Category: অর্থনীতি

  • সোনার ভরির দাম দুই লাখ ১০ হাজার টাকার ওপরে

    সোনার ভরির দাম দুই লাখ ১০ হাজার টাকার ওপরে

    দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪০৩ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির দাম এখন দুই লাখ ১০ হাজার টাকার বেশি। নতুন মূল্য আগামী রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটির দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম মূল কারণ হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়া। দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ইতিমধ্যে ৪ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বেশ উদ্বেগের संकेत।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হচ্ছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    এছাড়া, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপা এক ভরি দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।

    প্রসঙ্গত, এর আগের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ২০ নভেম্বর। সেই সময়ে ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩৫৩ টাকা কমে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল দুই লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকায়।

    অন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এখন দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকায়, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) স্বর্ণ ও রুপার দামের উত্থান হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট গোল্ডের মূল্য ১.৩ শতাংশ বাড়ে এবং ১ আউন্সে দাঁড়ায় ৪,২১০.৯৪ ডলার, যা ১৩ নভেম্বরের পরে সর্বোচ্চ। এ মাসে ধাতুটির মূল্য মোট ৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টানা চতুর্থ মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারা।

    ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য মার্কিন ফিউচার সোনার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,২৫৪.৯ ডলার স্থির হয়েছে।

  • মোট ঋণের এক তৃতীয়াংশ খেলাপি: গভর্নর বললেন, সমাধানে ৫-১০ বছর সময় লাগবে

    মোট ঋণের এক তৃতীয়াংশ খেলাপি: গভর্নর বললেন, সমাধানে ৫-১০ বছর সময় লাগবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মন্তব্য করেছেন যে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিন ধরে থাকা খেলাপি ঋণের সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কোন ছোটোখাটো সমস্যা নয়। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি হয়ে গেছে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকগুলো চালাতে হচ্ছে, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত চতুর্থ ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি। এই সম্মেলনের শিরোনাম ছিল ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’, যা আয়োজন করেছে দৈনিক বণিক বার্তা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি দ্রুত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিকে যখন নতুন তথ্য ও নতুন ক্লাসিফিকেশন নিয়ম কার্যকর হয়, তখনই দেখা যায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। কিছু বছর আগে ধারণা ছিল, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশের মতো হতে পারে; তখন সরকারের ধারণা ছিল এটি ৮ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে তা ইতিমধ্যে ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

    গভর্নর আরও বলেন, এই পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। দেশের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও অনেকদিন এই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। ধাপে ধাপে ব্যাবস্থা গ্রহণ করে আগালেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোলা যাবে। তিনি আশার কথা জানিয়ে বলেন, দেশের ডলার পর্যাপ্ত রয়েছে, এবং এ বছর রমজানে ঋণপত্র খোলা ও পণ্য আমদানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। গত বছরের তুলনায় এই সময়ের মধ্যে ঋণপত্র খোলা ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিআইডিএস মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, এখনকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই ‘চোর ধরা’ মনোভাবের মতো। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি指出 করেন, দেশে অনেক নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও তাদের পরিচালনা ও দায়বদ্ধতার কাঠামো দুর্বল। দেশের কর ব্যবস্থাও এখন যেন জমিদারি শাসনের মতো আচরণ করছে, যেখানে কর সংগ্রহের লক্ষ্যটাই যেন শুধু রাজস্ব আদায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি খুব কম, তাই শিল্পায়ন ধিরেগামীতে চলেছে।

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও অন্যান্য মাশুল দেওয়ার পাশাপাশি, অগ্রীম আয়করও আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি টার্নওভার করের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর জন্যও burdensome হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন উল্লেখ করেন, ব্যাংকগুলোতে শাসন ও শৃঙ্খলা ফিরছে। আগে অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ ছিল, এখন নিয়ম অনুযায়ী ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনের পরে বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হবে।

  • আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বৃদ্ধি পেয়েছে

    আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বৃদ্ধি পেয়েছে

    অর্থনৈতিক উপস্থিতির সুবিধার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। করদাতরা এখন আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যেখানে সাধারণত শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    একজন এনবিআর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির করদাতা, যেখানে কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। করদাতাদের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময়সীমার বাড়ানো হয়েছে।

    এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর ইতিমধ্যেই ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট www.etaxnbr.gov.bd এর মাধ্যমে এই সুবিধার উদ্বোধন করেন।

    এই বছর, এনবিআর বিশেষভাবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে, যারা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তারাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন দিতে পারেন।

    বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে [email protected] এ আবেদন করলে তাদের জন্য OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠানো হয়, যার মাধ্যমে সহজে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল সম্ভব। ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; কেবল আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি সনদ ও আয়কর সনদ ডাউনলোড করা যায়। ফলে দেশে ও বিদেশে থাকা করদাতাদের মধ্যে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু করেছে, যেখানে করদাতারা দ্রুত টেলিফোনিক সহায়তা পাচ্ছেন। পাশাপাশি, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের e-Tax সার্ভিস অপশন এবং দেশের প্রতিটি কর অঞ্চল থেকে সরাসরি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

  • আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেনের পরিকল্পনা ঘোষণা

    আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেনের পরিকল্পনা ঘোষণা

    ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ পদক্ষেপের ফলে আর কোনও প্রতিষ্ঠানে ক্যাশআউটের প্রয়োজন থাকবে না।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। গভর্নর উল্লেখ করেন, লেনদেনে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের জন্য ডিজিটাইজেশন অপরিহার্য। এ জন্য আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। এ ব্যবস্থায় প্রবেশের ফলে লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি কমবে এবং রাজস্ব সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে।

    নতুন এই আন্তঃলেনদেন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি নিরাপত্তার জন্য ভার্চুয়ালি সম্পন্ন হয়। গভর্নর জানান, এই চুক্তির আওতায় মোজোলুপের প্ল্যাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি)। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক পরিষরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা বাংলাদেশের দারিদ্র্য ঝুঁকি ও সমাধানের পথ

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা বাংলাদেশের দারিদ্র্য ঝুঁকি ও সমাধানের পথ

    বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের সময় এই মানুষগুলো আবারও দারিদ্র্যের গ্লানি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। এই সময়ে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে, পাশাপাশি ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। এর ফলে তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে; বিদ্যুৎ, শিক্ষাব্যবস্থা, পরিষ্কার পানির সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য জরুরি সেবা সহজে পৌঁছেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে এসেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে, আর তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম দারিদ্র্য ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি, মাঝারি দারিদ্র্যও ৩৭.১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে অপ্রত্যক্ষভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে, উন্নয়ন এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের পর থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি অনেকটাই কমে গেছে, যার ফলে ধনী ও নিম্নবিত্তের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ এলাকাগুলো এখনো দারিদ্র্য কমাতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কৃষিখাতের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনধারা উন্নত হচ্ছে। অন্যদিকে, শহর এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে, দারিদ্র্য কমার হার বেশ ধীর হয়ে গেছে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শহরে বসবাস করছে।

    জঁ পেম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক, বলেছেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে দীর্ঘ দিন ধরে সফলতা এসেছে, তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় শ্রম আয় কমছে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য কমানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যুবক, নারী ও ঝুঁকিপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য। একই সঙ্গে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য দরিদ্রবান্ধব, জলবায়ু গ্রহণক্ষম ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক নীতি প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান কমে গিয়ে কম উপার্জনশীল খাতে কাজের সম্ভাবনা বাড়ছে, যা নারী ও তরুণদের জন্য বেশ চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজন বেকার, আর শিক্ষিত নারীদের মধ্যে কর্মসংস্থান নেই একটি মারাত্মক সমস্যা। শহরের বাইরে ও ঢাকায় শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কমে গেছে, ফলে শ্রমশক্তির কার্যকর ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সের তরুণদের অর্ধেকই কম মজুরিতে কাজ করছেন, যা শ্রমবাজারে দক্ষতার অভাব ও চাহিদার অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

    অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন বাংলাদেশে দরিদ্রতা থেকে মুক্তির অন্যতম পথ। প্রবাসী আয় দরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করছে, তবে শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলোর জীবনমান এখনো খুবই নিম্ন। বিদেশে যাওয়ার জন্য pré exige প্রচুর অর্থ, তাই দরিদ্ররা সাধারণত এই সুযোগ নিতে পারেন না। সত্ত্বেও, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন হলেও এর তদারকি ও কার্যকারিতা এখনও সমস্যা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ধনী পরিবারের, যেখানে অর্ধেক অতি দরিদ্র সমাজ এই সুবিধায় হিসেবে উপকৃত হয়নি। ভর্তুকির বেশিরভাগটাই ধনী পরিবারগুলোর পক্ষে যায়, যা লক্ষ্যভিত্তিক নয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি subsidies এর ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়।

    নীতিগতভাবে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর জন্য চারটি মূল পথ চিহ্নিত করা হয়েছে: উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো; ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বেশি কাজের বিকাশ; আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি; এবং শক্তিশালী রাজস্ব ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু।

    সার্জিও অলিভিয়েরি, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক, বলেছেন, বাংলাদেশ পূর্ব-পশ্চিমের আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকির কারণে শহর ও গ্রাম এলাকা বৈষম্য বাড়ছে। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ উন্নয়ন, গুণগত কর্মসংস্থান ও দরিদ্রবান্ধব মূল্য-শৃঙ্খল নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে এবং সকলের জন্য সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক ও ব্যাংকিং সংস্থার কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র খুবই জরুরি ব্যক্তিগত ও কর্ম related কারণে দেশের বাইরে যেতে পারবে, এমন স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

    আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এই নির্দেশনা জারি করে বলেছে, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ব্যাংকিং খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি বা প্রশাসনিক ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য এই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

    নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চালানো যায়, সেজন্য এই সীমিত ভ্রমণনীতির প্রয়োগ। এতে ব্যাংক-অফিসার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের অতি জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া দেশের বাইরে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুসারে নেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ ও অন্যান্য কার্যক্রমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে।

  • বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছল

    বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে প্রদানকৃত মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র ৯ মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেজে গেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

    আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর), বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে এই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ার জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী। এর মধ্যে একটার হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নামে-বেনামে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ঋণ পুনঃনবায়ন ও ঋণ আদায়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ঋণের নবায়নও নিস্পত্তি না হওয়ায় ব্যাংকগুলো খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে। এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এই সব তথ্য স্পষ্ট করে দেয়, দেশে ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের ঘটনায় উদ্বেগের বিষয়।

  • আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ল

    আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ল

    অলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় এক মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন করদাতারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৩০ নভেম্বর। এই পরিবর্তন ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

    একজন এনবিআর কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য কোম্পানি ছাড়া সব করদাতা কেন না, সব ধরনের করদাতা রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। পেশাগত কারণে কিছু করদাতা সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন, এ কারণে সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, এই বছর ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে অর্থাৎ ই-রিটার্নের মাধ্যমে তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এনবিআর এর ওয়েবসাইট www.etaxnbr.gov.bd এর মাধ্যমে ই-রিটার্ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    এনবিআর আরও জানায়, বিশেষ আদেশের আওতায় ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিক অসুস্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃতের আইনগত প্রতিনিধি এবং বিদেশি নাগরিকরা এই পুরো বছর অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে প্রয়োজন হলে অন্য করদাতারাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

    বিদেশে থাকা বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তাদের জন্য OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক ই-মেইলে পাঠানো হবে, যাতে তারা সহজে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে সক্ষম হন। উল্লেখ্য, এই সিস্টেমে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। শুধু আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিলেই তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তি ও আয়কর সনদ ডাউনলোড সম্ভব।

    এসব সুবিধার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে থাকা করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের প্রসার বেড়ে গেছে। কোনো সমস্যা হলে করদাতারা কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) এ যোগাযোগ করে দ্রুত সহায়তা নিতে পারেন।

    এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের e-Tax Service অপশন এবং দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলস্থ ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকেও সরাসরি সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।

  • আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে ব্যাংক, এমএফএস, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সঙ্গে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বয়ংক্রিয়, ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে নগদ লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে এবং অর্থের সহজে, স্বচ্ছভাবে প্রবাহিত হবে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, যিনি সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    গভর্নর বলেন, ‘লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং জটিলতা কমানোর জন্য ডিজিটালাইজেশন অপরিহার্য। এ জন্য অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি মানসম্মত ই-লেনদেন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এটিই হবে মূল মাধ্যম, এর বিকল্প নেই। এতে লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি কমবে এবং রাজস্ব আয়ে সুফল আসবে।’

    অনুষ্ঠানে গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। নিরাপত্তা বিবেচনায় এই চুক্তিটির ভার্চুয়ালি আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। গভর্নর জানান, এই চুক্তির আওতায় মোজোলুপের তৈরি প্ল্যাটফর্মের নাম হলো ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি)। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক ক্লিয়ারেন্স, লেনদেন ও অর্থপ্রদানের প্রসেস আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্গীকার।

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাত্রার ঝুঁকি উল্লেখ

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাত্রার ঝুঁকি উল্লেখ

    বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কিছুআপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের মুখে পড়লে আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য কমিয়েছে। এর ফলে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে बाहर এসেছে এবং এর মধ্যে ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নত হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পানির সুষ্ঠু সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সহজে পেতে শুরু করেছে। তবে ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে গেছে, আর অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল দেশের সব অংশে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতির ধীরগতির জন্য মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রভাব কম হলেও, এই সময় বৈষম্যও বেড়েছে। ধনী ও গরিবের মধ্যে আয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি ভিত্তিক গ্রামীণ এলাকাগুলো দারিদ্র্য হ্রাসে নেতৃত্ব দিয়ে থাকলেও শহরাঞ্চলে এই হ্রাসের হার কমে গেছে। ২০২২ সালের মধ্যে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে, যেখানে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শহরে বাস করেন। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগের পরিচালক জাঁ পেম বলেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীর গতি এই অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি تاکید করেন, দারিদ্র্য কমানোর সবচাইতে কার্যকর উপায় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে যুবক, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। এজন্য দরিদ্র বন্ধুত্বপূর্ণ, জলবায়ু সহিষ্ণু এবং কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ জরুরি। প্রতিবেদনে প্রকাশ, উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান কমছে, ফলে নারী ও তরুণেরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতি পাঁচ নারীকে মধ্যে একজন বেকার, আর শিক্ষিত নারীদের মধ্যে এক চতুর্থাংশের নেই চাকরি। শহরেও বিশেষ করে ঢাকার বাইরে চাকরি সৃষ্টি খুবই বেশি স্থবির। শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কমে গেছে এবং ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণরা কম মজুরি করে কাজে লাগানো হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন হলো লাখ লাখ বাংলাদেশির জন্য দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার এক অন্যতম পথ। প্রবাসী আয় দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করেছে, তবে দেশের ভিতরে ও বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত নয়। অনেক প্রবাসী পরিবার শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে বাস করে যেখানে জীবনযাত্রার মান নিচের দিকে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হলেও ব্যবস্থাপনা অদক্ষতা ও লক্ষ্যমাত্রার অভাব দেখা যায়। ২০২২ সালে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পেলেন ৩৫% ধনী পরিবার, অর্ধেকের বেশি দরিদ্র পরিবার এই সুবিধা পায়নি। ভর্তুকি বা সরকারি সহায়তা অনেক সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং দরিদ্রের বদলে বেশি ভাগ সুবিধা পায় ধনী পরিবার। প্রতিবেদনে চারটি মূল নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন দেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে—উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বেশি কাজের ব্যবস্থা করা, আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় সহায়ক নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর social safety net তৈরির মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা। জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও লেখক সার্জিও অলিভিয়েরি বলছেন, বাংলাদেশ পূর্ব-পশ্চিমের আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়েছে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং শহর ও গ্রামীণ বৈষম্য বাড়ছে। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, শহরে গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিতে মূল্য-শৃঙ্খলা ধরে রাখা, এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাসের পথ পুনরুদ্ধার ও ত্বরান্বিত করতে পারে এবং সব শ্রেণির মানুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পারে।