Category: জাতীয়

  • শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগে নিষিদ্ধ অ্যাপ আর ব্যবহৃত হবে না

    শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগে নিষিদ্ধ অ্যাপ আর ব্যবহৃত হবে না

    সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশে অবৈধভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও ভার্চুয়াল বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত দুটি জনপ্রিয় অ্যাপ—টেলিগ্রাম ও বোটিম—বন্ধ করে দেওয়া হবে। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর, এই দুটি অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাউন্সিলের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৫ আগস্ট তারা ভারতে পালিয়ে গিয়ে অবস্থান নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতে থাকা অবস্থায় তারা ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই বৈঠকগুলি পরিচালনা করার জন্য তারা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের ব্যবহার করছেন।

    জানা গেছে, রাজধানীর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলনমূলক মিছিল থেকে গত বুধবার ২৪৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়, এর মধ্যে দেড় শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকে অংশ নিত। এই বিষয়টি এখন শেছে আলেচ্য হয়েছে, রোববারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাতে এই দুটি অ্যাপের ব্যবহার কমানোর জন্য নানা উপায় খতিয়ে দেখা হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুই অ্যাপের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা দেশ বিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, টেলিগ্রাম ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ, যার প্রতিষ্ঠাতা রুশ নাগরিক পাভেল দুরভ। অন্যদিকে, বোটিম হলো একটি জনপ্রিয় আড্ডা ও অর্থ লেনদেনের অ্যাপ, যার মূল কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে।

    বৈঠকের সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনগুলোতে জব্দ করা হয়েছে অনেক তথ্য। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী টেলিগ্রাম ও বোটিম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে তারা দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    এদিকে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ধারণা, নির্বাচন প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে এই ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থবহ পরিকল্পনা চালানো সম্ভব। সেই জন্য, সংশ্লিষ্ট সভায় এই দুটি অ্যাপের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে জঙ্গি ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির আশঙ্কা কমানো যায়।

  • ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা নিহত

    ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা নিহত

    কক্সবাজার সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে তিনজনের হামলায় জামায়াতের যুব শাখার ওয়ার্ড সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন (২৪) নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল খামার দোকান এলাকায়। নিহত আমজাদ নতুন মহাল এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে লেগেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রাফি, যার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রেরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল আমজাদ ও রাফির পরিবারের মধ্যে। এরই জেরেরে বুধবার রাতে রাফি ও তার ভাগনে মোফাচ্ছেলসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আমজাদকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    আমজাদের ভাই সাদ্দাম হোসেন, তিনি সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আমার ভাইকে অমানবিকভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটি পূর্বশত্রুতার অংশ। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

    চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে చేరে তদন্ত শুরু করেছে। জমি বিরোধানের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।

    কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান জানান, ছাত্রলীগের রাফি আগে থেকেই জমি দখল ও মামলার মাধ্যমে আমজাদ ও তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এই ঘটনার পিছনে সেই প্রভাব রয়েছে বলে তিনি ধারণা ব্যক্ত করেন।

    ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়, পুলিশ একটি আসামিকে আটক করেছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • দুর্গাপূজার নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পরামর্শ

    দুর্গাপূজার নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পরামর্শ

    সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য পুলিশের তরফ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

    নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেটের স্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করতে এবং ব্যাগ বা থলেহরি প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    পূজা চলাকালে যাতে কেউ আতশবাজি বা পটকা ফোটাতে না পারে, সেজন্য সতর্ক করা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

    চুরি, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, র‍্যাব ও অন্যান্য সংস্থার কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ নম্বরগুলো ব্যাপকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি), ঢাকেশ্বরী মন্দিরের, র‍্যাবের এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো নাগরিকরা সংগ্রহ করতে পারেন।

    আরো জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ করা হবে, যারা আলাদা পোশাক ও পরিচয়পত্র থেকে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড পরে দায়িত্ব পালন করবেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা লাইটের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

    সবশেষে, দুঘর্টনা এড়ানোর জন্য পুলিশ মান্য করে চলতে উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সব ধরনের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা কল করে নিন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য উল্লেখযোগ্য জরুরি নম্বরগুলো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি মহাসচিব গ্রেফতার

    জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি মহাসচিব গ্রেফতার

    ঢাকায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হোটেল ওয়েস্টিনের সামনে থেকে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি শাখার মহাসচিব কাজী মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের একটি মামলা রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত আছেন। বিশেষ করে জানা গেছে, তিনি ষড়যন্ত্রকারী এনায়েত করিম চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

    গত বছর ৪ নভেম্বর কাজী মামুনুর রশিদকে একটি ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিলো। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এছাড়া, জুলাইয়ে আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার জন্য আরও একাধিক মামলা চলছে।

    বর্তমানে, জাতীয় পার্টি তিনটি শাখায় বিভক্ত। এর মধ্যে একটি শাখার চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অন্য শাখার নেতৃত্বে আছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। আর তৃতীয় শাখার চেয়ারম্যান হচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও মহাসচিব কাজী মামুনুর রশিদ।

    এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও চাপ, যার প্রভাব পড়ছে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। এরই মধ্যে দলটির পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। তিন শাখায় বিভক্ত থাকার কারণে নির্বাচনী প্রতীক লাঙল নিয়েও বিভিন্ন ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

  • যুক্তরাজ্যের চাওয়া বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন

    যুক্তরাজ্যের চাওয়া বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন

    ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ হবে। আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের Brady জানাতে তিনি এ কথা বলেন।

    বৈঠকের সময়ে যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, হাইকমিশনার সরাসরি বললেন, ‘আমি আর কোনো কথা বলবো না। যেমনটা আমি আগেও বলেছি, যুক্তরাজ্য আগামী বছর বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায়।’ জরুরি না হলে তিনি জানালেন না যেন অতিরিক্ত কিছু বলেন।

    আগে গত ১০ মার্চও সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে সারাহ কুক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হতে চায় যুক্তরাজ্য। সেই সময় বলেছিলেন, গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনও যেন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হয়।

    বৈঠক শেষে সারাহ কুক বলেন, ‘সিইসির সঙ্গে খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমি নিয়ে আসা আপডেট অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের সমর্থন আবারো ব্যক্ত করেছে।’

    তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন এবং অস্থায়ী সরকারকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাজ্য প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে দেশের দুর্বল গোষ্ঠীগুলোর জন্য শিক্ষামূলক প্রকল্প ও পোলিং কর্মীদের প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

    সারাহ কুক বলেন, ‘আজকের আলোচনায় আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন: ভারতের প্রভাব ও ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্রে পাহাড়ে অপরাধ রোধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন: ভারতের প্রভাব ও ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্রে পাহাড়ে অপরাধ রোধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি

    খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত ও প্ররটিতন্ত্রের ইন্ধনে পাহাড়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। এজন্য তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রমনা গণপূর্ত ভবনে ডিএমপি’র পাঁচটি থানার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ সব কথা বলেন। নির্দিষ্ট করে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কিছু মহল পার্বত্য এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। খাগড়াছড়ি ও আশপাশের অঞ্চলে এখনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এই সময়ে দেশে মহান ধর্মীয় উৎসব চলছে, যা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে। তবে কিছু তথাকথিত চক্রান্তকারী মহল এই উৎসবের বিষয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এর সাথে আরও জানা যায় যে, পার্বত্য অঞ্চলে অস্ত্র ও অর্থের যোগান অন্য দেশের কাছ থেকে পৌঁছানো হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত ও কথিত ফ্যাসিস্ট শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে পাহাড়ে অঘটন এড়ানোর জন্য তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু সন্ত্রাসী পাহাড়ের ওপরে গুলি চালাচ্ছে এবং এই অস্ত্রগুলো বাইরে থেকে আসছে। তিনি দেশের নাম প্রকাশ করতে চাননি, তবে জানান, সেই দেশের নাম সাংবাদিকরা বলেছেন। এ সমস্ত অপপ্রচণ্ড প্রতিহত করতে সরকারের সবাইকে সহযোগিতা দরকার। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, দুর্গাপূজার সময় কেউ যেন কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বা রাস্তাবন্ধ করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, تا সবাই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উপভোগ করতে পারেন। এই জন্য সরকারি এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা।

  • ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৪ অক্টোবর

    ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৪ অক্টোবর

    আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে গঠিত মামলার অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই মামলায় অভিযোগ দাখিলের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও শুনানি হওয়ার মত দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    আজ ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার, ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের শুনানির পর আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য এক সপ্তাহের সময় চান। ইনুর পক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার আরও দুদিন সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত ১৪ অক্টোবরের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

    এর আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর ইনুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিন, প্রসিকিউশন জুলাই-আগস্টে జరిగిన আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনের মৃত্যু ও অন্য ব্যক্তিদের আহতের ঘটনায় সহযোগিতাসহ আটটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগ শুনানির পর আদালত তা গ্রহণ করে এবং ইনুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে।

    গত বছরের ২৬ আগস্ট উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই नेता দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও কুষ্টিয়ার নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

    উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়। তদন্তের পর প্রসিকিউশন অভিযোগ দাখিল করেন।

  • মার্কিন নাগরিক এনায়েত তৃতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে

    মার্কিন নাগরিক এনায়েত তৃতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে

    পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের পরিবারের অর্থপাচার মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়ার ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন।

    আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম রিমান্ডের জন্য পাঁচ দিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের কিছু মুহূর্ত পরে অসুস্থ হয়ে তিনি কাঠগড়ায় থাকা বেঞ্চে পড়ে যান। একে অবশ্য পরে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় কাঁধে তুলে নিয়ে হাজতখানায় নেয়া হয়।

    প্রকৃত ידע থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ পুলিশ বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারহীন রিশতা ও মেঝো কন্যা তাহসীন রাইসাকে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচার করার অভিযোগে মামলা করে। মামলার তদন্তের সময় দুদক বেনজীরের অর্থপাচার ও এনায়েতের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়।

    এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী ও তার সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

    অন্যদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এনায়েতকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুটি দিনের রিমান্ডও ঘোষণা করা হয়।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়া এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায় ফোনগুলোতে সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকানো রয়েছে।

    আটক সে সময় এনায়েত জানান, তিনি একজন বিশেষ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি আরও জানান, ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে দেশে এসে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।

  • প্রধান উপদেষ্টার বললেন, গ্যালারির দিন শেষ, এখন নিজে খেলবেন সবাই

    প্রধান উপদেষ্টার বললেন, গ্যালারির দিন শেষ, এখন নিজে খেলবেন সবাই

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আগের মতো গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার দিন শেষ। এখন আমাদের নিজে খেলতে হবে।’ শনিবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের গঠন ও উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ এবং দেশের স্বাধিকার এবং উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারেন, বিশেষ করে সম্প্রতি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি, তা বাস্তবায়নে প্রবাসীরা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

    প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সফরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি আশা যোগায় এবং এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশেষ করে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৫ মাসে অর্জিত উন্নয়নের বদল তুলে ধরেন। তিনি রেমিট্যান্সে ২১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান এবং সরকারি উদ্যোগে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভোট দায়ীত্ব সংক্রান্ত তথ্য ও প্রক্রিয়া বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

    এ অনুষ্ঠানে ‘ব্রিজিং বর্ডারস: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ডায়াস্পোরা এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি ইন্টারেক্টিভ প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। তদ্ব্যতীত, প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    বিশেষ আলোচনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। নানান দিক থেকে দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রবাসীদের অবদান নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

    অতিরিক্ত, এই আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ ‘শুভেচ্ছা’ উদ্বোধন করেন, যা প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা, দিকনির্দেশনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীরা আরও সহজে দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।

  • ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বক্তব্য

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বক্তব্য

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, ব্যালট পেপার ছাপানোর স্থান বা পরিমাণ কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্যালট পেপার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ধাপগুলি সম্পন্ন করা হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    উপাচার্য জানান, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার প্রতিটির জন্য তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। মোট ৪৮টি সাধারণ অভিযোগের উত্তর প্রদান করা হয়েছে এবং ১৬টি অভিযোগের জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে সরকারি সংস্থা ও অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচনের কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে কিছু অস্পষ্ট প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি করতে চায় আসরগুলো, যা তিনি বন্ধ করতে চান। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নির্বাচনের পদ্ধতিগত দিক নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে, যা সম্ভবত বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে।

    আজ রোববার ২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপাচার্য।

    বক্তব্যে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার তৈরির জন্য একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। একটি নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা নিয়ম অনুযায়ী করা। ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি বিবেচনায় রেখে একই টেন্ডারের অধীনে অতিরিক্ত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান যোগ করা হয়, যদিও এই বিষয় সম্পর্কে মূল ভেন্ডর কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করেনি।

    উপাচার্য জানিয়েছেন, সহকারী ভেন্ডরের ব্যাখ্য অনুযায়ী, নীলক্ষেতের কারখানায় ২২ রিম কাগজ ব্যবহার করে মোট ৮৮,০০০ ব্যালট ছাপানো হয়। পরে প্রিন্টিং, কাটা ও প্রি-স্ক্যানের মাধ্যমে ৮৬,০০০-এর কিছু বেশি ব্যালট প্যাকেটে ভরে সিলগালা করে সরবরাহ করা হয়। অবশিষ্ট ব্যালট কাগজ ধ্বংস করা হয়। জানানো হয়, কাটিং শেষে ব্যালটগুলো তাদের অফিসে নিয়ে গিয়ে প্রি-স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় সমাপ্তি কার্যক্রম শেষ করে, এরপর সেগুলো সিলগালা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে, নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি প্রক্রিয়া চালাকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ভেন্ডর।

    উপাচার্য আরও বলেন, শুধু ব্যালট ছাপানো যথেষ্ট নয়; তা ভোটের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য যথাযথ মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যথাযথ কাটিং, নিরাপত্তা কোডের ব্যবহার, ওএমআর স্ক্যান, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল, এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর। এসব ধাপ সম্পন্ন করেই ভোট গ্রহণের জন্য ব্যালট প্রস্তুত হয় এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    তিনি জানান, মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট ভোটের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৩৯,৮৭৪ জন, প্রত্যেকে ৬টি করে ব্যালট পান। ভোট দিয়েছেন ২৯,৮২১ জন, যার ফলশ্রুতিতে ব্যবহার করা হয় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬ ব্যালট। অবশিষ্ট থাকে ৬০ হাজার ৩১৮ ব্যালট।

    অভিযোগের প্রসঙ্গে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত বিষয়ে যদি কোনো প্রার্থী সুনির্দিষ্ট সময় বা ঘটনা অনুসারে ফুটেজ দেখার আবেদন করেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি দেখানোর ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি, ভোটারদের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা বা অন্য কোনো তথ্য দেখার জন্য প্রয়োজন হলে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন দিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করবে।