সৌদি আরব এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত দেশটিতে ৩৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার আরও তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই খবর প্রথম প্রকাশ করে দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি। এটি দ্বিতীয় বছর লাগাতার সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা, যা অতীতে কখনো ঘটে নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে মৃত্যুদণ্ডের এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে দেশটিতে ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল যেখানে বর্তমানে সংখ্যা তা ছাড়িয়ে গেছে।
Author: bangladiganta
-

বিজয় দিবসে মোদির পোষ্টে বাংলাদেশের নাম লেখা হয়নি
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসের লড়াইয়ের মাধ্যমে। এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারতের সেনাবাহিনীও যোগ দেয়, যার ফলে ১৬ ডিসেম্বর ভারতের জন্যও একটি বিজয় দিবস হিসেবে রূপ নেয়। তবে মূল বিজয় ছিল বাংলাদেশের, কারণ এ দিনেই বাংলাদেশের জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা লাভ করে।
আজ ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবসের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এটি যেন শুধুমাত্র ভারতের বিজয়ের দিন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার পোস্টে একবারও বাংলাদেশের নাম আসে না। মোদি লিখেছেন, “বিজয় দিবসে আমরা আমাদের সাহসী সেনাদের স্মরণ করছি, যারা ১৯৭১ সালে তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেছিলেন। তাদের দৃঢ় মনোবল ও নিস্বার্থ সেবা আমাদের দেশের রক্ষা করেছে এবং আমাদের ইতিহাসে গর্বের মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে। এই দিনটি তাদের সাহসকে সম্মান জানায় এবং তাদের অসাধারণ মনোবলকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বীরোচিত কর্মকাণ্ড ভারতীয় প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকে।”
এর আগে ভারতের সেনাবাহিনীও বিজয় দিবসের পক্ষে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “বিজয় দিবস শুধু একটি তারিখ নয়— এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতীক।”
সেনারা আরও বলেন, “এটি ছিল সেই বিজয় যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা ও ভারতীয় সেনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই বিজয় শুধু সামরিকই নয়, এটি ইতিহাসের ঐতিহাসিক গৌরবের একটি অংশ। ভারতের এই জয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনায় জাতিকে নতুন করে স্ববিরোধী করে তুলেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে নতুন এক সূচনাকে চিহ্নিত করেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও উল্লেখ করে, “পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে নানা নৃশংসতা, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল, এই যুদ্ধ সেই সমস্ত অবসান ঘটিয়েছে।”
-

নির্যাতনের শিকার নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি বিশ্রামে যান
ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মাদিকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করার পর মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যার ছবি ও খবর তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। ৫৩ বছর বয়সী এই মানবাধিকার কর্মী, যিনি ইতিমধ্যে এক দশকের বেশি সময় কারাগারে থাকেন, গত সপ্তাহে মাশাদ শহরে একটি স্মরণসভায় অংশ নেওয়ার সময় স্বাভাবিক পোশাক পরে ছিলেন। তখনই সাদামাটা পোশাকধারী এজেন্টরা তাকে ঘিরে ধরে মাথা ও ঘাড়ে একের পর এক আঘাত করে। এর ফলে মোহাম্মাদিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তার পরিবার জানান। এই ঘটনায় আরও দুইজন মানবাধিকার কর্মীও আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।
নার্গেস মোহাম্মাদি ইরানের ডিফেন্ডারস অব হিউম্যান রাইটস সেন্টারের উপ-সভাপতি এবং ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত। তিনি ১৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ জন এজেন্ট তাকে মারধর করে এবং একই সময়ে আরও কিছু মানবাধিকার কর্মীকেও আঘাত করা হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, মোহাম্মাদির উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল এবং তিনি ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে সংযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অফিসিয়াল কোনো সরকারি ঘোষণা জানানো হয়নি।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, চলচ্চিত্রকার জাফার পনাহি, মোহাম্মদ রাসুলফ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা এই মারধরের ঘটনাকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। তারা মোহাম্মাদির অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছেন এবং ইরানে মানুষের স্বাধীনতা ও সরকারের জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
-

খুলনায় পরওয়ার ও বকুলসহ ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহ শুরু
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনায় মনোনয়নপত্র বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসের সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত খুলনার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) খুলনা জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে প্রার্থীরা বা তাদের প্রতিনিধিরা এসব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা-৩, খুলনা-৪, খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে এই সময়ে খুলনা-১ ও খুলনা-২ আসনে কেউ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি।
খুলনা-৪ আসনে, যেখানে তেরখাদা, দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, এখন পর্যন্ত দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মো. কফিলুল ইসলাম।
এছাড়াও, খুলনা-৩ আসনে দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) শেখ আরমান হোসেন।
খুলনা-৫ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার পক্ষে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস।
খুলনা-৬ আসনে, যা কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত, এখন পর্যন্ত দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীরা আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২০ জানুয়ারি। এর পরে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি।
-

বিজয় দিবস উপলক্ষে চিতলমারীতে জামায়াতের র্যালি, আলোচনা ও দোয়া
মহান বিজয় দিবসের মহান শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে চিতলমারী উপজেলা জামায়াত ইসলামি। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর ৮টায় উপজেলা মোড়ে প্রতিষ্ঠিত দলীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য, বাগেরহাট জেলা শাখার সাবেক আমীর ও বর্তমান জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামির সভাপতি মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জাহিদুজ্জামান নান্নার সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে চিতলমারী উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি, একজন ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও জামায়াতের মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম এবং মাওলানা গাজী আনিসুর রহমানসহ العديدে অনুসারী।
আলোচনা সভার শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ পুরো অনুষ্ঠান ছিল দেশপ্রেম ও একতা প্রদর্শনের একটি সুন্দর আয়োজন, যা দেশপ্রেমীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করে।
-

বিজয় দিবসে শার্শায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শার্শা উপজেলায় যথাযথ মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিজিবি।วันนี้, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৯টার দিকে, মহান বিজয় দিবসের উদ্বোধনে, বিজিবি’র কাশিপুর বিওপি’র এলাকায় অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধে মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) ব্যবস্থাপনায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর ব্যাটালিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারবর্গ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে, যেন চিরস্মরণীয় হয়, সে জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এভাবেই বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও জাতীয় গৌরব উদযাপন করছে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।
-

চিতলমারীতে মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মহান বিজয় দিবস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয়েছে। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে নি:শ্বাস হারানো শহীদদের স্মরণে এই দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সব বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
১৬ ডিসেম্বর, সঙ্গীতের সূচনা হয় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়, যা পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম। এই শ্রদ্ধা নিবেদনে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ। শহীদ মিনার চত্বরে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সরকারের বিভিন্ন বিভাগীয় ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকালে ৯টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, লাঠিখেলা ও পুরস্কার বিতরণ। এরপর সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং আলোচনা সভা হয়।
দুপুরে বাদ যোহর মোনাজাত ও প্রার্থনা, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন, বিকেলে বিজয় মেলার উদ্বোধন ও প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এম্বেসিডিং, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সচেতন সাধারণ মানুষ। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সড়ক কমিটির সদস্য ও প্রার্থী, জেলা দলের সাবেক আমীর ও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার অধ্যক্ষ মোঃ মশিউর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. ফজলুল হক, জামায়াতে ইসলামী নেতা গাজী মুনিরুজ্জামান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জাহিদুজ্জামান নান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, ব্যবসায়ী ও জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামরুল ইসলামসহ আরও অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন। এই দিনটি ইতিহাসের গভীর স্মৃতি ও জাতির শৃঙ্খলা, ঐক্য ও স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে থাকে।
-

বাগেরহাটে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবসের স্মরণ ও উদযাপন
সারা দেশের মতো বাগেরহাটে আজকে মহান বিজয় দিবস যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয় থেকেই শহরে তোপধ্বনি ও আলোর রোশনাইয়ে দিনটি শুরু হয়। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতাগুলো শুরু হয়।
প্রথমে জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, যেমন বিচার বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাগেরহাট প্রেস-club, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি পিসি কলেজ, সড়ক বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি, ইসলামী ব্যাংক ও অগ্রনী ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ হয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুস্পস্তবক অর্পণ করে। জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো—যেমন যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল—সহলে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন এই অনুষ্ঠানে।
দিবসের দিন সকালে শহীদমুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি মানুষের ঢল নামে, যারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আরো এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে আটটায় জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসময় জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বক্তব্য প্রদান করেন।
অতপর কুচকাওয়াজ, শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় জেলা স্টেডিয়ামে। এখানে অংশ নেয় জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও উচ্চ কলেজের ছাত্ররা।
এদিকে, বিজয় দিবসের মহান মাহাত্ম্য স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন চালু করে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও বিসিক শিল্প নগরী। বেলা সাড়ে এগারটায় জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে आयोजित হয় আলোচনা সভা, যেখানে বিভিন্ন দিক থেকে দেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের ইতিহাস বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়।
-

বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমিত আমদানির অনুমতি দিল
বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম হু হু করে steigen হওয়ায় সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই চালিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যার মধ্যে প্রতিটি আইপির পরিমাণ সর্বাধিক ৩০ টন পেঁয়াজ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবলমাত্র নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই এই সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে জোড় দিয়ে বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অস্থিরতা বন্ধ করতে পাকিস্তানসহ অন্যান্য উপায় না নিয়ে শুধুমাত্র এই সীমিত আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দর চরম উঠানামা শুরু করে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এর দাম প্রায় ৪০ টাকার মতো বৃদ্ধি পায়, যার ফলে প্রতি কেজিতে দর উঠে যায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এরপর সরকারের অনুমোদনে আমদানি কার্যক্রম শুরু হলে দর কিছুটা কমতে থাকে, ধীরে ধীরে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নামে। গত সপ্তাহে সরকার জানিয়েছিল, দেশের মজুতের পরিমাণ যথেষ্ট আছে এবং নতুন পেঁয়াজ আগামী শিগগিরই বাজারে আসবে। এ কারণে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে এই পদক্ষেপের সুযোগ নিয়ে মজুতদার বা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে বাজারে আবারো দাম হঠাৎ করে চড়ে গেছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২0 টাকার মধ্যে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ টাকা।
অপরদিকে, টিসিবির তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এখনও ১০ শতাংশ কম দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে, যার দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আমদানির অনুমোদন না দেওয়ার খবরের ফলে দর বেড়ে গেছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দামের এই বৃদ্ধি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
আগে ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমলে সরকারের পক্ষ থেকে আবারো আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাজারে নজর রাখছি। দেশের পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবে যদি এই সময়ে দাম কমে না, তবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘বর্তমানে সরকারের হাতে ২৮শ’ আবেদন রয়েছে পেঁয়াজের আমদানি জন্য। এর একদশতমাংশ অনুমোদন দিলেই বাজারে অনেক বেশি পেঁয়াজ চলে আসবে। তবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকার মনিটরিং করছে।’
-

নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ
অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং গত বছরের নভেম্বরে তা ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার, ৭ নভেম্বর, নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যেখানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, চলতি মাসে কিছুটা দাম বৃদ্ধি হলেও দু’মাস ধরে মূলত খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। সরকারের বাইরে থেকে নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যেমন—আন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে সুদের হার বাড়ানো, এনবিআর বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমে শুল্ক-কর কমানো এবং বাজারে আমদানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া।
বিশ্লেষকরা বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম পুরোপুরি কমে গেছে—এটা নয়, বরং এর অর্থ ভিন্ন মাসের তুলনায় সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগ অব্যাহত আছে।
