Category: জাতীয়

  • জরিপের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রেস সচিব

    জরিপের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রেস সচিব

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনও থামেনি। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের অতীত কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তা জরিপের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে বলেন, বহু বছর ধরে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা অবস্থায় এই দলের জনপ্রিয়তা জরিপ চালানো কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, গবেষণা ও জরিপের নামে পরিচালিত এই ধরনের উদ্যোগ আসলে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান নয়। বরং এগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটার পর একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অতীত অপরাধকে স্বাভাবিকতার অভ্যেসে রূপান্তর করার এক প্রক্রিয়া। তাঁর মতে, যে দলটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও দমননীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের জনপ্রিয়তা মাপার আগে জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা উচিত।

    তিনি আরও যোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি নয়, বরং আওয়ামী লীগই ভয় ও অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনীতি—বিরোধী সমাবেশে হামলা, হতাহতের ঘটনা, রাস্তা দখল ও অস্ত্রের অবাধ বিস্তার—এসব বিষয় মানুষের জীবনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছিল। ঢাকাসহ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।

    বিশ্লেষকদের এক অংশ মনে করেন, ঐ সময়কার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে জনতার ভয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই-আগস্টের দমন-পীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন থামিয়ে আরও দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নতুন প্রজন্ম ভয়কে অস্বীকার করে রাজপথে আসায় সেই কৌশল ব্যর্থ হয়। কেউ কেউ মনে করেন, শেষ পর্যন্ত সরকারও বুঝতে পেরেছে যে সহিংসতা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

    শফিকুল আলম প্রশ্ন করেন, কোনও জনপ্রিয়তা জরিপ কি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে পারে? যদি কোনও দল মাত্র ১০ বা ২০ শতাংশ সমর্থন পায়, সেটি কি বড় কোনও রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারে? বিশেষ করে যখন প্রতি স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখানোর কথা মনে পড়ে—যেমন আন্দোলনের সময় নিহত ছাত্র ফাইয়াজের কথা বা জুলাই মাসের বিক্ষোভে জীবন দেওয়া অসংখ্য মানুষের কথা—সতর্ক হওয়া কি এখনও জরুরি নয়?

    তার মতে, ভবিষ্যতে জরিপ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন হতে পারে, তবে তার জন্য আগে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বাধ্যতামূলক। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে আইনি প্রক্রিয়ায় স্থির হতে হবে, তাদের অতীতের সব ঘটনা স্বচ্ছভাবে স্বীকার করতে হবে কোনো অজুহাত ছাড়াই। জবাবদিহি ছাড়া কোনো ধরনের জনপ্রিয়তা পরিমাপের উদ্যোগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করবেন তিনি।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি স্থানীয় দৈনিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অন্তর্বর্তী সরকারগুলো নিয়ে জরিপ-ভিত্তিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

  • নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, জামায়াতের দাবি

    নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, জামায়াতের দাবি

    বর্তমানে চলমান নির্বাচন পরিস্থিতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন পর্যায়ে একটি ন্যায্য ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে তারা নির্বাচনকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু বলে মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সুস্থ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সোমবার নির্বাচন ভবনে ইসির সাথে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা আবারও জানতে চেয়েছেন, তফসিলের সিদ্ধান্ত কি হয়নি এবং এর ওপর স্পষ্ট কোনো הודעה পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, তারা আলোচনা করেছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে। প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াও জটিল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এটি বিশাল খরচের ব্যাপার। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অর্থের অঙ্কই প্রধান নয়, এখানে স্বচ্ছতা বেশি জরুরি।

    এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রচারকালে হামলার শিকার হচ্ছেন। তফসিল ঘোষণা হলে এসব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও ইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের এই নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কমিশন সাধ্যমত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে নির্বাচন সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয় বলে।

    প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সবাইকে সমান সুযোগ দিতে পারেননি। কিছু প্রশাসনিক অসঙ্গতির বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেছেন, যাতে করে নির্বাচন সুষ্ঠুর পথে এগিয়ে যায়। যদি কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন, দলের মালিকানায় কোনো ব্যাংক নেই এবং তাদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত নিয়োগের ঘটনা ঘটে না। ভোটের ব্যাপারে তারা কোনো আশঙ্কা করছেন না, বরং তাদের বিশ্বাস, নির্বাচন নিস্তেজ ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, তফসিলের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তারা এসেছেন এবং ইসির প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সেন্সর ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে তারা আহ্বান জানিয়েছেন এবং দাতাদের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী, কারণ জাতির প্রত্যাশা হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তিনি মনে করেন, ইসি জাতির অংশ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে, এবং এটিই সংবিধান ও শপথের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে।

  • হাইকোর্টের নির্দেশ: ৯০ দিনের মধ্যে গুলশানের আবদুস সালাম মুর্শেদীর বাড়িটি দখল নিতে হবে

    হাইকোর্টের নির্দেশ: ৯০ দিনের মধ্যে গুলশানের আবদুস সালাম মুর্শেদীর বাড়িটি দখল নিতে হবে

    আওয়ামী লীগ সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর গুলশান-২ নম্বরের পরিত্যক্ত বাড়িটি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন, যেখানে এই সম্পত্তি দ্রুত সরকারের হস্তান্তরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায় অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সরকার এই বাড়ি দখল করবে, যা আগেই আদালত নিশ্চিত করে দিয়েছিল।

    বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই ৫২ পাতার রায় স্বাক্ষর করে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই সম্পত্তির ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ঘটনা এটি।

    এর আগে, এই জমি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল। রিটের শুনানি শেষে, এই নির্দেশনা দেয় বিচারকরা। পাশাপাশি, এই বাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে সরবরাহের জন্য বলা হয়।

    হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, সরকার বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তি এই সম্পত্তি ইজারা নিতে পারবে না। এটি জনস্বার্থে সংরক্ষিত থাকবে। এই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন রিট দাখিল করেন, যেখানে তিনি বাড়িটি অবৈধভাবে দখলে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন।

    প্রাথমিক শুনানির পরে, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে, আদালত বাড়িসংক্রান্ত সব নথি দাখিলের নির্দেশ দেয়। আবদুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে দখল এবং অনিয়মের অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রুল জারি করা হয়। এরপর রাজউক এই নথি জমা দেয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক) এই বিষয়ের তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুদক এই বাড়ির বিষয়ে হলফনামা আকারে তথ্যাদি দাখিল করে। এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, এবং ওই বছরই আবদুস সালাম মুর্শেদী হত্যা মামলায় কারাগারে যান। তার পাশাপাশি, মামলার অন্য পক্ষ, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনও একই মামলায় কারাগারে আছেন।

    প্রভাবশালী এই মামলার প্রত্যাঘাতের জন্য সালাম মুর্শেদী আপিল বিভাগেও গিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আপিল আপাতত স্থগিত রয়েছে।

  • দুদক চেয়ারম্যানের আহ্বান: নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের ভোট না দেওয়ার জন্য দেশের ভোটারদের অনুরোধ

    দুদক চেয়ারম্যানের আহ্বান: নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের ভোট না দেওয়ার জন্য দেশের ভোটারদের অনুরোধ

    আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ আশা ব্যক্ত করেন। কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা ও দুদক পতাকা উত্তোলনের পর শুরু হয়। এরপর সকাল ৯টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে সঠিক ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে হবে ভোটারদের। যদি দেশের জনগণ দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে দেশের দুর্নীতি অনেকটাই কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, সমাজের অন্তঃস্থলে দুর্নীতি অনেক গভীরভাবে ছড়িয়ে গেছে, যা সম্পূর্ণভাবে নির্ণয় বা নির্মূল করা বেশ কঠিন। এই অবস্থায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একথা বলতেই তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিবাজদের উৎসব যেন প্রতিদিনই চলে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হওয়ার জন্য একদিনের উদ্যোগ অনেক কার্যকর। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বের ১৯১টি দেশ এই দিনটি একযোগে উদযাপন করে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা: গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগ, ষোড়শ জেলা ও ৪৯৫টি উপজেলা বড় পরিসরে এই দিবস উদযাপন করছে। পাশাপাশি দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যচালিত এনজিওগুলো দুর্নীতি বিরোধী নানা কর্মসূচি আয়োজন করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও অন্যান্য সংস্থাও এই ক্ষণটি উদযাপন করছে। বাংলাদেশ আনকাকের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ২০০৭ থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুনিয়াজুড়ে এই দিবস পালন করে আসছে; তবে সরকারিভাবে এটি ২০১৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন হয়ে আসছে।

  • প্রধান উপদেষ্টা নারীদের হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দিলেন

    প্রধান উপদেষ্টা নারীদের হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দিলেন

    প্রতিবারের মতো এবারও নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার এবং নারী জাগরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চার মহিলা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করেছে সরকার। এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি এসব মর্যাদাপূর্ণ পদক হাতে তুলে দেন।

    বুধবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে চারজন নারীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এসব পদক প্রদান করা হয়। এই বছর তাদের নাম হলেন: নারী শিক্ষায় গবেষণার জন্য রুভানা রাকিব, নারী অধিকার ক্ষেত্রে শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার ক্ষেত্রে নিপা ইদ্রিস ও নারী জাগরণের লক্ষ্যে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ঋতুপর্ণা চাকমা।

    আজ ৯ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস। এই দিনটি বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী হিসেবে পালিত হয়। তিনি একজন নারীর স্বাধিকার ও শিক্ষার সংগ্রামী রূপকার। ১৮৮০ সালে রংপুরের মিঠাপুকুরে এক জমিদার পরিবারের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রোকেয়া, जो তার অমিত ব্যক্তিত্ব ও অসামান্য অবদানের জন্য আজো অনুপ্রেরণার स्रोत। ১৯৩২ সালে ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    তার পিতার নাম জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের, যিনি আরবি, উর্দু, ফারসি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তবে মেয়েদের শিক্ষায় তিনি কট্টর রক্ষণশীল ছিলেন। ছোটবেলায় কলকাতায় এসে একজন শিক্ষিকার সঙ্গে কিছু দিন লেখাপড়া করেছিলেন রোকেয়া, যেখানে তার শিক্ষার পথ শুরু। পরিবারের সমর্থনে তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষা দক্ষতা অর্জন করেন।

    বিয়ে হয় ১৮৯৮ সালে বিহার অঞ্চলের ভাগলপুরের সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে, যিনি একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও সমাজ সচেতন প্রগতিশীল ব্যক্তি। তার উৎসাহে বেগম রোকেয়া তার সাহিত্যচর্চা শুরু করেন এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন, কিন্তু নারী শিক্ষার প্রচেষ্টায় মনোভাব পরিবর্তন করেন।

    ১৯০৯ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি ভাগলপুরে স্বামীর অর্থায়নে নারীদের জন্য সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এর কিছু বছর পরে কলকাতায় তিনি আরও একটি স্কুল চালু করেন। তার সংগ্রামী জীবন ও সাহিত্যকর্ম 시대ের প্রেক্ষাপটের বাইরে ছিল। এর প্রথম প্রকাশ ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।

    বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে — মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন। এছাড়াও তার প্রবন্ধ, ছোট গল্প, কবিতা ও অনুবাদ অসংখ্য। তিনি ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।

    বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে দেশে ও রাজধানীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একযোগে নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণীও দিয়েছেন। এটি নারীর অধিকার ও শিক্ষার অবদানে উৎসাহ দেয়ার এক উৎসবের দিন।

  • ঢাবির অধ্যাপক সাময়িক বরখাস্ত যৌন হয়রানির অভিযোগে

    ঢাবির অধ্যাপক সাময়িক বরখাস্ত যৌন হয়রানির অভিযোগে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. মো. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায় যে, অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, আরও রয়েছেন ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর ড. এনামুল হক সজীব, অভিযুক্ত অধ্যাপকের একজন প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তদন্ত), যিনি সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

    প্রাক্তন সময়ে সমকামিতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন অধ্যাপক এরশাদ হালিম। এর ফলে বিভাগ থেকে তাঁকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলও তাঁকে অব্যাহতি দেয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে।

  • জুলাই গণহত্যা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের শেষ খবর

    জুলাই গণহত্যা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের শেষ খবর

    জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে আদালত। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুবলীগের সভাপতির মতো ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই তথ্য প্রকাশ করে।

    এদিকে, একই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার时代য়ের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ১৭ জনকে আজ সকালে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সোয়া দশটার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে তাদের নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এরপর তাদের একে একে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে আজ মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

    আসামিরা মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যেমন— সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম, ফারুক খান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প-বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। ইনুর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণও চলছে। অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল-১। গণআন্দোলনের সময় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কারফিউ চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগে আনিসুল হক ও সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগও আমলে নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ১৫ অক্টোবর আলাদা মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের আবেদনক্রমে সময় চান তারা, তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করায় নতুন সময় ধার্য করা হয়।

    সকালের দিকে ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রবেশের সময় অবশ্য সবাইকে তল্লাশি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

    ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল, ১৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্তে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। এভাবেই প্রভাবশালী এই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।

  • নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের ক্ষমা স্বীকার

    নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের ক্ষমা স্বীকার

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্যেরদ্বারা আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দ্বারা নেওয়া হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ফজলুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রতিপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানির শুরুতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পরে আইনজীবীর মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে বসেন। একপর্যায়ে টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া নিজের মন্তব্যের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুপমা ও নিঃশর্ত ক্ষমা চান বিএনপি নেতা। একইসঙ্গে তিনি আদালত অবমাননার জন্য ক্ষমা চাইলে, ট্রাইব্যুনাল তাকে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেন। এদিন সকাল ১১টার দিকে বিএনপির এই নেতা আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আরো কয়েকজন আইনজীবী। এর আগে, ৩০ নভেম্বর১৯ অভিযোগের ব্যাখ্যা শুনতে ফজলুর রহমানকে তলব করে ট্রাইব্যুনাল। তিনি সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে যান। গত ৩ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়া, আদালতের নিরপেক্ষতা হস্তক্ষেপ এবং প্রশিকিউশনের অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তোলে। এসব কারণে ২৬ নভেম্বর প্রথম শুনানি হয়, পরে ৩০ নভেম্বর অবশিষ্ট বিচার কার্যক্রমের সময় তার ব্যাখ্যা শুনতে তলব করা হয়। উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের ‘মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’ টকশোতে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেন। এতে তিনি শেখ হাসিনার রায় প্রসঙ্গে নানা মন্তব্য করেন। ওই টকশোটি ৪৯ মিনিটের, যা পেনড্রাইভের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। শুনানিতে জানা যায়, তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি এই আদালত মানি না। উপস্থাপকরা জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কি কোনোভাবেই শুনতে চাইনি? তিনি উত্তর দেন, সবাই জানে, আমি এই আদালত মানি না। আমি বলেছি, আমি এই বিচার ব্যবস্থা মেনে নেই না। তিনি আরও বলেন, আমি বলেছি, এই বিচার শেরপ্রতিবন্ধিত নয়, এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের সবাই শিবিরপন্থী। ট্রাইব্যুনাল জানায়, ফজলুর রহমান এসব মন্তব্য করতে গিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার ক্ষতি করেছেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে জানায়, তার আসল পরিচয় হলো— তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আগামী নির্বাচনেও এমপি প্রার্থী। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩০ নভেম্বর তিনি লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। তবে, বিএনপির এই নেতা জুলাই বিপ্লব নিয়ে মন্তব্য করলে তার সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাও ঘটে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, ফজলুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি ট্রাইব্যুনালের বিচার মানেন না কারণ এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিচারকার্য জন্য গঠিত নয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ সালে প্রণীত, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে সক্ষম। এরপর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এসব গুরুতর মন্তব্যের জন্য আজকের শুনানির দিন ধার্য করা হয়। ফজলুর রহমানকে আগামী ৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করে প্রতারণা করছে একটি দল: সালাহউদ্দিন

    ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করে প্রতারণা করছে একটি দল: সালাহউদ্দিন

    বিএনপি দেশের মানুষের কাছে সমর্থন ও ভোট চাচ্ছে, এমন কথা বলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণের què চায়, তা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা শুধু ধর্মের নামে কিছু বিক্রি করতে চাই না; আমরা চাই জনগণের কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। আমাদের কাছে রয়েছে স্পষ্ট ও নির্মল পরিকল্পনা, যা সমাজের সামনে তুলে ধরব।

    আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর)খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাই, তারা যেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী উন্নতি করতে পারে তা সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দেয়।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যারা বিনা কষ্টে জান্নাতে যেতে চায়, তাদের প্রথমে জানা দরকার শহর বা বাসস্টেশন কোথায়। জনগণ এগুলো ভালোভাবেই বোঝে। আবার যারা ধর্মব্যবসায় জড়িত, তারা বলছে, এই মার্কা দিয়ে ভোট দিলে জান্নাত। কিন্তু জীবনে কীভাবে চলবে, তা নয়। এমন দল যারা কোনো নীতির ধার ধারে না, কোনো পরিকল্পনা ছাড়া কেবল ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করে মানুষকে প্রতারণা করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।’

    বাংলাদেশ মানেই বিএনপি, গণতন্ত্রের অপর নাম—এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তীতে, ১৯৭৯ সালে চতুর্থ সংশোধনী বাতিল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের জন্য তিনি জীবন দিয়েছেন। এরপর থেকে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন-প্রতিরোধের মাধ্যমে বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিজয়, ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতি চালু, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মতো কাজগুলো বিএনপির শিক্ষনীয় প্রমাণ। এভাবেই বিএনপি দেশের ইতিহাসে এক অবদান রেখে গেছে।

  • নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি পালনে বাধা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি পালনে বাধা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি পালনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথাগুলো জানান।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা আগামী জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে।’ এর মাধ্যমে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বডি ক্যামরা ব্যবহার করবে এবং ভোটের দিন প্রত্যেক কেন্দ্রে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে বলে জানানো হয়।

    অন্যদিকে, রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।’ এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।