ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরার নতুন রেভেলস সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ রেজওয়ানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মাসুম ও মো. ফাহিম খান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ রেজওয়ানকে দুর্বৃত্তরা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে, পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরে, আনুমানিক রাত ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে, রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে উত্তরা এলাকার বিএনএস সেন্টারের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় মোহাম্মদ রেজওয়ান সেখানে অংশ নেন। এরপর, তিনি সোমবার সন্ধ্যায় দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার সময় কিছু সন্ত্রাসী তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। সংগঠনের সহসংগঠক মো. পারভেজ জানান, হামলার সময় রেজওয়ান হলেন সংগঠনের প্রস্তাবিত সহসংগঠক। এ ঘটনার জন্য তারা দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
Category: জাতীয়
-

লক্ষ্মীপুর নির্বাচন কার্যালয়ে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা
লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের স্টোর রুমে গভীর রাতে দুর্বৃত্তের দ্বারা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, মাস্ক পরিহিত এক যুবক গেটের পশ্চিম পাশে থাকা দেওয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরে আগুনের শিখা দেখা যায় এবং পরবর্তীতে ওই যুবক গেট টপকে পালিয়ে যায়।
সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন জানান, ওই যুবক জানালা ভেঙে বা খুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন সেখানে থাকা দারোয়ান হামিম ঘুমে ছিল, তিনি টের পেয়ে পুলিশকে জানালে আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হয়। তবে এতে কিছু ভোটারদের দ্বিতীয় ফরম এবং অফিসের কিছু জরুরি নথিপত্র পুড়ে গেছে। এছাড়াও, একটি অকেজো ডেস্কটপ-সিপিইউসহ কিছু সরঞ্জাম পুড়muş।
খবর পেয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। পুলিশ তদন্তে নামে এবং সন্দেহভাজনদের ধরতে বিভিন্ন অভিযান চালাচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক জানান, তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তকরণের জন্য কার্যক্রম চলছে।
-

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে হাদির পরিবারের সাক্ষাৎ, চিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হাদির পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় ওসমান হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দীক, বোন মাসুমাসহ ইনকিলাব মঞ্চের তিন নেতা—আবদুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা ও মো. বোরহান উদ্দিন—উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রচণ্ড আঘাতের সম্ভাবনা রুখতে এবং তার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, ‘সারা দেশ তার জন্য দোয়া করছে। তার চিকিৎসার জন্য যত সমস্যা হবে, সরকার তা সমাধান করবে। যদি দেশের বাইরে পাঠাতে হয়, যেখানে চিকিৎসা সবচেয়েমানসম্পন্ন হবে, তখন অবশ্যই পাঠানো হবে।’
এদিকে, হাদির বোন বলেন, ‘সে ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিল। ছোটবেলা থেকেই সে বিপ্লবের স্বপক্ষে থাকত। তার অপ্রিয় লেখার মধ্যে বিদ্রোহী কবিতা ছিল তার প্রিয়। ayrıca, তার একটি ১০ মাসের সন্তান রয়েছে, যিনি আমাদের মেরুদণ্ড। তিনি আরও বলেন, ‘হাদির অনেক প্রচেষ্টা আছে, ওকে জীবিত রাখতে হবে। আমাদের সরকারকে অবশ্যই তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কারণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবের বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অনেককে বাসায় ফিরে গিয়েছিল, কিন্তু ওসমান হাদির কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। সে যেনো জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে অ্যাক্টিভ ছিল এবং এইজন্যই তাকে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। যারা তাকে গুলি করেছে, তাদের মূল চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের গ্রেপ্তার জরুরি।’
ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘আমরা চাই সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে এমন নৃশংস হামলা আর না ঘটে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উপদেষ্টাসহ উপস্থিত ছিলেন।
হাদির সর্বশেষ পরিস্থিতি
গতকাল দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে তাকে ঢাকামেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মোট আক্রান্তের পর একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা বোর্ডের বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত নতুন কোনো অস্ত্রোপচার বা হস্তক্ষেপ নয়। শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। বর্তমানে ওসমান হাদির অবস্থা স্থির, তবে গৌরবজনক পরিস্থিতির জন্য তিনি খুবই সংবেদনশীল। তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে রাখা হয়েছে আর তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা লক্ষণীয় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
-

নলছিটিতে ওসমান হাদির গ্রামের বাড়িতে চোরের Brazen অপবিত্রতা
নলছিটিতে ওসমান হাদির গ্রামের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা সম্প্রতি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে, তখন বাড়ির কেউ উপস্থিত না থাকায় দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়ার পর কত সম্পদ লোপাট হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। 确ত করে বলে জানায় তার স্বজনরা। ওসমান হাদির চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম জানান, ওসমান হাদি ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার মা ও ছোট বোন মাসুমা বেগম পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন না। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পরে তারা শুক্রবার বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এর ফলে বাড়িটি খালি ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দ্রুতই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার মধ্যে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার পানির ট্যাংকির পাশে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। মোটরসাইকেলে আসা দুইজন খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। ব্যক্তির পরিবারের অনুকূল সিদ্ধান্তে তাকে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে আইসিইউ-তে তাঁর চিকিৎসা চলছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে ঐ দিনই তার মা ও বোন ঢাকায় যান, আর তখনই এই চুরির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন এবং তদন্তের জন্য authorities-কে অনুরোধ জানিয়েছেন।
-

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানালেন, হাদির হামলাকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমানকে ঘিরে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, হাদির জন্য হত্যাচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদে ধরা পড়লে ৫০ লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই তথ্য জানান।
উপদেষ্টা শরিফ ওসমানকে সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, তাকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরা দিলে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সবাই তার জন্য দোয়া করুন, যাতে তিনি স্বাভাবিকভাবে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।
তিনি জানান, আসামিদের ধরার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে, এবং তিনি আশাবাদী, সর্বসম্মত সহযোগিতায় খুব শীঘ্রই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করতে পারবেন।
উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর দরকার রয়েছে। আগে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীরাই হাতে অস্ত্র ধরি; এখন যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে চান, তাহলে সেটি দেওয়া হবে। তাঁর কাছ থেকে যদি কোনও অস্ত্র জমা থাকে, তাহলে সেটিও ফিরে দেওয়া হবে।
অন্তঃমহাদূর্ব্যাপি যুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহনকারী এই বীরদের নিরাপত্তার জন্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তাঁদের জীবন-সুরক্ষায় সব রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
-

আসিফ মাহমুদ সরকারের কঠোর কর্মসূচি দাবি করেছেন
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর এবং কার্যকরী কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘সরকার এখন অপারেশন ডেভিল হান্টের থেকেও কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত। কারণ সন্ত্রাসীদের মুক্ত বাতাসে ছেড়ে দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও নির্বাচন কার্যকরভাবে আয়োজন সম্ভব নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট দলগুলোর সঙ্গে সংযুক্তবুদ্ধিজীবী, টক শোয়ের বক্তা ও তথাকথিত অংগীকারকারীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। যারা ফ্যাসিস্টদের পক্ষে গুলি চালিয়েছে বা তাদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে, তাদের অপরাধের একই স্তরে গণ্য করা উচিত।’
এর আগে, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির উপর গুলিবর্ষণ করা হয়। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হন তিনি, পরে তার সহকর্মীরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে।
-

রাষ্ট্রপতি দুই উপদেষ্টা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন, প্রজ্ঞাপন জারি
আজ অন্তর্বতীকালীন সরকারের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা—অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মো. মাহফুজ আলমের পদত্যাগপত্র যথাযোগ্য সম্মানসহ গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ক একটি প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সকল পদত্যাগপত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছেন। একদিকে, নতুন করে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সেই দায়িত্বের নতুন বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্যে, আদিলুর রহমান আগের দুই মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন। অন্যদিকে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান। পাশাপাশি, আসিফ নজরুল নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নতুন নেতৃত্বের আগমন হলো, যা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-

রোজা আসার আগে খেজুরের আমদানিতে শুল্ক কমল
সরকার রোজা পর্যায়ক্রমে সামনে রেখে খেজুরের আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করেছে। বর্তমানে যা ২৫ শতাংশ রয়েছে, তা বন্ধ করে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এই শুল্ক হ্রাসের অনুমোদন দেন প্রধান উপদেষ্টা বিনিয়োগ উপদেষ্টা শফিকুল আলম। বৈঠকের পর ঢাকাস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আসন্ন রোজা উপলক্ষে খেজুরের ওপর বিদ্যমান শুল্ক, বিশেষ করে আমদানি শুল্ক, কিছুটা কমানো হয়েছে। বর্তমানে খেজুরের ওপর শুল্ক ৫২.২ শতাংশ; তবে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমানোর ফলে এটি এখন দাঁড়িয়েছে ৪০.৭ শতাংশে। এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মেট্রোরেলের ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের উপর থেকে ভ্যাট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এতে বছরে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে।’ মূলত, ভ্যাট আইন অনুযায়ী যে কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেল টিকিটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হয়। মেট্রোরেল পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে, এবং এর তদারকি সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অনুরোধে, এ সেবার উপর ভ্যাট এখনও আরোপ করা হয়নি।
-

ডিএনসিসির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর ডেমরা এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দুই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। নিহতরা হলেন ইরাম রেদওয়ান (২৫) এবং অপু আহমেদ (২৫)। ইরাম আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও অপু ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ছাত্র।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, এই দুজন বন্ধু একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথেমধ্যে, কোনাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ফলস্বরূপ, দুজন গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে যায়। কিন্তু শুক্রবার ভোরে চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, অপু আহমেদ প্রথমে মৃত্যুবরণ করেন এবং কিছুক্ষণ পরে ইরাম রেদওয়ানও মারা যান।
এই দুর্ঘটনায় ধাক্কা দেওয়া গাড়িটিকে (ঢাকা মেট্রো-শ-১৪০৫৭৪) আটক করা হয়েছে। গাড়ির চালককে এখনও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থী ডেমরা থানাধীন চিটাগাং রোড এলাকায় বাস করতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, তাদের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
-

সাজিদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, দাফন সম্পন্ন
শোকে পুরো গ্রাম এখন স্তব্ধ। প্রতিবেশীরা আহাজারি করে সকাল থেকেই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মসজিদের মাইকে বারংবার শোনা যাচ্ছে সেই ঘোষণা—‘কোয়েলহাট পূর্বপাড়া নিবাসী রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের শিশু সন্তান সাজিদ মারা গেছে।’
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নেককিড়ি কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে জানাজা শেষে শিশু সাজিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়ার কারণে এক এক শিশুর জীবন এইভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে, সে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া পুরো এলাকাকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
অতিথি ও স্থানীয়রা জানাজার জন্য পুরো গ্রাম ছড়িয়ে পড়েছেন। কেউ কোনো দোকানপাট খোলেনি, কেউ যাননি দোকানে। সবাই গ্রামের প্রধান রাস্তা ধরে গামছা-পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে ও মাথায় টুপি পরে সাজিদের বাড়ির দিকে ছুটে যাচ্ছেন। তারা একবার শিশুটির নিষ্পাপ মুখ দেখতে চাচ্ছেন—মুখে ছিলো হাসি, আর আজ নিস্তব্ধতা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে সাজিদের মরদেহ নেওয়া হয়। দুঃখের বিষয়, একই দিন গভীর নলকূপের ৪০ ফুট মাটি খনন করে ৩২ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির লাশ উঠানো হয়। এই দুর্ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছড়াছড়ি।
জানাজার ময়দানে মানুষের ঢল লক্ষ্য করা গেছে সকাল থেকেই। গ্রামের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে স্কুলের ছাত্ররা সবাই চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। কারো গলায় কণ্ঠ কমছে না—‘আল্লাহ, এই ধরনের মৃত্যু কাউকে যেন না দেখাতে দেন।’ শিশু সাজিদের সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহটি যখন জানাজা মাঠে আনা হয়, তখন চারপাশে কান্নার রোল শোনা যায়। তার মা বারবার ছুটে আসছেন—আহাজারি করছেন। মাঝখানে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি কারও কান্না।
জানাজার ইমামতি করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। জানাজা শেষে যখন তিনি তাকবির দেন, সবাই হাত তুলে দোয়ার ভঙ্গিতে পাঠ করেন। সকলের হৃদয় থেকে মহান রবের কাছে শিশুটির জন্য পূর্ণ দোয়া আর প্রার্থনা। একই সঙ্গে তারা আল্লাহর কাছে এই দুয়া করেন যে, শিশুটির পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন।
চলমান দৃশ্যের মধ্যে কবরের জন্য প্রস্তুত ছোট্ট কফিনটি যখন কাবার দিকে নেওয়া হচ্ছিল, তখন বাতাস যেন স্থবির হয়ে আসে। শুধু শোকার্ত কান্নার শব্দ শোনা যায়। স্বজনরা কেঁদে কেঁদে আরও ভেঙে পড়েন। একটি শিশুর জানাজা—যেখানে পুরো গ্রাম অংশ নেয়, এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে গভীর নলকূপে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশু সাজিদ। সকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ৪০ ফুট মাটি খনন করে ৩২ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অঘটন ও শোকের ছাঁয়ায় পুরো গ্রাম এখনও দিশেহারা আর স্মৃতির দেয়ালে বেদনার ছাপ পড়েছে।
