Author: bangladiganta

  • নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম

    নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম

    নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের মানুষ নানা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একাত্তরের দালালদের সাথে সাথে চব্বিশের দালালদেরও আমরা কাউন্টার করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, সাধারণ মানুষ ও জনগণ একযোগে এই দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।

    আজ (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অনেকে।

    নাহিদ ইসলাম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে দেশের মুক্তি আনলেও, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ সময় লড়াই করেছে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। সেই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পরও মূল লক্ষ্য পূরণ হয় নি বলে তিনি মনে করেন। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লড়াই ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কিছু অসাধু শক্তি, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নির্বাচনকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ চায় শান্তি, আইন- শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক। এইজন্য সরকারের কাছে তারা দাবি করেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দমনক্ষমতা নিশ্চিত করতে।

    নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে নিজের নিরাপত্তা নিজেদেরেই রাখতে হয়েছিল। বর্তমানেও সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।

    আসন্ন নির্বাচনকে তিনি গণভোট হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি গণভোট, যেখানে সংস্কারের পক্ষে সবাই গর্জে উঠবে। তার আশা, এর মাধ্যমে একটি নতুন সুরে সারা দেশে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।

    বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা কখনোই পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাব না। তিনি বলেন, আবারো বলছি, ’৭১-এর দালালদের বিরুদ্ধে, ২০২৪ সালের দালালদের বিরুদ্ধেও আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। এই বিজয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তা নিশ্চিত। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এক স্বাভাবিক, শক্তিশালী ও মুক্তিযুদ্ধের ideals-অনুপ্রাণিত দেশের উদাহরণ। আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে, এবং আমাদের সামনের দিনগুলো হবে বিজয়ের দিন।

  • তারেক রহমানের অনুরোধ: আসবেন না এয়ারপোর্টে বিদায় দিতে

    তারেক রহমানের অনুরোধ: আসবেন না এয়ারপোর্টে বিদায় দিতে

    দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশেষ অনুরোধ করেছেন, যেন তারা ২৫ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার দিন এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে বিদায় না দেন। তিনি এ অনুরোধটি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় নিজের বক্তব্যে ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এখন তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিন রয়েছে, অনন্তঃ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর তাঁর দেশে ফিরে আসার দিন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যে, ইনশাআল্লাহ সৌভাগ্যক্রমে আমি ফিরে আসবো। কিন্তু আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, ২৫ ডিসেম্বর যখন আমি দেশে ফিরব, তখন কেউ যেন এয়ারপোর্টে গিয়ে আমার বিদায় দিতে না যান। কারণ, এতে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের তথা দলের সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সেদিন এয়ারপোর্টে উপস্থিত হবেন না, তারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে না গিয়ে দলের ও দেশের স্বার্থে সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টিকে বিবেচনা করবেন। আর যারা তার এই অনুরোধ অমান্য করে যায়, অর্থাৎ এয়ারপোর্টে উপস্থিত হন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সেখানে গিয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।’ এর আগে, ১২ ডিসেম্বর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলটির দলীয় প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবেন এবং এর জন্য দল স্বাগত জানাচ্ছে। ওই দিনই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন, এবং আমরা তাকে উষ্ণ স্বাগত জানাচ্ছি।’ বর্তমানে খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তারেক রহমান ২০০৭ সালের এক-এগারো আন্দোলনের পরে গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই থাকছেন এবং দল পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে এক-এগারো ও পরবর্তী সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়, যার মধ্যে পাঁচটিতে সাজাও হয়।

  • তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ

    তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নিজেও তার দেশের ফেরার তারিখ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি জানান, ‘ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে কাজ করছি।’ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় দুটি। প্রথমত, আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবের দিন। দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর দেশ থেকে দূরে থাকতে হলে এখন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এই সভায় তিনি দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প ষড়যন্ত্রকারীরা, ১৯৭৫ সালের ১৭ নভেম্বরের পরাজিতরা, ৮১ ও ৯৬ সালের ষড়যন্ত্রকারী পুঁজির রাজনৈতিক কূটকৌশলকারীরা এখনও থেমে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় রয়েছে, সুতরাং সববাসীর সতর্ক থাকার গুরুত্ব উল্লেখ করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, স্বপ্ন দেখানো কি সরকারের কাজ? নয়, বিএনপি বিশ্বাস করে স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখানো কাজ নয়, কাজ হলো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা।’ বক্তৃতায় তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিভিন্ন সময় দেশের আয়ের বিশাল অংশ পাচার করেছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, তারা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুমাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে দেশের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে তারা একটি কার্যকারী সরকার গঠন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে আছি না, আমি পরিকল্পনার মধ্যে থাকি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেশকে উদ্ধার করেছেন। বিএনপি বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতের নির্বাচনে তারা দেশকে নতুনভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

    ২০০৭ সালের এক-এগারো’র রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০০৮ সালে তিনি কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে এখনো থাকছেন।

  • ইনুর বৈধতা চেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি বিচার সম্প্রচারের আবেদন

    ইনুর বৈধতা চেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি বিচার সম্প্রচারের আবেদন

    চব্বিশের জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত আন্দোলন কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় এখনও চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। আশ্চর্যজনকভাবে, এই বিচারপ্রক্রিয়াকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন আসামি হাসানুল হক ইনু।

    আজ, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকা বিচারিক বেঞ্চে এই আবেদন করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। মামলার শুনানি শেষে, ভবিষ্যৎ নির্দেশনা জানানো হবে।

    প্রসিকিউশনের পক্ষে এই আবেদন শুনানিরত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্য আইনজীবীরা। এই ছয় দিনের মধ্যে, ইনুর বিরুদ্ধে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলা কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি পঞ্চম নম্বর ও জব্দতালিকার সাক্ষী। এই সাক্ষ্য তিনি ১৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

    ইতিমধ্যেই, জুলাই-আগস্টের গণ আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই দিন, সাবেক ডেপুটি জেলা শাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার একজন সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি, সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স পরীক্ষামূলক সাক্ষ্য দেন, যিনি মামলার চতুর্থ সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর, ইনুর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন।

    এর আগে, ৮ ডিসেম্বর, এই মামলার চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই সময়, সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তদন্তকারীর রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন। ২ ডিসেম্বর, তিনি দ্বিতীয় দিন জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে ইনুর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন। এর আগে, ১ ডিসেম্বর, তিনি তার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    এছাড়া, প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. রাইসুল হক, যিনি মূলত ছাত্র আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইনু উসকানি দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর হামলার জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষী হিসেবে তিনি ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    পূর্বের খবর অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই দিন, ইনুর করা রিভিউ আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। এই রিভিউ আবেদনে আইনজীবী সিফাত মাহমুদ ও মনসুরুল হক ছিলেন, আর প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর। শুনানি শেষে, ট্রাইব্যুনাল ইনুর আবেদন খারিজ করে দেন। গত ২ নভেম্বর, আটটি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশনা জারি হয়।

    প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের অ্যাল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এর ফলশ্রুতিতে, শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন। আহত হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। এরপরই, এই ঘটনাগুলোর জন্য ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

  • ইইউ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    ইইউ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মিশন নিয়োজিত করেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ইইউর কূটনৈতিক কার্যক্রমের শাখা দ্য ইউরোپیয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইইএএস জানিয়েছে, বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা কালাস বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে একটি ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন (ইওএম) পাঠাচ্ছে। এই মিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস।

    ইজাবস বলেন, এই মিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সুদৃঢ় মূল্যায়ন করবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিবাচক সমর্থনের একটি বড় দৃষ্টান্ত হবে এই পর্যবেক্ষণ মিশন।

    ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পর্যবেক্ষণ মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া অপার সম্মানের বিষয়।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত তফসিলে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, এবং বাতিলের জন্য আপিলের সময় শুরু হবে ৬ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি। বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময়কালও একই, অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচন প্রচারনা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

  • ইসির আমন্ত্রণ, টিভি টক শোতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

    ইসির আমন্ত্রণ, টিভি টক শোতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

    উন্নত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের টেলিভিশন সম্প্রচার মাধ্যমে প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিস্থিতিতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নির্বাচনী সংলাপ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা প্রার্থী যেন সমানভাবে সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর), ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য মুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজন সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, যাতে কোনো দলের বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা কটূক্তি না ছড়ানো হয়।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিতে উল্লেখ আছে, তারা গণমাধ্যমে নির্বাচনী সংলাপে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অব্যাহত কটূক্তি থেকে বিরত থাকবেন। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্বাচনী সংলাপ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং কোনও রকম হেয়প্রতিপন্ন বক্তব্য বা কটূক্তি প্রচার না হয়, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

  • আন্দোলন চালিয়ে ভাতার দাবিতে অবরুদ্ধ করা অর্থ উপদেষ্টাকে, ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    আন্দোলন চালিয়ে ভাতার দাবিতে অবরুদ্ধ করা অর্থ উপদেষ্টাকে, ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    সচিবালয়ের ভাতার দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আন্দোলনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে টানা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই খবর শনিবার একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং আদালত তাদের পাঁচ দিন রিমান্ডে নিচ্ছে।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী, নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তায়েফুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মো. আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ইসলামুল হক ও মো. মহসিন আলী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক নাসিরুল হক।

    প্রায় ২০ শতাংশ সচিবালয়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং উপদেষ্টাকে বের হওয়া থেকে বাধা দেন। এরপর রাত ৮টা ১২ মিনিটে পুলিশ নিরাপত্তায় সচিবালয় ত্যাগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।

    প্রাক্তন আমলারা বলছেন, এমন সংবেদনশীল স্থানে একজন উপদেষ্টাকে ঘন্টার পর ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখা শুধুমাত্র নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেনি, বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্যও শঙ্কাজনক ছবি অনুবাদ করেছে। সচিবালয়ে এই ঘটনা দুর্লভ এবং নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা।

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন স্বীকৃতি

    শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন স্বীকৃতি

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন, যা ছোট সাজ্জাদ নামে পরিচিত, আরও তিনটি হত্যার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা থাকায় তিনি এখনই স্বস্তি পাচ্ছেন না। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শরীফ এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোট সাতটি মামলায় জামিন লাভ করেছেন সাজ্জাদ। তবে অন্যান্য মামলার কারণে তিনি এখনও কারাগারেই রয়েছেন। বর্তমানে রাজশাহী কারাগারে থাকায় তার জামিননামা সেখানে পাঠানো হয়েছে।

    আদালত সূত্র জানায়, স্থিত মামলাগুলোর মধ্যে চারটি চান্দগাঁও থানায় এবং তিনটি পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা হয়েছিল। এসব মারামারি ও খুনের মামলাগুলোর পেছনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগ রয়েছে।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্রলীগ (যা এখন নিষিদ্ধ) এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় নিহত হন ফজলে রাব্বী। এছাড়া, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায়ও মামলাগুলি করা হয়। এই মামলাগুলিতে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাজ্জাদ ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯ মামলার আসামি। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যার অভিযোগ সহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে, চারটি হত্যার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তাদের জামিন হয়। এই আদেশ চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছে। তবে, সাজ্জাদের স্ত্রী শারিমন তামান্না বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন।

    পুলিশের কাছে থেকে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়, তামান্না ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ জামিনে মুক্তির ছবি তুলে ধরছেন। এরপর পুলিশ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে।

  • ইডেন কলেজের ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের ছয় মাস পর নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চার্জশিট

    ইডেন কলেজের ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের ছয় মাস পর নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চার্জশিট

    বাসায় আটকে রেখে ইডেন কলেজের একজন ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর ডেমরা থানার উপপরিদর্শক এসআই মুরাদ হোসেন ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মহিলা ও শিশু নির্যাতন দমন বিভাগের এসআই ইলামনি আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করেন যে, আদালতে এ ব্যাপারে আগামী ২৮ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হবে। এরপর বিচারকাজ শুরু হবে এবং এই মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

    নোবেলের আইনজীবী মোসতাক আহমেদ জানিয়েছেন, এই ধর্ষণ মামলার বাদীকে নোবেল বিয়ে করেছেন। তারা এখন সংসার করছেন।

    প্রথমে ১৯ মে ইডেন কলেজের ওই ছাত্রীর অভিযোগে নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন তিনি। পরে আদালত নোবেলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। জামিনের শর্তে, বিয়ের মাধ্যমে তিনি ওই ছাত্রীকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯ জুন, ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে ১০ লাখ টাকার জামিনে নোবেল ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন।

    অভিযোগে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর, ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর নোবেল তাঁর স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ছাত্রীকে ডেমরা এলাকায় নিজ বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে আটকিয়ে রাখেন। মোবাইল ফোন ও টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেন। এছাড়া সে সময় ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন। যদি বলিষ্ঠভাবে না থাকত, তাহলে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

    অভিযোগে বলা হয়, ওই তরুণীকে ছয় মাস ধরে ডেমরার ওই বাসায় আটকে রাখা হয় এবং প্রায়ই মারধর করা হতো। বেশ কিছু সময় নোবেল তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে তার হাতে চুল ধরে টেনে একটি কক্ষে আটকে রাখতেন। ওই সময়ে ধারণকৃত ভিডিও যদি প্রকাশ করা হয়, তাহলে পরিবারের লোকজন তাকে চিনতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়। ১৯ মে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ও নোবেলকে গ্রেপ্তার করে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, নোবেল বাদীকে আটক রেখেই ধর্ষণ করেছেন এবং ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ রেখেছেন। বাসায় না থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি নির্যাতন ও মারপিটও করেছেন।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে, নোবেল বর্তমানে জামিনে আছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বাদীকে মারধর ও ধর্ষণে আরও কয়েকজন তাঁর সাহায্য করেছেন, যদিও তাঁদের নাম-ঠিকানা জানানো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহের পর, সেই অনুযায়ী সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

    এখন কি হবে?
    নোবেলের আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি মামলার বাদীকে বিয়ে করেন এবং সংসার করছেন। তাই, এই অভিযোগপত্রের কারণে নোবেলের কোনো সমস্য হবে না। বিচারিক ট্রাইব্যুনালে বাদী আপসনামা দিলে, মামলাটি নিষ্পত্তি হবে এবং নোবেল খালাস পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ‘সা রে গা মা’ দিয়ে তিনি বেশ পরিচিতি পান। এর আগে, মাদকের আসক্তির কারণে তিনি সংগীত থেকে দূরে ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে শ্রোতাদের সামনে আসেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আর কখনো তাঁদের হতাশ করবেন না। সব অতীত ভুলে গিয়ে নতুন গান নিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করবেন।

    তবে ২০২৩ সালে, অগ্রিম টাকা নিয়ে গানে না যাওয়ার জন্য প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় অভিযোগ হয় তাঁর বিরুদ্ধে। সেই বছর, ১৬ মে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার অনুষ্ঠানে গাইতে গিয়ে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগে তিনি আটক হন। এই মামলায় তাকে রিমান্ডও দেওয়া হয়েছিল। পরে, আপসের মাধ্যমে এই মামলা থেকে তিনি মুক্তি পান।

  • হলিউড নির্মাতা রব রেইনারের মরদেহ স্ত্রীসহ উদ্ধার

    হলিউড নির্মাতা রব রেইনারের মরদেহ স্ত্রীসহ উদ্ধার

    হলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা ও অভিনেতা রব রেইনার (৭৮) এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রেইনারের (৬৮) মরদেহ আজ সন্ধ্যার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি বাড়িতে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই দম্পতি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এনবিসি নিউজের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রেইনারের ঘনিষ্ঠজনের এক সূত্র জানান, রব রেইনার এবং তার স্ত্রীর শরীরে ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল।

    লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই খুনের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ডকাতি ও হত্যা মামলার তদন্তভার অতি দ্রুত গোয়েন্দাদের ওপর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ক্যাপ্টেন মাইক ব্ল্যান্ড বলেছেন, এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে।

    এদিকে, মারকাটারি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, রব রেইনারের বাড়িতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এই দুর্ঘটনা শহরের জন্য গভীর এক ক্ষতি। রব রেইনার হলিউডের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যেমন ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটেল’ এবং ‘দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’। এছাড়া, তিনি পরিচালনা করেছেন ‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’, ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ এবং ‘এ ফিউ গুড মেন’ जैसी কালজয়ী সিনেমাগুলো।

    রব রেইনার ১৯৮৯ সাল থেকে মিশেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পরিচয় হয়েছিল ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে।