Category: জাতীয়

  • টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৩ দফা দাবিতে হুঁশিয়ারি, সড়ক অবরোধ অব্যাহত

    টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৩ দফা দাবিতে হুঁশিয়ারি, সড়ক অবরোধ অব্যাহত

    তেজগাঁও সাত রাস্তা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করেছে টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীরা। শুরুতে তাঁদের ছয়দফা দাবি থাকলেও আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা তা থেকে সংকুচিত হয়ে তিন দফা দাবির ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন জোটবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেছেন। তাদের দাবি জানাতে আছেন সড়ক অবরোধের মাধ্যমে, যা ইতিমধ্যে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষজনের চলাচলে বড় ধরনের অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গুলি চালানো ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের তিন দফার প্রথমে রয়েছে, সেইসব হেলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত থেকে দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। দ্বিতীয় দফা হিসেবে তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবি ও তপস্যা চালানোর কিছু কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, কারণ এসব দাবি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    তৃতীয় দফায় শিক্ষার্থীরা কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের ছয় দফা দাবির রূপরেখা ও সুপারিশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, এখনও যেসব দাবির বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    সড়ক অবরোধের কারণে তেজগাঁও এলাকায় যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনচালকদের ভোগান্তি হয়। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে এবং দাবি পূরণের জন্য এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই আন্দোলন ও দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

  • নির্বাচনের পরেও বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ও রোডম্যাপ চান নাহিদ

    নির্বাচনের পরেও বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ও রোডম্যাপ চান নাহিদ

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক, নির্বাচনের পরও জুলাই হত্যা মামলাসহ গত ১৫ বছরের বিভিন্ন হত্যা, নির্যাতন ও গুমের মামলার বিচার অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের কাছে স্পষ্ট করে প্রতিশ্রুতি ও একটি রোডম্যাপ চেয়েছেন। এই দাবির মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এখনও তার মূল লক্ষ্য।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে মঙ্গলবার হাজির হয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। তবে অন্য একজন সাক্ষীর জেরায় সময় বেশি লাগার কারণে তিনি ফিরে যান, কারণ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। নিজের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য না দিয়ে তিনি ফিরে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, তার লক্ষ্য হলো এর থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই মামলার রায় হলে আমি রাজনৈতিকভাবে ন্যায়বিচার পাবো। তবে এর পাশাপাশি গত ১৫ বছরে সারাদেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যা, নির্যাতন, গুমের সব মামলা অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাচনের পরেও যেন বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না আসে, সেটাও আমাদের দাবি। এই দায়িত্ব আমাদের এই সরকারের।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজে আমি সন্তুষ্ট। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

    অভিযোগকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও জনমত গড়ে তুলতে হবে বলেও জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘রায়ের পরে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে খোদ সরকারই শাস্তি নিশ্চিত করবে, এটা অবশ্যই আইনসঙ্গত।’

    আজকের আদালতে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা চলছিল। দেখা যায়, শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জেরার অংশ হিসেবে এই সাক্ষ্য নিচ্ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন স্বীকার করেছেন, আন্দোলনের সময় তিনি যে হত্যা, গণহত্যার অভিযোগের স্বীকার, তা সত্য। তিনি জানান, তিনি এই বিষয়ে আদালতে বিস্তারিত তুলে ধরতে প্রস্তুত।

    বিচারপতি মোঃ গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই অভিযোগ গঠনের সময় মামুনের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে। একই দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়। এছাড়াও, অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ হয়।

    প্রসিকিউটর গাজি মনোয়ার হোসেন জানান, মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ার কারণে আজ তিনি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না। তবে, আঞ্চলিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক পার্শ্বচরিত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার আনুষাঙ্গিক কাজ চলমান থাকবে।

    ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শেখ হাসিনার পতনের ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। এরপর, ৫ আগস্ট তিনি ক্ষমতা থেকে অপসারিত হন। এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। এর অভিযোগপত্র মোট আট হাজার সাতশত চুরাশি পৃষ্ঠার, যেখানে তথ্যসূত্র দুই হাজার আড়াই পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পঞ্চাশ পৃষ্ঠা এবং শহিদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ চুরাশি পৃষ্ঠার। এই মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষী রয়েছেন।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক ও ২০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক ও ২০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ অনুসারে ১৯ জন শিক্ষক ও ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ঘটে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি তদন্তের অংশ হিসেবে এই নোটিশ জারি করে। শিক্ষকদের কাছে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের উত্তরের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পেয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলা, দর্শন, সংগীত, কম্পিউটার সায়েন্স, ইংরেজি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষকরা। যেমন— ফোকলোর বিভাগের ড. মুহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ, থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের মো. মুনফিজুর রহমান (হিরক মুশফিক), সংগীত বিভাগের ড. জাহিদুল কবীর, ড. মুশাররাত শবনম, থিয়েটার বিভাগের নুসরাত শারমিন তানিয়া, এমতান আরও অনেকে।

    বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি উত্তর সন্তোষজনক না হয়, তবে পরবর্তী আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    প্রশাসনের সূত্র বলছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে—অনারা চেয়েছিলেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এই কমিটিগুলোর নেতৃত্বে আছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা, যেমন মাহবুবুর রহমান, জাকির হোসেন খান ও অধ্যাপক আকতার হোসেন মজুমদার। এসব কমিটিকে বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনাপ্রমাণ অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা তাদের জবাব দিচ্ছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিগুলোর কাছ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর, পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    নোটিশ প্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম বা বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন রেজিস্ট্রার।

  • এনবিআরে ১৮২ কর্মকর্তার দপ্তর বদল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

    এনবিআরে ১৮২ কর্মকর্তার দপ্তর বদল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর আওতায় ১৮২ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দফতর পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া, এক যুগ্ম কর কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং একটি কর পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

    নবম্যাবার, এনবিআর-এর দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) তানভীর আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই ১৮২ কর্মকর্তা বদলির তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই বদলি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অপরদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এনবিআর থেকে আলাদা পৃথক আদেশে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এক চিঠির মাধ্যমে জানা গেছে যে, কর অঞ্চল-১৬ এ কর্মরত যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তার চাকরির সময় সম্পন্ন হওয়ায় এবং জনস্বার্থে অবসর গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার সেই অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইনের ২০১৮ এর ৪৫ ধারার অধীন থেকে তাকে অবসর দিয়েছে এবং এর দ্বারা তাকে প্রাপ্য সমস্ত সুবিধা প্রদান করা হবে।

    অন্যদিকে, গাজীপুরের কর পরিদর্শক কাজী নূরে সোহেলাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়েছে যে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (গ) অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাকে 귀প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে গাজীপুর কর কমিশনের কার্যালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বিধির অনুসারে খোরাকি ভাতা পাবেন। এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

  • নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে

    নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি একটি সমতা নির্ভর এবং মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করা, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকস পাহারার মধ্যে নয়, বরং সবাই স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোনো নাগরিকের ধর্ম, পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।

    ৬ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালবেলা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা-সভার আয়োজন করেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ি, তবে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হবো। কিন্তু আমরা তা চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান হবে। এখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হবে না, সবাই মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করবে।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো—সকল ধর্ম, সকল বিশ্বাসকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা। ধর্মের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের মর্যাদা সমান।

    বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ চাই, তাহলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ গত ১৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তাঁকে আসন্ন দুর্গোত্সবের জন্য পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানালে, তিনি সেটি গ্রহণ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান।

    সাক্ষাত্কালে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে সবসময়ই থাকে, কিন্তু সবসময় সেটা হয়ে ওঠে না। পূজার সময়টায় অন্তত বছরব্যাপী একবার দেখা হয়, এই মুহূর্তটা আমার জন্য বড়ই প্রাপ্তি।’

    তিনি পূজা প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি বলেন, ‘সরকার সব ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’ এদিকে, হিন্দু ধর্মীয় নেতারা জানিয়েছেন যে, গত বছরের তুলনায় এবার আরও আশি হাজারের বেশি নতুন পূজামণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে, যা পূজার প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করেছে।

  • তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের রেকর্ড, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব

    তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের রেকর্ড, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ক্রমেই এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যে পরিস্থিতি ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার একেবারে শীর্ষে থাকতে থাকা বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যার ফলাফল শুধুমাত্র পরিবেশের ক্ষতি নয়, বরং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করছে। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে তাপের প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্ঠার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার মিস ইফফাত মাহমুদ ও স্বাস্থ্যের Field Expert ওয়ামেকের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডা. আ. রাজা।

    গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অনুভূত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জনজীবনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দশকের সবচেয়ে গরম বছর ছিল, যেখানে পয়েন্টে পয়েন্টে তাপমাত্রা আগের তুলনায় ব্যাপক বৃ্দ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ১৯৮০ থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৪ ডিগ্রি, যা দেশের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বৃক্ষনিধন এবং কংক্রিটের অর্ধেক বাড়তি ব্যবহার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে শহরগুলো আজ ভয়াবহ তাপপ্রবাহের শিকার। এর ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হচ্ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শীতের তুলনায় গরমে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় এসব রোগের ঝুঁকি ২২.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গরমের সময় তাপজনিত ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের প্রকোপও বেড়ে যাচ্ছে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপে এসব ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়। নারী ও ৫ বছরের নিচের শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

    মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের হার শীতের চেয়ে বেশি। গরমের কারণে বিষণ্ণতা ২৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, উদ্বেগের হার বাড়ে ৩৭.১ শতাংশ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতি হচ্ছে মারাত্মকভাবে। ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে দেশের কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের। এর আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১.৩৩ থেকে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, যা দেশের মোট জিডিপির শতকরা ০.৩ থেকে ০.৪ ভাগের সমান। বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষতি ৪.৯ শতকরা হারে বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপির বড় অংশে পৌঁছে যাবে।

    বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই যেতে পারে যদি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। প্রতিবেদনটি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
    ১. জাতীয় প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করা,
    ২. স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত ও গরমের জন্য বিশেষ জরুরি ব্যবস্থা,
    ৩. গরম মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও সহনশীল আবাসন ব্যবস্থা ব্যবহার,
    ৪. আবহাওয়া তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা সিস্টেম চালু,
    ৫. জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য ও অর্থায়ন সংগ্রহ।

    বিশ্বব্যাপী এই তাপপ্রবাহ এখন শুধু দেশের ব্যাপার নয়, বরং এটি এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি সংকট। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিমালা আরও গুরুত্ব দিতে হবে ত্বরণে। রাজনীতিবীদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি একযোগে কাজ করে তাহলে এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

  • বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা

    বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা

    বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্যাপুর বটতলা গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলে নির্মমভাবে খুন হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে যখন তাদের রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির ভিতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    নিহতরা হলেন প্রবাসী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী রানী বেগম (৪০) এবং তার ছেলে ইমরান হোসেন (১৮)। ইমরান বর্তমানে নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

    পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র বলছে, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে তাদের কুপিয়ে হত্যা করে। সকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে আতঙ্কित হয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃতদেহ দুটির মধ্যে বারান্দায় রানী বেগমের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়, এবং অন্য কক্ষে ছিল ইমরানের লাশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    প্রতাক্ষ্য স্বজনরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সময় দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে একটি মোটরসাইকেল, কিছু নগদ টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন, পুলিশী তদন্ত চলছে।

  • পাবনায় প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক; নানা অভিযোগ উঠল

    পাবনায় প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক; নানা অভিযোগ উঠল

    পাবনা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুপ্রিম ভারতীয় নাগরিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন জালিয়াতা করে শ্বশুরের নামে সরকারি জমি লিজ নেওয়ার এবং সেটি নিজের নামে দখলের।

    অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদমের সূর্যসেন পল্লির নির্মল কুমারের ছেলে। তবে তার বসবাস পাবনা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার ভারতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ০০০০/০০৮০২/৭৬৩৯৭ এবং আধার কার্ডের নম্বর ৪০৫০২২৩৪৩৩৫১।

    জানা গেছে, সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশ সরকারের চাকরির নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন, অন্যদিকে তিনি ভারতের নাগরিক। এছাড়া তিনি ভারতে জমি কিনেছেন, ফ্ল্যাট বাড়ি করেছেন। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে এখনো ভারতেই থাকে। ছোট ছেলে, যিনি বাক প্রতিবন্ধী, ভাতা পান, সেই ভাড়াটিও থাকেন পাবনাতে। মাঝে মাঝে তিনি ও তার পরিবার ভারতে যান দীর্ঘ সময়ের জন্য।

    অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে, শ্বশুর দীপক কুমার রায়ের নামে সরকারি জমি জালিয়াতি করে 자신의 নামে নেয়ার চেষ্টা।

    শ্বশুরের শ্যালক সুমন কুমার রায় বলেন, ‘আমার বাবা শহরের মুরগি পট্টিতে সরকারি জমি লিজ নিয়েছিলেন। বাবা মারা গেলে সেই জমি আমার মায়ের নামে লিজ দেয়া হয়। তারও পরে, মা মারা যাওয়ার পরে, আমি ছাড়া অন্য কেউ জানতে না পেরে, আমার বোনকেই উত্তরসূরি হিসেবে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে বলা হয়। এখন আমার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে।’

    অভিযুক্ত সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এই সব অভিযোগ মিথ্যা, এগুলো কাগজপত্র বানানো। আমার স্ত্রীর ও সন্তানের সঙ্গে ভারতে গেছে। আমার সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই। আমি প্রমাণ হিসেবে সব ডকুমেন্টস দেখাতে পারবো।’

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানিয়েছেন, তাদের কাছে অভিযোগ ও প্রমাণ এসেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছেন, শিগগিরই রিপোর্ট হাতে পেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্টরা।

  • নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ শুরু, ধাপে ধাপে পৌঁছাবে ভোটের সামগ্রী

    নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ শুরু, ধাপে ধাপে পৌঁছাবে ভোটের সামগ্রী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে নির্বাচনি সামগ্রী সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে এগিয়ে এগুলোর পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষণ করার জন্য। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচনি মালামাল সংরক্ষণ চলাকালে নির্বাচন ভবনের প্রতিটি কোণে এই দৃশ্য দেখা যায়।

    নির্বাচন কমিশনের উপসচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, লালগালা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, বড় হোসিয়ান ব্যাগ, ছোট হোসিয়ান ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদার কিছু অংশ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলছিলেন, বড় ও ছোট হোসিয়ান ব্যাগের চাহিদার সবগুলোই এখন দাখিল হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য মালামালও আসছে।

    এখন পর্যন্ত কেনাকাটা ও সরবরাহের মধ্যে রয়েছে আট ধরনের মালামাল। এর মধ্যে লালগালা ২৩ হাজার কেজি চাহিদার মধ্যে এক চতুর্থাংশই এখন পৌঁছে গেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের জন্য ৫০ লাখ লক চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। একইভাবে, ৮ লাখ ৪০ হাজার দফতরিক সিলের চাহিদার মধ্যে পাঁচ লাখের সরবরাহ শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই। মার্কিং সিলের চাহিদা ছিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার, তবে দেড় লাখ সামগ্রী সরবরাহ শুরু হয়েছে। ব্রাস সিলের চাহিদা নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার, তবে রিটেন্ডার হওয়ায় বেশ কিছু বিলম্ব হচ্ছে। গনি ব্যাগের চাহিদা ১ লাখ ১৫ হাজার, সেটিও এখন পর্যন্ত সরবরাহ শুরু হয়নি; কারণ রিটেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, বড় হোসিয়ান ব্যাগের চাহিদার সবটাই ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, যা ৭০ হাজারের বেশি। এছাড়া ছোট হোসিয়ান ব্যাগের জন্য চাহিদা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার, সেটিও সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

    অগাস্টের শুরুর দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম কেনাকাটা শেষ হবে। লোকাল পারসেজ প্রক্রিয়ায় আটটি আইটেমের মধ্যে একটির পুনরায় দরপত্র দিতে হয়েছে, তবে আমি বিশ্বাস করি সময়সীমার মধ্যে সব কিছুই শেষ হবে।

    প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথের জন্য ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন ২১ ধরনের সামগ্রী। রোজার আগে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছেন ইসি। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

  • শেখ মুজিবসহ হাসিনা ছিলেন সেনাবিদ্বেষী: মাহমুদুর রহমান

    শেখ মুজিবসহ হাসিনা ছিলেন সেনাবিদ্বেষী: মাহমুদুর রহমান

    ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারিবারিকভাবে সেনাবিদ্বেষী ছিলেন বলে সম্প্রতি স্বীকার করেন বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার পিতা, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, দুজনই সেনাবিরোধী মানসিকতা পোষণ করতেন। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক মামলার সাক্ষ্যদানকালে মাহমুদুর রহমান এসব কথা জানান।

    তিনি উচ্ছেদ করে বলেন, পিলখানায় দেশের সেনাবাহিনীকে নির্মমভাবে হত্যার পর শেখ হাসিনা বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন। তদ্ব্যতীত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    আজকের এই সাক্ষ্যদান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ের ঘটনার সামনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি এ মামলার ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান। এদিন, জনপ্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।

    গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মাহমুদুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ট্রাইব্যুনাল তাদের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করে দেয়।

    এর আগের দিন, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর, মামলার ১৪তম দিনে ছয়জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।