Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসরায়েল থেকে পালিয়েছে ৭০ হাজার ইহুদি

    ইসরায়েল থেকে পালিয়েছে ৭০ হাজার ইহুদি

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হওয়া সংঘর্ষের কারণে ইসরায়েলি জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ইসরায়েলি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে টাইমস অব ইসরায়েল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলছে চলমান যুদ্ধের ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের অভিবাসন প্রবণতা বাড়ছে এবং দ্বিতীয় বছরের মতোই এই বছরেও ইসরায়েল থেকে লোকজনের চলে যাওয়ার হার বেড়েছে।

    সিবিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে পৌঁছেছে। যদিও এই প্রবৃদ্ধি গত বছরের মতোই স্থির ছিল, তবে দেশটির ইতিহাসে এটি বেশ ধীর গতির বর্ষের অন্যতম। তবে টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজের এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ২০২৫ সালে জনসংখ্যার হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে— যা হবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে।

    সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ অভিবাসী নতুন করে ইসরায়েলে এসেছেন, যা গত বছর থেকে ৮ হাজার কম। এই কমতির প্রধান কারণ ছিল রাশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে যাওয়া। রাশিয়া থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের সংখ্যা ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের পর বেশ বেড়ে গিয়েছিল।

    অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা—যা সমালোচকদের মতে দেশের গণতন্ত্রকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘসময় বিদেশে বসবাসের পরে প্রায় ১৯ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন এবং আরও ৫,৫০০ জন পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। ২০২৪ সালে দেশের বাইরে থেকে চলে গিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৮২,৭০০, যা আগত মানুষের সংখ্যার থেকে প্রায় ৫০ হাজার কম।

    জনসংখ্যাবিদরা বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশিরভাগ সময়েই নতুন আগত ইহুদিদের সংখ্যার চেয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। তবে ১৯৫০ এবং ৮০ এর দশকের কিছু সময় এই প্রবণতা ব্যতিক্রম ছিল।

    সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩ শতাংশ বা ৭৭ লাখ ৭১ হাজার মানুষ ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মের, আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার বা মোটের ২১.১ শতাংশ। এছাড়াও প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বা ২.৬ শতাংশ বিদেশি হিসেবে বসবাস করেন।

  • ভারতের আতঙ্কে মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু

    ভারতের আতঙ্কে মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগ ও দুঃখের জন্ম দিয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিবরণ জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে এই ঘটনা ঘটে। ৬০ বছরের বৃদ্ধ সুলতান সর্দার এই ঘটনায় শোচনীয় মৃত্যুর শিকার হন। তিনি ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও, সম্প্রতি স্বরূপনগর নির্বাচন অফিসের নির্দেশে তাকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। শুনানির জন্য যাওয়ার চার দিন পর, শান্তিপূর্ণ জীবনটি হঠাৎই বিপর্যস্ত হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, সুলতান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, তবে তার পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিতে কিছু সমস্যা থাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন না। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নাম ছিল। কয়েক দিন আগে, ২৭ ডিসেম্বর, সুলতান স্বরূপনগর নির্বাচন অফিসে শুনানির জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, তার নথিপত্রে গরমিল রয়েছে। এই খবর শুনে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং মানসিক চাপ বাড়তে থাকায় তার শরীর দুর্বল হয়ে যায়। দেলোয়ারা বিবি, তাঁর স্ত্রী, জানিয়েছেন, স্বামী ২০০২ সালে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে গিয়েছিলেন। সেই সময় তার পিতামাতা ও তার নাম ছিল ভোটার তালিকায়, কিন্তু নিজের নামটি ছিল না। শুনানির একদিন পরে, মানসিক চাপ এবং আতঙ্কে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ছেলে ওসমান বলেন, ‘এসআইআর আতঙ্কে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। এই ব্যবস্থাটিকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। না হলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকছে না।’ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সব মহলের নজরড় হয়েছে, সাধারণ মানুষ ও পরিবারজনের মধ্যে গভীর চঞ্চলতা তৈরি হয়েছে। তারা এই আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • সুইজারল্যান্ডে নববর্ষের রাতে বারেক আগুনে ৪০ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডে নববর্ষের রাতে বারেক আগুনে ৪০ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস মন্টানার একটি জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট শহর রাজধানীর আবহাওয়া পাল্টে দিতে থাকলো। নববর্ষ উদযাপন শেষে ওই শহরের এক বিলাসবহুল বার ‘লে কনস্টেলেশন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটে, যখন স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ওয়ালিস ক্যান্টনের পুলিশ জানিয়েছে, আতঙ্কের মধ্যে শতাধিক মানুষ ওই বারটিতে ছিলেন। তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকজন আহত ও নিহতের পোস্ট ছিল। যদিও এখনো হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ১০০ জন বিভিন্ন程度ে আহত হয়েছেন।

    পুলিশের মুখপাত্র গেটান ল্যাথিয়ন অগ্নিকা-ের কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি বললেও তিনি জানিয়েছেন, তারা তদন্তে নেমেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো কোন কনসার্টে আতশবাজি ব্যবহারের সময় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

    ক্র্যানস মন্টানা হলো একটি প্রিয় বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট শহর, যা আল্পস পর্বতমালার ভ্যালাইস অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ পর্যটকদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জানুয়ারির শেষে এখানে স্পিড স্কিইং বিশ্বকাপের আসর বসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সুত্র: এনডিটিভি

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ভারতের কূটনীতিক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ভারতের কূটনীতিক

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পরে একটি জাতীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতের এক কূটনীতিকের সাথে গোপন বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ওই কূটনীতিকই তাঁর কাছে এ বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন, তাই এটি গোপন রাখা হয়। রয়টার্সের এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য একথা জানান দলটির এই নেতা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বুধবার এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

    আসন্ন নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ে যখন নয়াদিলি­ নতুন সরকার গঠন করতে রাজি হওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, তখন শফিকুর রহমান বলেন, তিনি চলতি বছর ভারতের একজন কূটনীতিকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আরও জানান, অন্য দেশের কূটনীতিকরা সাধারণত প্রকাশ্যে তাঁদের সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু ভারতীয় ওই কূটনৈতিক তাঁর সাথে বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সকলের উচিত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের প্রতি খোলা মন রাখা। দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য সম্পর্কের উন্নতি খুব জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, কমপক্ষে পাঁচ বছর শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সমস্ত দল একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জরুরি হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কৌশল নেওয়া উচিত, কারণ এটি একটি জাতীয় লক্ষ্য।

    বাংলাদেশ জামায়াতের আমির জানান, তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দল, যার সর্বোচ্চ আসন থাকবে। আর যদি জামায়াত তাদের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারতের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

    জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানের ইতিহাস ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, কোনো এক দেশের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকতে চান না; সবাইকে সম্মান করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান।

    তাঁর আরও মন্তব্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নিয়েও কোনও সরকার স্বস্তিতে থাকবে না। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নিজের মেয়াদ মাঝপথে তিনি ছেড়ে দেবেন।

    তবে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও জটিল করে তুলতে চান না।

  • নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

    নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

    যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শহর নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। তিনি একজন বামপন্থি রাজনীতিবিদ হিসেবে মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। শপথের এই অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন, যা শহরটির নতুন এক অধ্যায় শুরু করে।

  • জয়শঙ্কর জানতেন তিনি কী করছেন, স্পিকারের ভাষ্য

    জয়শঙ্কর জানতেন তিনি কী করছেন, স্পিকারের ভাষ্য

    ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করতে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের মধ্যে দেখা হয়। এই আকস্মিক সাক্ষাৎ নিয়ে পাকিস্তানের স্পিকার মুখ খুলেছেন।

    জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে সরদার আয়াজ সাদিক বলেন, মে মাসের সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নতুন করে শুরু হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এক কক্ষে পাকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সাক্ষাৎ ঘটে। তখনই ভারতের প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ঢুকে পড়েন।

    স্পিকার বলেন, কক্ষে ঢুকেই এস জয়শঙ্কর প্রথমে অন্য প্রতিনিধিদের অভিবাদন জানান। এরপর তিনি এগিয়ে এসে করমর্দন করেন। তিনি জানান, তখন তিনি পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হাইকমিশনার এসে তাঁকেও অভিবাদন জানান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখনই জয়শঙ্কর তাকে বলে ফেলেন— ‘এক্সেলেন্সি, আমি আপনাকে চিনি, পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

    সাদিক জানান, এই মুহূর্তে ক্যামেরা থাকায় বোঝা যায়, সাক্ষাৎকে রেকর্ড করে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য এটি পরিকল্পিত ছিল। তিনি বলেন, ‘তিনি (এস জয়শঙ্কর) সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন যে তিনি কী করছেন এবং এটি মিডিয়ায় প্রচার হবে।’

    ওই সময় কক্ষে উপস্থিত সবাই এই সাক্ষাৎটির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ছিল। স্পিকার মন্তব্য করেন, জয়শঙ্কর একজন চতুর রাজনীতিক হিসেবে এই মুহূর্তের গুরুত্ব ও প্রতীকী দিক ভালোভাবে বুঝেছিলেন।

    এছাড়াও তিনি বলেন, বাংলাদেশ সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ায় তিনি খুব সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জানাজাস্থলে যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষের চোখে দেখা প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। তাঁর গাড়িতে পাকিস্তানের পতাকা ছিল, দেখে পথে মানুষ হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছে। এমনকি, তিনি শুনেছেন স্থানীয় স্লোগানও।

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

    আজ ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রথমে চাণক্যপুরী এলাকায় অবস্থিত হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে তিনি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শোকপুস্তিকায় নিজের শোকবার্তা লিখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, রাজনাথ সিং তার শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতি ও দেশের প্রতিহত আঙিনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই শোক প্রকাশে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা আবারও ফুটে উঠেছে, যেখানে দুই দেশের নেতা একসঙ্গে শোক প্রকাশ করে সম্মান জানান খালেদা জিয়ার অবদানকে।

  • ২০২৫ সালে সাগরপথে স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৯০: প্রতিবেদন

    ২০২৫ সালে সাগরপথে স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৯০: প্রতিবেদন

    ২০২৫ সালে, এক বছরে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে যাওয়ার পথে মোট ৩০৯০ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক অভিবাসী অধিকার সংগঠন কামিনান্দো ফ্রন্তেয়ার্স; তারা উল্লেখ করেছে, এসব মৃত্যু নিছক দুঃখজনক পরিস্থিতি নয়, বরং এই পথে এখনও মারাত্মক ঝুঁকি বিদ্যমান।

    নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯২ জন নারী ও ৪৩৭ জন শিশু রয়েছে। এই সংখ্যা বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে, যেখানে অধিকাংশই পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকার দেশের নাগরিক। এর বাইরেও পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ইরাক ও মিসরের নাগরিকরা এই মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

    সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাকৃতিক এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই পথে মারা বা নিখোঁজ হয়েছেন ৩০৯০ জন। এই সময়ে মৃতের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, এটি একটি মারাত্মক সূচক, যা স্পষ্ট করে দেয় যে, এই সাগরপথ এখনো বিপজ্জনক।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনে পৌঁছানোর জন্য এই পথটিই মূল ও একমাত্র সমর্থনযোগ্য রুট। মৌরিতানিয়ার উপকূল থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানো হয়। এই পথে শতকরা ১২ দিন সময় লাগে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে ভ্রমণ করতে। যদিও বছরজুড়ে এই রুটটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, তবে বিকল্প কোনও পথ না থাকায় অনেকে এই পথ বেছে নেন।

    এ বছরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মৌরিতানিয়া-ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ রুটে মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় কম, যেখানে এই পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৫৪৭। তবে, অভিবাসী অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা কমে যাওয়ার মানে এই নয় যে, এই পথটি নিরাপদ। বিপজ্জনক এই সাগরপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাতায়াত হ্রাস করতে হলে সীমান্তে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বিধিনিষেধ শিথিলের পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।

    সুত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • হাদির হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা শিখ সংগঠনের

    হাদির হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা শিখ সংগঠনের

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে)। সোমবার এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই ঘোষণা দেয়।

    প্রথমত, জানা যায় যে হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, এমন তথ্য নিশ্চিত করে ঢাকাস্থ পুলিশ। এর ভিত্তিতেই এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত আততায়ীরা ঘটনার পর তড়িঘড়ি ভারতে পালিয়ে গেছে। এসএফজের জেনারেল কাউন্সিলর গুরপতবন্ত সিং পান্নুন এক বিবৃতিতে বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে ভারতের মোদি সরকারও জড়িত রয়েছে বলে জনস্বার্থে প্রকাশ্যে জানানো হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত বাংলাদেশ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের সংঘবদ্ধ চেষ্টার অংশ।

    তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাদির হত্যার ধরন কানাডায় শহীদ হারদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার সাথে বেশ কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

    পুরস্কার হিসেবে ৫৫ লাখ টাকার ঘোষণা হয়েছে, যাতে জনসাধারণের কাছ থেকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী হত্যাকারীদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নিতে পারবে।

    অতন্ত্র সংগঠনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আরএডব্লিউ সরাসরি জড়িত। তারা দাবি করে, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

  • ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬

    ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬

    ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও তিনজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা, এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

    ব্রেকিং নিউজ অনুযায়ী, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখনও অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ জানা যায়নি, তবে পুলিশ এই বিষয়ে ব্যাপকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

    আন্তরা নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইন্দোনেশীয় পুলিশ ও দমকতাদের সহযোগিতায় দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়। এ সময় আগুনের ভয়ঙ্কর শিখা ভবনটিকে গ্রাস করছিল এবং বাইরে থাকা বাসিন্দারা জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন।

    টিভি চ্যানেল মেট্রো টিভি ইতোমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ধারণের ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আগুনের প্রচণ্ড ভয়ংকরতা।

    মানাদো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান জিমি রতিনসুলু জানিয়েছেন, এই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা বেশিরভাগ বাসিন্দাই বয়সজনিত কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা ভবনটিতে আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি।

    এই দুর্ঘটনা বিভিন্ন পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে গভীর শোক ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে, আর প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে সক্রিয় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।