Category: আন্তর্জাতিক

  • হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ৭৫ ছাড়ালো, নিখোঁজ আরও ২৭০ জন

    হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ৭৫ ছাড়ালো, নিখোঁজ আরও ২৭০ জন

    হংকংয়ের বেশ কয়েকটি উঁচু বিল্ডিংয়ে বিভীষিকাময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ভয়াবহ ঘটনার মধ্যে শহরটির ইতিহাসে ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এখনও প্রায় ২৭০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, অন্যদিকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক ভবনে এখনও আগুন জ্বলছে এবং ঘন ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে চীনের আকাশেও ছড়িয়ে পড়ছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বয়স ৫২ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দু’জন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং একজন প্রকৌশল পরামর্শদাতা আছেন। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কোম্পানিটির দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।

    চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রপতি শি চিন পিং হতাহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের মধ্যে এক ফায়ারফাইটারও রয়েছেন, যিনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে, হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো এলাকায় অবস্থিত একটি বৃহৎ আবাসন কমপ্লেক্স ওয়াং ফুক কোর্টে। এই ৩১ তলার আটটি ভবনের এই কমপ্লেক্সে প্রায় ৪,৬০০ জন বাসিন্দা থাকেন, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

    বলা হচ্ছে, ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই ভবনগুলোর সংস্কার কাজ চলাকালীন সময়েই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত সাতটি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় কমিউনিটিতে ও দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

  • ইমরান খান আদিয়ালা জেলেই আছেন, সুস্থ রয়েছেন: কারা কর্তৃপক্ষ

    ইমরান খান আদিয়ালা জেলেই আছেন, সুস্থ রয়েছেন: কারা কর্তৃপক্ষ

    পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখনও সেখানে আছেন এবং তিনি সুস্থ রয়েছেন। রাজনীতিকের মৃত্যু বা কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়ার গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তারা জানিয়েছেন। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে বলা হচ্ছিল যে তাঁকে অন্য কোনও স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

    তবে, পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের বরাত দিয়ে আরব আমিরাতের গালফ নিউজ জানিয়েছে, কারাগার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ। রাওয়ালপিন্ডি কারাগার থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তারকথিত বদলির খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি পুরোপুরি সুস্থ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।’ কর্মকর্তারা আরও বলেন, তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। এ জন্য তাঁর সুস্থতা নিশ্চিত করতে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তিনি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল।

    অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, ইমরান খান কারাগারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আরাম উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর জন্য পরিবেশটি এতটাই ভালো যে, সেটা পাঁচতারার হোটেলেও মেলে না।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, কারাগারে তাঁর জন্য টেলিভিশন, ব্যায়াম করার জন্য মেশিন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর আগে, তিনি নিজের কারাবাসের অবস্থা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা ঠাণ্ডা মেঝেতে ঘুমাতাম, খাবার মারতাম, জানুয়ারিতে গরম পানি সঙ্গে ছিল না, তখনকার সময়ে আমাদের কাছে মাত্র দুটি কম্বল ছিল।’ อีกমনো কথা বললেন, যেখানে একজন সুপারিনটেনডেন্ট তাঁর সেল থেকে গিজার খুলেও নিয়েছিলেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও যোগ করেছেন, ইমরান খানকে ডাবল বেড ও মখমলের গদি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাঁর জন্য জেলের লাউডস্পিকারে ওয়াশিংটন অ্যারেনার ভাষণ শুনানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্লাহকে ভয় করো—কারণ সময় কারো হাতে থাকে না।’

    একই সময়ে, ক্ষমতাসীন জোট পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, ‘জাহির করা হয়েছিল যে, ইমরান খানকে ক্ষমতায় এনেছিলেন যারা, তাদের মূল অপরাধী।’ তিনি জানান, ‘তাদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’ নওয়াজের মতে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিটিআই পাকিস্তানের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে উঠে আসে এবং তারা মোট ২৭০ এর মধ্যে ১১৫টি আসন লাভ করে।

    এখন পর্যন্ত, পাকিস্তানের রাজনীতিতে এই ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে আলোচনা চলছে।

  • হংকংয়ের বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ ২৭৯

    হংকংয়ের বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ ২৭৯

    হংকংয়ের উত্তর টাই পো জেলা অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্ট নামে আটটি বহুতল আবাসিক ভবনের কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনও ২৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তার মধ্যে অনেকে আগুনে দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আল জাজিরা।

    বুধবার সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ভবনগুলোতে আগুন লাগার পর বিশাল ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, শিখা আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দমকল বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে ‘লেভেল-ফাইভ অ্যালার্ম’ জারি করে।

    হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বৃহস্পতিবার সকালে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ৪৪ বলে নিশ্চিত করেন। এর আগে ফায়ার সার্ভিস নয়জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল।

    ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ডেরেক আর্মস্ট্রং চ্যান বলেন, রাতের অন্ধকার ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ভবনে প্রবেশে এখনো অসুবিধা হচ্ছে। ধসে পড়া স্ক্যাফোল্ডিং ও ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার কাজের জন্য বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, অনেক বাসিন্দা ভবনে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনার সন্দেহে তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ এখনো জানানো হয়নি।

    এটি হংকংয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। এর আগে ১৯৯৬ সালে কাওলুনের গার্লে বিল্ডিংয়ে আগুনে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

    অগ্নিকাণ্ডের সময় বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসাবশেষ পড়ার শব্দে আশেপাশের মানুষ আতঙ্কে বিভোর হয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপণে ১২৮টি ফায়ার ট্রাক ও ৫৭টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কাছাকাছি দুটি কমিউনিটি সেন্টারে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়।

    টাই পো জেলার জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। রেকর্ড অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে অঙ্কে আটটি ব্লকে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাটে মোট চার হাজার আটশো বাসিন্দা বসবাস করেন।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্প

    ইন্দোনেশিয়ায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্প

    ইন্দোনেশিয়ায় বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আবারো ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়েছে, এটি গত ১২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার البلادকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূকম্পন উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে। আশঙ্কা মুক্ত হলেও এ ধরনের কাকতালীয় ঘটনা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আচেহ প্রদেশের কাছাকাছি সুমাত্রা দ্বীপে এই ভূমিকম্পের আঘাত পড়ে, যার গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, এই শক্তিশালী কম্পনটি এতটাই গভীরে অনুভূিত হয়েছে যে, এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে।

    চীনের শিনহুয়া বার্তা সংস্থা জানাচ্ছে, জার্মানির জিওসায়েন্স রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) বলেছে, সুমাত্রার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ৬.২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে, অক্ষাংশ ২.৬৮ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৯৫.৯৬ ডিগ্রি পূর্বে।

    এর আগে, বুধবার (২৬ নভেম্বর) দেশের নর্থ সুলাওয়েসি অঞ্চলে রাত ১২টার দিকে ৫.১ মাত্রার এক আরও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউএস জিওলজিকাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল তন্দানোর ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণে, গভীরতা ছিল প্রায় ১২১ কিলোমিটার।

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ ধরনের ভূমিকম্পগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে হলেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরেও এর প্রভাব পড়ে। গত শুক্রবার রাজধানীসহ দেশে একটি বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.৭। এই ভূকম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বিস্তারিত জানানো হয়, ভূমিকম্পের কারণে বিভিন্ন ভবন থেকে মানুষ দ্রুত নিচে নেমে আসা শুরু করেন, পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে।

    নরসিংদীতে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও বহু আহত হন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এর প্রভাব পড়ে। এই ঘটনাগুলোর কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণে বিভিন্ন সংস্থা ও জরুরি বিভাগের সমন্বিত চেষ্টা চলছে। সূত্র: ভলকানো ডিসকভারি

  • হংকংয়ের বহুতল ভবনে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫, গ্রেপ্তার ৩

    হংকংয়ের বহুতল ভবনে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫, গ্রেপ্তার ৩

    হংকংয়ের তাই পো এলাকায় অবস্থিত ওয়াং ফুক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ এ পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভোররাতেও ভবনের ওপর থেকে ধোঁয়া উড়ে যেতে দেখা গেছে। হংকং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চারটি ভবনের অগ্নিনির্ভ্বরণে কাজ চলছে এবং পুরোপুরি নিভিয়ে আনতে তাদের পুরো দিন জুড়ে কার্যক্রম চালাতে হবে। জানানো হয়, এই কমপ্লেক্সের আটটি ভবনের মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আরও তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে ১৩টির স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ৫১ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, আর বাকি চারজন হাসপাতালে প্রেরণের পর মৃত্যুবোধ হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন, যার মধ্যে আটজন ফায়ার ফোর্সের কর্মী রয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৯ জন। এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি।

    ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার বিকেল ২:৫১ মিনিটে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। এরপর থেকে কমপ্লেক্সের শতাধিক বাসিন্দাকে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। যারা পুনর্বাসনের প্রয়োজন তাদের জন্য জরুরি আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    বিবিসি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভবন থেকে গা darkা কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ছোট ছোট আগুনের শিখা এখনও দেখা যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

    এদিকে, কমপ্লেক্সের অনেক বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। যাঁরা অগ্নিকাণ্ডের আগেই ভবন থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তারা এখন নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর দেখার জন্য আসছেন। অনেকে রাতে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে অবস্থান করে ভোরে ফিরে আসেন।

    তবে, এখনো আগুনের সূত্রপাত বা কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ এ ঘটনায় নির্মাণ সংস্থার দুই পরিচালক এবং একজন প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে।

    অগ্নিকাণ্ডের পর অস্বাভাবিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ায় অনেককেই বের হয়ে আসতে পারেনি। ভবনের ভিতর পলিস্টাইরিনসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেছে, যা অগ্নিকাণ্ডকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এছাড়াও, কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা জাল, ক্যানভাস এবং প্লাস্টিকের কভারগুলোর মান সেফটি স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে অনুরূপ নয় বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

  • ভূমিকম্পে কাঁপলো ভারত ও পরিবেশে আফরন্ত ঘোষণা

    ভূমিকম্পে কাঁপলো ভারত ও পরিবেশে আফরন্ত ঘোষণা

    ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় আবারো প্রভাব ফেলল ভূমিকম্পের ঝড়। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে পশ্চিমাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে ৩.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভব করা হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এটি ছিল একমাত্র সামান্যই, যা অস্থায়ীভাবে হতাশার সৃষ্টি করেনি।

  • ‘গোটা ভারতবর্ষ হেলিয়ে দেব’ : মমতার গুরুতর মন্তব্য এসআইআর সংকটে

    ‘গোটা ভারতবর্ষ হেলিয়ে দেব’ : মমতার গুরুতর মন্তব্য এসআইআর সংকটে

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন ও এসআইআর (স্মার্ট আইডি রেজিস্ট্রেশন) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের মাঝেই রাজ্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সীমান্তবর্তী বনগাঁয় গিয়ে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজেপির সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, বাংলার দখলের স্বপ্ন দেখায় বিজেপি, তবে এই স্বপ্ন পূরণ হবে না। মমতা আরও বললেন, ‘আমাকে আঘাত করলে গোটা ভারতবর্ষ হেলিয়ে দেব। যদি বাংলাকে ভাল রাখা যায়, তাহলে দেশও ভাল থাকবে। আর যদি আঘাত আসে, তাহলে তার প্রত্যাঘাত সহ্য করতে হবে।’

  • মন্দিরে দাহের সময় জীবিত নারী কফিন থেকে উঠে আসলেন

    মন্দিরে দাহের সময় জীবিত নারী কফিন থেকে উঠে আসলেন

    থাইল্যান্ডের ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত ওয়াট র‌্যাট প্রাখং থাম বৌদ্ধ মন্দিরে দাহের প্রস্তুতি চলাকালে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। দাহ্য অনুষ্ঠান চলাকালে কফিনের ভেতর থেকে হালকা শব্দ শুনে কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিস্মিত হন। পরে কফিন খুলে দেখা যায়, এক নারী চোখ খুলে বসে আছেন এবং কফিনের দেয়ালে হালকা আঘাত করছেন। মন্দিরের মহাব্যবস্থাপক পাইরাত সুদথুপ জানিয়েছেন, তিনি সেদিন প্রথমে এ শব্দ শুনে চমকে যান, এরপর বুঝতে পারেন যে ওই নারী সম্ভবত বেশ কিছুক্ষণ ধরে কফিনে ধাক্কা দিচ্ছিলেন।

    নিরাপত্তার জন্য দ্রুত নারীর স্থিতি যাচাই করে দেখলে নিশ্চিত হয়, তিনি জীবিত। তার পরিবারের ছোট ভাইয়ের দাবি, তার বোনের মৃত্যু সংবাদ ধরা হয়েছিল। তবে মন্দিরের কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, ভাইয়ের কাছে কোনও মরদেহের সনদ ছিল না, যখন তিনি মরদেহের উদ্‌ঘাটনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছিলেন, তখনই আবার কফিন থেকে শব্দ শুনতে পান কর্মীরা।

    নারীটি জীবিত থাকায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভুগছিলেন, অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেছেন, তাকে শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হননি।

    অপরদিকে, নারীর ছোট ভাই জানিয়েছেন, তার বোন গত দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। মন্দিরের ব্যবস্থাপকের ধারণা, স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার কারণে শনিবার তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।

    পরিবারটি থাইল্যান্ডের ফিটসানুলোক প্রদেশ থেকে দাহের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ব্যাংককে আসছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩১১ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন।

  • বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এখন ঢাকার স্থানান্তর

    বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এখন ঢাকার স্থানান্তর

    রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা ও আয়তন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য বিশ্বশহরগুলোর তুলনায় ঢাকায় মানুষের আনাগোনা আরও বেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের নবম স্থান থেকে উঠে এসে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বলে মনে করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকাটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৃহৎ শহর হিসেবে স্থানávání করবে।

    জাতিসংঘের একটি নতুন প্রতিবেদন এ তথ্যটি প্রকাশ করেছে, যা বুধবার (২৬ নভেম্বর) আলজাজিরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    অতীতে, বিশ্বের বৃহত্তম শহর ছিল জাপানের রাজধানী টোকিও। কিন্তু বর্তমানে, জাপানের এই শহরকে ছাড়িয়ে, শীর্ষে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা, আর তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে টোকিও। ২০০০ সালের দিকে, জাতিসংঘ রীতিমতো এই জাপানি শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জাকার্তায় প্রায় ৪ কোটি ১৯ লাখ মানুষ বসবাস করছে। ঢাকায় এই সংখ্যা ৩ কোটি ৬৬ লাখ এবং টোকিওতে ৩ কোটি ৩৪ লাখ জনসংখ্যা রয়েছে।

    এছাড়াও, ‘ওয়ার্ল্ড আর্বানাইজেশন প্রসপেক্ট ২০২৫’ শীর্ষক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ৩৩টি মেগাসিটি রয়েছে। এশিয়ার মধ্যে এই শহরগুলোই বেশি সংখ্যক। ১৯৭৫ সালে মাত্র আটটি শহর ছিল যে যেখানে ১ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করেন, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩য়ে।

    এই তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে নয়টি শহরই এশিয়ার। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি (৩ কোটি ২ লাখ), চীনের সাংহাই (২ কোটি ৯৬ লাখ), গুয়াংজু (২ কোটি ৭৬ লাখ), ফিলিপাইনের মানিলা (২ কোটি ৪৭ লাখ), ভারতের কলকাতা (২ কোটি ২৫ লাখ) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল (২ কোটি ২৫ লাখ)।

    বিচিত্রের বাইরে, মিসরের কায়রো হল একমাত্র এশিয়ার বাইরে থাকা শহর, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

    অপরদিকে, আমেরিকা মহাদেশে সবচেয়ে বড় শহর হলো ব্রাজিলের সাও পাওলো, যেখানে মানুষ থাকেন প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ। আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে স্যারিয়ার লাগোস শহর সবচেয়ে বড়, যেখানে জনসংখ্যা বিশাল সংখ্যাক।

    বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ঢাকার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হলো দূরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা রাজধানীতে আসছেন বিভিন্ন কাজে, সুযোগ সন্ধানে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও সমুদ্র Rising sea levels এর কারণে অনেক মানুষ ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

  • ৩০০ বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা, ৩৩ জনের মৃত্যু

    ৩০০ বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা, ৩৩ জনের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৩ জনের মৃতু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধারকাজে তৎপর হয়ে বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত হয়েছে। মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী ব্যস্ত শহর হাতইয়াইতে একদিনেই রেকর্ড করা হয় ৩৩৫ মিলিমিটার অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত যা শহরটির ইতিহাসে ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

    শহর জুড়ে তোলা ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যানবাহন ও বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়ির ছাদে উঠে আছেন, আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীদের। গত এক সপ্তাহে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০টি প্রদেশ ব্যাপক বৃষ্টিপাতের শিকার হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি মানুষ प्रभावित হলেও মাত্র ১৩ হাজার জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে বলা হয়, অধিকাংশ মানুষ এখনও বিচ্ছিন্ন বন্দরে আছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না।

    থাই সেনাবাহিনীকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা ত্রাণসামগ্রী সহ একটি বিমানবাহী রণতরি এবং ১৪টি নৌযান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব নৌযানে খাদ্য, পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল রান্নাঘরও স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম।

    প্রয়োজনে যুদ্ধজাহাজের মেডিক্যাল টিম দিয়ে ‘ভাসমান হাসপাতাল’ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। উদ্ধারকাজে বেশ কয়েকটি নৌকা, উঁচু চাকা-যুক্ত ট্রাক ও জেট স্কির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সংখলা প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, এসব যানবাহনের মাধ্যমে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রদেশের হাতইয়াই শহরটি অবস্থিত।

    মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা সংখলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে এখনও বহু মানুষ পানিতে আটকা পড়ে আছেন।

    অবিরাম বর্ষণে থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিয়েতনামে এক সপ্তাহে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে, আর মালয়েশিয়ায় ১৯ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মালয়েশিয়ায় উত্তর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।