Category: জাতীয়

  • রিজওয়ানা হাসানের মন্তব্য: স্বাধীনতার পর থেকেই গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক সমাজের

    রিজওয়ানা হাসানের মন্তব্য: স্বাধীনতার পর থেকেই গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক সমাজের

    স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল বলে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীত্ব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের স্মরণসভায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সাধারণ মানুষ অবচেতনভাবে প্রত্যাশা করতেন একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কালের স্বর্ণযুগের সেই আশা পূরণ হয়নি, যা একটি বড় ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার জন্যই দেশে গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এক নতুন দিকনির্দেশনা গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এখন বাংলাদেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পুরোনো শাসনব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে নতুনভাবে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়া জরুরি। আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রের নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক অগ্রগতি শুরু হবে সেই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, শক্তির ওপর ভর করে প্রবঞ্চনা বা দমন করার প্রথা দীর্ঘদিনের। তবে নতুন বাংলাদেশে এমন কোনো সংস্কৃতি স্থান পাবে না যেখানে জনগণের মুখোমুখি হতে হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রধান মাধ্যম হবে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ।

    দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানান, সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সংগঠিত ও গোপন আঘাত মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

    সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা ছিল ভেঙে পড়া এবং অকার্যকর। সেই অস্থির অবস্থা থেকে দেশকে আবার কার্যকর পথে ফিরিয়ে আনাই ছিল মূল লক্ষ্য। সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা সংস্কার ও কাঠামো উন্নয়ন—এই তিনটি লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে সরকার সফল হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    আরও বলেন, সরকারের মূল প্রচেষ্টা হলো এমন একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা যেখানে সাধারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

  • শেখ হাসিনার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন

    শেখ হাসিনার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন

    প্রসিকিউশন আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার আমৃত্যুও কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দাখিল করা হয়েছে। এই আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিবন্ধন হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এর নিষ্পত্তি সম্পন্ন করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যামিকাসিকালে, আপিলের প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে প্রসিকিউশন অবকাশকালীন ছুটির জন্য চেম্বার আদালতে দাখিল করবে।

    এর আগে, নভেম্বরের শেষ দিকে গাজী এম এইচ তামীম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেওয়া সাজার কপি প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। তারা ৩০ দিনের মধ্যে এই অভিযোগে তার আপিল করবে।

    গত ১৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। এরপর, ১৭ নভেম্বর এই মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার শুরু হয়।’

    সেই সময়ের রায়ের ফলে, শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, এবং তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই ঘটনা ঘটে গত সে সময়ের গণঅভ্যুত্থানকালে, যেখানে শেখ হাসিনা বহু উস্কানিমূলক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখনও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে পলাতক থাকলেও, অন্য পুলিশি বেআইনি কার্যক্রমের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে, শেখ হাসিনা ও অন্য আসামির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উসকানি দিয়ে মানুষের জীবনহানি, অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ, হত্যা, এবং জনসভায় উসকানি করা। এই সব অভিযোগে চলতি বছরের প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠিত হয়। মামলার ইতিহাসে উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা এখনও পলাতক থাকলেও, তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়েছে।

  • ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স روانাপন

    ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স روانাপন

    জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের একজন কেন্দ্রীয় নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। আজ দুপুর ১:৫৫ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছে।

    প্রায় দুপুর দুইটার একটু আগে, সামরিকভাবে প্রস্তুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বিমানবন্দর ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এই সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন তার দুই ভাই।

    এর আগে সকাল পৌনে একটায়, তাকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেয়। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে, বিকল্প চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

    ওসমান হাদি সকাল ১১:২২ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। গত শুক্রবার দুপুরে, তিনি রাজধানীর পল্টন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষায়িত এভারকেয়ার হাসপাতলে স্থানান্তর করা হয়।

    তবে, তার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক থাকায় চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তার চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহন করছে।

  • বিজিবি নিশ্চিত নয় হাদির হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়েছে কি-না

    বিজিবি নিশ্চিত নয় হাদির হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়েছে কি-না

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান জানিয়েছেন, হাদির ওপর হামলাকারী সন্দেহভাজন ফয়সাল ও তার সহযোগীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে গেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বিজিবির পক্ষ থেকে। তবে, সীমান্তে তাদের পা ফেলার সাহায্য করতে পারে এমন মানবপাচারকারী হিসেবে ফিলিপ সেনাল নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

    আজ সোমবার ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১২ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকায় হামলার ঘটনাগুলোর পরই রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সীমান্তের স্পর্শকাতর পয়েন্ট, প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়। ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়, যাতে আক্রমণকারীদের কাছ থেকে সতর্ক থাকা যায়।

    তাদের জানান, শনিবারও পুরো দিন ধরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা carried on ছিল, স্থানীয় ক্ষত্র ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা টিম পাঠানো হয়েছে, যাতে সীমান্ত অখণ্ডতা রক্ষা করা যায়।

    কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গেছে কি না। পুলিশও নিশ্চিত নয়। আমাদেরভাবে দু’টি সম্ভাবনা মাথায় রয়েছে—এক, যদি তারা পেরিয়ে যায়, তাহলে কে তাদের সাহায্য করছে? অন্যদিকে, তারা যদি না পেরেও থাকে, তবে তাদের ঠিকানা বা আশ্রয়ের স্থানের খোঁজ চলছে।

    বিজিবি ফিলিপ সেনালকে ধরার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। ফিলিপ ধরা গেলে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে তারা পাচারকারী কি না, তা জানতে।

    অভিযানের সময় ফিলিপের স্ত্রী ডেলটা চিরান, শশুর ইয়ারসন রংডি ও মানবপাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, বারোমারি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে বেঞ্জামিন চিরামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • আইজিপি বাহারুলের বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার চেয়ে রিট খারিজ

    আইজিপি বাহারুলের বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার চেয়ে রিট খারিজ

    হাইকোর্টের আজকের আদেশে আইনজীবীরা আইজিপি বাহারুল আলমকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এই রায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আইজিপি বাহারুল আলমের নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেশ চাপ তৈরি হয়েছিল। গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ওই রিটটি হাইকোর্টে দায়ের করা হয়, যেখানে আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেছিলেন।

    রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ আইজিপি বাহারুল আলমকেও বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রিটের শুনানি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে আদালত এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ৪ ডিসেম্বর, আইজিপি বাহারুল আলমের দ্রুত বরখাস্তের জন্য সরকারের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এই নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পাঠিয়েছিলেন, যেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।

    অভিযোগ রয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে ব্যর্থতার জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সঙ্গে আইজিপি বাহারুল আলমের নামও এই প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলেছে।

  • ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা

    ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা

    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদপ্রার্থীরা একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পול্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ডিউটি অফিসার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল হাসান।

    তিনি জানান, ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় তার এক আত্মীয় বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। তবে অভিযুক্তের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলার এফআইআরটি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, আসামীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।

    শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি সম্প্রতি ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন।

    গত শুক্রবার বিকেল ২:২৪ মিনিটে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকার কাছে তাকে গাড়ি থেকে গুলি করা হয়। পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে এক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানাচ্ছেন। সোমবার দুপুরের পর তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর থেকে পল্টন থানা, র‍্যাব, ডিবি ও অন্যান্য পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বেশ কয়েকটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক, বর্ডার দিয়ে মানুষ পাচার চক্রের দুই সদস্য, এবং অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও তার এক বান্ধবী।

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন ‘ফয়সাল করিম’ সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে হাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ তাকে প্রধান সন্দেহভাজন মনে করে তার সন্ধানে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। জানা গেছে, ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের একজন স্বেচ্ছাসেবক ও নেতা ছিলেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

    এই জটিল ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আসামীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে। দেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এই হামলার ঘটনা।

  • মোটরসাইকেল মালিক হান্নানের বিভ্রান্তিকর তথ্য: গুলির ঘটনায় অগ্রগতি

    মোটরসাইকেল মালিক হান্নানের বিভ্রান্তিকর তথ্য: গুলির ঘটনায় অগ্রগতি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা ইতিমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যেই পুলিশ ও র‌্যাবের তদন্তে নতুন অগ্রগতি দেখা গেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটির মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে তদন্তের জন্য পাঠানো হয় বলে র‌্যাব নিশ্চিত করেছে।

    র‌্যাব-২-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হান্নান মোহাম্মদপুরের এই বাসিন্দা, তবে তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তিনি যে মোটরসাইকেলে হাদিকে গুলি করা হয়, সেটির মালিক বলে স্বীকার করেছেন। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এই মোটরসাইকেলের নম্বর ৫৪-৬৩৭৫ সংগ্রহ করা হয়, যা পরে বিআরটিএ অফিস থেকে যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলে র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। তিনি একবার বলছেন, বাইকটি বিক্রি করেছেন, আবার বলছেন, গ্যারেজে রাখতে ছিলেন। তবে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। आरोपी ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তার যোগাযোগের ব্যাপারে হান্নান স্বীকার করেছেন, তবে খুব বেশি যোগাযোগের কথা বলতে পারেননি। র‌্যাবের দাবি, হান্নানের সঙ্গে ফয়সালের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ এবং এটি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।

    অপারেশন ধারণা অনুযায়ী, হাদিকে গুলি করার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল। এর আগে, গত শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে রিকশায় যাচ্ছিলেন হাদির ওপর দুর্বৃত্তরা গুলি করে। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গুলিতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত হওয়ায় এবং মালিকের আটকের মাধ্যমে পুলিশের তদন্ত কিছুটা এগিয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। তদন্ত চলছে, আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই মূল হোতাদের সন্ধান পাওয়া যাবে।

  • সুদানে ইউএন ঘাটিতে হামলায় নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ

    সুদানে ইউএন ঘাটিতে হামলায় নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ

    সুদানের আবেই এলাকায় ইউএন শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী শহীদ ও আটজন আহত হয়েছেন। এই হামলা ঘটে গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে, যখন দেশের শান্তিরক্ষীদের উপর ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এই তথ্য প্রকাশ করে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, এই জঙ্গি হামলার ফলে দেশের ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন। এদের মধ্যে রয়েছেন কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম থেকে সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, রাজবাড়ি থেকে সৈনিক শামীম রেজা, কুড়িগ্রাম থেকে শান্ত মন্ডল, কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও গাইবান্ধার মো. সবুজ মিয়া। আহত হন আরও আটজন শান্তিরক্ষী, যাদের মধ্যে অনেককে জরুরি চিকিৎসার জন্য স্থানांतরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, মোসা. উম্মে হানি আক্তার, চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান। উল্লেখ্য, মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য আহতদের অবস্থা অনুকূলে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা সবাই শঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ সেনা এই জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শহীদ সেনাসন্তানদের এই আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের গর্বজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময় তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।

  • ডিপ কোমায় থাকায় হাদির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি

    ডিপ কোমায় থাকায় হাদির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আতাতাই এর গুলির আঘাতে আহত হন এবং এখনও তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওসমান হাদি দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে তা তার শারীরিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি উন্নত হলে তাকে বিদেশে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আবদুল্লাহ আল জাবের জানিয়েছেন, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন ওসমান হাদি। তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও চিকিৎসকরা আশঙ্কামুক্ত নন। বর্তমানে তিনি ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, যা শেষ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তিনি আরও জানান, ওসমান হাদি এখনও ডিপ কোমায় রয়েছেন। তার শরীরের অবস্থা নেই বলে মনে করা হলেও তার শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা ইঙ্গিত মিলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা যতই সংকটময় হোক না কেন, তাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    সম্প্রতি, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল যে, হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। আগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়, যেখানে জরুরি চিকিৎসা শেষে নিউরোসার্জারি বিভাগের ডাক্তাররা অস্ত্রোপচার চালান। এ সময় গুলি কানের ডান পাশ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া, যা অন্য রোগীদের পাশাপাশি হাদির চিকিৎসার পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থানকারী লোকজন হাসপাতালের সামনে এসে দোয়া ও চিকিৎসার সুস্থতা কামনা করছেন।

    একজন সিলেট থেকে আসা ব্যক্তি বলেন, তারা দুইজনের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আর তার ওপর এই হামলার ঘটনাটি নৃশংস।

    জুলাই ২০২৩ সালে অনিয়মের প্রতিবাদে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন হাদিরা। তার রাজনৈতিক অবস্থান ছিল এই সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট। গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন তিনি। তিনি পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি বক্তব্য দিয়ে থাকতেন এবং কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন।

    তাদের বিরুদ্ধে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তার সমর্থকেরা মূলত আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত বলে মনে করছেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণে আছেন স্বাস্থ্য পেশাদারা। বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

    পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনের নাম উল্লেখ করেছে। তাকে ধরিয়ে দিতে খোঁজ চালানো হচ্ছে এবং তার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে, হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করে এর মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • হাদিকে গুলির ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগে মামলা

    হাদিকে গুলির ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগে মামলা

    ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমানকে কেন্দ্র করে গত ১২ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওসমান হাদি এই মামলা করেন।

    মামলা দায়েরের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ঢাকার আদালত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কণ্ঠের বিরুদ্ধে এ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে আজ (১৪ ডিসেম্বর) অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপুরিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই মামলা গ্রহণ করেন। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভূইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর থেকে নানা রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ সময় কিছু অসাধু চক্র ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করার চেষ্টা করে এবং প্রার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের জন্য অপপ্রচার চালায়।

    অভিযোগে আরো বলা হয়, ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পরিকল্পিতভাবে গুলিতে আহত হয়েছেন। এই হামলার পেছনে বিগত সরকার সমর্থকদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন ঘটনার মূল অপরাধীদের শনাক্তের কাছাকাছি বলে জানা গেছে।

    অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, দৈনিক আজকের কণ্ঠ এবং তার সহযোগীরা নির্বাচনের ফলাফল ক্ষতি করতে, এবং মির্জা আব্বাসের কাছে থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য এই ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করে। পুরোটাই মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে মামলার দাবি করা হয়েছে।

    বাদী পক্ষের অভিযোগ, এই মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চেয়েছে মির্জা আব্বাসের চরিত্র ও প্রতীকী মূল্যায়নে আঘাত করতে। ১২ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে এই সংবাদটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি আদালতের নজরে আনার জন্য উপযুক্ত মামলা দায়ের করেন।