আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজের নাম ছিল ‘বেলা-১’, যাকে অনেকে ‘মেরিনেরা’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, এই জাহাজটি রক্ষায় রাশিয়া গভীর নৌবহর পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে সাবমেরিনসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ ছিল। মার্কিন কমান্ডোরা সাহসিকতার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এই তথ্য জানানো হয়, যা এজেন্সিগুলোর খবরে তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই জাহাজটি অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় স্কটল্যান্ডের উত্তরে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জব্দ করা হয়েছে। সতর্কতাসর্বস্ব অভিযান শুরুর আগে এই জাহাজটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়। এই সফল অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে জানায় তদন্তকারীরা। গত কয়েক দিন ধরে আশপাশের এলাকা ঘিরে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছিল।
আটলান্টিকের এই ক্ষেত্রে রুশ জাহাজ জব্দের ঠিক পরপরই, মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড ক্যারিবীয় সাগর থেকে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ‘এম/টি সোফিয়া’ আটক করার ঘোষণা দেয়। এই জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র ‘রাষ্ট্রহীন’ এবং ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পাচার চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে। মাত্র এক ঘণ্টা পার হতেই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন সেনাদের এই বিজয় ও শক্তির প্রকাশ হয়েছে।
রুশ পতাকাবাহী জাহাজের জব্দের ঘটনাকে ভেনেজুয়েলা সরকার ‘আন্তর্জাতিক লুটতরাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া, তাদের নৌবহর সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও এই জাহাজ রক্ষা করতে অক্ষম হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। মার্কিন ফেডারেল আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের সমন্বয় ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘শিপিং ব্লকড’ নীতি মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ঘটনাটি ঘটে এমন সময়, যখন কিছু দিন আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস। তাকে ইতিমধ্যে মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি এখনো বিশ্বজুড়ে তার প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply