Author: bangladiganta

  • জুলাই গণহত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

    জুলাই গণহত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

    দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলা সম্পর্কিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আবারো তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত দ্রুততরভাবে ও সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য এখনও অভিযুক্তের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

    এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় এবং ৩১ মার্চ আরও ছয় দিন রিমান্ড বাড়ানো হয়েছিল। দুই দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় চার দিনের রিমান্ড চান। আবেদনে বলা হয়, মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও তদন্তের কাজে সহায়ক হবে। সেই কারণে আবারও রিমান্ডের প্রয়োজন থাকায় আবেদন করা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামির আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মেনেই তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র ও জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় ৫০০-৭০০ আ’লীগ নেতাকর্মী হামলা করে। অভিযোগ স্বরূপ, শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন দেলোয়ার হোসেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আদালতের এই রিমান্ড সিদ্ধান্তের ফলে তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে পারবেন বলেই জানানো হয়েছে।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় আদায় করে বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে। তিনি দাবি করেন, সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং জনগণের রায় ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘৭০ শতাংশ জনগণ হ্যাঁ-র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ-র পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। জনগণের সুপ্রিম উইলকে সম্মান দিয়ে আমরা রায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবো—সংসদ মানুক বা না মানুক, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’

    তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশের ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে জাতি গঠন করতে হলে আগে একটি দলের ভেতরেই ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। ‘‘যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র বলতে জানে না, যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না—সেরাই ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না।’’

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে এবং চব্বিশে তাদের রায়ও দেয়। আপনাদের রায় থাকলে কেন সরকার গঠন করতে পারলেন না—এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং এর সাক্ষ্য ইতোমধ্যে মিলেছে।’’

    বাংলেশিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঘুঘু বারবার এসে ধান খায়, কিন্তু কপাল মন্দ হলে জালে আটকা পড়ে। ঘুঘু, তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো—এবার তোমার লেজ, পা ও ডানাও অবশ করা হবে।’’

    সংসদ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যখন সংসদে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থা বা অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তখন আমরা জনগণের শক্তির ওপর ভর করে দাবি আদায় করেছি। এবারে ও সংসদে ইতিবাচক বিতর্কের সুযোগ থাকলে সমাধান চাইতাম, কিন্তু তা না হওয়ায় জনগণের কাছে ফিরে যাওয়াই একমাত্র পথ বলে আমরা মনে করছি।’’

    জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা ওঠালেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিচালনায় দুর্বলতার কারণে সংকট বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রেও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে যদি শিক্ষাপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয় তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে—শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা চলবে না।

    ডা. শফিকুর রহমান আশ্বাস দেন, ‘‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।’’

    অনুষ্ঠানে জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় নেমে প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় নেমে প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত সংকটে পড়েছে; বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং যেগুলো মুনাফা করেছে, তাদেরও আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) প্রতিবেদনে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা কমে প্রায় ৪২ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। গত এক দশকে সিএসআর খাতে এটাই সর্বনিম্ন ব্যয়—এর আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালের ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (প্রায় ৩৪.৫৭%) কমেছে।

    ট্রেন্ডটি স্পষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে এই ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    খাতসংযুক্তরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিংতে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র বেরিয়ে আসে এবং খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসান সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপে পড়ে; কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব সেখানে স্পষ্ট হয়। এসব দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য — রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন মহলে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতে বেশি ব্যয় করত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো বর্তমানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ হয়ে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মের কারণে অনেক সময় অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্থ করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে—এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে নির্দেশনা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% এবং স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ হলেও প্রকৃত অনুপাতে বিতরণ অসম সমান।

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ওই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও একটি উদ্বেগজনক দিক—২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় ছিল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। তর্কিতভাবে, এসবের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে, ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতার অভাব মিলিয়ে সিএসআর খাতে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে এবং বরাদ্দের বাস্তবায়নও কাঙ্ক্ষিত না — যা সমাজে দায়বদ্ধতা বজায় রাখার জন্য উদ্বেগের কারণ। নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং তহবিলের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে—তবেই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী পুনরুজ্জীবন সম্ভব।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীরগতি, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীরগতি, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ফের কমে ৩.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এখানকার আয়তকালে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) হওয়া এই প্রবৃদ্ধি প্রতি প্রান্তিকে গত জুলাই–সেপ্টেম্বরের ৪.৯৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সূত্রে বলা আছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা রপ্তানি-জাতীয় মূল্য এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিছু সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের পরে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম সরবরাহে বিঘœত সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি মূল্যের উত্থান ঘটিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে জ্বালানির সংকটে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয় এবং স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাপ্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময়কালে অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন মতো করা যাচ্ছে না—এসব মিলিয়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি আঘাত পেয়েছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে—এখাতে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.২৭ শতাংশ। তুলনায় কৃষিতে বৃদ্ধি ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই ছিল শক্তিশালী বৃদ্ধি—৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে এ খাতে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে। কৃষি ও সেবা খাতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামান্য উন্নতি হলেও শিল্প খাতের সংকোচ পুরো অর্থনীতির গতি সরাসরি鈥�প্রভাবিত করছে।

    গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চতুর্মাসিকভাবে তা বাড়ে প্রথম প্রান্তিকে ৪.৯৬ শতাংশে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার কমে যায়। যেহেতু শিল্পখাত জিডিপিতে বড় অংশ ধারণ করে, তাই শিল্পখাতের নিম্নগতিই বছরের শেষ পর্যায়ে নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

  • মঙ্গলবার সময়সীমা চূড়ান্ত, ইরানের প্রস্তাব ‘যথেষ্ট নয়’ জানিয়েছেন ট্রাম্প

    মঙ্গলবার সময়সীমা চূড়ান্ত, ইরানের প্রস্তাব ‘যথেষ্ট নয়’ জানিয়েছেন ট্রাম্প

    মঙ্গলবার পর্যন্ত করা সময়সীমা চূড়ান্ত—এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের পাঠানো প্রস্তাব যুদ্ধ থামাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও তা ‘যথেষ্ট নয়’। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প; কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি আগেও একাধিকবার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন এবং তা পরে বাড়িয়েছেন। তবে এইবারের মঙ্গলবারের সময়সীমাকে তিনি চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

    ইরানের প্রদত্ত প্রস্তাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘‘তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। তারা যদি যা করা উচিত তা করে, তবে এই যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তাদের নির্দিষ্ট কিছু কাজ আছে, যেগুলো তারা ভালো করেই জানে।’’ তিনি বিশ্বাস করেন ইরান ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে আলোচনায় এসেছে।

    যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নে ট্রাম্প বললেন, তার কাছে ‘‘অনেক বিকল্প’’ রয়েছে। কড়া ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘আমরা এখনই চলে গেলেই তাদের যা ছিল তা পুনর্নির্মাণ করতে ১৫ বছর লাগবে। আমি এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমি এর শেষ দেখতে চাই।’’

    ট্রাম্প আবার জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কাউকেই বিশ্বাস দেন না যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে—এ বিষয়ে তার অবস্থান বদলায়নি। ইরান অবশ্য বারবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তার প্রশাসন গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তার জন্য কিছু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন এসব অস্ত্র জনগণের আত্মরক্ষার লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, তবে কোন গোষ্ঠী এখনও সেগুলো হাতে রেখেছে তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

    ইরানের তেলসম্পদ নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমেরিকানরা চায় আমরা বাড়ি ফিরি। কিন্তু আমার ওপর ছেড়ে দিলে আমি সব তেল দখল করে রাখতাম—এতে অনেক অর্থ উপার্জন হত।’’

    ট্রাম্প দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে; যদিও তিনি বলেন তিনি এটি করতে চান না। তবে হুমকি দিয়ে যোগ করেছেন, ‘‘তাদের কোনও সেতু থাকবে না, কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়েও খারাপ কিছু করতে পারি, যা এখন বলছি না।’’

    আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ট্রাম্প যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাদের তিনি ‘নির্বোধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এই যুদ্ধে একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা।

  • মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে আইআরজিসি উল্লেখ করেছে যে মেজর জেনারেল খাদেমি দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ইসলামী মাতৃভূমির সুরক্ষায় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বিবৃতিতে তাকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন, স্থায়ী ও শিক্ষণীয় অবদানকারী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, মজিদ খাদেমির অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর জন্য বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষত কৌশলগত পর্যায়ে বিদেশি শত্রুদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে।

    বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে অবস্থানকৃত কয়েকজন উচ্চস্তরের নেতৃবৃন্দ এবং বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার পর থেকে ইয়ারা বিরোধী বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ওই অভিযানের রেসপন্সে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে—এটি তাদের বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

    তার জবাবে, বিবৃতির দাবি অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।

    এই খবরটি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।

  • মেধাস্বত্ব নিশ্চিত হলে গবেষণা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: উপাচার্য

    মেধাস্বত্ব নিশ্চিত হলে গবেষণা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: উপাচার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) হিট সাব-প্রজেক্টের আওতায় ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস এন্ড প্রটেকশন স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক এক কার্যকরী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।

    উপাচার্য বলেন, গবেষণার প্রকৃত মূল্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন তা সঠিকভাবে সংরক্ষিত ও প্রয়োগযোগ্য করা যায়। মেধাস্বত্ব নিশ্চিত হলে গবেষণার ফল শুধু একাডেমিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা জাতীয় উন্নয়ন ও শিল্পখাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। তিনি গবেষকদের তাদের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন সুরক্ষায় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং টিটিও প্রতিষ্ঠা ও এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আশাব্যঞ্জকভাবে বলেন, এসব উদ্যোগ গবেষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনুর রশীদ খান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বলেন, প্রত্যেক গবেষণার লক্ষ্য মানবকল্যাণ হওয়া উচিত এবং জীবনমান উন্নয়নে গবেষণার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন যে অনেক কষ্টে নির্মিত গবেষণার ফল যদি মেধাস্বত্বে সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে তার মালিকানা হারিয়ে যেতে পারে। গবেষণার ফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তার আর্থিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোতেও মেধাস্বত্বের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, গবেষণায় বিনিয়োগ করে যে ফলাফল আসে তার মালিকানার সংরক্ষণ স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের সঙ্গে সঙ্গে মেধাস্বত্ব রক্ষা করা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টিটিওর প্রতিষ্ঠার ফলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকদের জন্য এই ধরণের সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তিনি জানান।

    পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব রক্ষা না করলে উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন। পাশাপাশি মেধাস্বত্ব থাকলে ঐ উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে গবেষকরা আর্থিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। তিনি সকল গবেষণার আউটকামকে মেধাস্বত্ব অধিকারভুক্ত করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের এসপিএম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের এএসপিএম প্রফেসর ড. মোঃ ইয়ামিন কবীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিসার্চ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন তুহিন।

    উদ্বোধন পর তিনটি টেকনিক্যাল সেশন ও তিনটি ডিসকাসন সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনুর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিচালক ড. অশোককুমার রায় এবং উপ-পরিচালক (পেটেন্টস) মোঃ হাবিবুর রহমান সেশনগুলো উপস্থাপন করেন।

    দিনব্যাপী কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্কুল ও ডিসিপ্লিনের উদ্ভাবন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কিভাবে সুরক্ষিত করা যাবে তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন স্কুলের ডীন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক, হিট প্রকল্পের এসপিএমবৃন্দ, শিল্প প্রতিনিধি, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে। আয়োজকরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ গবেষকদের উদ্ভাবনী কাজকে সুরক্ষিত করে দেশের উন্নয়ন ও শিল্পখাতে নতুন দিগন্ত উদ্বোধন করবে।

  • ফকিরহাটে পেট্রোল নিতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    ফকিরহাটে পেট্রোল নিতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    ফকিরহাটে পেট্রোল নিতে গিয়ে এক যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মো: ইয়াছিন শেখ (৫৫) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের পাগলা-শ্যামনগর এলাকায় ঘটেছে।

    নিহত ইয়াছিন শেখ ওই উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামের বাসিন্দা; তিনি শেখ আ: বারির ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ইয়াছিন মটরসাইকেলে পাগলা-শ্যামনগর আরা ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করছিলেন। তখন খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কার মুখে ফেলে; এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে, অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় পাঠানো হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। আহত ইয়াছিনের মটরসাইকেলটি দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘাতক বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েছেন এবং ঘটনার সত্যতা ও কিভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ দিনের অন্য حادثায় সকাল ১১টায় পিলজংগ এলাকায় একটি ক্রেন উল্টে ইসরাফিল শেখ (২৭) নামের এক ব্যক্তি আহত হন। এছাড়া শ্যামবাগাত এলাকায় এক অজ্ঞাত বাইসাইকেল আরোহীকে বাস ধাক্কা দিলে তিনি আহত হন। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

  • বিসিবি তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকার না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    বিসিবি তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকার না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠন করা বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি—তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

    আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারেননি কয়েকটি কারণেই। প্রথমত, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান; ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয় কীভাবে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারে, তা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনে এমন ইঙ্গিত আছে যে সিদ্ধান্ত কিছুটা পূর্বনির্ধারিত—এটি নিয়েও তার আপত্তি আছে। তৃতীয়ত, বিসিবি নির্বাচনের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় তদন্ত করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চতুর্থত, তিনি অভিযোগ করেছেন যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ডের পরিচালক পদকে সামনে রেখে কিছু পরিচালকদের প্রলোভন দেখাচ্ছেন এবং রাজি না হলে তাদের ভয়ভয়ে পদত্যাগ করানো হচ্ছে।

    আরো বিস্তারিতভাবে তিনি লিখেছেন যে, তদন্ত কমিটি তাকে জানায় বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন; তারপরও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর তারা তদন্ত করলে সেটা বৈধ হবে কি না—এমন কোনো সন্তোষজনক সরাসরি জবাব তিনি পাননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি জানে-বুঝে নিয়মবহির্ভূত বা আদালত অবমাননার মতো কাজের অংশ হব না। এ কারণেই সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দিইনি।’’

    এনএসসি গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

    গত বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকার কিছু ক্লাব সংগঠক বিসিবির নির্বাচন বর্জন করায় দেশের ক্লাব ক্রিকেট প্রভাবিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনও মাঠে গড়ায়নি; টুর্নামেন্ট পিছিয়ে যাওয়ায় ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

    ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত আছে এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে বিবাদ থামেনি। সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী—এ নিয়ে সরকার, আদালত ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া নজরে রাখতে হবে।

  • সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের মাসে ১ লাখ টাকার বেতন ঘোষণা

    সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের মাসে ১ লাখ টাকার বেতন ঘোষণা

    বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল টানা দ্বিতীয়বার সাফ (সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন) চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নতুন করে উল্লসিত হয়েছে। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা পাল্টে আনবার পর শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেশে ফেরার আগে-পরই খেলোয়াড়দের জন্য গাঢ় উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ ছিল।

    বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়নদের নেয়া হয় রাজধানীর হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে হাজারো পথচারী ও সমর্থক তাদের উষ্ণ স্বাগত জানিয়েছে। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ছিল সংবর্ধনা ও পুরস্কারের মিশ্রণ: খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উজ্জ্বলভাবে সম্মানিত করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রথমে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ঘোষণা করে, চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকে এক লাখ টাকা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেয়া হবে। এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনও আলাদা আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে।

    জয় উদযাপনের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আগেই চ্যাম্পিয়নদের জন্য সামরিক ও আর্থিক প্রণোদনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক ঘোষণা করেননি।

    অবশেষে জাতীয় ক্রীড়া দিবসে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে চমক ঘোষিত হয়: অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন প্রতিটি খেলোয়াড়কে প্রত্যেক মাসে এক লাখ টাকা করে বেতন দেয়া হবে। এই ঘোষণা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা ও উৎসাহ হিসেবে গণ্য হবে।

    টুর্নামেন্টে শিরোপা রক্ষা ও সরকারের এই স্বীকৃতি—উভয়ই দেশের যুব ফুটবলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো আশা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিভাবান কিশোরদের ফুটবলের দিকে আকৃষ্ট করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলার মান বাড়াতে সাহায্য করবে।