Category: জাতীয়

  • নভেম্বর মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৩ জন

    নভেম্বর মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৩ জন

    গত নভেম্বরে দেশের সড়ক ও নৌপথে মোট ৫৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে ৪৮৩ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং ১৩১৭ জন আহত হন। আহত ও নিহতের মধ্যে নারী, শিশু এবং পথচারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ৬৪ জন নারী ও ৭১ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার বেশির ভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যেখানে ২২৭টি ঘটনায় ১৯৪ জন নিহত হন। পাশাপাশি, পথচারীরাও দুর্ঘটনায় বেশ বিপদের মধ্যে পড়েছেন। এই মাসে ১০৬ জন পথচারী মারা যান। অন্যান্য দুর্ঘটনা হিসেবে আওয়ামী নৌ-দুর্ঘটনা দেখা গেছে ৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া, ৪৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৯ জন আহত হন।

    অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.২২ শতাংশ, যেখানে প্রতি দিন গড়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৪.২২ জন। নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.১ জন। এসব তথ্য রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের প্রেরিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, যা৯টি প্রধান দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রকারভেদে জনবল ও যানবাহনের বিবরণ বেশ বিস্তৃত। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৪ জন, বাসের যাত্রী ২৪ জন, ট্রাক ও অন্যান্য ভারি যানবাহনের লোকজন ২২ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা ১৪ জন, তিন হোইলারে ৮৩ জন, স্থানীয় যানবিশিষ্ট ৩১ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৯ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে ঘটেছে। সাধারণত মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারানো, পথচারী চাপা দেওয়া বা যানবাহনের পেছনে আঘাতের ঘটনা বেশি। দেশের বিভাগ-wise হিসেবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও হতাহত ঘটেছে, যেখানে ১৪১টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন প্রাণ হারান। প্রান্তিক অঞ্চলে কেবল শেরপুর ও পঞ্চগড় জেলায় কম সংখ্যক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দেখেছি।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা, অব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ধীরগতি, তরুণ চালকের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, আন্দোলনমূলক আচরণ এবং ট্রাফিক আইনের অনুপযুক্ততা। পাশাপাশি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং চাঁদাবাজিও বড় সমস্যা।

    সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির জন্য সুপারিশে থাকছে, দক্ষ চালক তৈরি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া, চালকদের বেতন ও কাজের সময় নির্ধারিত করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, মহাসড়কে আলাদা পার্শ্ব রাস্তা ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ ও ট্রাফিক প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো। আরো বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনের চাঁদাবাজি রোধ, রেল ও নৌপথ সংস্কার করে সড়ক চাপ কমানো এবং টেকসই পরিবহন কৌশল গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে। এক সাথে সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হয়।

  • ইনুর বৈধতা চেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি বিচার সম্প্রচারের আবেদন

    ইনুর বৈধতা চেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি বিচার সম্প্রচারের আবেদন

    চব্বিশের জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত আন্দোলন কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় এখনও চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। আশ্চর্যজনকভাবে, এই বিচারপ্রক্রিয়াকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন আসামি হাসানুল হক ইনু।

    আজ, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকা বিচারিক বেঞ্চে এই আবেদন করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। মামলার শুনানি শেষে, ভবিষ্যৎ নির্দেশনা জানানো হবে।

    প্রসিকিউশনের পক্ষে এই আবেদন শুনানিরত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্য আইনজীবীরা। এই ছয় দিনের মধ্যে, ইনুর বিরুদ্ধে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলা কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি পঞ্চম নম্বর ও জব্দতালিকার সাক্ষী। এই সাক্ষ্য তিনি ১৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

    ইতিমধ্যেই, জুলাই-আগস্টের গণ আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই দিন, সাবেক ডেপুটি জেলা শাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার একজন সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি, সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স পরীক্ষামূলক সাক্ষ্য দেন, যিনি মামলার চতুর্থ সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর, ইনুর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন।

    এর আগে, ৮ ডিসেম্বর, এই মামলার চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই সময়, সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তদন্তকারীর রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন। ২ ডিসেম্বর, তিনি দ্বিতীয় দিন জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে ইনুর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন। এর আগে, ১ ডিসেম্বর, তিনি তার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    এছাড়া, প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. রাইসুল হক, যিনি মূলত ছাত্র আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইনু উসকানি দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর হামলার জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষী হিসেবে তিনি ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    পূর্বের খবর অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই দিন, ইনুর করা রিভিউ আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। এই রিভিউ আবেদনে আইনজীবী সিফাত মাহমুদ ও মনসুরুল হক ছিলেন, আর প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর। শুনানি শেষে, ট্রাইব্যুনাল ইনুর আবেদন খারিজ করে দেন। গত ২ নভেম্বর, আটটি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশনা জারি হয়।

    প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের অ্যাল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এর ফলশ্রুতিতে, শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন। আহত হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। এরপরই, এই ঘটনাগুলোর জন্য ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

  • ইসির আমন্ত্রণ, টিভি টক শোতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

    ইসির আমন্ত্রণ, টিভি টক শোতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

    উন্নত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের টেলিভিশন সম্প্রচার মাধ্যমে প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিস্থিতিতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নির্বাচনী সংলাপ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা প্রার্থী যেন সমানভাবে সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর), ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য মুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজন সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, যাতে কোনো দলের বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা কটূক্তি না ছড়ানো হয়।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিতে উল্লেখ আছে, তারা গণমাধ্যমে নির্বাচনী সংলাপে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অব্যাহত কটূক্তি থেকে বিরত থাকবেন। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্বাচনী সংলাপ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং কোনও রকম হেয়প্রতিপন্ন বক্তব্য বা কটূক্তি প্রচার না হয়, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

  • ইইউ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    ইইউ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মিশন নিয়োজিত করেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ইইউর কূটনৈতিক কার্যক্রমের শাখা দ্য ইউরোپیয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইইএএস জানিয়েছে, বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা কালাস বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে একটি ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন (ইওএম) পাঠাচ্ছে। এই মিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস।

    ইজাবস বলেন, এই মিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সুদৃঢ় মূল্যায়ন করবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিবাচক সমর্থনের একটি বড় দৃষ্টান্ত হবে এই পর্যবেক্ষণ মিশন।

    ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পর্যবেক্ষণ মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া অপার সম্মানের বিষয়।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত তফসিলে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, এবং বাতিলের জন্য আপিলের সময় শুরু হবে ৬ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি। বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময়কালও একই, অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচন প্রচারনা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

  • আন্দোলন চালিয়ে ভাতার দাবিতে অবরুদ্ধ করা অর্থ উপদেষ্টাকে, ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    আন্দোলন চালিয়ে ভাতার দাবিতে অবরুদ্ধ করা অর্থ উপদেষ্টাকে, ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    সচিবালয়ের ভাতার দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আন্দোলনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে টানা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই খবর শনিবার একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং আদালত তাদের পাঁচ দিন রিমান্ডে নিচ্ছে।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী, নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তায়েফুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মো. আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ইসলামুল হক ও মো. মহসিন আলী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক নাসিরুল হক।

    প্রায় ২০ শতাংশ সচিবালয়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং উপদেষ্টাকে বের হওয়া থেকে বাধা দেন। এরপর রাত ৮টা ১২ মিনিটে পুলিশ নিরাপত্তায় সচিবালয় ত্যাগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।

    প্রাক্তন আমলারা বলছেন, এমন সংবেদনশীল স্থানে একজন উপদেষ্টাকে ঘন্টার পর ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখা শুধুমাত্র নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেনি, বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্যও শঙ্কাজনক ছবি অনুবাদ করেছে। সচিবালয়ে এই ঘটনা দুর্লভ এবং নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা।

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন স্বীকৃতি

    শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন স্বীকৃতি

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন, যা ছোট সাজ্জাদ নামে পরিচিত, আরও তিনটি হত্যার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা থাকায় তিনি এখনই স্বস্তি পাচ্ছেন না। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শরীফ এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোট সাতটি মামলায় জামিন লাভ করেছেন সাজ্জাদ। তবে অন্যান্য মামলার কারণে তিনি এখনও কারাগারেই রয়েছেন। বর্তমানে রাজশাহী কারাগারে থাকায় তার জামিননামা সেখানে পাঠানো হয়েছে।

    আদালত সূত্র জানায়, স্থিত মামলাগুলোর মধ্যে চারটি চান্দগাঁও থানায় এবং তিনটি পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা হয়েছিল। এসব মারামারি ও খুনের মামলাগুলোর পেছনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগ রয়েছে।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্রলীগ (যা এখন নিষিদ্ধ) এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় নিহত হন ফজলে রাব্বী। এছাড়া, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায়ও মামলাগুলি করা হয়। এই মামলাগুলিতে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাজ্জাদ ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯ মামলার আসামি। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যার অভিযোগ সহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে, চারটি হত্যার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তাদের জামিন হয়। এই আদেশ চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছে। তবে, সাজ্জাদের স্ত্রী শারিমন তামান্না বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন।

    পুলিশের কাছে থেকে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়, তামান্না ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ জামিনে মুক্তির ছবি তুলে ধরছেন। এরপর পুলিশ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে।

  • ৫৪ জন প্যারাট্রুপার একসঙ্গে পতাকা হাতে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন

    ৫৪ জন প্যারাট্রুপার একসঙ্গে পতাকা হাতে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন

    মহান বিজয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার একসঙ্গে আকাশে অবতরণ করে জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তারা বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যা বিশ্বের সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করার রেকর্ড।

  • বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

    বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

    বিজয় দিবসের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের আগমন ছিল ব্যাপক ও উল্লাসপূর্ণ। আজ দেশের জন্য আত্মোৎসर्गকারী বীর শহীদদের স্মরণে সর্বস্তরের জনগণ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল থেকেই কাকচক্ষা, ফুলেল আনুষ্ঠানিকতা ও দেশপ্রেমের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠে এই মহান স্মৃতিসৌধের পরিবেশ।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথমে স্বশরীরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর থেকে সাধারণ জনগণের জন্য স্মৃতিসৌধের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছেন।

    প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতির পর, রেওয়াজ অনুসারে, গত চার দিন স্মৃতিসৌধে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আজ সব বাধা দূরে সরিয়ে বহু দর্শনার্থী এসে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের স্মৃতি স্মরণ করেন। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, শিশু-কিশোর, বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দেশপ্রেমের ধারায় এসেছেন।

    সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির বীর শহীদদের স্মৃতিতে সম্মান জানান। এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতিতে সম্মান জানান।

    এসময় সেনা, নৌ, ও বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ দল রাষ্ট্রীয় সালাম দেয়। বিউগলের করুণ সুরে মন ভিজে যায় শ্রদ্ধা জানানো মানুষের মনে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে থাকা দর্শনার্থী বইতে স্বাক্ষর করেন।

    ওই সময় আন্তঃবাহিনী প্রধান, বিচারপতি, কূটনীতিক, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আজ বিজয় দিবস পালন করছে দেশ। সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহান দিনে দেশের স্বাধীনতা ও স্বপ্নের সূর্যস্তরকে স্মরণ করছে।

  • ১৬ ডিসেম্বরের প্রতিশ্রুতির পরই জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আসিফ নজরুল

    ১৬ ডিসেম্বরের প্রতিশ্রুতির পরই জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আসিফ নজরুল

    আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ১৬ ডিসেম্বরের প্রতিশ্রুতি ছিল আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর), বিজয় দিবসের সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উদ্যাপন শেষে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জন্য একেবারে আলাদা একটি দিন, দেশপ্রেমিক জাতির জন্য বড় একটি গর্বের ক্ষণ। এই দিনে দেশের মানুষের মনোযোগ স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও দেশের পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রতি। আসিফ নজরুল আরও বলেন, যেখানে আমি থাকি, সেখানে এসে মনে হয় দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে। শহিদ মুক্তিযোদ্ধারা, আহত মুক্তিযোদ্ধারা, যারা নানা আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তাদের প্রতি এই দিনটি বিশেষ গুরুত্ব রাখে। এই অনুভূতি সব সময় মনকে স্পর্শ করে, দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় মন ভরে ওঠে।

  • সিঙ্গাপুরে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    সিঙ্গাপুরে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বড় ভাই ওমর ফারুক এ খবর জানান।

    আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে, সিঙ্গাপুর থেকে ওমর ফারুক বলেছেন, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন যে হাদির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন এখন স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। আগের তুলনায় তার হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতাও বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

    সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সময় ওসমান হাদির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট বেড়ে যাওয়ায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত তাকে বিমানবন্দর থেকে অতি দ্রুত সিঙ্গাপুরের জেনারাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

    ওমর ফারুক জানান, চিকিৎসকরা তার শরীরে স্যালাইন দিয়ে বেশ কিছু ওষুধ পুশ করেন এবং দুই ঘণ্টার জন্য তার পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে হাদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখা যায়। তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে এবং হার্টবিট স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, পাশাপাশি হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতাও বাড়তে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যখন ওসমান হাদির অবস্থা স্থিতিশীল হয়, তখন medical পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো রাতের মধ্যে (গত রাত বাংলাদেশ সময় প্রায় রাত ২টার মধ্যে) সম্পন্ন করা হয়েছে। তাকে বিশেষায়িত আইসিইউতেই রাখা হয়েছে। আজ রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসকরা তার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাবেন।

    এর আগে, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে, ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।