প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশন মিডিয়াকে সহযোগী পার্টনার হিসেবে পাশে চাই। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচার (ডিসইনফরমেশন) নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা খুবই জরুরি। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র ভোটের আয়োজন নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্মল নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর জন্য মিডিয়াকে পাশে চায় সংস্থাটি। তিনি বলেন, অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এত কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সংলাপ একে নিয়েই কেন দেরি হলো। এ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন, বলেন, গঠিত সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশীজন, মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তৃত আলোচনা চালিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো কমিশনের কাজ সহজ করে দিয়েছে। ফলে, মূল সংলাপে দেরি হলেও, পূর্বপ্রস্তুতি শুরু থেকেই চলছিল। তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করতে কিছুটা বিলম্বের কারণ, তারা এখনো ভোট আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তাদের আমন্ত্রণ জানালেও, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে কি না—এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। এজন্য সংলাপ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চলতি সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৭ লাখ মানুষের তথ্য আপডেট করা হয়েছে। এর ফলে, ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটার তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, পাশাপাশি ৪৩ লাখের বেশি নতুন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি বড় অগ্রগতি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি সৃষ্টি করেছে। সিইসি উল্লেখ করেন, নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা যেখানে আগে ৩০ লাখের বেশি বিভাজন ছিল, সেখানে এবার তা কমে ১৮ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নারীরা ভোটদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল, তবে কমিশনের উদ্যোগে সেই আগ্রহ আবার ফিরে এসেছে। প্রবাসীদের ভোটের বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন, এবং ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের योजनাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আউটজোনে প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তারা সহজে ভোট দিতে পারবে। এছাড়া, ভোটের দায়িত্বে থাকা প্রায় ১০ লাখ কর্মী—যেমন পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা ও হাজতিরা—ও ভোটের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এর বাস্তবায়নও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সংলাপে প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সোসাইটি, সাংবাদিকসহ সব অংশীদাররা একসাথে কাজ করবে। সিইসি বলেন, নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হয়, সেই জন্য মিডিয়াকে শুধুমাত্র প্রচারক নয়, বরং নীতিনির্ধারনী আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন পার্টনার’ হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, এই সংলাপ কেবল আনুষ্ঠানিকের জন্য নয়; বরং সাংবাদিকদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসgäযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়তে চায় নির্বাচন কমিশন। অনুষ্ঠানে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজের পরিচালনায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
Category: জাতীয়
-

জনপ্রশাসনে বড় পরিবর্তন আসছে: পদনাম পরিবর্তন এবং নতুন সার্ভিসের ঘোষণা
জনপ্রশাসনের সংগঠন ও কার্যাপদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে গঠিত হয়েছে নতুন সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস), যা দেশের বিভিন্ন ক্যাডার থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ তৈরি করবে। এই সার্ভিসের অধীন থাকবে উপসচিব থেকে শুরু করে সচিব পদপর্যায়ের সকল কর্মকর্তার পদ।
এছাড়াও, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদনাম পরিবর্তনসহ প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলমান প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র। জানিয়েছে, এই সংস্কারের ফলে গঠিত হবে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, যা বাংলাদেশের সাধারণ প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
শোনা যাচ্ছে, ডিসির পদবি পরিবর্তন করে এখন থেকে তাকে বলা হবে ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কমিশনার’, আর ইউএনও’র পদনাম হবে ‘উপজেলা কমিশনার’। এসব পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন কেমিটি (নিকার), যাতে এই প্রক্রিয়াগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী,এসইএস গঠনের জন্য বিভিন্ন সার্ভিসের কর্মক্ষম মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হবে। এই সার্ভিসে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থাকবে, যিয়ে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামী দিনে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই পরীক্ষার জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে সরকারকে।
প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে, সব কর্মকর্তাদের একটি সম্মিলিত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। এতে, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে তাদের পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে। বিশেষায়িত সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভিন্নভাবে এই ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়বেন না।
বর্তমানে, উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে থাকা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে। সচিব, মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবও এই সার্ভিসের অংশ হয়ে যাবেন। বিশেষ করে, একটি মন্ত্রিসভার কমিটি এর নেতৃত্বে উচ্চপদে পদোন্নতি প্রদান করা হবে।
নতুন এই সিস্টেমে, সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, জেলা কমিশনার (বর্তমানে জেলা প্রশাসক), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনার পদে নিয়োগ হবে। এই পদের সঙ্গে এসইএস কর্মকর্তাদের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদটি পরিবর্তন করে ‘অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ভূমি ব্যবস্থাপনা)’ করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই শতাধিক সংস্কারমূলক প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। এ সমস্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতিকে যুগপূর্য ও যুগোপযোগী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
-

ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত অদক্ষ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বহিষ্কারের জন্য নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে সচেতন ব্যাংকার সমাজ। রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সময়ে, ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামও একই দাবিতে জনসাধারণের সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যাংকাররা জানান, পটিয়া ও এস আলম গ্রুপের দখলদার চক্রের কারণে ব্যাংকের পরিবেশ অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অদক্ষ কর্মকর্তাদের কারণে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা লুণ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে ব্যাংকের সম্পদ ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের হয়রানির শঙ্কা জোরদার হচ্ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ দুবার হ্যাক হয়েছে, যা দখলদার চক্রের ছত্রছায়ায় ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা জানিয়েছেন, আর কোনো অরাজকতা সহ্য করা হবে না এবং পটিয়া সন্ত্রাসী বা এস আলমের অদক্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত বহিষ্কার করতে হবে।
বিক্ষোভে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মী ও সাধারণ গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিসতর্ক করে বক্তারা বলেন, আর দেরি নয়। দখলদার এবং অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের মাধ্যমে ব্যাংক যেন আর কোনো অঘটন না ঘটে, সে জন্য দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া, এস আলম গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক খাতে বড় অঙ্কের অর্থলোপাত, পাচার ও সম্পদ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
তাদের মতে, এই অর্থপাচার ও ঋণলোপাটের কারণে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হয়েছে, এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, বিশেষ করে ডলারের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। ভুয়া ঋণ দেয়া, স্বচ্ছতা হীন লোনের কারণে বৃহৎ ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে।
গ্রাহক ফোরাম জানিয়েছে, যারা অর্থপাচার ও ঋণচুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের সম্পদ দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া, অডিট ব্যবস্থা ও কোরগভর্নেন্সের সার্বিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তদন্ত সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং ফলাফল জনসাধারণকে জানাতে হবে।
আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি, এই অনিয়ম ও অভিযোগের দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত করে দোশিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ব্যাংকের বিশ্বস্ততা এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
-

নরসিংদীতে এএসপির ওপর হামলা, ৭ জন গ্রেপ্তার
নরসিংদী শহরের আরশীনগর এলাকার একটি অনুষ্ঠানে চাঁদা আদায়ের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটকের পর তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, যার ফলে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহত হন। এই হামলার ফলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে, যাতে ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নরসিংদীর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐদিন সকালে আরশীনগর এলাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন শামীম দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় দুজনের আশপাশে থাকা ৪০ থেকে ৫০ জনের মত চাঁদাবাজের সহযোগীরা হঠাৎ করে হামলা চালায় এবং আটকদের ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা শামীম আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে তাঁকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আহ্বায়কের ঘটনা অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) সোহেল আহমেদ বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ইতিমধ্যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও অন্যান্য আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
-

সনদে স্বাক্ষর শেষ নয়, বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ: আলী রীয়াজ
জুলাই মাসে স্বাক্ষর করে শুধু দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং এর বাস্তবায়নই হবে মূল পরীক্ষার বিষয়—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। আজ রোববার (৫ অক্টোবর), ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের চতুর্থ দফা সংলাপের আগে তিনি এ কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ছয়টি বাস্তবায়ন প্রস্তাব জমা পড়ে, যার ওপর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদি রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়, তবে কমিশন সেই একীভূত সুপারিশগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারেরই। যদি সব পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হন, তবে এই প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব। এছাড়াও, তিনি জানান, রোববার সকালের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যেখানে তিনি জোর দেন যে, জুলাই সনদকে সকল রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত একটি দৃষ্টান্তমূলক দলিলে রূপ দেওয়া দরকার।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, আমরা चाहি বা ১৫ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদের স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। নির্বাচন আসন্ন, তাই এর আগেই এই কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টায় রয়েছি।
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া সহ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলী রীয়াজ বলেন, দেশের মানুষের রক্তে যে দায়িত্ব এসেছে, তা শুধুমাত্র কাগজে স্বাক্ষর করে শেষ হবে না। এই দায়িত্ব পূরণ করতে হবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে। দেশের কাঠামোগত সংস্কারই এখন সময়ের দাবী।
তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দলের বাইরে গিয়ে, নাগরিকের অধিকার রক্ষার জন্য একসাথে কাজ করতে পারলে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সহজ হবে, এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই নেতা ব্যাখ্যা করেন, এই সনদের বাস্তবায়ন কেবল প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিক দায়বদ্ধতা। তাই যারা স্বাক্ষর করছেন, তাদের উচিত এই দায়িত্বের প্রতি আন্তরিক থাকা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একই মনোভাব দেখানো।
-

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অভিযোগ: ফ্যাসিস্ট ও পাশের দেশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে ও পাশের দেশ থেকে ফ্যাসিস্টদের দোসর ও শত্রু শক্তিগুলো পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভোপালে বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিকৃতি এবং অসুরের মুখে দাড়ি বানানোর ঘটনা একই ষড়যন্ত্রের অংশ। এই সব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেছিলেন, দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চেয়েছে। তবে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ, গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসাধারণের সহযোগিতায় এ ষড়যন্ত্রগুলো রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি এই ব্যাপারে দেশের জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্বের কথা আবারো তুলে ধরেন।
আজ রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেলে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের পর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকটি এই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন, পাশাপাশি দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়।
উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, পূজামণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়। এর আগে, পাশের দেশে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিকৃতি বানানো এবং দেশে অসুরের মুখে দাড়ির অবতারণাও একই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন তিনি। এর উদ্দেশ্য ছিল সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারি এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সহযোগিতায় এসব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
অপরদিকে, খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীর ধর্ষণের অভিযোগে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য অন্য এক চক্রান্তের চেষ্টা চালান হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে পার্বত্য এলাকায় ওই ঘটনায় মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্টে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন শান্তিপূর্ণ।
-

আ.লীগের বিচার 위해 আনুষ্ঠানিক তদন্ত শিগগির শুরু হবে: চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে। আজ রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দিয়েছে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) নামে একটি সংগঠন। সেই ভিত্তিতে এখন আমরা তদন্ত কাজ চালাচ্ছি। অর্থাৎ, বর্তমানে আমরা বলতে পারি যে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রথম ধাপের কাজ শুরু করতে চলেছি। যদি এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় এবং সেটি অগ্রসর হয়, তবে বলতে পারবো যে, এই দলটির বিপক্ষে বিচারের নির্দেশনা কত দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে আমরা এখনই অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছি, এবং খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের কাজ শুরু হবে।
তাঁর আরো বলেন, চলতি মাসেই আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পাবো। বেশ কিছু মামলার ট্রায়াল বর্তমানে চলমান এবং কিছু মামলার ট্রায়াল শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া, মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে, এবং বেশ কিছু বড় বড় মামলার চার্জশিট দাখিল হবে। আমরা আশা করছি, বেশ কিছু মামলার আনুষ্ঠানিক চার্জও দাখিল করতে পারবো।
অতিরিক্তভাবে, জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনের সময় ছয়জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। শুনানির পর, এই চারজনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগকে আমলে নেওয়ার জন্য আগামীকাল সোমবার (৬ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেবে বলে জানা গেছে।
-

ভারী বৃষ্টির কারণে ৩ বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বড় ধরনের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের তিন বিভাগে কোথাও মনে হতে পারে অতি ভারী বর্ষণ। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সংস্থাটির আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে এসব অঞ্চলে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, আবার কিছু কিছু স্থানে ১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকায়, পাশাপাশি ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কিছুটা কমতে পারে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
-

আহমদ রফিককে শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা
শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য আহমদ রফিকের প্রতি শত শত মানুষ। শনিবার (অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে গেলে সেখানে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমী মানুষজন দল বেঁধে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি শহীদ মিনারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতার উৎসাহের কারণে সঙ্গতিহীনভাবে ঘিরে ধরে তাদের। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার অবর্তমানে তারই letzten ইচ্ছে অনুযায়ী, মরদেহ বারডেম হাসপাতাল (ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ) দান করা হবে বলে জানানো হয়েছে ‘আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’ থেকে। এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শেষে তার মরদেহ ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। তাতে চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার কাজে বিশেষ সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং বুধবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক, তবে জীবনভর তিনি ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ। তিনি দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তার অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক সহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি দিয়েছে। আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তার স্ত্রীর মৃত্যু ২০০৬ সালে হয়, তবে তার কোনও সন্তান নেই। কবিতা, প্রবন্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসবিদ ও গবেষক হিসেবে তিনি দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ২০১৯ থেকে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে এবং পরে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর শারীরিক পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের স্বীকৃতির অংশ হিসেবে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ তার চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় তার দুটি বই প্রকাশিত হয়, একটি সময় প্রকাশন থেকে ‘ভারত-পাকিস্তান বাংলাদেশ কথা’ এবং আরেকটি ‘শিল্প-সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য’ প্রবন্ধসংগ্রহ। এই কিংবদন্তি ব্যক্তি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।
-

খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র-জনতার অবরোধ পূর্ণরূপে প্রত্যাহার
খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে জুম্ম ছাত্র-জনতার মিডিয়া সেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পুণ্যকর্ম সম্পাদন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান এবং প্রশাসনের আংশিক আশ্বাসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সাম্প্রতিক নৃশংস গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ১ অক্টোবর বিশিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ দ্বিতীয় দফার আলোচনা করে। ঐ বৈঠকে তারা তাদের ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, হামলা-গ্রেফতারের অবসান, ধর্ষণের দুই আসামির গ্রেফতার ও বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন, এবং আটক ব্যক্তিদের নি:শর্ত মুক্তি।
অভ্যুত্থানের সূচনাতে ২৩ সেপ্টেম্বর এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসলে সড়ক অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি উত্তাল হয়। যদিও মেডিকেল পরীক্ষায় ওই কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি, তার পরও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি শুরু হয়। এতে তিনজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অবরোধটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
