Category: রাজনীতি

  • হানজালার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘আমি খোঁচা দিলেই দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    হানজালার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘আমি খোঁচা দিলেই দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ও রাতেই ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার বাহাদুরপুর গ্রামে কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হানজালা। অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানা রকম হুঁশিয়ারি দেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে হানজালাকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি (হানজালা) যদি বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করি, এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’’ ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, শিবচরের মানুষকে তিনি বাকস্বাধীনতা দিয়েছেন এবং বিরোধী নেতাদের অকারণ হুমকি-ধমকির অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রতি সতর্ক হতে বলেন।

    বক্তব্যে হানজালা দাবি করেন যে তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘‘আমি চুপ করে আছি কারণ আমি শান্তি চাই। আমার চুপ থাকা কোনো দুর্বলতা নয়—আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, অন্য কাউকে এক্ষেত্রে স্থাপন করলে শিবচরের মানুষ নির্দ্বিধায় চলতে পারত না।

    এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিবচর উপজেলা বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য-সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি ও তাঁর পরিবার আগের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিবচরে উগ্রভাবের উত্থান ঘটাতে চাইছেন বলে তিনি মনে করেন। সোহেল রানা দাবি করেন, শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এমন বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে এবং আশা ব্যক্ত করেন হানজালা তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। শিবচর উপজেলা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ করার কথাও জানিয়েছে।

    হানজালা নিজের বক্তব্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর মূল উদ্দেশ্য শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বলা ছিল। তিনি দাবি করেছেন যে কিছু মানুষ তাঁর কথা কেটে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে কেউ আমাকে বলেছেন আমি বিএনপি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করি—তাই সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে আমি এমন কিছু বলেছি। কিন্তু ‘দেশে বিএনপি থাকবে না’ বলতে দেশের কথা বোঝানো হয়নি।’’

    নোট: প্রতিবেদনে বিএনপি নেত্রী হিসেবে এক জায়গায় নাদিরা আক্তার নামে ও অন্যত্র নাদিরা চৌধুরী নামে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে নামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবারের নির্বাচনে খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাদিরা (প্রতিবেদনভেদে নাম ভিন্নভাবে উল্লেখিত)কে পরাজিত করে শিবচর থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হন। তিনি মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। হানজালার পারিবারিক পটভূমির বিষয়ে উল্লেখ আছে যে তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।

    ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জনমত ও রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি নিয়ে আরও বিবৃতি দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলন প্রচলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামীকাল পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ড. হামিদুর রহমান আজাদ। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবু অনেকে মনে করেন ভোটাধিকার পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পর্ষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা নিয়ে জোটের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতেই বাধ্য হবে। জোট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শীঘ্রই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে।

    একই সময়ে তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। এসব সিদ্ধান্ত জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—এই নিয়ম প্রত্যাহার করে নির্বাচন-ভিত্তিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন প্রশাসন চালাতে পারেন, সেই দাবি জানান তিনি।

    সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

  • হানজালার মন্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’—মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    হানজালার মন্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’—মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বাহাদুরপুরে দেওয়া একটি ইফতার মাহফিলে বলেন, ‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’, এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনায় পরিণত হয়।

    ঘটনাটি গত শুক্রবার কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে বাহাদুরপুর মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ঘটে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে নেওয়া একটি চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিও হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাতেই শেয়ার করা হয় এবং মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা মতপ্রকাশ ও সমালোচনা শুরু হয়।

    ভিডিওতে হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপি’র নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি) শিবচর নিয়ে রাজনীতি করুন, আমি পুরো বাংলাদেশ নিয়েই রাজনীতি করি। আমি শান্তি চাই; আমার চুপ থাকা দুর্বলতা নয়।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতৃত্বের কেউ কাউকে হুমকি-ধমকি দেয়নি, বিদেশি, স্থানীয় ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমর্থনে তিনি জিতেছেন এবং তাই রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চান।

    ভিডিওতে হানজালা তেমনকিছু ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি ও কঠোর ভাষার কটাক্ষের কথাও তুলে ধরেন এবং বলেন, তিনি শিবচরের মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন—যারা তার নামে লিখবে, সেই স্বাধীনতাই তিনি দিয়েছেন।

    বক্তব্য সংক্রান্ত প্রশ্নে হানজালা বলছেন, তার মন্তব্যে দেশের সর্বত্র বিএনপিকে উদ্দেশ্য করা হয়নি; তিনি মূলত শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বোঝাতে এই কথাগুলো বলেছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু মানুষ তার কথাগুলো কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এছাড়া তিনি বলেন, বিএনপির নাদিরা আক্তার নামের এক নেত্রী এক অনুষ্ঠানে তাকে উদ্দেশ্য করে জানিয়েছেন যে তিনি বিএনপিকে নিয়েই খোঁচাখুঁচি করেন—সেই মন্তব্যের প্রতিবাদগত প্রেক্ষাপটেই তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

    শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা এই মন্তব্যকে তীব্র আপত্তিকর হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, হানজালা ও তার পরিবারের আচরণ শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্বাভাবিক করবার চেষ্টা করছে; আশা করা হচ্ছে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং উপজেলা বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করবেন।

    প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিএনপি প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে পরাজিত করে জয়ী হন—মাত্র ৩৮৫ ভোটে, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট ব্যবধানে জেতার ঘটনা হিসেবে নজিরবিহীন। তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (র:)–এর সপ্তম পুরুষ।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকার হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকার হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামা হবে—এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, আগামীকাল পর্যন্ত সমস্যা না মিটলে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ড. হামিদুর রহমান আজাদ। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও, জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে জোটের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    জামায়াত নেতার অভিযোগ, জুলাই সনদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পর্ষদ গঠনের জন্য একদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সেই নীরিক্ষার পরও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা জোটের কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ বলে তিনি জানান।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি’।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ না নেয় তবে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বিরোধীরা। এ বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আগামী ২৮ মার্চ ডাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে পারে জোটটি, জানান তিনি।

    এ সময় ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরো অভিযোগ করেন যে, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা নতুন করে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদের বাইরে ও সংসদে দুই জায়গাতেই বিরোধী দলের করণীয় থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই—কারণ জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে’—শেষ করেন ড. হামিদুর রহমান আজাদ।

  • হানজালার বিতর্কিত বক্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    হানজালার বিতর্কিত বক্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নানান প্রতিক্রিয়া ডেকে এনেছে। তিনি বুধবার (বক্তৃতার দিন) উপজেলা বিএনপির উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দেন—যা পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    বক্তৃতার একাংশে হানজালা বলেন, ‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যান্ডিডেট ছিলেন। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি হানজালা—বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’ এই উক্তি থেকেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

    হানজালা ওই বক্তব্য গত শুক্রবার বাহাদুরপুর মাঠে কুয়েত রিলিফ সোসাইটির তত্ত¡াবধানে ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় দেন। ভিডিওতে তিনি প্রবাসী ভাইদের আস্থা, লোকজনের দেওয়া বিজয় এবং রাজনীতিকে শুধু ব্যয়ভিত্তিক না করলে ভালো হবে—এমন প্রাসঙ্গিক সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, কিছু লোক বিশেষ করে শিবচরের বিএনপি’র কর্মীরা অনেক লিখছেন এবং কথা বলছেন, কিন্তু তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চান।

    ভিডিওতে হানজালা আরও বলেন, অন্য কেউ হলে হয়তো এলাকায় কাউকে থাকতে দিত না, কিন্তু তিনি শিবচরের মানুষকে বাকস্বর স্বাধীনতা দিয়েছেন; তাই অনলাইনেও মানুষ লেখালেখি চালাতে পারবেন। তিনি উপস্থিতদের শান্তি, নতুনত্বের রাজনীতি ও প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানান।

    ঘটনার পর হানজালা দাবি করেন, তাঁর নির্দেশনা বিশেষত শিবচর উপজেলার বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমার বক্তব্য কাটাছেঁড়া করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’ উদ্ধৃত মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি’র এক নেতা—নাদিরা আক্তার—এক অনুষ্ঠানে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে তিনি বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি করেন; সেই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেছেন। হানজালা অস্বীকার করেন যে তিনি সার্বিকভাবে দেশকে উদ্দেশ্য করে ‘এ দেশে বিএনপি থাকবে না’ এমন মানে কিছু বলেননি।

    শিবচর উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি এবং তার পরিবার ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী শক্তিদের সঙ্গে ছিল; তাদের উদ্দেশ্য শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতি ও উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি হানজালাকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান ও জানান, শিবচর উপজেলা বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করবে।

    উল্লেখ্য, গত নির্বাচনেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিএনপি প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হন—যা দেশে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটের ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। হানজালা হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।

    বক্তব্য প্রতিবাদের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে তর্ক-আলোচনা চলছে, এবং বিষয়টি এখনও প্রকাশ্যভাবে সমাধান বা ব্যাখ্যার অপেক্ষায় আছে।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলন শুরু করবে জামায়াত ও ১১ দলের জোট। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান আজাদ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান। সভায় এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামি পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত নানা দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকার ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করলেও বাস্তবে জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সেই সংক্রান্ত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা জোটের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানাবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি।’

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, সরকার দ্রুত এই অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। এই প্রেক্ষিতে শীঘ্রই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আগামী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব ২৮ মার্চ তারিখে করেছে তারা; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।

    এইসাথে তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

    সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা হবে; তবে প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—উভয় এলাকায় বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনে শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’

  • আসিফকে লক্ষ্য করে মামলা দায়েরের চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    আসিফকে লক্ষ্য করে মামলা দায়েরের চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে মামলা করবার চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। তিনি এই কাণ্ডকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ করে করা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত বলেও অভিহিত করেছেন।

    শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং তাদের ‘অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকা’কে উদ্দেশ্য করে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি।

    নাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়; এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আদর্শ, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নেওয়া পরিকল্পিত রাজনীতি।

    তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা প্রমাণ করে যে ৫ আগস্ট পরাজিত শক্তিগুলো এখনো ষড়যন্ত্র চালাতে সংকুচিত হয়নি।

    নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, মামলা-ভীতি বা আইনি হুমকির মধ্য দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা যাবে না; অতীতে এ রকম চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করা যায় এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    বিবৃতিতে নাহিদ আরও নিশ্চিত করেন যে, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা সংকল্পবদ্ধ।

  • অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শুক্রবার নয়, শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও পুরো বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন নেই—এমন অভিযোগ বৈঠকে উঠে এসেছে।

    জোট সূত্রে বলা হয়, জুলাই সনদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল; তখন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও আহ্বান করা হয়নি, যে কারণে জোটের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ড. আজাদ আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি।’ যদি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামবে—এটাই তাদের ঘোষণা।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব ২৮ মার্চের জন্য রাখা হয়েছে। ওই বৈঠকে আগামী আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

    এ সময় ড. হামিদুর রহমান আজাদ প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা ও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিকে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদে বিরোধীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—উভয়ক্ষেত্রেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ‘জুলাই সনদ আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে,’ যোগ করেন তিনি।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবুও ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে জোটের অভিযোগ।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রসঙ্গে একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ও সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও ডাকা হয়নি, যা জোটের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    জুলাই সনদের বিধি মোতাবেক সংসদের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দিবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন—কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তিনি অভিযোগ করেন।

    ড. হামিদুর বলেন, ‘সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’ এ বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আগামী ২৮ মার্চ ডাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে, জানান তিনি।

    অপরদিকে, তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর বলেন, প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সংসদে এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা কার্যত বাস্তবায়ন করতেই হবে।’’

  • আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় এবং এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত। তিনি বলেন, এমন কাণ্ড জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে টার্গেট করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।

    শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার অভিযোগ এনে মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে; তবে আদালত ওই মামলাটি গ্রহণ করেনি। তিনি এ ধরনের চেষ্টা গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ তথা গণতান্ত্রিক অর্জনের প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের ওপর হয়রানিমূলক মামলা করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দমন করা হবে না; অতীতেও এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

    জনগণ ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নাহিদের আহ্বান—এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।