Category: জাতীয়

  • প্রতিটি চার নারীর মধ্যে তিনজনই সহিংসতার শিকার: স্বাস্থ্য ও সামাজিক জরিপ

    প্রতিটি চার নারীর মধ্যে তিনজনই সহিংসতার শিকার: স্বাস্থ্য ও সামাজিক জরিপ

    বাংলাদেশে প্রতি চারজন নারীর মধ্যে তিনজনই জীবনের কোনো এক সময় সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। এই সহিংসতার মধ্যে রয়েছে শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা আজ সোমবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই জরিপে সহযোগিতা করেছিল জাতিসংঘ তহবিল ইউএনএফপিএ।

    জরিপের ফলাফল বলছে, ৭৬ শতাংশ নারী গত জীবনে অন্তত একবার তাদের জীবনসঙ্গী বা স্বামী দ্বারা শারীরিক, যৌন, মানসিক বা অর্থনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ, গত এক বছরে এই ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই কখনোই তা প্রকাশ করেননি।

    বিবিএস এর মতে, এই জরিপে জাতিসংঘের নির্ধারিত সহিংসতার ধরনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক আচরণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, ১৫ বছর বয়সের পর ১৫ শতাংশ নারী নন-পার্টনার বা স্বামী ব্যতীত অন্য কারও দ্বারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং ২.২ শতাংশ নারী নন-পার্টনার দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

    অবশ্য, জরিপ বলছে যে, ২০১৫ সালের তুলনায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে—তখন স্বামী দ্বারা সহিংসতার হার ছিল ৬৬ শতাংশ, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। তবে, এই সব ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির পরও দেখা যায় যে, নারীরা চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিতে দ্বিধা করেন। সমাজের بعض রীতিনীতি ও মানসিক চাপের কারণে অনেক নারী নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সংকটে থাকেন, আর এই কারণেই তারা অনেক সময় মুখ বন্ধ রেখেছেন।

    জরিপের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানায়, জীবদ্দশায় প্রায় অর্ধেকের বেশি নারী (৫৪ শতাংশ) স্বামী বা জীবনসঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই রিপোর্টটি স্পষ্ট করে দেয়, নারীর জীবন থেকে সহিংসতা এখনও এক বিশাল সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান, যা সমাধানের জন্য সামাজিক ও আইনী ব্যবস্থা আরও কঠোর ও কার্যকর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

  • শীতের আগমনী বার্তা: আবহাওয়া অফিসের শৈত্যপ্রবাহের আগাম সতর্কতা

    শীতের আগমনী বার্তা: আবহাওয়া অফিসের শৈত্যপ্রবাহের আগাম সতর্কতা

    বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্যের মাঝে শীতের হালকা ছোঁয়া ধীরে ধীরে অনুভূত হতে শুরু করেছে। শিশিরভেজা ঘাস এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর জানাচ্ছে যে, শীত এখন খুব কাছাকাছি। বিশেষ করে দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সকাল-সন্ধ্যার সময় শীতের প্রকোপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। কখনো-কখনো পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যায়, যা শীতের আগমনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

    শহরের ব্যস্ত জীবনে এখনো তেমন তীব্র ঠাণ্ডার অনুভূতি না হলেও, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে সময় লাগবে না। বর্ষা মৌসুম বিদায় নিচ্ছে, এবং শীত আসার প্রস্তুতি চলছে।

    আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তিন মাসের জন্য বিশদ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

    পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার প্রবাহ অক্টোবরের প্রথমার্ধে ধীরে ধীরে বিদায় নেবে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ প্রবিষ্ট হবে।

    তবে শীত শুরু হতে আরও আগে সারাদেশে কিছুটা বজ্রঝড় এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, অক্টোবরজুড়ে ৩ থেকে ৬ দিন মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে, এবং ৪ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, বঙ্গোপসাগরে ৩ থেকে ৬টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১ বা ২টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস।

    বৃষ্টির পরিমাণেও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে, বিশেষ করে উপকূলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় এর প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে। এ ধরনের সতর্কতামূলক পূর্বাভাসে সবাইকে সজাগ থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

  • মির্জা ফখরুল বলছেন, এ দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতি গ্রহণ করবে না

    মির্জা ফখরুল বলছেন, এ দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতি গ্রহণ করবে না

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি এ দেশের মানুষের দ্বারা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, কোনও কিছুকে অবৈধভাবে চাপিয়ে দিলে তা দেশের জনগণ গ্রহণ করে না। আজ রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে তারা সংস্কার চায় না। এর সত্যতা একেবারেই অস্বীকার করে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপি সবসময়ই সংস্কার করতে চায়। তিনি বলেন, আপনারা অপপ্রচারে কান দেবেন না।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ বছর আগে আমরা এক ফ্যাসিস্ট শাসনকে সরিয়ে দিতে পারেন, তখন রাষ্ট্রনায়ক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যেন তিনি দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। তিনি এর জন্য সংস্কার কমিশন গঠন ও বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। উল্লেখ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর এসব প্রস্তাবে সাইন হবে।

    ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময় সংস্কারের পক্ষে ছিল এবং এখনও রয়েছে। কিছু মানুষ তথাকথিত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে বিএনপি সংস্কার চায় না, যা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি প্রকাশ করেন, বিএনপি নিজেই সংস্কার আন্দোলনের ফল।

    তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। স্পষ্ট করে বলেন, আমরা চাই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হোক। জনগণ এখনই নির্বাচন চায় এবং বাংলাদেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে আমরা চেষ্টা করছি। গণতন্ত্রের এই পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগটি যেন হারিয়ে না যায়, সেটিও তিনি কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

  • নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য এক সভা আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ওসি মত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের সভায় মূল লক্ষ্য ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করা। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের আনুষঙ্গিক কর্মকর্তা কোনওভাবেই আইনবহির্ভূত কাজ না করতে নির্দেশনা পেয়েছেন। নিরাপত্তা জোরদার করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বডি ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।

    নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী পুলিশ সদস্যদের প্রায় দেড় লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ ১৩০টি ভেন্যুতে ২৮ বাচে তিনদিন করে চলবে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি ব্যাচের (৬,৫০০ জন) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও এক ব্যাচের (৬,৫০০ জন) প্রশিক্ষণ চলছে। একই সঙ্গে, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের জন্য প্রাক-নির্বাচনী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যকে অস্ত্রসহ ও নিরস্ত্র হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এগুলোর মাধ্যমে তারা নির্বাচনের সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানাচ্ছেন, এবারের নির্বাচনে বিজিবি ১১০০ প্লাটুনে ৩৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ইতোমধ্যে ৬০% প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, আর শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর পাশাপাশি, تقریباً ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনী সদস্য ভোটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

    এছাড়া, সীমানা পুন:নির্ধারণের সিদ্ধান্তে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিও আশাপ্রদ ও শান্তিপূর্ণ। সরাসরি কোনও অস্থিরতা থাকুক তা না দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। ফ্যাসিস্ট দলের ঝটিকা মিছিলে আগের চেয়ে কম হলেও, তারা যাতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে না পারে, এর জন্য নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সবার সচেতনতা ও প্রস্তুতির কারণে সমসময়ের জন্য শান্তিপূর্ণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    নিরাপত্তার পাশাপাশি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু দুষ্কৃতকারীরা নয়, মাদকের গডফাদারদেরও আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি যথেষ্ট নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: আমার ছেলে-মেয়েরা দেশে, আমি কি ভাবে নিরাপদ থাকব?

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: আমার ছেলে-মেয়েরা দেশে, আমি কি ভাবে নিরাপদ থাকব?

    সম্প্রতি এক আলোচনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আমার ছেলে-মেয়েরা 모두 দেশে থাকেন। আমি একা যদি নিরাপদ শ Mick শ দিতে চাই, তাহলে আমি কি করব? এই কথাটি তিনি বলেন, রোববার (১২ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত গভীর আলোচনা শেষের পর সাংবাদিকদের কাছে।

    অভিযুক্ত অস্ত্রগুলো কতটা উদ্ধার হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আইজিপির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। এ ছাড়াও তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি যাতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সব অস্ত্র সব সময় উদ্ধার হয় না, কিছু অস্ত্র বাইরে পড়ে থাকে। এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে। যদি সব অস্ত্র উদ্ধার করে ফেলতে পারতাম, তাহলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রয়োজন হতো না, তাতেও অবশ্য কোনও সমস্যা হবে না, কারণ আল্লাহর ইচ্ছায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

    একটি প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু উপদেষ্টা সম্প্রতি মনে করছেন নিরাপদ শ Mick শ জন্য (সেফ এক্সিট) তারা চান। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, কে কি চায়, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। আমার সন্তানরা 모두 দেশে থাকেন; আমি একা নিরাপদ থাকতে চাই, এটাই আমার ব্যক্তিগত মত।

    অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়া সেনাবাহিনীর হেফাজতেই চলবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনও নির্দেশনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা-ই করা হবে।

  • সচেতনতা ও টিকাদানেই টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: নূরজাহান বেগম

    সচেতনতা ও টিকাদানেই টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: নূরজাহান বেগম

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, সচেতনতা এবং টিকাদানের মাধ্যমে টাইফয়েড রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ কথা তিনি বলছেন যখন দেশে এখনও কিছু শিশু টাইফয়েডজনিত কারণে মারা যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক ধরনের লজ্জার ব্যাপার। আমাদের আগের সফলতার উদাহরণ হিসাবে ডায়োরিয়া ও রাতকানা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধের সফলতা রয়েছে; এবার হাতের মুঠোয় টাইফয়েডের প্রতিরোধে সফলতা আনতে চাই আমরা।

    তিনি আজ রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা কেন্দ্রের উদ্যোগে টাইফয়েডের টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    নূরজাহান বেগম বলেন, রোগ প্রতিরোধ এখন সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। যত বেশি শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা যাবে, ততই হাসপাতালের চাপ কমবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। তিনি আরও বলেন, টাইফয়েড এমন একটি রোগ, যা সচেতনতা ও টীকাদানের মাধ্যমে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইচ্ছে করলে এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যদি প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে যায়, তবে দেশের মধ্যে টাইফয়েডের কারণে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

    সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শরমীন এস মুরশিদ বলেন, টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই উদ্যোগ শিশুর স্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই টাইফয়েডনিরব এক বিপদ হিসেবে অনামা ছিল, বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য। এখন সরকারের এই উদ্যোগ সেই দুর্বল দিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে, একই সময়ে রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেস্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

    এক মাস ব্যাপী এই টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমে দেশের ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে এক ডোজ ইনজেকটেবল টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। যদি কোনও শিশুর রেজিস্ট্রেশন বা জন্মসনদ না থাকে, তবে কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তিনি টিকা পাবেন।

  • প্রধান উপদেষ্টা রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করলেন

    প্রধান উপদেষ্টা রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করলেন

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে যোগ দিতে আজ রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রোমের উদ্দেশে ছেড়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের মাধ্যমে রওনা দেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। সফর অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূস ফোরামের মূল অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেবেন। পাশাপাশি তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম হলো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক ও উদ্যোক্তা একত্রিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ব্যবস্থার ওপর মতবিনিময় করেন। এবারের এই ইভেন্ট চলবে ১০ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে স্থান, এফএওর সদর দপ্তর রোমে অনুষ্ঠিত হবে। এই সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার দেশে ফেরার কথা রয়েছে আগামী ১৫ অক্টোবর।

  • আমাদের নয়, সেফ এক্সিট দরকার এই রাষ্ট্রকাঠামোর: আসিফ নজরুল

    আমাদের নয়, সেফ এক্সিট দরকার এই রাষ্ট্রকাঠামোর: আসিফ নজরুল

    সেফ এক্সিট নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আইন ও সাংবিধানিক সংশ্লিষ্টতা ব্যক্ত করে ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নয়। বরং আমাদের উচিত এই ভয়াবহ, অবিচারপূর্ণ এবং আত্মতাছে নির্মম রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া।শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ–২০২৫ বিষয়ক এক বিশেষ পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় দেশের শীর্ষমানের আইনবিদ, সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।ড. আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমানে ‘সেফ এক্সিট’ শব্দটি প্রচুর আলোচনায় উঠছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করতে চাই—আমরা যারা এই কর্মের সঙ্গে জড়িত, তারা কেউই এই ধরনের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন মনে করছি না। আমরা নিশ্চিত যে, আমরা কেউ কোনো অপরাধ করেছি না।তবে তিনি মনে করেন, যেসব রাষ্ট্রমাত্র কয়েক দশক ধরে দুঃশাসন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাংক থেকে টাকা চুরি, এবং সাধারণ মানুষের সম্পদ লুটের অপকর্মে লিপ্ত, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি দরকার।তার মতে, গত ৫৫ বছরে যা কিছু দেখার, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষকে বিচারবিহীন হত্যা, দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করা, এবং রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির কারণে দেশের দশা ভয়ঙ্কর। এই অসুস্থ রাষ্ট্র কাঠামো থেকে জাতির নিরাপদ সেফ এক্সিট দাবি করছেন তিনি।সভায় আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ ও পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁরা সবাই মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৫ নিয়ে নিজেদের মতামত পেশ করেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে কার্যকর কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বআরোপ করেন। এছাড়াও, এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা, যারা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিকঠাকভাবে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করবেন।

  • সিইসি বললেন, ‘আইনের শাসন কাকে বলে—আগামী নির্বাচনে দেখাতে চাই’

    সিইসি বললেন, ‘আইনের শাসন কাকে বলে—আগামী নির্বাচনে দেখাতে চাই’

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের নির্বাচনে তিনি स्पष्टভাবে দেখাতে চান কি সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন কাকে বলে। তিনি জানান, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সবাই মিলে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চান, ইনশাআল্লাহ।

    শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিষয়ক এক কর্মশালায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সিইসি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। এর জন্য প্রশিক্ষিত, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু এমনভাবে তৈরি করতে হবে যা বিভিন্ন পেশার মানুষ, যারা আগে ভোটদানে অভিজ্ঞ নন, তাদের দক্ষ করে তুলবে। সাধারণ ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ পদ্ধতির পরিবর্তে, পটভূমি বিবেচনায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করতে হবে।

    সিইসি বলেন, ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারই কেন্দ্রের ‘চিফ ইলেকশন অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইন অনুযায়ী, সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের দায়িত্ব তারই হবে। প্রয়োজনে ভোট কেন্দ্র বন্ধ করতে বা আইন প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিতে পারেন তিনি, তবে যেন সব সময় নিরপেক্ষতা বজায় থাকে সেটাই মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। প্রশাসনিক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত নানা বাধা থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

    সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন একটি ‘সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন সেল’ ও ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট’ গঠন করছে, যাতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে দ্রুত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, সফল নির্বাচন পরিচালনার মূল চাবিকাঠি হলো কার্যকর সমন্বয়; প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সম্মিলিত কাজই নির্বাচনকে সুন্দর ও সফল করে তুলবে।

    তিনি আরও জানান, ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য ও এআই-ভিত্তিক অপপ্রচারের মোকাবিলার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। তবে এ নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এখনো যথেষ্ট প্রচার হয়নি বলে স্বীকার করেন।

    সিইসি অনুষ্ঠানে শেষ করে বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে সবাই আইনের মধ্যে থেকে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে ক্ষমতা প্রয়োগে গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার জন্য কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি অবশেষে বলেন, এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য যেন আমরা সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং একটি সুন্দর, সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করি।

  • ইসরায়েলি সেনারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে: শহিদুল আলম

    ইসরায়েলি সেনারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে: শহিদুল আলম

    আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা অভিযানে গাজার মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে গিয়ে গ্রেফতার হন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ফিরে এসে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলি সেনারা তার সাথে অমানবিক আচরণ করেছে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র অপমানের সঙ্গে মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে।

    শহিদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, যখন তারা তাকে আটক করে, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল তার পাসপোর্ট। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সেটি দেখে এবং সেটি অপমানজনকভাবে মাটিতে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট দেখে তারা খুব ক্ষেপে গিয়েছিল আর এরপর তা এভাবে মাটিতে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘গাজা এখনো মুক্ত হয়নি। গাজার মানুষ আজও ইসরায়েলীর আক্রমণের শিকার। তাদের উপর বর্তমানে নির্যাতন চলছে। এই নির্যাতন বন্ধ না হলে আমাদের সংগ্রামও শেষ হবে না।’

    দেশে ফিরে শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছিলেন শহিদুল আলম।

    তিনি বলেন, ‘আজ আমি ফিরে এসেছি, কিন্তু অনেক কেউ যেতে পারেনি। অনেক যোগ্য ব্যক্তিও ছিল जिन्होंने আমাদের সাথে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা তাদের নিতে পারিনি। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, ভবিষ্যতেও আমরা হাজারো ফ্লোটিলা নিয়ে গাজায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত ফিলিস্তিনের মুক্তি না আসে, আমাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’

    শহিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাই তাকে ফিরিয়ে এনেছে। পাশাপাশি, তুরস্কের সরকার এবং তাদের এয়ারলাইন্সের সহযোগিতাই তার ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে—এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, বিপদজনক পরিস্থিতিতে কী ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন, তা জানতে চাইলে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকা ফ্লোটিলাটি ছিল সবচেয়ে বড়। এটি মূলত সংবাদকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। কারণ, ইসরায়েলি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে এই দুই দল ছিল। তাই, তাদের নিরাপত্তার জন্য এই বড় ফ্লোটিলা প্রস্তুত করা হয়েছিল।’

    শহিদুল আলম উল্লেখ করেন, ‘আমার শরীরের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার চেয়েও বেশি কষ্টের ছিল যখন আমাদের দেশের পাসপোর্ট মাটিতে ছুঁড়ে ফেলেছিল। এই অপমানের যথাযথ বিচার আমাদের একান্তই চাই। যেন কেউ এইভাবে আমাদের অপমান করে যেতে না পারে, এ জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।’

    শুক্রবার রাত ৪টা ৫৫ মিনিটে, টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে, শুক্রবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৫টা ২৫ মিনিট) তার বহনকারী ফ্লাইট ইসরায়েল থেকে ইস্তাম্বুলে নামলে, ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পরে, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আবার টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

    গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতাকে রোধের এবং গাজায় ইসরায়েলি নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে গাজা অভিমুখে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামক একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজার’ নামের আরও আটটি নৌযানও ওই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। মোট নয়টি নৌযানের এই দলে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং অধিকারকর্মীরা ছিল।

    অভিযানের সময়, গত বুধবার, ইসরায়েলি সেনারা আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে। পরে অনেককে, সহ শহিদুল আলমসহ, ইসরায়েলের কাঠগড়ার কেফজিয়েত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি এবং অন্যান্য আটক ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশের সরকার দীর্ঘ দিন থেকে জেনের, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে আসছে।

    আটক শেষে, শহিদুল আলম মুক্তি লাভ করে, এবং তিনি ইসরায়েল থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তার মুক্তি ও ফেরার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।