বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশে তার অবদানের প্রশংসা করেছেন। মোদি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যার জন্য তিনি সর্বস্তরে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় থাকবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সাক্ষাতের মুহূর্তটি তার স্মৃতিতে অম্লান রয়ে গেছে, যেখানে তারা বাংলাদেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার ভবিষ্যতেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। মোদি তাঁর শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
Category: আন্তর্জাতিক
-

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতিসংঘের শোক প্রকাশ
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার জাতিসংঘের অফিস থেকে একটি শোকবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুর এ দুঃখজনক সংবাদে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি গভীরভাবে দুঃখিত এবং শোকের আচ্ছাদনে ডুবে রয়েছে। তারা এই দুঃখজনক ক্ষণে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাদের একাত্মতা প্রকাশ করছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। এই নেত্রীর মৃত্যুতে দেশের politics এবং সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
-

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শোক
বাংলাদেশের বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরের প্রেক্ষিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের নেতা শেহবাজ শরীফ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে অনেক অবদান রেখে গেছেন, যা চিরচেতন হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকানুভূতিশীল।
শেহবাজ শরীফ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানের একজন নিবেদিত বন্ধু ছিলেন। এই দুঃখজনক মুহূর্তে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের বেদনায় শোকস্তম্ভ, এবং তাঁদের পাশে রয়েছে। তিনিও ব্যক্ত করেছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর চিন্তা ও প্রার্থনা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের জন্য, স্বজনদের জন্য এবং বাংলাদেশে প্রজন্মের জন্য।
শুক্রবার, ভোর ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যিনি দেশের উন্নয়নে অগাধ অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বহু মানুষের শোক প্রকাশের অপেক্ষায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তার শেষে রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
-

ভারতীয়দের বহিষ্কারে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র!
গত পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরব বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয়কে দেশের বাইরে পাঠিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার, ২৮ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থা সত্ত্বেও, সৌদি আরব গত পাঁচ বছর ধরেই আমেরিকার চেয়ে বেশি ভারতীয়কে বহিষ্কার করেছে। এই বহিষ্কারের পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করা (ভিসা ওভারস্টে), শ্রম আইন লঙ্ঘন, ওয়ার্ক পারমিট না থাকা বা কাজের নিয়ম ভঙ্গ, নিয়োগকর্তাকে এড়িয়ে পালানো এবং বিভিন্ন দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় জড়ানো।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং স্থানীয় সংসদে এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গণবহিষ্কারের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিসা বা রেসিডেন্সি কার্ডের মেয়াদ শেষে অবস্থান করা, অনুমতিহীন কাজ, শ্রম আইন ভঙ্গ, নিয়োগদাতাদের দেখানো না থাকায় পালানো এবং বিচারের মোকাবিলা।
রিয়াদে অবস্থিত ভারতের মিশনের তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে, ২০২১ সালে ৮,৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০,২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১,৪৮৬ জন, ২০২৪ সালে ৯,২০৬ জন এবং ২০২৫ সালের এখন পর্যন্ত ৭,০১৯ জন ভারতীয়কে ফেরত আনা হয়েছে।
অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর থাকলেও, সৌদি আরবের তুলনায় সেখানে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার অনেক কম।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ভারতীয় মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে মোট ৩,১৪১৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, তবে এ সংখ্যা সৌদি আরবের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অন্যান্য মার্কিন শহর যেমন হিউস্টন (২৩৪ জন), সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক ও শিকাগোতে এই সংখ্যাগুলো দুই বা তিন অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
-

ভারতে অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ
জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি শুক্রবার প্রকাশ করেন, ভারত এখন যেন “লিঞ্চিস্তান” এ পরিণত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের অসহিষ্ণুতা দিন দিন বাড়ছে এবং বাংলাদেশে লিঞ্চিং নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তারা ভারতের ঘটনাগুলির বিষয়ে নীরব থাকছেন। অনলাইন টেলিগ্রাফ এ খবর প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ‘লিঞ্চিং’ শব্দের অর্থ হচ্ছে জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা। ইলতিজা ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মন্তব্য করেন, “না ইন্ডিয়া, না ভারত, না হিন্দুস্তান—তোমার নাম লিঞ্চিস্তান।” এই পোস্টে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের ওড়িশায় ১৯ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি মুসলিম শ্রমিক জুয়েল শেখের লিঞ্চিং সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত করা হয়।
এছাড়াও, তার মা এবং পিডিপির প্রধান, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দেশের বিচারব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের বিচার ব্যবস্থা গভীরভাবে রাজনীতিকরণ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মেহবুবা মন্তব্য করেন, দেশের অসহিষ্ণুতা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে, লিঞ্চিং ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আমাদের জন্য দুঃখের। তবে যারা এ বিষয়ে সমালোচনা করছেন, নিজেদের সামনেই যদি ঘটনাগুলি ঘটত, তবুও তারা মুখ খোলতেন না।
তিনি জানিয়ে থাকেন, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মিরি শাল ব্যবসায়ীদের ওপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণপন্থি কিছু দল তাদের জোরপূর্বক নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে বাধ্য করছে এবং অস্বীকার করলে মারধর করছে।
হাইকোর্টে তার দাখিল করা জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক কাশ্মিরি হাজতিদের জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাকে আদালত নাকচ করে দিয়ে বলে, এটি নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মেহবুবা বলেন, আমার চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা আদালতের কাজ নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এই অধিকার আমার রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি অরুণ পালি ও বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় দেন যে, তার আবেদন অপ্রমাণিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রায়ে বলা হয়, মেহবুবা মুফতি এই মামলা দায়ের করেছেন ‘রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং একটি নির্দিষ্ট সমাজের পক্ষে ন্যায়যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে’।
রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন পিআইএল করতে পারে, তখন একজন রাজনীতিবিদ কেন পারবেন না? তিনি আরও বললেন, রাজনীতিবিদরা তাদের দলের কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তিনি যোগ করেছেন, গরিব পরিবারের সদস্যরা কত কষ্টে থাকেন, তাদের নিজস্ব আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা তো দূরের কথা, বাইরে গুলি জেলে বন্দি থাকাকালীন নিজেদের মামলার কি অবস্থা!
-

ভারতে বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে মুসলিম তরুণদের উপর হামলা
উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে এক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা ঘটেছে যেখানে একটি ক্যাফেতে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে দুই মুসলিম তরুণের অপরাধে একদল উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য তাদের উপর হামলা চালিয়েছেন। এই ঘটনার মূল অভিযোগ ছিল ‘লাভ জিহাদ’। রবিবার ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার সময় নার্সিং পেশার এক ছাত্রীর জন্মদিনের পার্টি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি এবং তার মোট নয়জন বন্ধু, এর মধ্যে দুজন মুসলিম। আকস্মিকভাবে বজরং দলে জড়ানো কিছু সদস্য স্লোঙ্গ দিয়ে ক্যাফেতে প্রবেশ করে এবং ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তুলে দুই মুসলিম শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে মারধর শুরু করে। এই সময় জন্মদিনের উদ্যোক্তা তরুণী বারবার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তাদের বলে দেন যে সবাই একই স্কুলের সহপাঠী। কিন্তু উগ্রপন্থীরা কোনও কথা শুনতে চাননি এবং হামলা চালাতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তা আশুতোষ শিবম জানিয়েছেন, পরে হামলাকারীদের বাসা থেকে দুই মুসলিম তরুণ ও ক্যাফের দুই কর্মচারীকেও আটক করা হয়। এছাড়াও, নারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। বরিলির এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সম্প্রতি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে নিশ্চিত করেছে। পুলিশ বলছে, পার্টির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট দশজন, যার মধ্যে ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন ছিল মুসলিম। এই ঘটনায় হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের কিছু সদস্য এই দুজনের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তোলে এবং এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
-

বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার ঘটনায় হুমায়ুনের ছেলে আটক, পুলিশকে মারধরের অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ছেলে গুলাম নবী আজাদকে পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হুমায়ুনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও গালিগালাজ করেছেন। ঘটনাটি রোববার বিকেলে ঘটে, যখন পুলিশ সকালে ঘটনার শুনানি শেষে তাকে আটক করে। পরে তাকে শক্তিপুর থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সময় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির নিজ বাড়িতে ছিলেন না। সম্প্রতি, মুর্শিদাবাদে নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এই বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিতর্ক রাস্তা তৈরি করে, ফলে তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করে দেয়। তারপর, তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন। এরপর ছেলের আটক হওয়ার পর হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ওই পুলিশ কনস্টেবল তাকে আক্রমণের চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার ছেলে তাকে রক্ষা করেছে। তার কাছে সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি এও জানান, তিনি পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে মারধরের চেষ্টা করে। আমার ছেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি, আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আমরা এসপি অফিসে ঘেরাও করব। কেন তারা নাটকীয়ভাবে আমার বাড়িতে এসেছিল, তা আমরা জানাতে চাই। এর আগেও আমি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। এবার সে আমার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করল। আমার ছেলে তাকে রক্ষা করেছে। প্রয়োজনে আমি সিসিটিভি ফুটেজ দেখাব।’ সূত্র জানায়, এই ঘটনা হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতেই ঘটে। জানা গেছে, সকালে তিনি নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে ছেলে ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেই সময় ওই কনস্টেবল তার কাছে এসে ছুটির আবেদন জানায়। কবির সেই আবেদন নাকচ করলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তারপর, অভিযোগ, তার ছেলে ওই কনস্টেবলকে চড় মারেন। পুলিশ এতে উদ্বিগ্ন হয়ে শক্তিপুরে কবিরের বাড়িতে চলে আসে এবং তার ছেলেকে আটক করে। ঘটনাটা জানার পর দ্রুত হুমায়ুন কবির নিজেও থানায় হাজির হন।
-

মেক্সিকোতে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১৩
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওয়াক্সাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং আরও ৯৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজ্যের নিজান্দা শহরের কাছে ঘটে।
মেক্সিকো নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রেনে মোট ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ৯ জন ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয়েছেন ৯৮ জন, এবং আহতদের মধ্যে ৩৬ জন হাসপাতাল ভর্তি। বাকিরা সবাই নিরাপদে আছেন। খবর রয়টার্সের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক এক্স পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৬ জনের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ঘটনাস্থলে রেল ও রেলওয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
মেক্সিকো দুটি মহাসাগরের তীরবর্তী দেশ, যেখানে প্রশান্ত এবং আটলান্টিক মহাসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত বিভিন্ন শহর ও বন্দর সংযোগের জন্য ১৯৯৯ সালে চালু হয় বিশেষ রেল পরিষেবা ‘আন্তঃমহাসাগরীয় রেল’। এই রেল পরিষেবার দেখাশোনা করে মেক্সিকোর নৌবাহিনী।
যে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি এই ‘আন্তঃমহাসাগরীয় রেল’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। এই দুর্ঘটনা দেশের অন্যতম বড় রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান।
-

প্রশংসায় ভাসছেন কাবার নিরাপত্তারক্ষী রায়ান
সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় কাবা শরীফের সংলগ্ন মসজিদে এক যুবক আত্মহত্যার চেষ্টাকালে তাকে রক্ষা করে প্রশংসিত হয়েছেন নিরাপত্তা কর্মী রায়ান বিন সাঈদ বিন ইয়াহিয়া আল-আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) মসজিদের ভেতরে এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তখন দায়িত্বে থাকা রায়ান মুহূর্তের মধ্যে যুবকটিকে লাফিয়ে নামতে দেখে তাকে ধরতে ছুটে যান। ওই সময়ই তিনি নিজেও আহত হন। পরে সেই যুবককে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রশংসা পেয়েছেন রায়ান, যা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সউদ বিন নাঈফ শুক্রবার হাসপাতালে এসে তাকে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, যুবকটি লাফ দেওয়ার সময় রায়ান দ্রুত তাকে ধরে ফেলেছেন। যদি তিনি তা না করতেন, হয়তো ওই ব্যক্তি নিহত হতে পারতেন। আপাতত তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে এই ঘটনা দেশের সব স্তরে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনও বিশদ তথ্য প্রকাশ না করলেও, জানা গেছে যে, বেশিরভাগ সময় কাবা শয়তানের তৎপরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে নিরাপদ রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে এক সৌদি নাগরিক কাবায় নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী তা ঠেকিয়েছিল। তবে এর আগে ২০১৮ সালে তিনজন কাবা চত্বরে আত্মহত্যা করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে আবার একজন নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। এই ঘটনার পরও, কাবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকছে, যাতে পবিত্র স্থানটি নিরাপদ থাকে।
-

সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতি মানবে না সোমালিয়া
শুক্রবার ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলকে কখনোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। খবর এএনএনডোনো সূত্রে জানা গেছে, এই স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকার একে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, এই স্বীকৃতি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, সংহতি এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য গুরুতর আঘাত। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় উল্লেখ করেছে, তাদের সংবিধান, জাতিসংঘের চুক্তি এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের আদর্শ অনুযায়ী সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতি অপ্রত্যাহারযোগ্য ও অ-আলোচনীয়। তারা আরও বলেছে, এই বেআইনি স্বীকৃতি তাদের দেশের উত্তরাঞ্চলের স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হেনেছে। জানানো হয়েছে, সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, আজ (শুক্রবার) সোমালিল্যান্ডকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল ইসরায়েলের দ্বারা প্রথমবারের মতো কোনো স্বাধীন প্রজাতিকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই সিদ্ধান্তটি সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি এটিকে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে তিনি বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা ইসরায়েলে স্বীকৃতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের জন্য আন্তরিকতা নিয়ে স্বাগত জানাই এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। গত বছর নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহির অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এই লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জানান, দুই দেশ সম্পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে একমত হয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস প্রতিষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেছেন, সম্পর্কের নানা দিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহিকে ইসরায়েল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি অবস্থান বিবেচনায়, সোমালিয়ার সরকার ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে পক্ষপাতি রইেছে, বলেছে, তারা দখল, কঠোর নাগরিক স্থানচ্যুতি এবং অবৈধ বসতি নির্মাণের নিন্দা করে। তারা বিশ্বাস করে, এই স্বীকৃতি কখনোই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারকে খর্ব করবে না। পাশাপাশি, তারা সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ঘনিভূত সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক তীব্রতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক অশান্তি প্রসারে সক্ষম।
