Author: bangladiganta

  • বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই

    বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকা মার্ক টালি আর নেই। রোববার দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

    টালির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব। ব্রিটিশ-ভারতীয় এই সাংবাদিক দীর্ঘ সময় ধরে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে খবর সংগ্রহ করতেন। নয়া দিল্লিতে তিনি প্রায় ২০ বছর বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিবিসি রেডিওতে মার্ক টালির প্রতিবেদনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র বিশ্বের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রিপোর্টই ছিল অন্যতম প্রধান উৎস। তিনি ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে এসে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী পর্যন্ত যাত্রা করেছিলেন। সেই সফরটি ছিল বিশেষ—পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ তখনই দু’জন সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল।

    টালি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে এবং মনে করেছিল তারা পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তখন আমাদের ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ ছিলেন।’ তিনি আরও জানিয়েছিলেন, স্বাধীনভাবে প্রতিকূল এলাকার পরিস্থিতি দেখে তাদের রিপোর্টের বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক ধরে রাজশাহীর পথে গ্রামগুলো জ্বলন্ত অবস্থায় দেখেছেন।

    ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল।

    মার্ক টালির নিষ্ঠা ও সাহসী সাংবাদিকতার উদ্যোগ অনেকের কাছে স্মরণীয় থাকছে। একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক হিসেবে তিনি যে সত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কর্মফল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অনবদ্য অবদান বজায় থাকবে।

  • জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস: মৃত ১১, নিখোঁজ প্রায় ৭৯

    জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস: মৃত ১১, নিখোঁজ প্রায় ৭৯

    ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে প্রকাণ্ড একটি ভূমিধসে কমপক্ষে ১১ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।

    পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধসে পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি কাদা, বড় বড় পাথর ও উপকুলীয় গাছের নিচে চাপা পড়ায় বহু মানুষ আটকে পড়েছে। স্থানীয়রা অনেককে তৎক্ষণাতই অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে এনেছেন।

    উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে হাতে-কলমে ও কৃষিকাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাদায় ঢেকে থাকা মরদেহ ও আহতদের বের করতে হাতে খুঁটিনাটি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব কারণ ভূমি খুবই নরম ও অস্থিতিশীল; তাই উদ্ধারকর্মীরা কাদা মধ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন।

    ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরান রাকাবুমিং রাকা শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন যে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিন্যাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে পশ্চিম জাভা ও পশ্চিম বন্দুংকে সতর্ক করে বলেন যে ভূমি পরিবর্তন ও অযত্নের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে, সেগুলো মেটাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বসার্নাস (জাতীয় উদ্ধারদল) প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান যে খারাপ আবহাওয়া ও বিস্তীর্ণ ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকার্যকে জটিল করেছে। ধস এখনও চলমান ও ভূপৃষ্ঠ অস্থিতিশীল থাকায় কাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ড্রোন, খোঁজকারী কুকুর ও সকল উপলব্ধ সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে উদ্ধারকাজে আগে নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হবে।

    ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও উচ্চ জোয়ারের কারণে নানাদিক থেকে বন্যা ও ভূমিধস ঘটে। দেশটি ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং বহু মানুষ পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা সরাসরি প্রভাবিত করে এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সময় বেশি লাগে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারদল ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

  • খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

    খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

    চলমান তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বিপুল ক্ষতি হতে পারে।

    রোববার খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আদানপ্রদান করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বিশেষ অতিথি ড. আইনুন নিশাত এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে ঘটতে পারে এমন প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।

    ড. নিশাত উল্লেখ করেন, লবণাক্ততা বাড়লে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ কমে গিয়ে গরান গাছের আধিপত্য বাড়বে। এছাড়া লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধারা পরিবর্তিত হবে, যা অঞ্চলটির জৈববৈচিত্র্যে বড় ধরনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে প্রচলিত কৃষি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে — সম্ভাব্যভাবে অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত উপকূল রক্ষা বাঁধ মেরামত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতেই হবে। পানির উৎসগুলোর সুরক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

    সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিস্যালিনেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি, পানি দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি, জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নগর পানি ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পানি সংকটের বাড়তি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বক্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট ক্রমেই মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেক মানুষ লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

    একই সঙ্গে সম্মেলনে পানি ন্যায়বিচারকে মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

    তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্থানীয় জ্ঞানকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় পানিসংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা।

  • রকিবুল বকুলের আহবান: ১২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক থাকুন — খুলনার উন্নয়ন ও ভোটাধিক্য রক্ষায়

    রকিবুল বকুলের আহবান: ১২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক থাকুন — খুলনার উন্নয়ন ও ভোটাধিক্য রক্ষায়

    কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীর সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিগত দিনের মতো পবিত্র ভোটের অধিকার আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

    রবিবার যোগীপোল ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে এসব বক্তব্য দেন বকুল। একই দিনে খানজাহান আলী থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়।

    বকুল বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। কোনো অশুভ শক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে পারবে না—এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পাড়া-পাড়া অতন্দ্র প্রহরীর মতো সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল; এবার সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।

    খুলনার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বকুল বলেন, খুলনা ঐতিহ্যবাহী শিল্প-ব্যবসায়িক শহর; এর সমৃদ্ধি স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে খুলনার মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি চায়—তারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস, বিনিয়োগ ও জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হতে চায়।

    তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে। ‘শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে,’ বলেও মন্তব্য করেন বকুল। খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য হবে। তিনি বলেন, তারা এমন এক খুলনা চান যেখানে কেউ কারো অধিকার হরণ করতে পারবে না এবং আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খানজাহান আলী থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মীর কায়ছেদ আলী। সভার সভাপতি ছিলেন ৮নং ওয়ার্ড নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আলী বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস।

    এর পাশাপাশি ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ তৈয়েবুর রহমান, ইমাম হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোঃ মাহবুব শেখ, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোজাফ্‌ফর হোসেনসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত দোয়া-মাহফিল ও পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন; তারা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিয়ে এলাকাকে মুখরিত করে তোলে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পাহারা রেখে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে পাঠানো হয়নি বাংলাদেশ দল

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে পাঠানো হয়নি বাংলাদেশ দল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়মিতভাবে চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবু সরকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দল ভারতে পাঠাতে চাইল না, এবং পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে ছেঁটে দিয়েছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে।

    বস্তুত বিষয়টি ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু করে—মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (আইপিএল) থেকে ছাড়ার খবরের পর থেকেই নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি তুমুল উঠতে থাকে। পরে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছিলেন, সরকারিভাবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে পাঠানো হবে না—এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক এক সভায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। ওই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর স্পষ্ট করেন যে, সরকার তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সেখানে থাকা নিরাপত্তা–ঝুঁকি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা মাঠে থাকা টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিকাল কর্মী—কারও নিরাপত্তা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায়-বোজা নেওয়া সম্ভব হবে না, তাই রাষ্ট্রসম্মত বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আসিফ আকবর আরও জানান যে, এই বিষয়ে সরকারের তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—এই চারটি মন্ত্রণালয় মিলিয়ে মন্ত্রিসভায় বসে ঝুঁকি নেবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আইসিসি ও বিসিবিকে সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্কতা জাহির করে, তখন সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    পরিশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে তার জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে টপ-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডকে ১৪তম স্থানে দেখা যায়। ‘সি’ গ্রুপে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড অংশগ্রহণ করবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা শুরু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা শুরু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের আয়োজনে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন, শারীরিক পরিচর্যার সুযোগ সবচেয়ে বেশি মেলে আউটডোর গেমসে। একই সময়ে ক্রিকেট ও ভলিবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। এসব খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মঈনুল ইসলাম। উদ্বোধনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

    প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে ছাত্র অংশগ্রহণকারীদের জন্য মোট ৮টি ম্যাচ এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, চলমান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সাম্প্রदায়িক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি ক্রীড়া দক্ষতা বাড়াতেই লক্ষ্য করা হয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সুপ্রতিষ্ঠিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পরে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও ভাগ্য তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আমন্ত্রণ জানায়।

    জানানো হয়েছে, ক্যানসার ও নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতালে থেকে চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাকে দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানায়, শরীর পুরো ঠাণ্ডা; এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি শুরুতে নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং পরে নায়ক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে; তবে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রটি তার ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সাহায্য করে। এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা এবং পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিতি দেন।

    একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে নৃত্য এবং অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবদ্দশায় প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জাভেদ।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ ছিল নাড়া দেয়া নাচ আর চিত্তাকর্ষক অ্যাকশনের মিলিত প্রতীক। তার প্রয়াণকে অনেকেই বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

    জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    প্রশংসা ও শ্রদ্ধা জানাতে শিল্পী, সহকর্মী এবং দর্শকদের নানা শ্রদ্ধাঞ্জলি আশা করা যায়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলার চলচ্চিত্রের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালনার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেপ্তার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালনার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেপ্তার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় এক আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পুলিশ বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে, জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্র এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি থেকে তদন্ত শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। অভিনেতার কথায়, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা যাচাই করার জন্য বাড়ির সামনে ম্যানগ্রোভ বনের দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। বাতাসের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে লেগে যায়, তিনি জানিয়েছেন।

    কামাল আর খানকে বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত করা হয়। ২০২২ সালে এক যৌন হেনস্তার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে খবর রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে করা কটাক্ষ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানহানি ও আইনি অভিযোগও উঠে এসেছে, জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে এবং আদালতে পেশের পর তদন্তের আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

  • সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় এই তথ্য রবিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্যারোল আবেদন করা হয়নি। পরিবার শুধুমাত্র মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছিল যে তারা কি কারাগারের গেটে গিয়ে মৃত স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখতে পারবে কি না, এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই সুযোগ প্রদানে যশোর জেলা প্রশাসন ও কারাগার কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে শোর করা হয়, এ ঘটনার বিষয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্যারোলে মুক্তির আবেদন’ করা হয়েছে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, গণমাধ্যমগুলো যেন সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের তথ্য অধিকার রক্ষা করে।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ও পরিবারের ২২.৬৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

    অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগে সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার ওই নির্দেশ দেন বলে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

    দুদকের আবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া, তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও শ্যালক হারিচুর রহমানের নামে ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এবং ভাঙ্গায় মোট ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

    দুদক জানিয়েছে, আয়ের উৎস-বহির্ভূত এসব সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান করতে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট দল কাজ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তদন্তের বাইরে রেখে এসব সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তর করে ঝটপট বেহাত করার চেষ্টা চলছে।

    তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী বিচারে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ওই সমস্ত সম্পদ ক্রোক করা প্রয়োজন—এই ছিলেন আদালতে দুদকের যুক্তিগ্রহণের মূল কারণ। আবেদনকালে দুদক জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিচারের সময় এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অদ্যাবধি মামলার সূত্র ধরে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।