Category: জাতীয়

  • বিজয়নগরে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, আহত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

    বিজয়নগরে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, আহত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে অ্যালকোহল সেবনের পরপরই ঘটেছে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় সৌরভ (২৩) ও শ্রীনিবাস (৭৪) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অজিত, সুমন ও পিন্টু নামে আরও তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    নিহত সৌরভ স্থানীয় বাসিন্দা সুদানাথের ছেলে এবং শ্রীনিবাস মৃত উকিল মালাকাতের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গভীর রাতে একের পর এক কয়েকজন সদস্য মদ্যপানে মত্ত হন। হঠাৎ করে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই শ্রীনিবাস মারা যান, এবং সৌরভকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে। তবে মৃত্যুর 정확 কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালে অন্যরা চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

  • স্কুল-কলেজে ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    স্কুল-কলেজে ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে দেশের মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজগুলিতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নির্ধারিত। এই ছুটি ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এবং আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। এর পরে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে আবারও শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কিন্তু তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির মাঝে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনও পরীক্ষা নেওয়া যাবে না বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির ভুল ব্যাখ্যা করে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী জানান, মূল নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মান্য হবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবারও ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ স্বাভাবিকভাবে চালু হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষার búইন না হওয়া দুই দিন নিশ্চিত করা, ছুটি বাড়ানো নয়। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছেন, তারা ভুল করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা স্পষ্ট; যদি কেউ বিভ্রান্ত হন, তবে সরাসরি মাউশিতে যোগাযোগ করে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে পারবেন।

  • কাপ্তাইয়ে দু’টি নৌকাডুবি: শিশুসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

    কাপ্তাইয়ে দু’টি নৌকাডুবি: শিশুসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

    রাঙামাটির লংগদু ও নানিয়ারচর এলাকার কাপ্তাই হ্রদে এক দিনের মধ্যে দুটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে ঝড়ের কারণে। ঘটনার সময় উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, এখনও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে এবং দুই জনের সন্ধান চলছে।

    বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার কারণে রাঙামাটির লংগদু এলাকার বিএফডিসি ঘাট, ভাইবোনছড়া, লংগদু লঞ্চঘাট, গুইলশাখালি বিল ও ভাসান্যাদমে একাধিক নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ওই রাতে উদ্ধারকাজে মোট ৫ জন নিখোঁজের মধ্যে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন, ১ অক্টোবর, সকালে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হয়।

    অপরদিকে, একই রাতে নানিয়ারচর উপজেলার মহাজনপাড়ায় আরও একটি নৌকা ডুবে যায়। সেই নৌকায় ৬জন যাত্রী ছিলেন, তবে ৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ডেনিজেন চাকমা ও জিতেশ চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা নৌকাটি উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনও দুজনের সন্ধান মেলেনি। ডুবুরি দল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও সাহাসীক পদক্ষেপের ফলে দুর্ঘটনার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেনাবাহিনী শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, মানবিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট।

  • বৃষ্টির মধ্যেও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে দিন দিন

    বৃষ্টির মধ্যেও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে দিন দিন

    দেশের সব বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির আভাস থাকলেও খুশির খবর হলো, দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে সামান্য বাড়ছে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিস এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টি হলেও এ সময় তাপমাত্রার পরিবর্তন আসতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সকালেই গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সন্ধ্যায় এটি গোপালপুর ও পারাদ্বীপের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন অন্ধ্র রাজ্যের উপকূলে চলে যায়।

    উল্লেখ্য, লঘুচাপের বিস্তার পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মৌসুমি বাতাস বাংলাদেশে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে এবং প্রবল অবস্থায় রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে।

    আজ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্বাভাসের অনুযায়ী, খুলনা, রংপুর, রাজশাহীর অধিকাংশ অঞ্চল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ স্থানে স্বল্প মেয়াদে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসাথে, সারাদেশে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা এখনও অনেক এলাকায় কিছুটা বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

    সোমবার (৬ অক্টোবর) পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হবে, তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনLI সম্ভব, যেখানে কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বিশেষ করে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে, তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

  • খাগড়াছড়ির দু’টি উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় ৩ মামলা, পুলিশের বাদী, আসামির সংখ্যা ১,২০০

    খাগড়াছড়ির দু’টি উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় ৩ মামলা, পুলিশের বাদী, আসামির সংখ্যা ১,২০০

    খাগড়াছড়ির সদর ও গুইমারা উপজেলার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে অশান্তির পরিস্থিতি, যার সূত্রপাত কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে। এই ঘটনার জেরে বুধবার রাতেই পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করেছে। প্রথম মামলাটি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১৪৪ ধারা তেড়ে হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে গুইমারা উপজেলায় তিনজনের হত্যাকাণ্ড এবং ১৪৪ ধারা অমান্য করে সংঘর্ষের জন্য আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় প্রায় ১,২০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    অপরদিকে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে খাগড়াছড়িতে। শহর ও উপশহরগুলোতে মানুষের আনাগোনা ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সব ধরনের যানবাহন শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। তবে এখনো খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে।

    নাশকতা রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তে চেকিং চলছে। পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল জানান, এসব ঘটনার তদন্তে পুলিশ কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ মামলা করতে চাইলে তারা মামলা করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

    জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পরিস্থিতি এখনো কিছুটা উদ্বেগজনক থাকায় ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা প্রত্যাহার করা হবে। পর্যাপ্ত স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগবে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সদর থানার সিঙ্গিনালা এলাকায় কিশোরী প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার উপর হামলা চালিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে শয়ন শীল (১৯) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ধর্ষণের অভিযোগের কারণে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ নামে একটি সংগঠন তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধের ডাক দেয়, যা দীর্ঘদিন চলে। তবে সম্প্রতি তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে, বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের।

  • ভাষাসৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক আর নেই

    ভাষাসৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক আর নেই

    ভাষাসৈনিক, প্রাবন্ধিক, কবি এবং রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক আজকাল নেই। তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যाग করেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বিশেষ সহকারী মো. রাসেল। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর সাত মিনিট আগে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। বর্তমান বয়স ৯৬ বছর।

    অ আহমদ রফিকের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় বুধবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বারডেম হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কানিজ ফাতেমার তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তার পাশাপাশি কিডনির সমস্যায় ও সম্প্রতি বেশ কয়েকবার শোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    এর আগের দিন, ১১ সেপ্টেম্বর, ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায়, গত রোববার তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    আহমদ রফিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গাউসনগরে এক ভাড়া বাড়িতে একাই বাস করতেন। ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করে তিনি ভাষাসৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর জীবনে ২০০৬ সালে স্ত্রীর মৃত্যু হয় এবং তিনি নিঃসন্তান। তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে বিপুল সংখ্যক বই রয়েছে, যা তার জীবদ্দশায় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

    তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাবন্ধিক ও ইতিহাসবিদ হিসেবে তার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। দুই বাংলাতেই তার রবীন্দ্রচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে; কলকাতা র টেগর রিসার্চ ইন্সটিটিউট থেকে তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি দেওয়া হয়।

    ২০১৯ সাল থেকে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। অস্ত্রোপচার হলেও ফল প্রত্যাশামাফিক হয়নি। ২০২৩ সালে তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন অবস্থায় চলে আসেন। এর আগে ২০২১ সালে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের জন্য দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানানো হয়।

    শেষে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে তিনি তার দেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন।

  • ইসি বলল, লাউ-চিংড়িসহ ৫০ প্রতীক থেকে অনুকূলে প্রতীক বাছাই করতে হবে এনসিপিকে

    ইসি বলল, লাউ-চিংড়িসহ ৫০ প্রতীক থেকে অনুকূলে প্রতীক বাছাই করতে হবে এনসিপিকে

    নতুন নির্বাচনী নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উচিত লাউ ও চিংড়িসহ মোট ৫০টি প্রতীকের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের প্রতীক নির্ধারণ করে নিতে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের এ ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে দলটি দাখিল করতে পারে।

    গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর), ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা এনসিপিকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইসির উপ-সচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।

    চিঠিতে জানানো হয়, এনসিপি জাতীয় নাগরিক পার্টি হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, যা প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। দলটির আবেদনপত্রে শাপলা, কলম এবং মোবাইল ফোনের প্রতীকগুলো তালিকাভুক্ত ছিল। তবে বর্তমান নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ‘শাপলা’ প্রতীকটি দলটির জন্য বরাদ্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

    অতএব, দলটিকে জানানো হয় যে, দেশের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা থেকে যে কোন একটি প্রতীক পছন্দ করে নিতে, যা দলটির জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে যদি দলটি পরবর্তীতে অন্য কোন প্রতীক পেতে চায়, তাহলে তা প্রকাশ করতে হবে।

    এমতাবস্থায়, ইসি তাদের নির্দেশ দেয় যে, এই জটিলতা নিরসনে এবারে দলটি নতুন করে প্রতীক নির্বাচন করে নিক। এছাড়া, দলটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য, এই পছন্দটি আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে ইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় থাকা ৫০টি প্রতীক হলো- আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাঁপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম, তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ি, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।

    ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে এনসিপি শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোনের যেকোনো একটি প্রতীক গ্রহণের জন্য আবেদন জানায়। কিছুদিন পরে, তারা শাপলা অনুষ্ঠানে সংশোধন করে শাখা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা চায় বলে জানায়।

    একই সময়ে, ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তালিকায় শাপলা বা সংশ্লিষ্ট প্রতীকগুলো না থাকায়, এনসিপি এই প্রতীক পাবে না।

    এমন পরিস্থিতিতে, একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে এনসিপি ইসিতে এসে শাপলা প্রতীক না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়। তবে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনীতিবিদরা অনেক কথা বলেন, তাদের অধিকার আছে বলেই জানান, আমরা কোনো জবাব দিতে পারব না।

    বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫২টি, যার মধ্যে আওয়ামী লীগসহ। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু হয়। এখন পর্যন্ত ৫৬টি দল নিবন্ধন পেলেও, অনেকের শর্ত পূরণে ব্যর্থতা কিংবা আদালতের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বলে জানানো হয়।

    এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা আবার ফিরে পেয়েছে তাদের নিবন্ধন। ফলে, মোট ৫৬টি দলের জন্য নিবন্ধিত প্রতীকগুলো বরাদ্দ হয়েছে। অন্যান্য প্রতীকগুলো এখন থেকে নতুনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে, যারা নির্বাচনী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

  • বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ সৃষ্টি, এলাকায় আঘাতের আশঙ্কা

    বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ সৃষ্টি, এলাকায় আঘাতের আশঙ্কা

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে একটি গভীর নিম্নচাপ, যা ধীরে ধীরে শক্তি সহ ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ হিসেবে রূপ নিচ্ছে। যদিও এই ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বেশ দূরে অবস্থিত, তবে এর প্রভাব ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বইছে।

    বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালের প্রথম দিকে, জাতীয় আবহাওয়া অফিসের অনুমোদিত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়া ডটকমের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।

    তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে প্রচারিত সতর্কবার্তায় দেখা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের পূর্বদিকে ও কোলকাতা থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র অবস্থিত। এই ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার, তবে দমকা হাওয়া সহ ঘণ্টায় এটি প্রায় ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি আজ রাতের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূলের ওপর দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ এটিকে এখনো গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই গণ্য করছে।

    যদিও এই ঝড় বাংলাদেশ সরাসরি আঘাত না করলেও, এর প্রভাবে দেশের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যের উপর মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

    এ দিকে, পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের তিনটি বিভাগে ভারি বর্ষণসহ সাতটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    প্রত্যক্ষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগগুলোতে ভারি বর্ষণ হতে পারে, যা নদীর পানির स्तर দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, ফেনী, লালমনিরহাট,নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।

    উল্লেখ্য, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে, যা আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

    গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ঢাক, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আগামী ৪ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

  • প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরেছেন

    প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরেছেন

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পর নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি আন্তর্জাতিক বিমানে চড়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা অভিমুখে রওনা দেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক এমদাদ আরিফুল ইসলাম বিমানবন্দরে তাকে বিদায়ী শুভকামনা জানান।

    সফরের সময়, ২৬ সেপ্টেম্বর, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর, ৩০ সেপ্টেম্বর, তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি বিষয়ক’ উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

    সেই সঙ্গে, ২৯ সেপ্টেম্বর, তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পাশাপাশি, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডির সঙ্গে হোটেলে সাক্ষাৎ করেন। একই দিন, জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রের বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারির সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেন।

    নিউইয়র্ক সফরে, অধ্যাপক ইউনূস এক প্রবাসী সংবর্ধনায় অংশ নেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশে সুবিধাজনক সময়ে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া, তিনি নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান ও কসোভোসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা ত্যাগ করেন।

  • ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে দোকানে, নিহত ৩

    ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে দোকানে, নিহত ৩

    ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া বাজারসংলগ্ন লাকি রোডে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। এই দুর্ঘটনায় দুই নারীসহ মোট তিনজন নিহত হন, পাশাপাশি অন্তত আটজন আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, যখন ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের এই এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয় এবং এরপর উলটে পড়ে একটি দোকানের ওপর। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে উদ্ধারকার্য শুরু করেন। আহতদের মধ্যে সাতজনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তিনজনের মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার খুশিপুর এলাকার শহিদুল্লাহর স্ত্রী শামীম আরা বেগম (৫০) এবং একই উপজেলার দক্ষিণ জয়লস্কর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মো. শ্রাবণ (২০)। নিহত অন্য নারীর এখনও পরিচয় পাওয়া যায়নি। আবেগপূর্ণ এই দৃশ্যের মুহূর্তে আহতদের মধ্যে থাকছেন জান্নাত আক্তার বৃষ্টি, তামিম, আফিয়া, মিষ্টি, খোদেজা, শিশু আব্দুল্লাহ, সাহাব উদ্দিন ও নাফসি। পুলিশ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় মূল কারণ হতে পারে বেপরোয়া গতি ও বৃষ্টির কারণে রাস্তার অবস্থা অস্বাভাবিক হওয়া। মহিপাল থেকে নোয়াখালী যাচ্ছিলো এই বাসটি, যখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাসটি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। আধিকারিকরা বলছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি।