Category: রাজনীতি

  • সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের মঞ্চে পরিণত না হয়: জামায়াত আমির

    সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের মঞ্চে পরিণত না হয়: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে জাতীয় সংসদ কোনো ব্যক্তির চরিত্রহননের কেন্দ্র হয়ে উঠবে না। তিনি বলেন, সংসদ যেন দেশের কল্যাণে কাজ করা একটি কার্যকরী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতের কিছু অধিবেশনে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয় নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহাননে ব্যয় হয়েছে।

    শফিকুর রহমান স্পিকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন যে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পক্ষপাত দেখানো হলে চলবে না। ‘‘আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না—এমনটাই আমরা আশা করি। আপনার কাছ থেকে সুবিচার পাব, জাতির কল্যাণে আমরা যে কথা বলতে চাই, তা বলার সুযোগ পাব,’’ তিনি বলেন।

    তিনি আশা ব্যক্ত করেন নতুন সংসদটি গতিশীল হবে এবং পুরনো খারাপ নজির পুনরাবৃত্তি হবে না। এছাড়া তিনি বলেন, আজকের এই সংসদে অনেক নতুন তরুণ সদস্য এসেছেন। বয়সে হয়তো আমিও কিছুটা বড়, তবু নিজেকে তরুণ মনে করেন এবং বললেন—তার জীবনে এটি প্রথম সংসদ।

    বিরোধী দলীয় নেতা পুনরায় বলেন, অতীতের সংসদগুলোতে দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়গুলো ভুলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের জন্য সময় ক্ষেপণ হয়েছে; নতুন সংসদে এ ধরনের আচরণ বন্ধ হওয়া জরুরি। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন কেউ সামান্যতম সুযোগও পায় না কারো চরিত্রহননের জন্য।

    বক্তব্যের শেষভাগে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় জীবনে ঘটে যাওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও গুমের ঘটনাসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন যে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেকে জীবনও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন।’’ এরপর তিনি আবারও পুরনো স্লোগান উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’—এখনও তিনি সেই স্লোগান দিতে চান।

  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের দ্বন্দ্ব

    রাষ্ট্রপতির ভাষণ কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের দ্বন্দ্ব

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দান করার কথা থাকলেও সেটি নিয়েই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে ভাষণ দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয় এবং তাঁকে ভাষণদানে বিরত রাখা উচিত।

    অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলছে, নিয়মই নির্দেশ করে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার সংসদ ভবন ত্যাগের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’ তিনি আরও বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টায় অধিবেশন বসবে এবং ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন হয়ে তাদের শপথ করানো হবে, যা রাষ্ট্রপতি করবেন।

    এদিকে সরকারি দলের সংসদীয় দলের বৈঠকও আজ জাতীয় সংসদ ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে; সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেসময় নানা প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বিরোধী দলের এমপিরাও দুপুরে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর; সংসদে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’ তিনি জানান, আগামীকাল যে সংসদ বসবে সেখানে বিরোধীদের ভূমিকা কী হবে, সে সম্পর্কে বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অনেক নতুন সংসদ সদস্যকে দেখিয়ে তাঁরা সংসদের মান ও চরিত্র নিয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

    ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়; প্রস্তাব আসলে তাদের অবস্থান প্রকাশ করা হবে—তাহের বলেন, ‘এ বিষয়গুলো কালকে খোলাসা করা হবে।’

    সংক্ষেপে বলা যায়, রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক আক্রমণপ্রত্যাশা তীব্র হয়েছে; সরকার নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে, আর বিরোধীরা ভাষণদানকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়ে विरोधের সংকেত দিচ্ছে। পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে আগামীকালের অধিবেশনে।

  • জুলাই সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না জামায়াত

    জুলাই সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না জামায়াত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সংস্কারের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে তারা ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করবে না। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য জানান।

    জারকারী হিসেবে তিনি বলেন, বিএনপি আনঅফিশিয়ালি তাদের কাছে ডেপুটি স্পেকারের প্রস্তাব এনেছে; এ প্রস্তাবের জন্য তারা কৃতজ্ঞ, কিন্তু যে শর্ত তারা রেখেছে—জুলাই সংস্কার সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে—তাহাই অবশ্যক। আংশিক বা খণ্ডিত কোনো বাস্তবায়ন তারা মেনে নেবে না।

    ডা. শফিকুর বলেন, একটি দায়বদ্ধ বিরোধী দল হিসেবে তারা দেশের ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চায়। প্রথমে যদি সরকার ভুল করে তারা ভ্রটি দেখিয়ে দেবে; তা না হলে শান্তিসম্মতভাবে প্রতিবাদ করবে এবং প্রয়োজন হলে জনগণকে নিয়ে আন্দোলনে যাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবু সব সিদ্ধান্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে দুটি বিষয়—একটি গণভোট ও একটি সংসদ নির্বাচন—দুইটোকেই মেনে নেওয়া হয়েছে। সংস্কার পরিষদে তারা শপথ নিয়েছেন, কিন্তু সরকারি দল এখনো শপথ নেয়নি; ‘২৪ থাকলে ২৬ থাকবে, নইলে থাকবে না’—এই কথায় তিনি দ্রুত শপথ গ্রহণের আশা প্রকাশ করেন এবং আক্ষেপ করেন যে ৬৯% মানুষ গণভোটে রায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

    জামায়াত আমির আবেদন করেন যে গণভোটে রায় দেওয়া চারটি ইস্যু বাস্তবায়ন করা হোক। এই লড়াই তারা সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গায় একসঙ্গে চালিয়ে যাবে; সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো বিষয় আদালতে নেওয়া সঠিক হবে না এবং সরকার বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত বক্তব্য ও অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে—এই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • রাষ্টপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন

    রাষ্টপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসছে। নিয়ম অনুযায়ী এ দিনে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ হওয়ার কথা। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছে বিরোধীদলীয় দলগুলো — জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) — তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে।

    অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, চলমান নিয়ম ও রীতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’’

    সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘জুলাই সেশনের সব বিষয় এ ভাষণে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। এবারই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে এবং তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি।’’

    আজ জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের বৈঠক হয়েছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভার সভাপতিত্ব করেন। আগামীকের সংসদ অধিবেশন ও সেসঙ্গে প্রয়োজনীয় কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    একই দিন দুপুরে বিরোধী দলের এমপিদেরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর। তারা যাকে দিয়ে ভাষণ করাতে চায়, সেই ব্যক্তির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’’

    তাহের আরো বলেন, ‘‘আগামীকাল যে সংসদ বসবে সেখানে আমাদের কী ভূমিকা থাকবে, তা নির্ধারণে বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেকে সংসদের অনেক সদস্যই নতুন, তাই তাদের জন্য সংসদের আচার-ব্যবহার ও চরিত্র নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

    ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘যখন প্রস্তাব আসবে তখন আমরা জানাবো। কালকে বিষয়টি খোলাসা করা হবে।’’ শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা মনে করে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই এবং এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত আগামীকাল প্রকাশ করা হবে।

  • জুলাই সনদের সুবিধাভোগী হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জুলাই সনদের সুবিধাভোগী হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হয়ে যারা সরকারি দলে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন, তারা এখন অপ্রত্যাশিতভাবে পিছুხাড়া করে যাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়ে ষড়যন্ত্র চলছে।

    আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’’ শীর্ষক গোলটেবিলে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে—প্রায় পাঁচ কোটির মতো মানুষ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ৫০ শতাংশের বেশি পেলে সেটি গণরায়ের মর্যাদা পায়; তবু বিএনপি তা উপেক্ষা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এখনও সম্ভব। ৫ আগস্ট থেকে যে শিক্ষা নেওয়া উচিত—জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যারা অবিচার করবেন, তাদের সেই শিক্ষা হতে হবে—তাও তিনি বারবার জোর দিয়েছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে Julio সনদের প্রতি সিরিয়াস মনোভাব থাকার কথা উল্লেখ করে সংগঠনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান করেন।

    আইনমন্ত্রী নিয়ে তার অভিযোগও ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার আদেশ বাস্তবায়ন না-করায় ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না-গ্রহণ সম্পর্কে যে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটি কেন আইনমন্ত্রীর তরফ থেকে নেই। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন আইনি যুক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা আইনমন্ত্রীর কাজ—তাই তিনি নীরব কেমন করে থাকতে পারেন, তা জানা নেই।

    তিনি সাবজুডিসের আড়ালে জাতীয় সংসদে জুলাই সনদের আলোচনা সচেতনভাবে দীর্ঘ করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছে। সাবজুডিসের নাম করে বিষয়টিকে টালবাহানা করা হচ্ছে এবং সংখ্যার জোরে পার্লামেন্টে এই আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে এটা একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে জনগণের সামনে আনা হচ্ছে, বলেন তিনি।

    শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রতিটি ঐকমত্য বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন। ওই সনদের যে আকাঙ্ক্ষা রক্তের বিনিময়ে গড়া, সেটি বাস্তবায়ন করতে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য—এই আশায় তিনি বক্তৃতা শেষ করেন।

  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে সরকারি-বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান

    রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে সরকারি-বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ওইদিনই রাষ্ট্রপতি সংসদে বার্ষিক ভাষণ দেবেন। কিন্তু এই কক্ষেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মনোভাব পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে।

    বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ ও আপত্তির কথা সংসদে গৃহীত আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

    অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি মনে করছে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্ধিন আহমদ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’ তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন আগামীকাল সকাল ১১টায় শুরু হবে এবং সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; তাদের শপথগ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আরও বলেন, আগামী অধিবেশনে জুলাই সেশনের বিষয়বস্তুও আলোচ্য হবে।

    আজ সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; আগামীকালের অধিবেশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সেখানে আলোচনা হয়েছে।

    অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের এমপি-দেরও একটি বৈঠক আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর; সংসদে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’ তিনি জানান, আগামীকালের সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে সে বিষয়ে বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক নতুন সদস্য থাকার কারণে সংসদের মান ও চরিত্র সম্পর্কে সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

    ডেপুটি স্পিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রশ্নে তাহের বলেন, প্রস্তাব এলে তারা বক্তব্য জানাবেন এবং এ বিষয়টি আগামীকাল স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, তারা মনে করেন রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষিত নয় এবং বিএনপি কেন তাঁকে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে; এ সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা কাল সংসদে প্রকাশ করা হবে।

    পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আগামীকালকের অধিবেশন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে তর্ক-তিতিক্ষা ও উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • জামায়াত আমিরের চিঠি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ চাওয়া—পরে নতুন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা

    জামায়াত আমিরের চিঠি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ চাওয়া—পরে নতুন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা

    জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে একটি চিঠি দিয়ে তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিটি বিরোধী দলীয় নেতার দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এই চিঠি পৌঁছানো এবং অনুরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াত আমিরের যুক্তি ছিল, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের কূটনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দেশের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজে লাগবে; একই সঙ্গে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিসমূহ সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা যাবে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    তবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও পেশাদার কূটনীতিকরা এ ধরনের পদায়ন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে না বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের কথায়, এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এমন নজির নেই। তারা আরও বলেন যে যুক্তরাজ্যসহ কিছু পশ্চিমা দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা দেখা যায়; আবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় সংকট বা বিশেষ প্রয়োজনে সব দল একসঙ্গে কাজ করার উদাহরণ আছে।

    প্রাক্তন ও বর্তমান কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবেদনশীল মহল। বিদেশি দেশ ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সময় দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার ও ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছাকে বিবেচনায় রেখে সতর্ক সমন্বয় প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্নভাবে নিয়ে এলে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকতে পারে।

    জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান নিজেই আমিরকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন এবং সেখানে মৌখিক সম্মতিও এসেছে। কিন্তু মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগের বিষয়টিতে আমির অনুমোদন দেননি। পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবকেও জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে জামায়াত আমির উল্লেখ করেছেন যে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় রূপায়িতভাবে কাজ করতে সক্ষম। তিনি ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা ও দেশের পররাষ্ট্রনীতির সামঞ্জস্য ধরে রাখতে মাহমুদুল হাসানকে পদায়নের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছেন।

    চিঠি পাঠানো ও পরবর্তীতে উপদেস্টার বদলের ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় বা সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও সীমিত। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

  • নাহিদ ইসলাম: ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ব’

    নাহিদ ইসলাম: ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ব’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে এগোতে হবে। সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির আয়োজন করা বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ বলেন, যেভাবে আজকের ইফতার মাহফিলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, ঠিক সেই মনোভাব নিয়ে সংসদেও একযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সকল অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বারবার বলেন, জুলাই সনদই হচ্ছে সেই নির্দেশনা—এটি বাস্তবায়ন করেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগাব।

    বক্তা অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার কোনো স্বতন্ত্র নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসেনি; এটি অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজন করা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের বৈধতাও তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদে বেঁধে দিয়েছেন এবং তা কেউ ভোলা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, পুরোনো সংবিধানের আড়ালে যদি সংস্কারের কাজ থেকে পিছু হঠা হয় বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হয়, তাহলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শাহাদাত ও হাজারো মানুষের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদকে যদি আবারও পুরোনো সংবিধানের ঢিলেঢালা ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্কার সভা, শপথ গ্রহণ বা প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়, তবে আগস্ট–জুলাই কর্মসূচি, নির্বাচনের মধ্যপ্রাচীতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা সবকিছুরই প্রশ্ন উঠবে।

    নাহিদ গানেন, এই মুহূর্তে যে ঐক্য এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্ভব হয়েছে, তা হয়েছে তাদের হাজারো ভাই-বোনের শাহাদাত ও রক্তের বিনিময়ে—তারা রাজপথে দাঁড়িয়েছেন বলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন দল থেকে নেতৃবৃন্দ ও অনেকে অংশ নেন এবং একযোগে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগোবো: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগোবো: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গঠন করা হবে। তিনি বলেন, আজ ইফতার মাহফিলে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, সংসদেও একইভাবে ঐক্য বজায় রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ কার্যকর করবো।

    সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বৈধতা নিয়েও মন্তব্য করে বলেন, এই সরকার কোনও স্বাভাবিক নিয়মে বা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসে নি; তাদের বৈধতা এসেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজিত নির্বাচনের মাধ্যমেই। তিনি বলেন, জুলাই সনদ সেই বৈধতার প্রকাশ—এটি কেউ ভুলে যেতে পারবে না।

    নাহিদ আরও বলেন, পুরনো সংবিধানের আড়ালে যদি সংস্কারের কাজ থেকে গড়িমসি করা হয় বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অবহেলা করা হয়, তা হলে তিনি সতর্ক করে বলেন যে এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার প্রতি, হাজারও মানুষের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকি হবে।

    তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ যদি আবারও পুরনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার সভা থেকে পিছু হটে বা শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে, তাহলে সেই সংসদের ওপর জুলাই গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    নাহিদ বলেন, আজকের এই ঐক্যশীল মুহূর্তটি সম্ভব হয়েছে তাদের হাজারো ভাই-বোনের আত্মত্যাগের কারণে। ‘‘তারা রক্ত দিয়েছেন, আপনাদের রাজপথে থাকার ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে—এসবের ফলেই আজকের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে,’’ তিনি বলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

  • জামায়াত আমিরের চিঠি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগের আবেদন

    জামায়াত আমিরের চিঠি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগের আবেদন

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চিঠি দিয়ে তার পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিটি তার দফতর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, যা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

    জামায়াত আমির তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান কূটনীতিতে দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্পর্ক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তিনি দাবি করেছেন যে এ ধরনের পদায়ন বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিসমূহ সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। চিঠিতে ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এ প্রস্তাব সরকারের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়।

    অন্যদিকে, সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্র সচিব ও পেশাদার কূটনীতিক এই ধরনের পদায়নের নজির বাংলাদেশে নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এর মতো পদায়নের কোনো প্রচলিত উদাহরণ দেখা যায় না। কিছু পশ্চিমা দেশ এবং যুক্তরাজ্যে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা থাকার রীতি থাকলেও প্রতিবেশী ভারতের ও পাকিস্তানের মতো দেশেও শুধুমাত্র বড় সংকট বা বিশেষ প্রয়োজনে দলগুলো একসঙ্গে কাজ করার নজির আছে।

    কূটনীতিকরা আরও অভিমত দিয়েছেন যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবেদনশীল ও সমন্বয়কেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে দায়িত্ব দিলে দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের নীতিকে বিবেচনায় রেখে কাজ করা প্রয়োজন; অন্যথায় জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকতে পারে।

    জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান নিজেই আমিরকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন এবং আমির মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন; তবে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগের ব্যাপারে জামায়াত আমির সরাসরি সম্মত ছিলেন না। এরপর শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগ সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    চিঠি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি সরকারের বিবেচনার জন্য উঠেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণকারী ও পরামর্শদাতা পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ হয়নি।