বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে বিদেশে ভ্রমণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের শুধুমাত্র অতি জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই বিদেশে যাওয়া অনুমোদিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই নির্দেশনা প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়কালে ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন মূলক সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ভারসাম্যপূর্ণ ভ্রমণ নীতি কার্যকর করা হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার জন্য সাফ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীন গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি ঐক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হবে। মূল লক্ষ্য হলো, নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যাংকিং খাতে কোনো অস্থিরতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত না ঘটে, যাতে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
Category: অর্থনীতি
-

বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে, সামগ্রিক ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। 이는 মোট উসুলযোগ্য ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশের সমান, যা ছিল গত বছর ডিসেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ফলে গত নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারী আমলে ব্যাংক থেকে নানা নামে-বেনামে অর্থ উত্তোলনের ঘটনায় এখন খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণের নবায়ন নিয়মের পরিবর্তনের কারণে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। অনেক ঋণই অবৈধভাবে নবায়ন না হওয়ায় এবং নানা ধরনের অনিয়মের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই ঋণ আদায় করতে পারছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায়, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা, যা অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
-

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়লো
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এক মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে করদাতারা এখন আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যেখানে সাধারণত শেষ দিন নির্ধারিত ছিল ৩০ নভেম্বর। ব্যবসায়ীরা ও বিভিন্ন করদাতাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর), এক প্রজ্ঞাপন মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
এনবিআরের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান, নতুন কর আইনের (আয়কর আইন, ২০২৩) অধীনে ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য বিনা কোম্পানি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ Originally ৩০ নভেম্বর ছিল। করদাতাদের পক্ষ থেকে সময় বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন অনুরোধের প্রেক্ষিতে তা বিবেচনা করে নতুন এ তারিখ জানানো হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৫ সালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এই ই-রিটার্ন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে করদাতারা সহজে, দ্রুত ও অনায়াসে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারছেন।
এ বছর এ বছরের জন্য বিশেষভাবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসামর্থ্য বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারা, মৃত করদাতার আইনগত উত্তরাধিকারী ও বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে নিয়মের বাইরে থাকা ব্যক্তিরাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
দেশে বা বিদেশে থাকলেও, বাংলাদেশি করদাতারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করে [email protected] এই ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে আবেদন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাদের ই-মেইলে OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিঙ্ক পাঠানো হয়, যা ব্যবহার করে সহজে রিটার্ন দাখিল করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; কেবলমাত্র আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য প্রদান করলেই তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃতি বার্তা ও কর সংক্রান্ত সনদ পাওয়া যায়। ফলে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশে অবস্থানরত করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু করেছে, যেখানে করদাতারা কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান পেতে পারেন। তদ্ব্যতীত, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের E-Tax সার্ভিস ও দেশের প্রতিটি কর অঞ্চলকেন্দ্রের হেল্প ডেস্ক থেকে সরাসরি সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
-

আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু হচ্ছে: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে ব্যাংক, এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসেস), বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা চালু হবে। এর ফলে সব ধরনের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনে নগদ টাকা ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না, যা লেনদেনের স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। গভর্নর বলেন, লেনদেনে স্বচ্ছতা, আকর্ষণীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন একমাত্র সমাধান। আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব আয় বাড়বে এবং অর্থ লেনদেন আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
উল্লেখ্য, এই পরিকল্পনাকে সফল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপত্তার কারণে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। চুক্তির আওতায়, মোজোলুপের নতুন প্ল্যাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি), যা দেশের সব অর্থপ্রদান ব্যবস্থা আরও আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করে তুলবে।
-

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে: বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে
বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, নানা কারণে আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে পতনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে—’বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। এর ফলে, দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে এসেছে এবং ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছে। তাদের জীবনমানের অনেকটাই উন্নত হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, এবং পয়ঃনিষ্কাশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন আরও সহজে পেয়েছেন।
তবে, করোনাভাইরাস মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও মন্থর হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.6 শতাংশে নেমে এসেছে এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিপথ বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, ফলে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য দ্রুত কমলেও শহরে এর হার কমে যাওয়ার প্রবণতা ধীর হয়ে গেছে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন নগর বাসিন্দা হিসেবে জীবনযাপন করছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের বিভাগের প্রধান জাঁ পেম বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হলেও, বর্তমানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ুঝুঁকি এবং কাজের সুযোগের অপ্রতুলতার কারণে শ্রমশক্তির আয় কমে গেছে। তিনি পরামর্শ দেন, দারিদ্র্য কমানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে যুবক, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন ও দরিদ্র-বান্ধব পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র্য এড়াতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন খাতে নিজেদের কাজের সুযোগ সীমিত, এর পরিবর্তে কম উৎপাদনশীল খাতে বেশি কর্মসংস্থান হচ্ছে, যা নারীদের এবং তরুণদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। প্রতি পাঁচ নারীর মধ্যে একজন বেকার, এবং অনেক শিক্ষিত নারীর কাজের সুযোগ নেই। শহরেও, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে, কর্মসংস্থান তৈরি খুবই কম। ফলে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কমে গেছে। ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের অর্ধেক কম মজুরিতে কাজ করছে, যা শ্রমশক্তির দক্ষতা ও চাহিদার মধ্যে বৈষম্য নির্দেশ করে।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন বাংলাদেশে অন্যতম দারিদ্র্য উত্তরণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। প্রবাসে থাকা পরিবারের আয়ে দেশের দারিদ্র্য কমে আসছে, তবে বিদেশেরা ঘিঞ্জি শহুরে এলাকায় জীবনযাপন করেন যেখানে জীবনযাত্রার মান খুবই নিম্ন। বিদেশে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি, যার জন্য সাধারণ পরিবারের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। পাশাপাশি, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে, তবে এর ব্যবস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পেয়েছেন মোট সুবিধাভোগীর মধ্যে ৩৫% ধনী পরিবারের লোকজন, যেখানে অর্ধেক অতি দরিদ্র পরিবার সুবিধা পায়নি। subsidies দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিকতা কম, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বিভিন্ন ভর্তুকির বেশিরভাগটাই ধনী পরিবারেরাই পেয়ে থাকেন।
দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর জন্য চারটি মূল নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে: উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো; দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি; আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ তৈরি; এবং কার্যকর, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু।
বিশ্বব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক সার্জিও অলিভিয়েরি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিমের বৈষম্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তন শহর ও গ্রামাঞ্চলে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ উন্নতি, শহরে গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ক্ষেত্রে সহায়ক মূল্যশৃঙ্খল ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ দারিদ্র্য কমানোর গতি আবার বাড়াতে পারে এবং সব শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
-

ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা: ভারত ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটের দিন পর্যন্ত ব্যাংক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শুধুমাত্র অত্যাবশ্যক কারণে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং পরিষেবার স্বাভাবিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের নির্বিঘ্নতা বজায় রাখতে মূলত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অব্যাহত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা মানতে হবে সকল ব্যাংক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে, যা ব্যাংকিং আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হবে এবং নির্বাচনী সময়ে ব্যাংকিং পরিষেবা সময়োচিত ও নিরাপদ রাখতে এটি অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
-

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ এখন ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি
বাংলাদেশের ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে, একই সময় গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মহামারি কাটিয়ে উঠতে শুরু করা এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৯ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বেড়েছে।
আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকের ঋণ খেলাপির এই মহাসংখ্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নাম-বেনামে অত্যন্ত বড় অঙ্কের অর্থ তুলা হয়েছিল, যা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আরও এক কারণ হলো, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ নবায়নের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে দেশে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ঋণই নতুন করে নবায়ন করা হলেও, তার বেশিরভাগেরই ঋণ আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এই সব অনিয়ম ও অপব্যবহারের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিচ্ছে, ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে, দেশে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এটি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
-

সোনার দামে বড় বৃদ্ধি: দুই দফা কমার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২৭৬2 টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে, ভালো মানের সোনার (২২ ক্যারেট) দাম পৌঁছেছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা, যা পূর্বের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) দেশে প্রথমে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৬৪ টাকা অপরিবর্তিতভাবে কমানো হয়েছিল। এরপর মাত্র এক দিন যেতে না যেতে, বা মঙ্গলবার, একই দাম আবারো বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, এক দিনে প্রায় দ্বিগুণ বা ২ হাজার ৬১২ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, এখন ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি জোড়া হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকায়।
বাজুস বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়া, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার জোয়ার। বিশ্ববাজারে প্রতিও আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা মূলত আমাদের দেশের দরকষাকষি ও মূল্য নির্ধারণে 영향을 ফেলেছে।
নতুন মার্জিন অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা। এর পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার দাম হচ্ছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৭১ হাজার ৪২৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি সোনার প্রতি ভরি দামে রয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ৫৯২ টাকা।
অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম হয়েছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে রুপার প্রতি ভরি বর্তমান বাজার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।
-

স্বর্ণের দাম কমলো, নতুন দাম নির্ধারণিং হয়েছে বিভিন্ন ক্যারেটের জন্য
দেশের ঋতুভিত্তিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা স্বর্ণের দাম কমার প্রেক্ষিতে এক দিনের মধ্যে দেশের স্বর্ণের বাজারে দামহ্রাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উচ্চমানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আগামী শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে, যা এখন থেকে ১,৩৫৩ টাকা কমে দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা। এর আগে, ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম রেকর্ড ভেঙে যায়, তখন এক ভরি স্বর্ণের দাম হয়ে ওঠে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং বৈঠকে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
গত ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে উচ্চমানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যায়। তবে, আজ আবার দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম অনুসারে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি এখন ১,৯৮,৬৯৬ টাকা, আগের দাম ছিল ২,০০,০০৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে ১,৭০,৩১৮ টাকা হয়েছে, আগে যার দাম ছিল ১,৭১,৪২৬ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এখন ১,৪১,৬৪৮ টাকা, যা আগের থেকে ৯৪৪ টাকা কম।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০ নভেম্বর সর্বশেষ দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসলেও, সেই সময় স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়। এই পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণের বাজারে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামের এই ওঠানামায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে বিখ্যাত জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল রাখতে তারা সর্বদা সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।
অপরদিকে, রূপার দাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রূপার এক ভরি দামের নির্ধারণ হয়েছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম হিসাবেও নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০১ টাকা।
-

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড ও নোট বিনিময় বন্ধ ঘোষণা
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড বিক্রয় এবং ছেঁড়াফাটা ব্যতিক্রমী নোট বিনিময়ের জন্য সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়াও একই সময়ে সরকারি চালানসেবা এবং চালান-সংক্রান্ত ভাংতি অর্থের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আজ থেকে দেশের বিভিন্ন শাখা—মতিঝিল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও সদরঘাট—এসব সেবা থেকে বিরত থাকছে। তবে ব্যাংকের এই সেবা বন্ধ থাকলেও, বাণিজ্যিক ব্যাংকদের শাখাগুলি যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য তদারকি ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত, বাংলাদেশ ব্যাংক কেপিআইভুক্ত হওয়ার কারণে নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে এই সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এই ধরনের সেবা দেওয়া হয় না।
সংবাদ সূত্র জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্রের সার্ভার জালিয়াতির ঘটনা কেন্দ্র করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং তথ্যের সুরক্ষার দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ নিরাপত্তা স্তর বিনিয়োগশীল নিরাপত্তার জন্য, সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্যেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
