Category: জাতীয়

  • ডেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: মেরুদণ্ডহীন মানবাধিকার কমিশন চাই না

    ডেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: মেরুদণ্ডহীন মানবাধিকার কমিশন চাই না

    বিগত সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নখদন্তহীন এবং দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমরা এমন মানবাধিকার কমিশন চাই না যা কার্যকরভাবে মানবাধিকার রক্ষা করতে সক্ষম নয় এবং যার কোনো মেরুদণ্ড নেই।

    আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ২০০৯ সালে ড. ফখরুউদ্দিনের সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশনের আইনের খসড়া তৈরি হয়েছিল। এরপর নতুন সরকার সেই আইনের ভিত্তিতে কমিশন গঠন করে, এবং বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর কমিশন বাতিল হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে কার্যত অচল। অন্যদিকে, এই সময়ে সরকার আরও নানা কমিশন গঠন করেছে।

    তিনি বলেন, যদিও এই সময় মানবাধিকার বিষয়ক আইন প্রণয়নের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি। বরং, এখনকার খসড়া আইনে নতুনত্বের অভাব রয়েছে, যা বাস্তবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, আমাদের প্রথম চাওয়া হলো, ক্ষমতা সম্পন্ন এবং দক্ষ মানবাধিকারের রক্ষাকারী একটি সক্ষম কমিশন তৈরি করা।

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, কমিশনের প্রধানকে একজন মেরুদণ্ডবক্ত ব্যক্তির ছেলে বা মেয়ে হিসেবে নয়, বরং একজন সাহসী, নীতিবান এবং সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম ব্যক্তির নিয়োগ দেয়া উচিত। তিনি বলেন, একজন মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তি কখনো মানবাধিকার রক্ষা করতে পারবেন না, তাই আন্তরিকতা ও সাহস সম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বিগত সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মকা- যথাযথভাবে কাজ করেনি। তিনি বলেন, নতুন খসড়া আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দ্বৈত নাগরিকদের নিয়োগে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, এর কারণ জানি না, তবে এটি প্যারিস চুক্তির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

    ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) দায়িত্ব, গঠন, স্বাধীনতা ও কার্যক্ষমতা বিশ্লেষণ করা। পাশাপাশি, খসড়া আইনকে আরও কার্যকর করার জন্য পরামর্শ দেয়া, যেন কমিশনের অনুসন্ধানী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ভুক্তভোগী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং সমন্বিত প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।

  • নেতানিয়াহুর ভাষণে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বিরোধিতা: ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সমান অভিযোগ

    নেতানিয়াহুর ভাষণে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বিরোধিতা: ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সমান অভিযোগ

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্পর্কে কঠোর খবরদারি ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার মতো কাজে লিপ্ত হয়েছে। এই মন্তব্য তিনি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে প্রকাশ করেন।

    নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার পরই বেশিরভাগ রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা দপ্তর থেকে বেরিয়ে যান, গ্রাম্য পরিবেশে তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ইসরায়েলের জন্য এক ভয়ংকর হুমকি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধমূলক এই সিদ্ধান্ত তার জন্য হয়তো ইহুদি সমাজের জন্য খারাপ দিক নির্দেশ করবে, কারণ এটি ইসরায়েলেকে একদিকে আত্মঘাতী পথে ঠেলে দিচ্ছে।

    নেতানিয়াহু ইউরোপীয় নেতাদের কঠোর আক্রমণ করে বলেন, মিডিয়া ও ইহুদিবিরোধী মবের মুখোমুখি হওয়ার সাহস এই নেতাদের নেই; বরং তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে হামাসকে পুরস্কৃত করছে এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, আমরা কখনো এইভাবে মানব নই।

    গত সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক বৈশ্বিক সম্মেলনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ওই সম্মেলনে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। এর ফলে ফরাসি, বেলজিয়ান ও জর্দানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বন্ধের দাবিও তোলেন বক্তারা।

    তবে নেতানিয়াহু এই ভাষণে পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদার কার্যক্রম নিয়ে কিছু বলেননি, বরং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি সরকারকে ‘প্রাচীন দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু তার রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করে আসছেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস অভিযান অব্যাহত থাকলেও তিনি সেই আচরণ বন্ধে কোন নির্দেশ দেননি।

    নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায়, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন সরকারের মুখপাত্র আদেল আতিয়েহ বিবৃতিতে বলেন, এই ভাষণ বিশ্বের পরাজিত এক মানুষের স্বীকারোক্তি ছাড়া কিছুই নয়।

  • সাগরে নিম্নচাপের পূর্বাভাস ও বন্দরে সতর্কতা

    সাগরে নিম্নচাপের পূর্বাভাস ও বন্দরে সতর্কতা

    বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপূজার দিনগুলোতে আবহাওয়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে এবং এর প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলে পড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে। এই কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশের সাত জেলায় মনোভাবাপন্ন তাপপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, মহাষষ্ঠী থেকে দুর্গাপূজার ষষ্ঠী, সপ্তম ও অষ্টমী পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে; তবে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা থাকায় কিছু কিছু স্থান আরো বৃষ্টি হতে পারে। আগামী রোববার থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমী পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে আবহাওয়া বিভাগ। বিশেষ করে ২ ও ৩ অক্টোবর দেশের অনেক অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটের মত বিভাগগুলোতে বৃহস্পতিবারও ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে।

    বিশেষ করে শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে।

    আবহাওয়া বিভাগে জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পূ্র্ব উত্তর প্রদেশ থেকে বাংলাদেশ অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও বাংলাদেশের উপর মৌসুমি বায়ু ততটা সক্রিয় নয়, তবে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আজ শনিবার বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সাময়িক ভাবে কমতে পারে। রাজশাহী, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর ও সিলেট অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামীকাল রোববার দেশজুড়ে বিভিন্ন বিভাগে অল্প কিছু স্থানে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পরবর্তীতে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে, যা দেশের উপকূলে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অংশে এর প্রভাব খুব কমই থাকছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে খুলনার কয়রায়, ৫৩ মিলিমিটার। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ৩৬, খুলনায় ২৪ ও কুতুবদিয়ায় ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন ছিল বান্দরবান, ২৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের অর্থ পাচার, দুই সহযোগী গ্রেফতার

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের অর্থ পাচার, দুই সহযোগী গ্রেফতার

    আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ পাচারের অভিযোগে দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সম্পদ সাবেক এই মন্ত্রীর হাতে থাকার সন্দেহে এ ঘটনায় তাঁদেরকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

    বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ আদালত (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবদুর রহমান এই গ্রেফতার নির্দেশ দেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে। আদালত জানায়, এজেন্ট হিসেবে কাজ করা আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল ও আরও একজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এই মামলা দায়ের হয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতাররা হলো, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ আব্দুল আজিজ, যিনি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, উৎপল পাল সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশের সম্পদ ও অর্থের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা দু’টি ল্যাপটপ ও দু’টি মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

    অভিযোগের তথ্য মতে, ১৭ সেপ্টেম্বর উৎপল ও আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করা হয়। পর দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর, গত সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, এই দুজন আসামি ২৫ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে জবানবন্দি দেন, যেখানে তারা টাকা পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    এই ব্যাপারে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মোকাররম হোসাইন জানিয়েছেন, সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও অপ্রত্যাশিত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। বর্তমান তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা আরও স্পষ্ট হওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

  • চট্টগ্রামে জুলাই হত্যাকাণ্ডে প্রথম চার্জশিট গ্রহণ, ২৩১ আসামির বিচার শুরু

    চট্টগ্রামে জুলাই হত্যাকাণ্ডে প্রথম চার্জশিট গ্রহণ, ২৩১ আসামির বিচার শুরু

    চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত শহীদুল ইসলাম শহীদ হত্যার মামলায় আদালত প্রথমবারের মতো ২৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। এই তালিকায় সাবেক তিন মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালেও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। পুলিশ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদুল ইসলাম শহীদ হত্যা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলিত চার্জশিটে ২৩১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    ১৬ আগস্ট ২০২৪ সালের সন্ধ্যায় নগরীর বহদ্দারহাটে অনুষ্ঠিত ওই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পিস্তল, শটগানসহ বিভিন্ন বন্দুক দিয়ে গুলি ছোড়া হয়, যার ফলে মৃত্যু হয় শহীদুল ইসলাম শহীদ নামে এক যুবকের। গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান। নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মামলা করেন।

    অভিযুক্তরা মধ্যে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আব্দুস ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুনসহ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা রয়েছেন। মূল তদন্তে যুক্ত আরও অনেক জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা এই মামলার মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • পিআর পদ্ধতিতে দুর্বল বা ফ্যাসিস্ট সরকার গঠনের শঙ্কা: সালাহউদ্দিন

    পিআর পদ্ধতিতে দুর্বল বা ফ্যাসিস্ট সরকার গঠনের শঙ্কা: সালাহউদ্দিন

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশের জন্য খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই পদ্ধতিতে যদি একটি সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেটি সত্যিই ফ্যাসিস্ট বা দুর্বলভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সরকার হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে দেশ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা হারাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি শুক্রবার দুপুরে ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন প্রকাশ করেছেন, পিআর পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য একদিকে বেশি আসন পাওয়া, অন্যদিকে দেশের মধ্যে অসঙ্গতি এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে বেশিরভাগ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার না গঠিত হয়। বিশেষ করে, যারা সাধারণত কম জনপ্রিয়, তাদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক বলে ধারণা করেন তিনি।

    অতীতে তিনি বলেন, সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পদ্ধতি যেকোনো ভোটের জন্য অনুসরণ করা হবে, তা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে হোক। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মানুষ তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের মত দলগুলো সংবিধান পরিবর্তনের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

    আলোচনায় এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, দেশের মোট ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের ধারণা রাখে। তবে, জামায়াত ইসলামী বলছে, ৭০ শতাংশ মানুষ এই পদ্ধতিটি চায়। এইসব বিভ্রান্তিকর যুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়, বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

  • নীলক্ষেত্রে আলোকপাত: অরক্ষিত পরিবেশে ডাকসুর ব্যালট ছাপা, গরমিল ও সংশয়

    নীলক্ষেত্রে আলোকপাত: অরক্ষিত পরিবেশে ডাকসুর ব্যালট ছাপা, গরমিল ও সংশয়

    নিলক্ষেতের একটি অরক্ষিত পরিবেশে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নিউজ২৪। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই গুরুতর সত্যতা সত্যও। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যালটগুলি গোপনীয় ও উচ্চ মানের ছাপাখানায় তৈরি হয়েছে, যা নীলক্ষেতের নয়। ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার অকার্যকরভাবে ও অবহেলায় নীলক্ষেতে ছাপানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ছাপানোর সংখ্যা ও সরবরাহের তথ্যে ব্যাপক গরমিল দেখতে পাওয়া গেছে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, গাউসুল আজম মার্কেটে এই ব্যালট ছাপানোর কোনো সুযোগ নেই, কারণ সেখানে এমন মেশিন থাকা অসম্ভব। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকার গাজীপুরের একটি প্রেস জালাল প্রেস নামে একই প্রতিষ্ঠানের পরিচিত, যেখানে ব্যালট ছাপার কাজ হয়েছে। প্রেসের মালিক মোঃ জালাল জানান, তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার প্রেস থেকে ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট ছাপা হয়েছে। তিনি বলছিলেন, দায়িত্বরত কাজের জন্য তার সহকর্মী মোঃ ফেরদৌসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যারা তিন দিন সময়ে কাজ শেষ করেন। এইভাবে, তিনি বলছেন, তার প্রেসের পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক, কোনো অরক্ষিত পরিস্থিতি ছিল না। এদিকে, মোঃ জালালের কাছ থেকে ৪৮,৬০০ পিস ব্যালটের খসড়া নেওয়া হয়েছে, যা দুইটি ব্যালটের প্রতিটি কাগজে ছাপা ছিল মোট ৯৬,০০০ ব্যালট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিল ৩৯,৭৭৫ জন এবং ওই ভোটে ৭৮.৩৩% ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাটিংকৃত ব্যালটের বিষয়েও অনুসন্ধান চালায় নিউজ২৪। সেই সময়, ‘মাক্কা পেপার কাটিং হাউস’ নামে একটি দোকানে ফেরদৌস ভাই নামে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই দোকানের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে কাগজ কাটার কাজ হয়েছিল। তারা প্রায় ২২ রিম কাগজ কাটেছেন, যার ফলে মোট ব্যালটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৮,০০০। এরপর, জালাল প্রেস থেকে বলা হয়, তারা ছাপিয়েছে ৯৬,০০০ ব্যালট, যেখানে কাটিং হয়েছে ৮৮,০০০। এতে দেখা যায় দুই দোকানের মধ্যে ৮,০০০টির গরমিল। এই সব রসদ পেয়েও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ প্রত্যক্ষভাবে মেশিনের মূল্য ও স্বাভাবিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আঞ্জা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ব্যালট ছাপানোর জন্য ব্যবহৃত মেশিনের দাম কম নয়, এর মূল্য কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ লাখের মধ্যে। তবে, জাহিদ হোসেন দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত প্রেস থেকে ছাপা হয়েছে ব্যালট, যার সংখ্যা অন্তত এক লাখ পঞ্চাশ হাজার। তিনি জানান, এই কাজ তাদের নিজের সক্ষমতায়, এবং তারা তা সম্পন্ন করেছে কেরানীগঞ্জের একটি প্রেস থেকে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা বিশ্লেষণ করছেন, আসল পরিস্থিতি কতটা জটিল ও সংশয়পূর্ণ। মূলত, এই ঘটনাগুলোর সপক্ষে প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত চালানো হবে, যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

  • নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আখতার হোসেনের মামলা

    নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আখতার হোসেনের মামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় বাংলাদেশী যুবসমাজের এক নেতা ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন ঐ ঘটনায় দায়ের করেছেন একটি মামলা। বুধবার বাংলাদেশের সময় বেলা ১১টায় তিনি নিউইয়র্কের জ্যোথ এফ কেনেডি বিমানবন্দরের সংলগ্ন থানায় এই মামলা করেন। তার এ ঘোষণা তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তায় দেন।

    ভিডিওতে আখতার হোসেন বলছেন, ‘এয়ারপোর্টে হামলার পর রাতের আঁধারে আবারও আওয়ামী লীগের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হোটেলের লবিতে উপস্থিত হয় ভয়ঙ্কর হামলার উদ্দেশ্যে। তখনই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এনসিপি সদস্যরা ও আমি তাদের প্রতিরোধ করি এবং সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পুলিশকে খবর দিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের জানান যে, আমাদের মামলা নিতে পারেন। আমি সেই সূত্রে কাছের থানায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।’ তিনি আরো জানান, ‘সেদিন যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা ও হুমকি দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

    আখতার হোসেন দাবি করেছেন, তিনি সচেতনভাবে মার্কিন পুলিশকে জানান, এই অপরাধকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সন্ত্রাসীদের। তারা গত বছর বাংলাদেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে বলে তিনি তুলে ধরেন। জাতিসংঘের রিপোর্টের প্রসঙ্গেও তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

    তিনি দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশে কিংবা বিদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অপরাধগুলো আইনের আওতায় আন institutionalize করা সম্ভব। তারা যতই অপরাধ করুক, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যেনো আর কখনো দেশে বা দেশের বাইরে সন্ত্রাসের জন্য সুযোগ পায় না, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।’

  • ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ট্রাইব্যুনালে

    ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ট্রাইব্যুনালে

    কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাতজন নিহতের ঘটনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম নিশ্চিত করেছেন যে, মামলার তদন্তে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ৮টি অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে, এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ইনুকে গ্রেফতার করে আদালত, এবং আদালত তার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। উল্লেখ্য, হাসানুল হক ইনু জাতীয় পর্যায়ে একজন বরেণ্য নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ও দীপচক্রের একজন নেতা। ২০১৮ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছেই হেরেছিলেন।

  • প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিশ’ জারির নির্দেশ

    প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিশ’ জারির নির্দেশ

    আদালত মোহাম্মদ সাইফুল আলম সহ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন।

    নোটিশ জারির জন্য চিহ্নিত অপর দুই ব্যক্তির মধ্যে আছেন, সাইফুল আলমের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান।

    দুদকের পক্ষ থেকে উপপরিচালক তাহসিন মুনাবিল হক এই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নানা ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে একটি ভুয়া কোম্পানি, ‘এএম ট্রেডিং’, প্রতিষ্ঠা করে জাল নথিপত্র তৈরি ও ব্যবহার করে আসছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণের নামে তারা ১০৪ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    সাইফুল আলমের দুর্নীতির মাধ্যমে এই অর্থ এস আলমের সুপার ইডিবল ওয়েল কোম্পানির স্বার্থে স্থানান্তর বা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মূলত ৩৪০ কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়, যেমন দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতাও।

    আন্দোলন চলাকালে তদন্তকারীরা বেশ কয়েকবার আসামিদের আটক করার চেষ্টা করেছেন, তবে তারা এখনো বিদেশে পলাতক। এ কারণে সাইফুল আলম, আব্দুস সামাদ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন জানানো হয়।

    সাথেসঙ্গে, ৯ জুলাই আদালত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের অর্থ অবরুদ্ধের নির্দেশ দেয়। ওইসব ব্যাংকের হিসাবের মধ্যে রয়েছে ১১৩ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৬৮ টাকা।