চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে সন্ধ্যার পর শিশিরে ম্যাচের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে খবর ছিল। তাই বাঁচা-মরার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতের ক্রিকেট প্রশাসন নতুন একটি উপায় গ্রহণ করেছে। তারা আমদানি করেছে বিশেষ এক রাসায়নিক যা আউটফিল্ডে স্প্রে করা হচ্ছে। এই রাসায়নিকের নাম ‘ডিউ কিউর’, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ বেসবলের ভেন্যুগুলিতে ব্যবহৃত হয়। তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বিশ্বকাপের আগে তারা এই রাসায়নিকটি আমদানি করে আউটফিল্ডের উপর প্রয়োগ করেছে। সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে মাঠে পানি মিশিয়ে স্প্রে করা হয়, যাতে ম্যাচের সময় এর কার্যকারিতা বজায় থাকে। সূত্র মতে, একবার স্প্রে করলে ঘাসের পাতায় আর্দ্রতা জমে না, ফলে ভেজা ভাব দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং শিশিরের প্রভাব কমে যায়। ভারতীয় ক্রিকেটাররাও অনুশীলনের সময় মাঠের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন, এবং তারা সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। আগামীতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও এই রাসায়নিক ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কিছু ঘোষণা এখনো হয়নি। ভারতের পরিকল্পনায় রয়েছে, আইপিএলের সব ভেন্যুতেই এটিকে বাধ্যতামূলক করে তোলা। অতীতে শিশিরের কারণে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Category: খেলাধুলা
-

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় রেকর্ড জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের
বিশ্বাসে ভরপুর ছিল জিম্বাবুয়ের দল। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তারা সুপার টুর্নামেন্টে উঠেছিল। আশা ছিল এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যেকার মুখোমুখি লড়াইটি হবে জমজমাট। কিন্তু দর্শকদের প্রত্যাশা ম্লান করে দিয়ে পুরো ম্যাচটি ছিল একপেশে। প্রথমে ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল একটি বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করে, এরপর জিম্বাবুয়ে সে লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ২৫৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪৭ রানে অলআউট হয়, ফলে দুর্দান্ত ১০৭ রানের জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বড় লক্ষ্যে খেলতে শুরুতেই মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলের পঞ্চাশের আগেই তারা হারায় ৩ উইকেট। এরপর ডিওন মেয়ার্স ২৮ ও সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে দলের পরিস্থিতি কিছুটা টানতে থাকেন। তবে অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতনের ফলে ম্যাচে ফেরানো সম্ভব হয়নি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে ১৪৭ রানে নামিয়ে দেন।
জিম্বাবুয়ে দলের ইনিংসে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স করেন গুড়াকেশ মোতি ও আকিল হোসাইন। দুজনই মোট ৭ উইকেট তুলে নেন। মোতি ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন, এবং আকিল ৩ উইকেট অর্জন করেন ২৭ রানে। একই সময়ে ম্যাথু ফোর্ড ২ উইকেট নেন ২৭ রানে, এবং জেসন হোল্ডার ১ উইকেট নেন। এ দিন গ্রুপ ওয়ানে এক ম্যাচে victory করে সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথমে এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। বল হাতে নামেন রিচার্ড এনগারাভা। তিনি প্রথম ওভারেই ক্যারিবিয়ান ওপেনার শাই হোপকে আউট করেন, বলের ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে আসেন হেটমায়ার ও হোপ। হোপ ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন, আর হেটমায়ার এবং পাওয়েল মিলে ১২২ রানের শক্তিশালী জুটি গড়েন। এই জুটি মাত্র ৫২ বলে গড়ায়। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে এই জুটির বিপর্যয় ঘটান গ্রায়েম ক্রেমার। তার প্রত্যাশিত সেঞ্চুরি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ডাউন দ্য উইকেটে বল খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ব্রায়ান বেনেটের হাতে ক্যাচ দেন।
হেটমায়ার ৭ ছক্কা ও ৭ চারে ৩৪ বলে ৮৫ রান করেন। পাওয়েলও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি; ৩৫ বলে ৫৯ রানে আউট হন।
এরপর শেরফানে রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ড দলের জন্য ইনিংস টেনেছেন। রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর জেসন হোল্ডার শেষদিকে ৪ বলে ১৩ রানে আউট হন। ম্যাথু ফোর্ড এক বলের মধ্যে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
-

আসিফ আকবরকে নেওয়া হলো বিসিবির নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান
দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততা বাড়ছে। দেশের একমাত্র ক্রিকেট সংস্থা বিসিবির নিয়মিত কার্যক্রমে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গেম ডেভেলপমেন্ট। সম্প্রতি এই বিভাগের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এক অনলাইন বৈঠকে বিসিবির পরিচালকরা নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে আসিফ আকবরের নাম ঘোষণা করেন।
প্রথমে এই পদে ইশতিয়াক সাদেক থাকলেও, তিনি বিগত সময়ে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর ফলে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ সভায় আসিফ আকবরকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে সবশেষ বিসিবি নির্বাচনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করে পরিচালক পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। তবে, কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন, যেখানে তিনি নিজে জানান, সময়ের অভাবে এবং অন্যান্য দায়িত্বের কারণে তিনি গেম ডেভেলপমেন্টের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। আর এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে, বিসিবি এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে, আসিফ আকবর নির্দেশিত থাকায়, এখন তিনি টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং সম্পূর্ণ জাতীয় স্তরের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটির দায়িত্বে আছেন। এই পরিবর্তন ক্রিকেটের উন্নয়নে আরও নতুন দৃশ্যমান পদক্ষেপ বলে মনে করছে বোর্ডের সূত্ররা।
-

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত একই গ্রুপে
জুন-জুলাইয়ে বাংলাদেশ এই দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। বিশ্বকাপের জন্য দলটি বাছাইপর্বে সাতটি ম্যাচের সবাই জিতে অপরাজিত থাকায় সবার আগে তারা টিকিট জিতেছে। এটি প্রথমবারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ৩৩টি ম্যাচ খেলা হবে। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক মাঠ শুরু হবে ১২ জুন এবং শেষ হবে ৫ জুলাই। এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
-

ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাল পাকিস্তানকে হারিয়ে
সুপার এইটে ম্যাচে ইংল্যান্ড পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি। হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ এক সেঞ্চুরির কারণে ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়লাভ করে। সাহিবজাদা ফারহারহানের হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি শাহীন শাহ আফ্রিদির চার উইকেট এই ম্যাচে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্রুকের ৫১ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস তাকে দলের জয়ে অন্যতম কোটি করেন। এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড এক ম্যাচ আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। বর্তমানে তাদের পয়েন্ট আর ৪, অন্যদিকে পাকিস্তান একমাত্র ম্যাচেই হারল।
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ১৬৫ রান, যা তারা প্রথম বলেই শুরুতেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। প্রথম বলেই আফ্রিদির বলে সাহিবজাদা ফারহারহান ক্যাচ নিয়ে আউট হন। এর কিছুক্ষণ পর, অন্য ওপেনার জোশ বাটলারও আফ্রিদির বলের খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। দলের স্কোর তখন ১৭ রান।
এরপর তিনে নামা হ্যারি ব্রুক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন উইল জ্যাকস, যিনি ৫০ বলে ৬৩ রান করে সাহস জোগান। তবে জ্যাকসের পর, ব্রুকের ব্যাটে দারুণ অপ্রতিরোধ্যতা দেখা গেছে। ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি ও পরে ৫০ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন। তার এমন ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের জেতার আশাটা প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটা ছিল কঠিন এক দিন। ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি। সাহিবজাদা ফারহারহান ৪৫ বলে ৬৩ রান করে দলের শীর্ষ স্কোর করেন। বাবর আজম ২৪ বলে ২৫ রান করে ব্যর্থ হন। শুরুতেই উইকেট হারানোর পর, তারা জুটি গড়তে চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়। ইংল্যান্ডের ডাওসন ও আর্চার দুর্দান্ত বল করেন। পাকিস্তানের শার্ল দামাধর ও নতুন ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করলেও, লক্ষ্য পৌঁছানো যায়নি।
অবশেষে, পাকিস্তান ১৬৪ রানে অলআউট হয়। ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনে ডাওসন তিন উইকেট ও ওয়ারটন ও আর্চার দুইটি করে উইকেট নেন, যা পাকিস্তানের জন্য বিশাল অকলঙ্ক। এই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনে। ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ জয়, যারা টুর্নামেন্টের আরও এগিয়ে যাওয়ার পথে পা বাড়িয়েছে।
-

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও র্যাংকিংয়ে ইমন, সাইফ ও জাকেরের উন্নতি
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলেও বাংলাদেশের তিনজন ব্যাটার ইমন, সাইফ হাসান এবং জাকের আলি অনিকের র্যাংকিংয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বুধবার আইসিসির প্রকাশিত সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের র্যাংকিং তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন।
পারভেজ হোসেন ইমন টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ উন্নতি করে এখন ৪১ নম্বরে অবস্থান করছে। তার রেটিং পয়েন্ট ৫৪২, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্থান। একইভাবে, সাইফ হাসান দুই ধাপ উঠে যৌথভাবে ৪২ নম্বরে পৌঁছেছেন, এবং জাকের আলি তিন ধাপ এগিয়ে এখন যৌথভাবে ৭২তম।
অন্যদিকে, কিছু কিছু ক্রিকেটারের অবস্থানে হতাশাজনক পরিবর্তনও এসেছে। তানজিদ হাসান তামিম বর্তমান ২১তম স্থান থেকেই অবনতি হয়েছে, এবং লিটন দাস ৫৪তম অবস্থানে নেমেছেন। সবসময়ই পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়, বর্তমানে ৪৭ নম্বর পয়েন্টের অবস্থানে অপরিবর্তিত আছেন।
বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান তার ৯ নম্বর অবস্থান ধরে রাখলেও বেশ কিছু অন্য ক্রিকেটারের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। শেখ মেহেদি (২১), রিশাদ হোসেন (২৭), নাসুম আহমেদ (৩৫) এবং তানজিম সাকিবের (৪৯) র্যাংকিংয়ে বড় পতন ঘটেছে।
অলরাউন্ডারদের তালিকায়ও শীর্ষে বাংলাদেশের কেউ নেই, তবে শেখ মেহেদি ৪৫ নম্বরে নেমে গেছেন। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজার দারুণ পারফরম্যান্স। তিনি পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে পিছনে ফেলে এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে শীর্ষ স্থান ফিরে পেয়েছেন।
ব্যাটিং র্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, যার পয়েন্ট এখন ৮৭৭। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফিল সল্ট, আর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের সাহिबজাদা ফারহান।
বোলিং র্যাংকিংয়ের তালিকায় ভারতের বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও, সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ। তিনি ২১ ধাপ এগিয়ে এখন ৩ নম্বরে। এছাড়া, জাসপ্রিত বুমরাহ ৭ ধাপ এগিয়ে ৮ম স্থানে উপস্থিত।
-

জিম্বাবুয়ের কাছে রেকর্ড হার ওয়েস্ট ইন্ডিজ
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল জিম্বাবুয়ের শিবির। তারা বিশ্বাস করছিলো, গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে সুপার সিরিজে উঠেছে তাদের দল সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও ছিলেন আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ, কারণ তারা গ্রুপ পর্বে সবাইকে হারিয়ে অবিচ্ছেদ্যভাবে প্রথম অবস্থানে ছিল। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেছিলেন, এই দুই অপ্রতিদ্বন্দ্বী দল এই ম্যাচে জমজমাট লড়াই দেখাবে। কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য গল্প—এটা ছিল একপেশে ম্যাচ। শুরুতেই ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বিশাল সংগ্রহের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে পুরো ম্যাচ অসহায়ভাবে উড়িয়ে দেয় জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা। ২৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪৭ রানেই অলআউট হয়, আর তাতে বড় ব্যবধানে ১০৭ রানের জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলের পঞ্চাশের বেশি রান যুক্ত হওয়ার আগেই তারা হারায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এরপর ডিওন মেয়ার্স ২৮ ও সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে দলের ভূমিকায় ফিরে আসার চেষ্টা চালান, কিন্তু অন্য পাশে নিয়মিত উইকেট পড়ায় তারা টিকতে পারেনি। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রান করতে পারেন, তবে তাতে যেন কিছুই কাজে আসেনি। পুরো ইনিংসের শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রানে, যা ছিল বড় ধসের ফলাফল।
এদিন জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ধস নামানোর জন্য মূল কৃতিত্ব অন্য দুই বোলারের। গুড়াকেশ মোতি ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন, আর আকিল হোসাইন ৩ উইকেট নিয়েছেন একই রানে। এছাড়া ম্যাথু ফোর্ড ২৭ রানে ২ উইকেট পেয়েছে, ও জেসন হোল্ডার ১ উইকেট নেন। এভাবেই সুপার সিরিজের এই গ্রুপে সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ম্যাচে জয় লাভ করে।
প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজার। বল হাতে শুরুতেই রিচার্ড এনগারাভা ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করেন। ওপেনার কিং ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে ফেরেন। এরপর শাই হোপ ও হেটমায়ার দলের শুরুটা সামলে নেন। দলীয় ৫০ রান হবার পর হোপ ফিরে যান; তিনি ১২ বলে ১৪ রান করেন। তারপরে লরি ইভান্স তাকে আউট করেন। তৃতীয় উইকেটে হেটমায়ার ও পাওয়েল ১২২ রানের জুটি গড়েন, যা মাত্র ৫২ বলেই সম্পন্ন হয়।
এই বড় জুটির ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একেবারেই লোকে উঠে যায়। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে এই জুটিটি ভাঙেন গ্রায়েম ক্রেমার। হেটমায়ার, কারো কাছে যেন সেঞ্চুরি পাওয়ার সম্ভাবনা জাগানো, ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ব্রায়ান বেনেটকে ক্যাচ দেন। ৭ ছক্কা ও ৭ চারে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩৪ বলের মধ্যে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস। পাওয়েলও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি, আউট হন ৩৫ বলে ৫৯ রান করে।
এরপর শেরফানে রাদারফোর্ড ও জেসন হোল্ডার ক্যারিবিয়ান দলের জয়ে অবদান রাখেন। রাদারফোর্ড ১৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৩২ রান করে, আর হোল্ডার ৪ বলে ১৩ রান করেন। ম্যাথিউ ফোর্ড এক বলেই ১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে সুপার সিরিজের গ্রুপ ওয়ানে এক ম্যাচে জয় পায় সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
-

খুলনায় শুরু হলো ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে আজ খুলনায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন। রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করছে। প্রথম দিনে ম্যাচে মুখোমুখি হন বাগেরহাট ও মেহেরপুরের টিমগুলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোঃ জুলফিকার আলী খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, জাকির হোসেন রিপন, এম সাইফুল ইসলাম এবং শাহনাজ খাতুনসহ অন্যান্য গুণীজনরা। সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও সিনিয়র ডিভিশন ক্রিকেট লীগের চেয়ারম্যান মোল্লা খায়রুল ইসলাম।
উপস্থিত অতিথিরা জানান, এই প্রতিযোগিতা দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই ধরনের আয়োজন সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হবে। তাঁরা আশা করেন, এই চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নতুন দিগন্ত פתুলে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
-

বিসিবির নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে আসিফ আকবর নিযুক্ত
দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এখন খুবই বেশি ব্যস্ততাই চলছে, বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন চার দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়ানডে ফরম্যাটের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিসিবি লীগের প্রতিযোগিতা। এর মধ্যেই রোববার বিসিবির পরিচালকরা এক অনলাইন বৈঠকে মিলিত হন এবং সেখানে নতুন গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে আসিফ আকবরকে নিযুক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তটি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসিফ আকবর এর আগে বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রমশ তাঁর দায়িত্ব বেড়ে যেতে থাকায় তিনি এখন গেম ডেভেলপমেন্টের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
প্রায় তিন মাস আগে, ২২ ফেব্রুয়ারি, বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় তাঁকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে, ইশতিয়াক সাদেক, যিনি ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলরশিপ নিয়ে বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিছু মাসের মাথায় পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সময়ের অভাবে তিনি গেম ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না এবং তখন থেকেই তাঁর পদত্যাগের আলোচনা শুরু। তবে আপাতত, বিসিবি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে, ইশতিয়াক সাদেকের স্থানে আসিফের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, যেখানে তিনি আগের দায়িত্বের সঙ্গে যোগ করেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের দায়িত্ব। এই নিয়োগের মাধ্যমে বোর্ডের লক্ষ্য দেশের ক্রিকেট উন্নত করা এবং বিশ্বমানের মানের ক্রিকেট গড়ার প্রচেষ্টা। আশা করা হচ্ছে, এই নতুন নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও প্রফুল্ল ও চমকপ্রদ হয়ে উঠবে।
-

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত একই গ্রুপে
জুন-জুলাই মাসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল অংশ নেবে দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাছাইপর্বে তারা সাতটি ম্যাচের সবটিতে জয় লাভ করে অপরাজিত থাকতে পারায় টুর্নামেন্টের মূল পর্বের টিকিট পেয়ে গেছে। এ বছর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশ্বকাপে ১২টি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ, যা দুটি গ্রুপে বিভক্ত থাকছে। মোট ৩৩টি ম্যাচের এই প্রতিযোগিতা চলবে ২৪ দিন, যা শেষ হবে ৫ জুলাই। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) গত মঙ্গলবার এই টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের জন্য গ্রুপ ‘এ’ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং পাকিস্তানকে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।
বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মোট সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে, যেমন লর্ডস (লন্ডন), ওল্ড ট্রাফোর্ড (ম্যানচেস্টার), হেডিংলি (লিডস), এজবাস্টন (বার্মিংহাম), হ্যাম্পশায়ার বোল (সাউদাম্পটন), দ্য ওভাল (লন্ডন) এবং ব্রিস্টল। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুন এজবাস্টনে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডসের। এই ম্যাচ শুরু হবে সকাল সাড়ে দশটায়। একই ভেন্যুতে একই দিন প্রতিপক্ষ হবে ভারত ও পাকিস্তান।
১৭ জুন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া, যা খেলা হবে হেডিংলিতে। তিন দিন পর, অর্থাৎ ২০ জুন, হ্যাম্পশায়ারে খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। বড় বিরতির পরে, ২৩ জুন, ওল্ড ট্রাফোর্ডে বাংলাদেশের ম্যাচ হবে ভারতের বিপক্ষে। এরপর, ২৮ জুন, লর্ডসে মাঠে নামবে বাংলাদেশের দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে।
নিগার সুলতানা জ্যোতি ও তার সহকর্মীরা এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর জন্য মরিয়া, কারণ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে ২৫ ম্যাচে ৩টি জয়ের সুখস্মৃতি অর্জন করতে পেরেছে। চারবারের এই চ্যাম্পিয়নশিপে এবার তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, যেখানে তাদের প্রতিভা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে।
