং দেশকে অস্থিতিশীল ও বিরাজনীতিকরণের অপচেষ্টা চলছে, তখন তার এই চলে যাওয়া বাংলাদেশের উত্তরণের পথে এক গভীর প্রভাব ফেলবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতের নানা বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ায় তিনি শিকার হয়েছেন, তবুও নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন এবং দেশের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে অবদান রেখে গেছেন। তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তবে, তিনি এই সময় বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ঝটকের বিষয় হিসেবে তার মৃত্যুকে তুলে ধরেন।

    অবশেষে, সজীব ওয়াজেদ জয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • জামায়াত আমিরের কদর্য দৃঢ়কন্ঠে বললেন, খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

    জামায়াত আমিরের কদর্য দৃঢ়কন্ঠে বললেন, খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার অর্জন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অদ্বিতীয় স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং প্রার্থনা করেন আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর যাবতীয় ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। এছাড়াও তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সকলের জন্য ধৈর্য্য ও տոկামের দোয়া করেন, যেন এই কঠিন সময়ে তাঁদের ধৈর্য্য ও সাহস বাড়ে। এমতাবস্থায়, তিনি মরহুমার জন্য আল্লাহর কাছে রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতের মর্যাদা কামনা করেন।”}}}## Additional Instructions? Let me know if you’d like any further adjustments or another version.“`#END_OF_RESPONSE#}]]}