Category: জাতীয়

  • প্রধান উপদেষ্টার আশাবাদ: শিগগিরই ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর হবে রাজনৈতিক দলগুলোর

    প্রধান উপদেষ্টার আশাবাদ: শিগগিরই ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর হবে রাজনৈতিক দলগুলোর

    দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শীঘ্রই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে একটি ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এর মাধ্যমে দেশের একের পর এক স্বৈরশাসকের পুনরুত্থান রোধ করার লক্ষ্য ধারণা করেন।

    বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। হাঁফিয়ে ওঠা এ সুযোগে, প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।

    বৈঠকে দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রবল বন্যা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিস্থিতি, এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায়।

    প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সময় শেহবাজ শরিফ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে এই দুর্যোগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সাতটি জাতীয় কমিশনের প্রস্তাবিত বড় আকারের রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে।

    তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা শেষপ্রান্তে রয়েছে এবং প্রত্যাশা করা যায় যে, সব পক্ষ শিগগিরই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক মূল বিষয়গুলো নিয়ে একটি ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করবে।

    আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্কের নিষ্ক্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন। বৈঠকে শেহবাজ শরিফ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ড. ইউনূস পাকিস্তানে সফর করবেন—এর আগে তার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে।

    বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং এসডিজি বিষয়ে মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

  • দুদিন ধরে নিখোঁজ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা, দাবি হাসনাত আব্দুল্লাহর

    দুদিন ধরে নিখোঁজ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা, দাবি হাসনাত আব্দুল্লাহর

    উত্তরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কে. এম. মামুনুর রশিদ বর্তমানে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখপাত্র হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কে. এম. মামুনুর রশিদ উত্তরা এলাকা থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এই ধরনের ঘটনা সম্ভবত প্রথমবারের মতো ঘটল।’ হাসনাত আরও যোগ করেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র যেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলা স্পষ্ট।’ তিনি গণমাধ্যমের নীরবতার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের নীরব ভূমিকা নতুন করে রাজনীতিতে পুরোনো ভয়ের সংস্কৃতি ও নিপীড়নের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।’

  • প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উৎসাহ

    প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উৎসাহ

    যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জোরদার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ এক্সিকিউটিভ বিজনেস গোলটেবিল আলোচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। এই আলোচনা ছিল ‘অ্যাডভান্সিং রিফর্ম, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড গ্রোথ’ শিরোনামে এবং এটি আয়োজন করে ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (ইউএসবিবিসি)। অনুষ্ঠানে মেটলাইফ, শেভরন ও এক্সেলরেটসহ শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য মূল আহ্বান তুলে ধরা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পরে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আসা ছয়জন বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা, যারা মার্কিন শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সাথে পরিচিত হন। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে নিউইয়র্কে আছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য।

  • সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ নাগরিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সময়ে, দেশজুড়ে অতি পরিচিত জামায়াতে ইসলামীকে ভোটের জন্য পছন্দ করেছেন ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ। এরপরই রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যাদের প্রতি মানুষ এখন ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশের বেশি সমর্থন দেখিয়েছেন। এই তথ্য উঠে এসেছে ইনোভিশন কনসালটিং নামে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার মাসিক জরিপ থেকে।

    বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ন্যাশনাল আর্কাইভসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে সংস্থাটি ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’র দ্বিতীয় পর্বের ফলাফল প্রকাশ করে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫৭.৫ শতাংশ ভবিষ্যতের সরকার থেকে আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এই সঙ্গে, তারা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় অগ্রাধিকার দিতে চান, যা ৫৪.৬ শতাংশ। দুর্নীতি বা অনিয়ম কমাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী ও আধুনিক করার দাবিও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ উত্তরদাতা ভারত (৭২.২%) ও পাকিস্তানের (৬৯%) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ কম দেখা গেছে, যেখানে ভারতের প্রতি সমর্থন বেশি।

    ভোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থীর যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (৬৫.৫%), এরপর রয়েছে প্রার্থীর পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা (১৪.৮%) এবং দলের প্রতীক (১৪.৭%)। তরুণ ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দেয় প্রার্থীর কর্মক্ষমতা, আবার প্রবীণরা ঝুঁকছেন দলের প্রতীকের প্রতি।

    দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও অসন্তুষ্টির হার অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্টি (৩৩.৪৩%) ও সবথেকে কম সন্তুষ্টি (১৫.৫২%) পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী উচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করেছে (৩০.৩৪%), যদিও এর অসন্তুষ্টিও যথাক্রমে ১৯.৭৪%। বিএনপি পেয়েছে ২১.৫% সন্তুষ্টি এবং ২৭.৬% অসন্তুষ্টি।

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে জনমত বিভক্ত। ৪৫.৭৯% মনে করেন, সব দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিতে হবে, অন্যদিকে ৪৫.৫৮% মনে করেন, বিচারাধীন থাকা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে বেশি সমর্থন দেয়ার রায় দিয়েছে।

    পরবর্তী সরকার গঠনে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছে বিএনপি (৩৯.১%), জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন ২৮.১% জন। একই সময়ে, নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করা হয়, বিএনপিই সবচেয়ে বেশি সম্ভবত নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবে।

    অতীতের নেতাদের মধ্যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, এর মধ্যে জেনারেশন-জেডের বেশি মানুষ শেখ মুজিবকে সমর্থন করে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কিছুটা মেরুকৃত, যেখানে ২১.৬% উত্তরদাতা তাকে শূন্য রেটিং দিয়েছে।

    ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসালটিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রুবাইয়াত সরওয়ার। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিআরএআইএন-এ নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান এবং দি ডেইলি স্টার-এর সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম।

    ইনোভিশন জানিয়েছে, ‘পিপলস পারসেপশনস অন ইলেকশন সার্ভে’ একটি সামাজিক গবেষণা উদ্যোগ, যা ভয়েস ফর রিফর্ম ও বিআরএআইএনের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।

    পূর্বের মার্চ মাসে এই সংস্থা একটি জরিপ করেছিল, যেখানে দেখা যায়, আগামী নির্বাচনে ৪১.৭% মানুষ বিএনপি-কে ভোট দিতে চাইবে, অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ভোটের জন্য ৩১.৬% পছন্দ। তখন ৫৮% ভোটার চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন চান। নিখোঁজ আওয়ামী লীগ এখনও মাত্র ১০% মানুষ পছন্দ করেছিল, যা এই বছরের সেপ্টেম্বরের জরিপে বেড়ে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে।

  • কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার পরিকল্পনা

    কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার পরিকল্পনা

    দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা থেকে পিছিয়ে পড়ার পর দেশের গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ এখন কলকাতা থেকে নতুন করে রাজনীতির পুনর্গঠন শুরু করে দিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির অনেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং সেখান থেকেই ফের দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম Scroll-এ প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ হাবিবে মিল্লাত ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় সাত সপ্তাহ ধরে ঢাকায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে তিনি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। নিজের ভাষায়, পালানোর সময় তিনি গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং হেঁটে ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় সীমান্ত অতিক্রম করেন। কলকাতায় পৌঁছেই initialভাবে ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছিলেন। সুবিধার জন্য অর্থের অভাবে চার রাত মাটিতে শুতে হয়েছিল তাকে।

    হাবিবে মিল্লাত জানান, ঢাকায় চলমান আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অন্তত ৬৩৭টি ঘটনায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও কর্মী মার খেয়েছেন, কিছু নিহতও হয়েছেন। এ ছাড়া দলের ১১৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে কারাবন্দি।

    বর্তমানে কলকাতায় স্ত্রীসহ এক ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ডা. মিল্লাত। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বাংলাদেশি রাজনীতির লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। কানাডাভিত্তিক think tank গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর থেকে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করানো এবং আওয়ামী লীগের জন্য আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলে দেওয়া।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দিল্লিতে যান। এর পর থেকে দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে হাবিবে মিল্লাতসহ শতাধিক নেতা ভারতে পালিয়ে যান। তাঁদের অনেকেই এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাঁরা ভার্চুয়াল বৈঠক করছে, কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বসছেন এবং সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করছে—এছাড়াও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন কর্মীদের সঙ্গে।

    সম্প্রতি বিডিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতায় আওয়ামী লীগ একটি অফিস খোলে। এই খবর Bangladesh-এ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে“中国 সরকারের অবমাননা” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাকে অফিস বলা হচ্ছে, তা মূলত একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে তারা মাঝে মাঝে বসেন—এটি অফিস নয়। তিনি আরও বলেন, কলকাতার একটি শপিং মলে তিনি একটা কফিশপে বসে আছেন ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

    নাদেল আরও জানান, তিনি কলকাতায় সাধারণ জীবন যাপন করছেন, ব্যাংকে লাইন দিচ্ছেন, বাজার করছেন ও দর কষাকষি করছেন। তবে তাঁর দলের সঙ্গে আনুগত্য কমেনি। তিনি বলেন, যদি অফিস বলতে হয়, তাহলে কলকাতায় অন্তত পাঁচ-ছয়টি স্থান রয়েছে যেখানে তাঁরা বসেন বা যোগাযোগ রাখেন।

    আরেকটি বার্তা দেন, পশ্চিমবঙ্গের নিউ টাউনে থাকা আওয়ামী লীগের ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন। তিনি দৈনিক ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি হত্যা কাণ্ডের মামলা রয়েছে। তিনি জানান, দেশের আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করছেন।

    সাদ্দাম বলেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাথে দেখা হয়, যা তিনি খুবই হৃদয়গ্রাহী ও অনুপ্রেরণামূলক মনে করেন।

    অন্যদিকে, হাবিবে মিল্লাতও আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তাহলে সংগঠনের শক্তির মাধ্যমে বড় ধরনের সফলতা অর্জন সম্ভব।

    বিরোধী দলগুলোর موقف অনেকটাই বিপরীত। বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে, এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অচিরেই শেষ বলে মনে করছে। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগকে তার অতীতে শাসনের জন্য কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।

    এছাড়াও, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে, কিন্তু খুবই ধীরগতিতে। তাঁদের মতে, জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস করবেন না।

    ভারতের কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তেমন ভালো ছিল না। অতীতে এই জোটের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতা ও উসকানি বৃদ্ধি পায়—এই কারণেই ভারতের জন্য আওয়ামী লীগ ছিল সুবিধাজনক।

    প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা শিকরি বলেন, ভারতের স্বার্থে সুষ্ঠু, মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়া উচিত। অন্যদিকে, গবেষক আদিত্য গোদারা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা বা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা—দুটোই ভারতের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, পরবর্তী ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কোনোটির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ফেরে, সেটি সময়ের ব্যাপার। তবে পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা ছিল আওয়ামী লীগের মূল ঘাঁটি। পঞ্চাশ বছর পর আবারও তাঁরা সেই কেন্দ্র থেকেই পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এবার পথ অনেক কঠিন, রাজনীতি অনেক বেশি জটিল। ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ ও জনমত পরিবর্তনের কারণে আওয়ামী লীগকে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এখনো এক অনিশ্চিত ব্যাপার।

  • সাবেক মন্ত্রী কামরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

    সাবেক মন্ত্রী কামরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

    শাহবাগে জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যার মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদিকুর রহমান এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

    মামলার তদন্তকারক, শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম খান পুলক, আসামির ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন, আর আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের জন্য আবেদন করেন অ্যাডভোকেট আফতাব আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারির পর তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিতে হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে চাঁনখারপুল এলাকায় ছাত্র ও সাধারণ জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন মো. মনির। আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় খোকন গ্রেফতার

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় খোকন গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অজয় কর খোকনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই অভিযানে ডিবির একাধিক সদস্য অংশ নেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অজয় খোকন সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল ও সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, অজয় খোকনের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা রয়েছে কি না, বা তিনি কি আগে কোনো সহিংসতায় জড়িত ছিলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অজয় কর খোকন ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

  • দগ্ধ ফায়ার ফাইটার শামীম মারা গেছেন

    দগ্ধ ফায়ার ফাইটার শামীম মারা গেছেন

    গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হওয়া ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ (৪২) আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শামীম আহমেদ গুরুতর দগ্ধ হন ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগেছিল। তিনি তিন সন্তানের বাবা ছিলেন।

    অধ্যাপক মোঃ নাসির উদ্দিন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বলেন যে, ফায়ার ফাইটার শামীমের দগ্ডের পরিমাণ ছিল সম্পূর্ণ। তিনি জানান, আজ বিকেল তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    সোমবার গাজীপুরের টঙ্গীতে সাহারা মার্কেটের কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ সময় চারজন ফায়ার ফাইটার আহত হন। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • দুর্গাপূজায় ৪ দিনের টানা ছুটি

    দুর্গাপূজায় ৪ দিনের টানা ছুটি

    শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য সরকারি চাকুরিজীবীরা এ বছর চার দিনের টানা ছুটি উপভোগ করবেন। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পূজার মূল অনুষ্ঠানগুলো শুরুর আগে থেকেই ছুটির ধারাবাহিকতা শুরু হবে। মোট কথা, আগামী ১ অক্টোবর বুধবার মহানবমী উপলক্ষে সরকারি ছুটির ঘোষণা এসেছে। পরের দিন ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রয়েছে বিজয়া দশমী, যা সরকারি ছুটির দিন। এরপর শুক্র ও শনিবার ৩ ও ৪ অক্টোবর যথাক্রমে সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ফলে, এই চার দিন—১ থেকে ৪ অক্টোবর—সরকারি কর্মচারীরা অবসরে থাকবেন। ২১ সেপ্টেম্বর রোববারের মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও সেদিন সরকারি ছুটি নেই; তবে অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগতভাবে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছুটির দিন আলাদা হয়ে থাকতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বর্ষপঞ্জিতে মহালয়ার জন্য সরকারি ছুটি নির্ধারিত না থাকলেও, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেক প্রতিষ্ঠান সেদিন ছুটি দিতে পারে। অর্থাৎ, কোথাও পাঠদান চলবে আবার কোথাও প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে—সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হবে।

  • আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে নতুন দিশা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে নতুন দিশা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    বর্তমান প্রজন্ম ও ভবিষ্যতের প্রজন্মকে বুঝে নিতে হবে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সাধারণ আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃढ़প্রতিজ্ঞ থাকা ও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর শক্তিশালী সংগ্রাম। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সেই জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি নতুন দিগন্তের সংকেত, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন পথে হাঁটার দিশা দেখিয়েছে। শনিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর পাশে মাওয়া প্রান্তে, ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে তৈরি ম্যুরালে ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ শিরোনামে গ্রাফিতি আঁকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে এই গৌরবময় ইতিহাসের চেতনা, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। তরুণরা যেন এই স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়, এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হবে শহিদদের ওই ত্যাগ ও সাহসিকতাকে স্বদর্পে স্মরণ করা এবং তাদের স্বপ্নের দেশ গড়তে তাদের আদর্শকে ধারণ করা। স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার অবিচল প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। জুলাই মাসের এই পুনর্জাগরণ ও তরুণদের উৎসব-২০২৫ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে গুরুত্ব সহকারে স্মরণীয় করে রাখতে এই গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরামর্শে এবং নির্দেশনায় সম্পন্ন। এর জন্য এই দুই উপদেষ্টা বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে, মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে স্থাপিত ম্যুরালে এই গ্রাফিতি আঁকা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের আবেগের বাঁক। দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে, পদ্মা সেতুর এই দুই প্রান্তে এই চিত্রকর্মের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফাহিমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব), মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অনেকে।